সব থেকে এখনো বিটিভির দর্শকই বেশি: সংসদে তথ্যমন্ত্রী                 খালেদা জিয়া সরকারের আইনগত সহায়তা পাওয়ার যোগ্য নন: আইনমন্ত্রী                 যেভাবে মানুষের মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করে ব্যাকটেরিয়া                 জাফর ইকবাল হত্যাচেষ্টা মামলায় সাক্ষ্য দিলেন মহানগর হাকিম হরিদাস কুমার                 নিউজিল্যান্ডের স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাচ্ছেন মুসলিমরা!                 ২৪ এপ্রিলেই গায়ে আগুন দিলেন রানা প্লাজার উদ্ধারকর্মী হিমু!                 পরীক্ষাকেন্দ্রে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি, ইনস্ট্রাক্টর কারাগারে                
সর্বশেষ:

ইসলামী ব্যাংকে ইবনে সিনা অধ্যায় শেষ

: সোনার সিলেট
Published: 07 05 2018     Monday   ||   Updated: 07 05 2018     Monday
ইসলামী ব্যাংকে ইবনে সিনা অধ্যায় শেষ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক।। ইসলামী ব্যাংকের সব শেয়ার বেচে দিয়েছে ইবনে সিনা ট্রাস্ট। ফলে ব্যাংকটির সঙ্গে জামায়াতপন্থী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির আর কোনো সম্পর্ক রইল না। ইবনে সিনার কাছে ব্যাংকটির তিন কোটি ৬০ লাখ ৭৭ হাজার ৩৯১টি শেয়ার ছিল।

গত ২৬ এপ্রিল পুঁজিবাজারে ইসলামী ব্যাংকের সব শেয়ার ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দেয় ইবনে সিনা। সেদিন ৩০ কার্যদিবসে এই শেয়ার বিক্রির ঘোষণা এসেছিল। তবে ছয় কার্যদিবসেই বিক্রি হয়ে গেছে সব শেয়ার। ফলে ৫ মে থেকে ইসলামী ব্যাংকে ইবনে সিনা ট্রাস্টের মালিকানার ইতি ঘটেছে।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ব্লক মার্কেটে এই শেয়ার কেনাবেচা চলেছে। বড় বিনিয়োগকারী এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাই ব্লক মার্কেটে লেনদেন করেন।

১৯৮৩ সালে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ১৩টি প্রতিষ্ঠানের ৭০ শতাংশ নিয়ে প্রতিষ্ঠা হয় ইসলামী ব্যাংক। বাকি অর্থের জোগান দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার এবং কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। তবে এটি সব সময় জামায়াত প্রভাবিত ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ছিল।

তবে দুই বছর ধরে জামায়াতের প্রভাব কমতে থাকে ব্যাংকটিতে। জামায়াতপন্থী বড় কর্মকর্তারা সরে যেতে থাকেন। অবশেষে জামায়াতপন্থী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ইবনে সিনাও আর রইল না এর মালিকানা থেকে।

২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হলে ইসলামী ব্যাংকের বেশ কিছু শাখা ও এটিএম বুথে ভাঙচুর হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া মীর কাসেম আলী এক সময় ব্যাংকটির পরিচালক ছিলেন। ২০১৩ সালে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন জামায়াতের নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ আবদুজ জাহের। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ত্বরান্বিত হলে তিনিও দেশ ছেড়ে চলে যান। ২০১৫ সালের জুনে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হন মুস্তাফা আনোয়ার।

২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যোক্তা বাহরাইন ইসলামিক ব্যাংক তাদের হাতে থাকা পুরো শেয়ার বিক্রি করে চলে যায়। ২০১৫ সালে আরেক উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান দুবাই ইসলামিক ব্যাংকও সব শেয়ার বিক্রি করে দেয়।

২০১৬ সালে দেশীয় ইউনাইটেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠান হজরত শাহজালাল (রহ.) ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি লিমিটেড ব্যাংকটির তিন কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৫টি শেয়ার কেনে। ওই বছরই ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) তাদের পক্ষে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২১ জুলাই ব্যাংকটির পর্ষদ সভায় গ্রুপটির পক্ষে পরিচালক প্রত্যাহার করা হলে তাদের সব শেয়ার কিনে নেয় গ্র্যান্ড বিজনেস নামের চট্টগ্রামভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। মূলত এটাই ছিল ব্যাংকটির মালিকানা বদলের শুরু।

ওই বছরই বিভিন্ন খাতের আরও আটজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যাঁরা ব্যাংকটি পরিচালনায় মূল ভূমিকা রাখতে শুরু করেন।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আরমাডা স্পিনিং মিলস নামের একটি প্রতিষ্ঠান ব্যাংকটির শেয়ার কেনে এবং সাবেক সচিব আরাস্তু খানকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ব্যাংকটির পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসে। আরাস্তু খান নতুন চেয়ারম্যান হন।

তবে আরাস্তু খানও দেড় বছরের আগেই পদত্যাগ করেন গত ১৭ এপ্রিল। এরপর ব্যাংকের পর্ষদ পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ব্যাংকটির আরেক পরিচালক নাজমুল হাসানকে চেয়ারম্যান পদে স্থলাভিষিক্ত করে। আরমাডা স্পিনিং মিলসের প্রতিনিধি হিসেবে তাকে চেয়ারম্যান করা হয়। এর আগে আরাস্তু খান প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি ছিলেন।

 

আরাস্তু খান ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হওয়ার পরই ইসলামী ব্যাংকের ৮ কোটি ৬৯ লাখ শেয়ার বিক্রি করে দেয় উদ্যোক্তা পরিচালক আইডিবি। গত বছর মে মাসে প্রতিটি শেয়ার ৩১ টাকা ৫০ পয়সা দামে ২৭৪ কোটি টাকায় এসব শেয়ার কেনে বাংলাদেশের চার প্রতিষ্ঠান। আইডিবির ছেড়ে দেওয়া সিংহভাগ শেয়ার কিনেছে এক্সেল ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং।

এরপর গত বছর ২৪ সেপ্টেম্বর কুয়েতের সরকারি ব্যাংক কুয়েত ফাইন্যান্স হাউস চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকায় সব শেয়ার বিক্রি করে দেয়। প্রতিষ্ঠানটির কাছে ইসলামী ব্যাংকের সোয়া পাঁচ শতাংশ শেয়ার ছিল। তবে এখনো কুয়েত সরকারের আরেক প্রতিষ্ঠান দ্য পাবলিক ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল সিকিউরিটির নামে ১০ কোটি ৪০ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪১ শেয়ার রয়েছে, যা ব্যাংকটির মোট শেয়ারের প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ। ব্যাংকটিতে কুয়েতের তিন প্রতিষ্ঠানের ১৫ শতাংশ শেয়ার ছিল।

ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা থেকে জামায়াতপন্থীরা সরে যাওয়ার পর ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরে ব্যাংকটির করপরবর্তী শেয়ারপ্রতি প্রতি মুনাফা হয়েছে তিন টাকা ছয় পয়সা। আগের বছর ব্যাংকটিতে মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের ডামাডোলের মধ্যেও ব্যাংকটি লাভের পরিমাণ বাড়াতে পেরেছে। আগের বছর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল দুই টাকা ৭৮ পয়সা।

বর্তমানে ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন এক হাজার ৬১০ কোটি টাকা। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা হিসেবে মোট ১৬১ কোটি শেয়ার আছে। অর্থাৎ চলতি বছর ব্যাংকটি কর পরবর্তী ৪৯২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। আগের বছর যা ছিল ৪৪৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

 

সূত্র: ঢাকাটাইমস




Share Button

আর্কাইভ

April 2019
M T W T F S S
« Mar    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

Prayer Time Table

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৪:১৩
  • দুপুর ১২:০০
  • বিকাল ৪:৩১
  • সন্ধ্যা ৬:২৮
  • রাত ৭:৪৭
  • ভোর ৫:২৮


Developed By Mediait