ছড়াকার জিসান মেহবুব’র সঙ্গে পাপড়ি পরিবারের ছড়াড্ডা                 রংমহল টাওয়ারে অভিনব কায়দায় চুরি                 ছড়াকার কামরুল আলম’র ৩৭তম জন্মদিনে বিশেষ ছড়াসন্ধ্যা অনুষ্ঠিত                 ছড়াকার কামরুল আলম-এর ৩৭তম জন্মদিন ২৫ নভেম্বর                 শিশুসাহিত্যিক-ছড়াকার গোলাম নবী পান্নার সঙ্গে পাপড়ি পরিবারের আড্ডা                 ‘নাদিমস ফটোগ্রাফি’ এ্যাওয়ার্ড পেলেন মিস ফিলিপাইন                 জাপানে ৩০তম টকিও আন্তর্জাতিক ফিল্ম উৎসব অনুষ্ঠিত                

একগুচ্ছ ছড়া ।। মুয়াজ বিন এনাম

: সোনার সিলেট ডটকম
Published: 18 11 2017     Saturday   ||   Updated: 18 11 2017     Saturday
একগুচ্ছ ছড়া ।। মুয়াজ বিন এনাম

শুকরান
.
বাংলোতে মহাশয় ধীরে এসে বসলেন
অমায়িক হাসি দিয়ে হাতে হাত ঘষলেন
খাওয়ালাম রুটি আর দুটো করি আম দান
খাওয়া শেষে বললেন হামদান হামদান।
.
মহাশয়, সবিনয়ে অনুরোধ রাখবেন?
গরিবের বাড়িতে কি দুটো দিন থাকবেন?
কাচুমাচু করে তিনি লজ্জাতে কুকড়ান
মহাখোশে বললেন শুকরান শুকরান।

.
রাত্তিরে গল্পতে মেতে মেতে উঠলেন
ঘুমানোর সময়ে তো বিছানাতে ছুটলেন
ঘুমানোর গান গেয়ে শুনালো যে তাইরান
হেসে হেসে বললেন খাইরান খাইরান।

.
পরদিন ভোরে ওঠে স্যুট-কোট পরলেন
দরকারি মালামাল ব্যাগে তিনি ভরলেন
এগিয়ে তো দিয়ে আসি আমি আর সাফওয়ান
আসি তবে, বললেন আফওয়ান আফওয়ান।

বিদ্রোহী

সংগ্রামী এক মিছিলে আমার
জন্ম হয়েছে হেসে
বড় হয়েছি তো কান্ডারি হয়ে
বিদ্রোহী পরিবেশে।

.

জমিনে তো আছি দন্ডীত, আর
তলোয়ার নিয়ে হাতে
বিজয় নিশানে সামনে চলেছি
লক্ষ্যটা শাহাদাতে।

.

রক্ত আমার চির জীবনের
সঙ্গী, তা জানো কি গো?
আমি মায়েদের চোখের জলের
দাম দিতে এসেছি গো।

.

‘বিদ্রোহী’ সেই মহাবাণী আজ
শোনাবো তোমায় পড়ে
সারা দুনিয়ার মাজলুমে চায়
বিদ্রোহী ঘরে ঘরে।

.

এ জীবন শুধু তামাশার নাকি?
কাটাবে কি শুধু ভোগে?
এখনও কি ঘোর নিদ্রা ছুটেনি
জুলুমের অভিযোগে?

.

দাঁড়াও দাঁড়াও মাথা উঁচু করো
সংগ্রামে পড়ো ঝুকে
দলবেঁধে আজ ছুটো রণবীর
বিজয়ের অভিমুখে।

.

বলার সুযোগ পাইনি অতীতে
দাঁত চেপে আছি দাঁতে
স্বজাতির ব্যথা-বেদনার ধ্বনি
পীড়া দেয় কলিজাতে।

.

স্বর্গে আমার মূল বিনিয়োগ
পকেটে যে প্রাণ রাখা
বিজয়ের মহাক্ষণ এসে গেছে
হোক না তা আঁকাবাঁকা!

.

এখনি সময় বদলা নেয়ার
যতটুকু গেছে আগে
সাক্ষ্যটা দিবে রণভূমি, যেটা
ভেজা লাল দাগে দাগে!

.

দেনা-পাওনার সংগ্রামে আজ
কে আছো দাঁড়াবে পাশে?
পাওনাটা আজ পরিশোধ হবে
মহা সে জয়োল্লাসে!


রংপুরে হামলা নিয়ে
.

সন্ত্রাসী! এটা কোনো জিহাদের থিম না
রংপুর ত্রাসকারী মোটে মুসলিম না!
খাঁটি মুসলিমরা তো বোমা হাতে নেন না
‘জীব খুন মহাপাপ’ সবে করে ঘেন্না।

.
কিছু আছে ‘মুনাফেক!’ পশ্চিমা গোষ্ঠী
অপরাধ করে দেয় ‘ইসলামে’ দোষটি!
শুয়োরের দেহ তার! বেশ মোটা চাঙ্গা
লক্ষ্য তো একটাই ‘ধর্মীয় দাঙ্গা’!
.

হিন্দুরা আমাদের সমাজেরই অংশ
কেন হবে শুধু শুধু সমজাতি ধ্বংস?
‘রব’ যিনি আমাদের, ওদেরও তো স্রষ্টা
হাঙ্গামা যারা করে মূলে ওরা ভ্রষ্টা!
.

বেদ্দব! মুনাফেক! তাদের এটা কর্ম
ইসলাম আসলেই শান্তির ধর্ম।
পাঞ্জাবী পরে ধরে মুমিনের রূপ তো
দেখে নিও শিগগির ওরা হবে লুপ্ত!



চিরদেখা
..
প্রথম দেখার সূচনাটা ছিলো
রক্তে রাঙানো পথে
আমরা ছিলাম লাঞ্চিত ‘দাস’
তোমাদের অভিমতে!

.
সাহস ছিলো না প্রতিরোধে, এই
বুকে ছিলো শুধু ক্ষত
মনে মনে শুধু ক্ষোভে জ্বলেপুড়ে
মরে গেছি অবিরত!
:
পরের দেখাতে মাঠে নেমেছি তো
সংগ্রামী হয়ে সাথে
বেদনার সেই ফুলকি এখনও
মিশে আছে কলিজাতে!

.
আধেক মরেছি আমরা, এবং
বাকি তোমাদের সাথী
তোমাদের সাথে পাল্লা দিয়ে তো
হয়েছিলো হাতাহাতি!
:
দেখা হয়েছিলো তলোয়ার হাতে
সাহসিকা এক দিনে
তোমাদের সব কৃত অপরাধ
লিখে দিতে সিজ্জিনে!

.
দুনিয়াকে শুধু ‘হেয়’ করেছিলে
পরোয়া করোনি কিছু
‘রিদওয়ানে রবে’ ঈমানদানের
লেগেছিলে পিছুপিছু!
:
দেখা হয়েছিলো অতীতে ক্ষতিতে,
শেষ দেখা নয় সেটা
এবারের দেখা চির স্মরণীয়
খাবে শুধু লাঠিপেটা!

.
দেখা হবে ‘চিরদেখা হবে’, বাণী
শোনে রাখো দুই কানে
তোমাদের সাথে শেষ দেখা হবে
বিজয়ের ময়দানে।

:
★সিজ্জিন= পাপীদের পাপ লিখা হয় যেখানে।
★রিদওয়ানে রব=রবের সন্তুষ্টি।


কবিতার অভিমানী
..
যদি যেতে হয় চলে যাও তবে, নেইতো বলার কিছু
পুরানো রীতিতে ডাকবো না আর আসবো না পিছুপিছু।
চোখফেটে জল আসবে যে কতো নোনাজলে যাব ভেসে
মরবো না ঠিক, তবে এ হৃদয় মরে যাবে অবশেষে!
যদি ভালোবেসে নামটা তোমার মুখেতে না আর আনি
হবে নাতো কানাকানি
হারিয়ে গেলেও সত্যি কি মায়া ভুলে যাবে অভিমানী?
.
যদি বাগানের পুবকোণে আর তোমার দেখা না মিলে
বসবো সেখানে যেখানে সেদিন তুমি এসে বসেছিলে
মাটিতে চোখের জল বিছিয়ে তো আঁকবো তোমারি ছবি
বেদনায় কিছু লিখে লিখে দ্যাখো হয়ে যেতে পারি কবি।
স্বপনে যদি গো ছায়া হয়ে এসে হাত দুটো ধরে টানি
দিয়ে এ হৃদয়খানি
ভুলে গিয়ে সব আবারও নয়নে আসবে কি অভিমানী?
.
যদি প্রভাতের স্নিগ্ধ বাতাসে নূপুর না আর বাজে
যদি গোধূলীর রং মিশে যায় বেদনার কারুকাজে
আমি কেঁদে যাব, হয়তো কারোরই কিচ্ছু হবে না তাতে
শিশিরের ফোটা কাঁদবে সেদিন হারানোর বেদনাতে!
কাশবনে একা হাঁটলে তো কেউ আসবে না সেটা জানি
মিতা হবে শুধু পানি
স্মৃতিগুলো শুধু গুনেগুনে মনে রাখবে কি অভিমানী?
স্বপ্নগুলো
..
স্বপ্নগুলো ভাঙবে জাগার আগেই
দুঃখ-ব্যথা পড়বে নিজের ভাগেই
মিথ্যে মায়া! সত্যি এ প্রেম ফাঁকির!
অশ্রু এখন সঙ্গী হবে আঁখির
ক’দিন ছিলো খুব যে আপন, লাভ এই
যা হারাবার হারিয়ে তা ঠিক যাবেই।

.
একটা সকাল আর হবে না মধুর
নূপুর পায়ের স্বপ্নবোনা বধূর
মূল্য তো নেই শিশিরভেজা ঘাসের
পদ্ম-গোলাপ কিংবা সাদা কাশের
কষ্টগুলো ঠিক তো কুড়ে খাবেই
যা হারাবার হারিয়ে তা ঠিক যাবেই।

.
শুনবে না সে কারোর কোনো বারণ
কাঁদতে এখন লাগবে না তাই কারণ
শূন্য কুঠির শূন্য হবে আবার
আজ মালতীর সময় হলো যাবার
পারবে নাতো রাখতে কোনো ভাবেই
স্বপ্নীল অতীত হারিয়ে গেছে, যাবেই!
যা হারাবার হারিয়ে তা ঠিক যাবেই।


তাঁর ছড়াতে
(প্রিয় ছড়াকার কামরুল আলমকে নিবেদিত)
তাঁর ছড়াতে বিড়াল হাসে, বুলবুলিটা কেঁদেই মরে
ময়না-টিয়া গায় সুমধুর গান,
কাঠবিড়ালীর লাফিয়ে চড়া, আর ঠাকুমার কিচ্ছে বলা
তাঁর ছড়াটার মুখ্য অভিধান।
.
তাঁর ছড়াতে মেঘ উড়ে যায়, দমকা বাতাস দোল খেয়ে যায়
বৃষ্টি পড়ে কাদায় ভরে মাঠ,
বকের সারি নাচ জুড়ে দেয়, তাঁর ছড়াতেই হঠাৎ দেখি
নৌকা দিয়ে ভর্তি খেয়া-ঘাট।
.
তাঁর ছড়াটা শিক্ষণীয়, বলবে কথা এই সমাজের
তাঁর ছড়াতে দুঃখিরা পায় সুখ,
বার্মাতে যায় তাঁর ছড়াটা, কার ছড়াটা? বলছি শোনো
তাঁর ছড়া যায় যুদ্ধ অভিমুখ।
.
উদার মনের মানুষ তিনি, গর্ব আমার, সিলেটবাসীর
যা বলেছি একটুও না ভুল,
তাঁর ছড়াতে, কার ছড়াতে? দক্ষ, পরিপুষ্ট যিনি
এক ছড়াকার নামটা যে কামরুল।


মৃত্যু
..

ধিরে ধিরে জীবনের পরিধিটা কমে আসে
গুলে যায় সবকিছু সে প্যাঁচে,
হুট করে তেড়ে আসে কেড়ে নিতে সবকিছু
মৃত্যুটা এই বুঝি ক্ষেপেছে!

.
রঙিন এক জীবনের ইতি ঘটে অবেলায়
কতো মায়া নিচে পড়ে দলে যে,
কতো মায়া বিকেলের সোনারোদে বেঁধে রাখা
কতো মায়া ক্যানভাসে কলেজে।

.
আকাশের তারাগুলো হাতছানি দিয়ে ডাকে
কেঁদে বলে ‘ফিরে ফিরে -হে ধন আয়’
বাবা কাঁদে ভাই কাঁদে, মা’র চোখে লাল জল
কলিজাটা হারানোর বেদনায়!

.
জীবনের অংকটা না কষাই থেকে যায়
কেঁদে বলে, ‘প্রিয়তম- ফিরো হে’
পঁচে যায়, গলে যায়, মরে যায় ভালোবাসা
স্মৃতিগুলো কেঁদে যায় বিরহে।



নেই
..

মাটি আর খাঁটি নেই, দুধেভরা বাটি নেই
আর পরিপাটি নেই গেরামের ছবিটা
নদী-নালা খালও নেই, নৌকাতে পালও নেই
ভালো নেই ভালো নেই পুবের ঐ রবিটা।

.
জারি-সারি গান নেই, গোলাভরা ধান নেই
খুকুর অভিমান নেই, মুখে নেই হাসিটা
নীলাকাশে ঘুড়ি নেই, সাগরে তো নুড়ি নেই
গল্পতে বুড়ি নেই, নেই তার কাশিটা।

.
গাছে পাকা আম নেই, কাঁঠালেরও দাম নেই
কালো কালো জাম নেই, নেই গাছে পেয়ারা
কলাগাছ নিচু নেই, থোকাথোকা লিচু নেই
কিছু নেই কিছু নেই, ভালো নেই কেয়া’ রা।

.
রাখালিয়া বাঁশি নেই, মাঠভরা চাষি নেই
আর পাশাপাশি নেই গায়েনের বাড়িটা
গাছে গাছে কদু নেই, মৌচাকে মধু নেই,
লীলাবতী বধূ নেই, পড়ে আছে শাড়িটা।


অবশেষে
..

একটা বিশাল হৃদয় আমার, হয়তো টাকা কম ছিলো
এক মালতীর চালক হবার স্বপ্নটা বেশ জমছিলো।
গোলাপ হাতে এক-দুটো না, এক্কেবারে পাঁচ ছিলো
কেমন হবে মুহূর্তটা? লজ্জা ঘিরে খাচ্ছিলো!

.
দু’হাত ভরে গোলাপ দেয়ার স্বপ্ন নিয়ে কত্ত রে
ঝলসানো এক দুপুরবেলায় হাজির কলেজ চত্বরে।
ঠিক ছিলো সব, কিন্তু আমার ঠিক ছিলো না কল্পটা
তা নাহলে আজ কেঁদে কি এই সাজাতাম গল্পটা?

.
“বাইক আনো নি? হেঁটেই যাবা? একটু কি নেই লজ্জাও?
আর যা হলেও তোমার সাথে প্রেম হবে না, শয্যাও!”
পেছন তাকায়, ভেংচি কেটে আস্তে ও ধীর পা’য় চলে
এই প্রেমিকের নেই টাকা তাই যায় মালতী যায় চলে।

.
কপাল! কপাল! ভাগ্যে যা নেই ক্যান যে সেটার ডাল গুনি?
পায় কি সবাই ইচ্ছেস্বাধীন? হয় কি সবার ফাল্গুনী?
এক দরিয়া ভাসলো জলে, চোখ ইঁদুরের ঘর হলো
আর তো কবির এক মালতী পর হলো গো পর হলো।


মা
..

তুমি পাশে ছিলে বটমূল হয়ে
শত যাতনার পরে,
বেদনার দিনে তুমি একা ছিলে
মেঘহীন বালুচরে।

.
কালের খেয়াতে তুমি ছিলে পাকা
এক নাবিকের বেশে,
আমাদের সুখে আজীবন ব্যথা
সয়ে গেছো হেসে হেসে।

.
তুমি ছিলে আরো গোধূলীবেলার
রাঙ্গা আকাশের বুকে,
সকালে বিকেলে তুমি ছিলে পাশে
কতো ছড়া নিয়ে মুখে।

.
ঠান্ডায় জমে পাশে ছিলে তুমি
ভীত আঁধারের কালে,
আরো ছিলে তুমি পাখি হয়ে যেনো
আমাদেরই ডালে ডালে।

.
দিয়েছো একাই মুঠি ভরে, শুধু
জানোনি কিছুই নিতে,
তুমি ছিলে তুমি আছো বলে আজো
কবি আছে পৃথিবীতে।



আমি স্বাধীনতা বলছি
..

রক্তনদীতে ভেসে আছি আমি
কতো বেড়াজালে ফেঁসে আছি আমি
লাশ হয়ে আমি আজো পড়ে আছি
পদ্মা নদীর পাড়ে,
গৃহহারা হয়ে ঝুলে আছি দ্যাখো
সীমানার কাটাতারে!

.
বাবার চোখের জলে আছি আমি
আজো শোষণের তলে আছি আমি
মুখ বুঁজে আমি আজো পড়ে আছি
দুখিনি মায়ের ঘরে,
বেঁচে আছি আমি, মরে বেঁচে আছি
আজো এই চরাচরে!

.
আমার স্বাধীন ডানা হারিয়েছি
সম্মান আছে? না না হারিয়েছি!
চিনতে পেরেছো আমাকে? তোমরা
শুনেছো আমার কথা?
আমি লাঞ্চিত, বস্ত্র হারানো
তোমাদেরই স্বাধীনতা!
..
বিদায়বেলা
..

বৃষ্টি আসুক পুকুরঘাটে হোক বাতাসের রব,
আর হবে না কারোর সাথেই ভেজার মহোৎসব।
একটা জুটি হাতটা ধরে হাঁটবে নাতো আর,
আর হবে না পুল-সাঁকো বা নৌকা পারাপার।

.
ঝালমুড়ি বা মটরশুঁটি আর বাদামের প্রেম
ঘুমিয়ে গেছে, এখন সবই ঘূণধরা এক ফ্রেম।
পদ্ম হাতে আর দাঁড়িয়ে থাকবে না তো কেউ,
দুই জোড়া চোখ দেখবে না আর সুরমা নদীর ঢেউ।

.
একতারাতে রাত-বিরাতে উঠবে না আর সুর,
গানের পাখি পালিয়ে গেছে কোন সে অচিনপুর।
চাঁদনী রাতের গল্পগুলো হারিয়েছে তার থিম,
কাঁদবে দ্যাখো পুবের জারুল, পুকুরঘাটের নিম।

.
চোখের পরেই হারিয়ে যাবে একটা মধুর পাঠ,
হঠাৎ করেই জল ঝরাবে সরষেফুলের মাঠ।
বিদায় হবে আমার চোখের একটা মলিন ফ্রেম,
থাকবে পড়ে বারান্দাতেই বৃষ্টিফোঁটা প্রেম!

মেম
..
পিঁপড়া দেখে আঁৎকে উঠে বলবে ওমা, এ্যাঁক!
সাত পুরুষের নাম নিয়ে ভয় দিচ্ছে ঠেলে দ্যাখ।
বোরকা পরা? তা দূরে থাক! ওড়না মাথায় নেই,
তাই প্রতিদিন ইভটিজারে করতেছে টিজ, হেই!

.
শপিং মলে বলবে ঢোকে, ভাইয়্যা এটা কী?
ভাইয়্যাটাও খ্রাপ না! উনি বলছে আপু, জ্বী!
পার্কে গিয়ে সেলফী তোলা,হেডফোনে অফ কান,
এর সুযোগে কেউ মারে চোখ,কেউ হাতে দেয় টান!

.

ময়দা মেখে ফর্সা এবং লাল করেছে লিপ,
ঝুমুরঝুমুর রেশমি চুড়ি আর কপালে টিপ।
চশমা পড়ে ইয়া বড় এক, কত্ত ধরে ভান,
বাইক পেছনে সিট যদি পান আর কিছু কি চান?
.

সারাদিনের ক্লান্তি শেষে রাত্রে যখন সিক,
মোবাইল ঘেটে সুন্দরী এক আপলোডাবেন পিক।
এইতো হলেন আমার দেশের মেম সাহেবা, হায়!
শাসতে ওদের হাইকোর্টে চাই একটা কঠিন রায়।
.

তবেই হবে ইভটিজিং আর ধর্ষন-খুন শেষ,
দেশ ভালো হোক এই কামনা করছি আমি পেশ।


ময়দানে যাবো
..

গুঙিয়ে গুঙিয়ে মৃতপ্রায় বাবা,
ওই দেখো মা’যে কাঁদে,
আমি মুসলিম কারাগারে আজ
মিছে কতো অপবাদে!

.
শহিদে শহিদে ধন্য এ মাটি
মরে গিয়ে ওরা হাসে,
গৃহহারা হয়ে মানবতা ঘুরে
পৃথিবীর চারিপাশে।

.
শিয়রে শিয়রে আহাজারি, কতো
বাঁধন গিয়েছে ছিঁড়ে,
আঘাতে আঘাতে উর্বর মাটি
ফুঁসে ওঠে তাকবীরে।

.
ললাটে ললাটে কালিমার রেখা
তীর বাধা আছে গানে,
কেঁপে কেঁপে ওঠে অন্তর আজ
মৃত্যুর কলতানে!

.
মিনারে মিনারে আওয়াজ ওঠেছে
জাগো মুসলিম জাগো,
আমিও চলেছি সেই সে মিছিলে
দোয়া করে দিও মাগো।

.
কাফনে কাফনে কালেমা লিখেছি
কোনো পথ নেই বাকি,
বদর দেখিনি, দেখেছি জমিনে
রক্তের মাখামাখি!

.
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আর থাকা নয়,
ময়দানে যাবো, আসো,
কে কে খালিদের সহযোগী আছো
ইসলাম ভালোবাসো?

.
মিছিলে মিছিলে ঝরে পড়া প্রাণ
হাতছানি দিয়ে ডাকে,
জোরে চলো আরো জোরে হে পথিক-
সম্মুখে ঝাঁকে ঝাঁকে।

.
বাগানে বাগানে জান্নাতী ফুলে
পাপড়ি মেলেছে কতো,
আমাদের ফুল ঝরে গিয়ে যায়
জান্নাতে অবিরত।

.
আদরে আদরে বিচারের দিনে
ক্ষমা দিবে রব সাথে,
দুনিয়াতে কোনো সুখ নয়, সুখ
জমা আছে জান্নাতে।




Share Button

আর্কাইভ

December 2017
M T W T F S S
« Nov    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

Prayer Time Table

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৫:১০
  • দুপুর ১১:৫৫
  • বিকাল ৩:৩৬
  • সন্ধ্যা ৫:১৫
  • রাত ৬:৩৪
  • ভোর ৬:৩০


Developed By Mediait