ইতিহাসের পাতা থেকে ‘দানবীর আলহাজ্ব মৌলভী কেরামত আলী’                 চার ধর্ষককে তাড়িয়ে নিজেই ধর্ষণ করলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা!                 থিয়েটার সিলেট থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ১৫দিন পর হাস্যকর অব্যাহতি!                 কেমুসাসের ১০৫৬তম সাপ্তাহিক সাহিত্যআসর                 সুনামগঞ্জে মঞ্চস্থ হলো অপারেশন থিয়েটারের আদিম পৃথিবীর আহবান                 রণক্ষেত্র ভোলা, পুলিশ-জনতা সংঘর্ষ, নিহত ২, শতাধিক আহত                 পাপড়ি বন্ধুমেলা সিলেট শাখার কমিটি গঠন                

ইতিহাসের পাতা থেকে ‘দানবীর আলহাজ্ব মৌলভী কেরামত আলী’

: সোনার সিলেট
Published: 03 11 2019     Sunday   ||   Updated: 03 11 2019     Sunday
ইতিহাসের পাতা থেকে ‘দানবীর আলহাজ্ব মৌলভী কেরামত আলী’
খালিদ সাইফুল্লাহ্ || আজ ৩ নভেম্বর ২০১৯ ইংরেজি , দানবীর আলহাজ্ব মৌলভী কেরামত আলী’র ৫০ তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ছিলেন একাধারে একজন দানশীল, রাজনীতিবিদ, শিল্পোদ্যোক্তা, সংগঠক,বিচারক, শিক্ষানুরাগীসহ বহুমূখী প্রতিভার অধিকারী ব্যক্তিত্ব। তিনি নিজের বুদ্ধিমত্তা ও কর্মনিষ্ঠাকে কাজে লাগিয়ে সুনাম-খ্যাতির শীর্ষে অবস্থান করছেন স্বমহিমায় আজও। আজও তাঁর মহৎ ব্যক্তিত্বের গল্প, বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে ভারত, পাকিস্তান, চীন, জাপান, সৌদি আরব ও ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের অগণিত রাষ্ট্রে বিরাজমান। দানবীর আলহাজ্ব মৌলভী কেরামত আলী মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার বাদে সোনাপুর নামক প্রত্যন্ত অঞ্চলে ১৯০১ সালে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মৌলভী মোঃ সফাত আলী (সফাত আলী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা,কমলগঞ্জ যার নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে); যিনি ছিলেন একজন মৌলভী এবং মাতা মোছাঃ মরিয়ম বিবি; যিনি ছিলেন একজন সুগৃহিণী। সাত ভাই-বোনদের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। দানবীর আলহাজ্ব মৌলভী কেরামত আলী বাল্যকালে গ্রামের পাঠশালা বিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করেন, অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাথমিক পর্যায় শেষ করে জুনিয়র হাইস্কুলে ভর্তি হন এবং মাইনার (ষষ্ঠ) পর্যন্ত পড়ালেখা করে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের ইতি টানেন । এছাড়াও তিনি স্থানীয় মক্তবে বেশকিছুদিন গুরুত্বসহকারে আরবী, ফারসী ও উর্দু শিক্ষাগ্রহন করেন। তিনি ধার্মিক মুসলিম পরিবারে জন্মলাভের সুবাদে উচ্চমানের পারিবারিক শিক্ষার আদলেই বড় হন। আর উচ্চমানের পারিবারিক শিক্ষা ও আরবী শিক্ষা রপ্ত করে নিজেকে অল্পবয়সেই বুদ্ধিমান, কর্মঠ, চরিত্রবান, নিষ্ঠাবান, অদম্য সাহসী ও অন্যায়ের বিরদ্ধে প্রতিবাদী কন্ঠস্বর হিসেবে সমাজে উপস্থাপন করতে সক্ষম হন। তিনি সাংসারিক জীবনে মরহুমা জুলেখা খাতুনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের ৩ ছেলে ও ৪ মেয়ে রয়েছে। তিনি ১৯৩০-১৯৩২ সালে অল্পকিছু পুঁজি নিয়ে বনজমহালের ব্যবসা শুরু করেন। বনজমহালের ব্যবসায় আত্মনিয়োগের মাধ্যমে ঈর্ষনীয় মুনাফা অর্জন করতে সফল হন এবং ব্যবসাপরিধি ধীরেধীরে প্রসারিত করেন, এরই ধারাবাহিকতায় তখন থেকে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান সরকারের বনবিভাগ থেকে জুড়ি রেঞ্জ,রাজকান্দি রেঞ্জ ও রঘুনন্দন রেঞ্জের অধিকাংশ বনজমহাল ক্রয় করতেন এবং বনজমহালের পাশাপাশি পাট, চা, ইট, জ্বালানী, মেশিনারী সামগ্রীসহ আরও অনেক ধরণের ব্যবসা শুরু করেন। তৎকালীন সময় তিনি বর্তমান সিলেট বিভাগের মধ্যে প্রসিদ্ধ কেরামতনগর ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (কে.আই.সি), কেরামতনগর, কমলগঞ্জ নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন এবং ঐ প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসার বিভিন্নসামগ্রী দেশ-বিদেশে সরবরাহ করতেন। তখন তাঁর ব্যবসার পরিধি তড়িৎগতিতে বেড়ে যায়। তাঁর ব্যবসায়িক পণ্য শুধু অবিভক্ত পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা পূর্ব পাকিস্তানের গন্ডি পেরিয়ে সমগ্র পাকিস্তানে ছড়িয়ে পড়ে এবং খুব শিঘ্রি তা বিশ্বের অগণিত রাষ্ট্রে সুনামের সাথে জায়গা করে নেয়। তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তিনি পাট ও বনজমহালের (বাশ ও গাছ) অফিস স্থাপন করেন। ঐ জায়গাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটির নাম হলঃ নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা (প্রধান অফিস), মনুমুখ, আশুগঞ্জ, তামাকপট্টি, ফান্দাউক। তৎকালীন সময় তিনি লন্ডনের ডান্ডি শহর ও আদমজি জুটমিলসহ অন্যান্য জুটমিলে পাট রপ্তানি করতেন। তিনি তৎকালীন সরকারের শিল্পখাত, কৃষিখাত ও পাটখাতসহ বিভিন্নধরণের বানিজ্য ও রপ্তানিখাতকে সমৃদ্ধকরণের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করেন, এসব কাজের অংশ হিসেবে সরকারিভাবে বিশ্বের সতেরটিরও অধিক দেশে সফর করেন। ফলে তৎকালীন সময় বর্হিবিশ্বে তিনি যথেষ্ট সুনাম অর্জন করতে সচেষ্ট হন; আর এভাবেই বর্হিবিশ্বে নিজেকে একজন সফল শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি একজন প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ১৯৪৫ সালে প্রাক্তনমন্ত্রী জসিম উদ্দিনকে সাথে নিয়ে কৃষাণলীগ গঠন করেন। তিনি ১৯৪৬ সালে অনুষ্ঠিত আইন পরিষদ র্নিবাচনে কৃষাণলীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে আইন পরিষদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করে প্রতিপক্ষের কাছে পরাজিত হন। তারপর থেকে বেশ কিছুদিন পর্যন্ত তিনি বিচক্ষণতার সাথে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি অবলোকন করেন। আর তখন ভাষা আন্দোলন প্রকট থেকে প্রকটতররূপ ধারণ করলে তিনি সে আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করেন ও ভাষা আন্দোলনকে সফল করার লক্ষ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করেন। ঠিক এরপরই তিনি শেরে বাংলা আবুল কাসেম ফজলুল হকের নজরে পড়েন। তাঁদের মধ্যে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠলে শেরে বাংলাকে পরম শ্রদ্ধাভরে ‘দাদাভাই’ বলে ডাকতেন তিনি; সেই সম্পর্কের ছোঁয়া তাঁদের পরিবারদ্বয়ের মধ্যেও ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি করে। প্রকৃতার্থে পাকিস্তানের প্রকৃত স্থপতি শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের সান্নিধ্য তাঁর জীবনে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। সেই সুবাদে শেরে বাংলার নেতৃত্বে প্রত্যেকটি আন্দোলনে স্বতঃর্স্ফুতভাবে অংশগ্রহন করেন এবং ১৯৫৩ সালে শেরে বাংলার নেতৃত্বে ‘কৃষক শ্রমিক পার্টি’র প্রতিষ্ঠাকালে মূখ্যভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ র্নিবাচনে যুক্তফ্রন্ট এর কৃষক শ্রমিক পার্টি থেকে মনোনয়ন নিয়ে পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এম.এল.এ র্নিবাচিত হন। কিন্তু ১৯৫৪ সালের ২৪ অক্টোবর যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠনের প্রায় দুই মাস পর তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার জরুরী অবস্থা জারীর মাধ্যমে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বাতিল করে এবং শেখ মুজিবুর রহমান ও আলহাজ্ব কেরামত আলীসহ মোট ৩৫ জন যুক্তফ্রন্ট নেতাকর্মীকে গ্রেফতারর্পূবক জেলহাজতে প্রেরণ করে। পরর্বতীতে ১৯৫৫ সালের ৬জুন সকল বন্দিদের সাথে কেরামত আলীও মুক্তি পান। ১৯৬০ সালের দিকে তিনি রাষ্ট্রপ্রধান আইয়ুব খানের নজর কাড়তে সক্ষম হন এবং খুব অল্প দিনের মধ্যেই আইয়ুব খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজনে পরিণত হন।

তখন তৎকালীন অবিভক্ত পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ-আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনবদ্য ভূমিকা রাখার সুযোগ লাভ করেন । বিশেষ করে অনগ্রসর ও অবহেলিত তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গভর্ণর মোনায়েম খানের সাথে যুগপৎভাবে কাজ করতে সক্ষম হন। যার ফলশ্রুতিতে তৎকালীন সময় পাকিস্তানের মধ্যে একজন জনপ্রিয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হিশেবে আবিভূত হন দানবীর আলহাজ্ব মৌলভী কেরামত আলী। ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান ক্ষমতা দখলের পর পঞ্চায়েত পদ্ধতি বাতিল করে ‘মৌলিক গণতন্ত্র’র মাধ্যমে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করেন এবং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভোটে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধি নির্বাচনের পদ্ধতি চালু করেন। আলহাজ্ব কেরামত আলী উক্ত নির্বাচনে নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে জ্যোষ্ঠপুত্র দানবীর মুহিবুর রহমান (চেরাগ আলী) কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ করে দেন। ফলে ১৯৬০ সালে দানবীর মুহিবুর রহমান (চেরাগ আলী) ৫নং কমলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ও ১৯৬২ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। আইউব খান গঠিত কনভেনশন মুসলিমলীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে আলহাজ্ব কেরামত আলী ১৯৬৫ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন। তিনি আজীবন ঐ পদে আসীন ছিলেন। এসব জাতীয় নির্বাচনে তাঁর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সিলেট অঞ্চলের স্বনামখ্যাত পরিবারের সন্তান প্রয়াত স্পীকার হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর মাতা জনাব সিরাজুন্নেসা ও মৌলভীবাজার জেলার পৃথিমপাশা এলাকার প্রথিতযশা জমিদার নবাব আলী আমজাদ খানের পৌত্র নবাব আলী সফদার খান রাজা। তিনি ছিলেন একজন দানশীল ব্যক্তিত্ব। তিনি অনগ্রসর ও পশ্চাতপদ সিলেট বিভাগের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে নিজের সর্বোচ্চ অর্থ, মেধা ও শ্রম নির্দ্বিধায় উৎসর্গ করেন, এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সিলেট বিভাগের বিভিন্নস্থানে মানুষের ভালবাসা ও মমত্ববোধের নির্দশনস্বরূপ অনেক অবদান রেখেছেন। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ ১) তিনি অবিভক্ত পূর্বপাকিস্তানের মধ্যে প্রসিদ্ধ সফাত আলী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা, কেরামতনগর, কমলগঞ্জ ও মাদ্রাসা সংলগ্ন ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেন । ২) তিনি ‘আলহাজ্ব কেরামত আলী জামে মসজিদ’, কেরামতনগর, কমলগঞ্জ নামক একটি আকর্ষনীয় গম্ভুজ আকৃতির মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন । যা কমলগঞ্জ উপজেলার মধ্যে বড় মসজিদ নামে পরিচিত। ৩) তিনি ‘কেরামতনগর-৩২২১’,কমলগঞ্জ নামক ডাকঘর প্রতিষ্ঠা করেন। ৪) তিনি মৌলভীবাজার সরকারী কলেজ, মৌলভীবাজার প্রতিষ্ঠার জন্য বড় অংকের আর্থিক সহযোগীতার পাশাপাশি অত্রপ্রতিষ্ঠানের একটি বিজ্ঞান ভবন প্রতিষ্ঠা করেন এবং অত্র কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ৫) তিনি ভানুগাছ বাজার, কেরামতনগর কমলগঞ্জ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। ৬) তিনি কমলগঞ্জ কালীমন্দির, কমলগঞ্জ প্রতিষ্ঠার জন্য জায়গা দান করেন। ৭) তিনি হীড বাংলাদেশ, কেরামতনগর, কমলগঞ্জ প্রতিষ্ঠার জন্য জায়গা দান করেন। ৮) ) তিনি ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন, কেরামতনগর, কমলগঞ্জ এর ওয়েটিং রুম প্রতিষ্ঠা করেন। ৯) তিনি শ্রীমঙ্গল সরকারী কলেজ,শ্রীমঙ্গল প্রতিষ্ঠার জন্য আর্থিক সহযোগীতা হিসেবে ক্যাশ পঞ্চাশ হাজার টাকা এবং পঞ্চাশ হাজার টাকার মালামাল সামগ্রী প্রদান করেন এবং অত্রপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূখ্যভূমিকা পালন করেন। ১০) তিনি পুরাতন মেডিকেল হাসপাতাল,সিলেট প্রতিষ্ঠার জন্য বড় অংকের আর্থিক সহযোগীতার পাশাপাশি অত্রপ্রতিষ্ঠানের বৃহৎ সীমানা প্রাচীর তৈরী করে দেন এবং পুরাতন মেডিকেল হাসপাতাল,সিলেট প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূখ্যভূমিকা পালন করেন। ১১) তিনি আঞ্জুমানে তরক্কীয়ে উর্দু, সিলেট প্রতিষ্ঠার জন্য বড় অংকের আর্থিক সহযোগীতার পাশাপাশি অত্রপ্রতিষ্ঠানের একমাত্র ভবন (পুরাতন) প্রতিষ্ঠা করেন । ১২) তিনি সিলেট শাহী ঈদগাহ প্রতিষ্ঠার জন্য আর্থিক সহযোগীতা প্রদান করেন । তাছাড়া তিনি ব্যক্তিগত ও সরকারি কাজে দেশের সীমানা পেরিয়ে পৃথিবীর বহু দেশ ভ্রমণ করেন। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হল যে, নিজ এলাকা ও দেশের সীমানা পেরিয়েও ভ্রমণকৃত অনেকস্থানেই মানুষের ভালবাসা ও মমত্ববোধের নির্দশনস্বরূপ অনেক অবদান রেখেছেন। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ ১৩) তিনি ১৯৪২ সালে সিলং চক্ষু হাসপাতাল,সিলং (ভারতের সিলং শহরে অবস্থিত একটি চক্ষু হাসপাতাল) প্রতিষ্ঠার জন্য একলক্ষ টাকা প্রদান করেন এবং অত্রপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৪) তিনি অবিভক্ত পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি শহরে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন । ১৫) তিনি অবিভক্ত পাকিস্তানের পাঠান প্রদেশে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৬) সৌদি আরবে হজ্ব যাত্রীদের থাকার জন্য অনেকগুলো পাকার দালান প্রতিষ্ঠা করেন । পৃথিবীর ইতিহাসে এমন দানশীলতা সত্যিই বিরল। এশিয়া মহাদেশ বিশেষ করে উপমহাদেশের বিভিন্নস্থানে সদা বহমান দানশীলতার অগণিত স্মৃতিচিহ্নগুলোর আলপনার বাঁকেবাঁকে তিনি বেঁচে থাকবেন যুগযুগ। আজও ইতিহাসের পাতায় তিনি একজন বিখ্যাত দানবীর হিসেবেই সমধিক পরিচিত। ১৯৬৮ সাল, রাষ্ট্রপ্রধান আইউব খান গঠিত কনভেনশন মুসলিমলীগ সরকার পতনের আন্দোলন একটু একটু করে বেড়েই চলেছে। গণঅভুত্থানের বিস্ফোরণে বিশ্ব ইতিহাসের আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তিত্ব রাষ্ট্রপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আইউব খানের করুণ বিদায় সময়ের ব্যাপার মাত্র। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থতিতে গনমানুষের বন্ধু আলহাজ্ব কেরামত আলী নীরব থাকতে পারেননি। তিনি কখনও ব্যক্তিগতভাবে আবার কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দফায় দফায় সাক্ষাৎ করে সংকট নিরসনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতিকে। দেশের মধ্যে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা দূর করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তাদের পরামর্শের প্রেক্ষিতেই রাষ্ট্রপতি করাচীর মধ্যে মিউনিসিপ্যাল নির্বাচন ঘোষণা করেন। করাচীতে অনুষ্ঠিত মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে আইয়ুব খান সমর্থিত দল কনভেনশন মুসলিমলীগ সুচনীয়ভাবে পরাজিত হলে আইয়ুব খান ভেঙে পড়েন। তখন দানবীর আলহাজ্ব মৌলভী কেরামত আলী রাষ্ট্রপতির সাথে ব্যক্তিগতভাবে ও আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষাৎ করে জাতীয় নির্বাচন দিতে জোর দাবি জানালে রাষ্ট্রপতি নাকচ করে দেন।



Share Button

আর্কাইভ

November 2019
M T W T F S S
« Oct    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

Prayer Time Table

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৪:৫০
  • দুপুর ১১:৪০
  • বিকাল ৩:৩৩
  • সন্ধ্যা ৫:১২
  • রাত ৬:২৮
  • ভোর ৬:০৪


Developed By Mediait