বাহুবলে বিষপানে গৃহবধূর আত্মহত্যা                 প্রাথমিকে পদোন্নতি পেলেন ৫৭৮ শিক্ষক, অপেক্ষায় ৮৩২                 মাসিক অভিযাত্রী’র মোড়ক উন্মোচন                 ছাত্রদল নেতা রাজু হত্যার ঘটনায় তিনজন আটক                 বাংলাদেশে ঈদ ২২ আগস্ট                 মদনমোহনসহ সিলেটের ২৮টি কলেজকে ‘সরকারি কলেজ’ ঘোষণা                 ইস্ট-ওয়েস্ট ভার্সিটিছাত্রের যে স্ট্যাটাসটি ভাইরাল হলো                

কেন জামায়াতের এই শোচনীয় পরাজয়?

: সোনার সিলেট
Published: 03 08 2018     Friday   ||   Updated: 03 08 2018     Friday
কেন জামায়াতের এই শোচনীয় পরাজয়?

কামরুল আলম ।। সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়ে ১০,৯৫৭টি ভোট পেয়ে ৩য় স্থান অধিকার করেছেন জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। হ্যাঁ, তিনি ৩য় স্থানেই থাকার কথা, কিন্তু তাই বলে এত কম ভোট নিয়ে?
.
নির্বাচনের পূর্বে এই নিবন্ধকারের (পোস্টদাতা) কয়েকটি লেখায় জামায়াতের জন্য আশাজাগানিয়া বার্তা বহন করেছিল যা অনেকের কাছেই ‘হাসির খোরাক’ কিংবা ‘দিবাস্বপ্ন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে তখনই। কিন্তু লেখাগুলোর তথ্যভিত্তিক যুক্তি খন্ডন করতে কেউ এগিয়ে আসেননি। ‘যে কারণে বিজয়ী হতে পারেন জুবায়ের’ শিরোনামের লেখায় কোথাও একথা উল্লেখ করা হয়নি যে, জুবায়েরই বিজয়ী হয়ে যাবেন। সিলেট সদর উপজেলাসহ সিলেট নগরীর নিকটবর্তী উপজেলাসমূহে জামায়াতের ভোট বিশ্লেষণ ও বিগত পৌরসভা-জাতীয় নির্বাচনে তাদের প্রাপ্ত ভোট বিশ্লেষণ করেই লেখাটি সাজানো হয়েছিল। এই লেখাটি ছিল ‘যদি নির্ভর’।
সিলেট সিটি নির্বাচনে জামায়াত অংশগ্রহণ করেছে এবং জোরেশোরে প্রচারণাও চালিয়েছে। অনেকেই ধারণা করেছিলেন জামায়াত অন্তত ৪০-৫০ হাজার ভোট পেতে পারে। ‘সিলেটে জামায়াতের ভোট সংখ্যা আসলে কত?’ শিরোনামে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনেও ২০ থেকে ৩০ হাজার সম্ভাব্য ভোটের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে পক্ষে-বিপক্ষে সকলের মুখেই শোনা যাচ্ছে একই কথা-‘জামায়াতের ভোট গেল কই?’
.
জামায়াতের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন তৈরির সময় (৩ জুলাই) পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রেসব্রিফিং বা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আমরা পাইনি। এতে করে আমরা ধরে নিচ্ছি প্রাপ্ত ফলাফল জামায়াত কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছেন। অবশ্য মেনে না নিয়েও কোনো উপায় নেই। যদিও ভোট ডাকাতির মতো গণহারে জালভোট দেওয়ার পর জামায়াত সমর্থকদের কারো কারো এটা মনে হতে পারে, জামায়াতের ভোটগুলো ছিনতাই হয়ে গেছে! হ্যাঁ ভোট ডাকাতি বা চুরি হয়েছে এটা সত্য। অনেক জামায়াত সমর্থকও নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি, কেন্দ্রে গিয়ে দেখেছেন ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। আবার কেন্দ্রগুলোতে গণ্ডগোল হচ্ছে দেখে অনেকে ভোট দিতেও যাননি। কিন্তু এ সংখ্যাটা কত হতে পারে? ১ হাজার, ২ হাজার নাকি ৫ হাজার? ৫ হাজার হলেও মোট ভোটের সংখ্যা ১৫/১৬ হাজারে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে যাকে আমরা ‘শোচনীয় পরাজয়’ ছাড়া অন্যকিছু বলতে পারছি না। প্রশ্ন হলো কেন জামায়াতের এই শোচনীয় পরাজয়?
.
জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন ২০দলীয় জোটের একক প্রার্থী হিসেবে। কিন্তু ২০ দল থেকে তাঁকে নয়, প্রার্থী ঘোষণা করা হয় বিদায়ী মেয়র ও বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরীকে। জামায়াতের সঙ্গে স্থানীয় ২০ দলের অনেকেই ছিলেন এটা যেমন সত্য তেমনি এটাও সত্য ছিল যে, আরিফুল হক চৌধুরীই ছিলেন ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী। তাঁর প্রতীক ছিল চির পরিচিত ‘ধানের শীষ’ যা কেবল ‘নৌকা’ প্রতীকের বিপরীতে দাঁড়াতে পারে। ‘টেবিল ঘড়ি’ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াতের সিলেট মহানগর আমির একজন ক্লিন ইমেজের তরুণ রাজনীতিবিদ হলেও জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্য মেয়রপ্রার্থী হতে পারেননি কারণ ভোটের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন একেবারেই নবীন। তিনি নির্বাচনের সময় যেভাবে জনগণের নিকট উপস্থিত হয়েছেন এর পূর্বে কখনও তাঁকে এভাবে যেতে দেখা যায়নি, যাওয়ার পরিবেশও ছিল না। অন্যদিকে আরিফুল হক চৌধুরী ছিলেন সিলেট নগরীর অত্যন্ত পরিচিত মুখ। যিনি মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন জামায়াতসহ ২০ দলের সমর্থন নিয়ে এবং মেয়র হবার পর জেল-জুলুম অত্যাচার সহ্য করেও কিছু ‘নজরকাড়া’ উন্নয়ন কাজের সূচনা করেছিলেন যা অতীতের কোনো মেয়র বা পৌর চেয়ারম্যানকে করতে দেখা যায়নি। এ কারণে সিলেটের জনগণের নিকট মেয়র আরিফ ছিলেন এক নম্বর পছন্দ। বিকল্প মেয়র হিসেবে তাঁরা অন্য কারো কথা চিন্তা করতে পারেননি। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের জনপ্রিয়তাও কোনো অংশে কম ছিল না। কিন্তু সামগ্রিকভাবে আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের ‘ব্যালট বিপ্লবে’ সেটা আরিফের জনপিয়তার কাছে ম্লান হয়ে যায়। বিশেষ করে কামরান পৌর চেয়ারম্যান থেকে সিটি মেয়র বারবার নির্বাচিত হলেও নগরীর উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি বলেই মানুষের কাছে ধরা পড়েছে। এ কারণে জনগণ আরিফুল হক চৌধুরীকেই রায় দিয়ে ‘অসম্পূর্ণ উন্নয়মূলক কাজ’ সম্পন্ন করার সুযোগ করে দিয়েছে। এই ‘জনগণ’ এর তালিকায় যেমন আমাওয়ামীলীগ সমর্থক রয়েছেন তেমনি রয়েছেন জামায়াতে ইসলামির সমর্থকও!
.
জামায়াতকে পছন্দ করেন এমন ভোটারের সংখ্যা সিলেটে উল্লেখযোগ্য হলেও তাদের নিকট আরিফের বিপরীতে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। তারা এ বিষয়টাকে নিছক ‘কামরান বা ক্ষমতাসীনদের দালালি’ হিসেবেই মনে করেছেন। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে একাধিক জামায়াত সমর্থক বলেন, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মানুষ হিসেবে ভালো। তিনি মেয়র নির্বাচিত হতে পারবেন না জেনেই এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন! তাঁর উদ্দেশ্য আরিফকে পরাজিত করা। অতএব আমরা মনে করি জামায়াতকে ভোট দেওয়া আর আওয়ামীলীগকে ভোট দেওয়া একই কথা। তাই আমাদের ভোট ধানের শীষেই  প্রদান করেছি।
.
নির্বাচন চলাকালীন সময়ে বিএনপি সমর্থকরাও এ বিষয়টি ভোটারদের নিকট তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন যে, জুবায়ের মানুষ ভালো। কিন্তু তিনি বিজয়ী হতে পারবেন না। তাঁকে ভোট দেওয়ার অর্থ নৌকাকে ভোট দেওয়া। অতএব নৌকা ঠেকাতে ধানের শীষের কোনো বিকল্প নেই।
.
মোট কথা, সিলেট সিটির ভোটারদের নিকট দুইটাই অপশন ছিল হয় ধানের শীষ নয় নৌকা। এখানে টেবিল ঘড়িকে তৃতীয় বিকল্প হিসেবে কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। বাকি থাকলো জামায়াতের দলীয় নেতা-কর্মীর ভোটসংখ্যা। জামায়াতের একান্ত দলীয় অনুগত কর্মী ও সদস্যদের ভোটগুলোই জামায়াতের বাক্সে জমা হয়েছে, সাধারণ সমর্থক ও সাধারণ মানুষেরে ভোটলাভে ব্যর্থ হয়েছে জামায়াত, এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর সকাল থেকে কেন্দ্র দখল ও গণ্ডগোলের কারণে নেতা-কর্মীদেরও উল্লেখযোগ্য একটি অংশ ভোট দিতে যেতে পারেননি। তাই প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যাটা জামায়ােতের জন্য ‘লজ্জাজনক’ হয়ে যায়।
.
একদিকে আওয়ামী দুঃশাসনের বিপরীতে ‘গণবিস্ফোরণ’ আরেকদিকে আরিফুল হক চৌধুরীর ‘উন্নয়ন’ এই দুইয়ের যোগফলে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সিলেটে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল আরিফের। শোচনীয় পরাজয় কেবল জামায়াতের নয় বরং একই সঙ্গে শোচনীয় পরাজয় হবার কথা ছিল আওয়ামীলীগেরও। কিন্তু সকাল থেকে বিষয়টি টের পেয়ে আওয়ামীলীগ ভোটডাকাতি ও জালভোটের মাধ্যমে নৌকা প্রতীককে ধানের শীষের কাছাকাছি নিয়ে আসতে সক্ষম হয়। টেবিল ঘড়ি প্রতীকের এজেন্ট জামায়াত-শিবির কর্মীরা বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে গুলিবিদ্ধ হয়ে লড়াই করে ভোটডাকাতি কিছুটা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হন। ফলস্বরূপ ভোটাররা কিন্তু টেবিল ঘড়িকে নয়, ধানের শীষেই সীল মারেন। সকাল থেকে আওয়ামী ভোটডাকাতির কারণেও মানুষ ক্ষেপে গিয়ে আওয়ামীলীগকে পরাজিত করতে ধানের শীষকেই বেছে নেন। ভোটডাকাতির সময় আওয়ামীলীগ এটাও মাথায় রেখেছিল যে, জামায়াতের টেবিল ঘড়ি প্রতী কম হলেও ৩০ হাজার ভোট পাবে। তাই এখানেও তারা পর্যাপ্ত ভোটডাকাতি হয়েছে বলে ধরে নিয়েছিল। কিন্তু জামায়াতের প্রাপ্ত ভোট কম হওয়াতেই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হতে পারেনি তারা।
.
নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের কারণে জামায়াত জোট রাজনীতিতে কিছুটা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সামনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে জামায়াত আসন সংখ্যা ১০০টির মতো দাবি করতে পারে বলে এতদিন শোনা গিয়েছিল। কিন্তু তাদের এ দাবি এখন বিএনপির কাছে গুরুত্বহীন হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি জামায়াতকে ‘জামানত হারানোর দল’ হিসেবে খোঁচা দিয়ে কথা বলার সুযোগ তো থাকছেই। এছাড়া দলীয় কর্মীদের মনোবল কিছুটা হলেও ভেঙে যাওয়াটা তো খুবই স্বাভাবিক। তা সত্ত্বেও জামায়াতের জন্য এ ‘বিপর্যয়’ কিছুই নয় বলেই মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, শীর্ষ নেতৃবৃ্ন্দের ফাঁসি আর স্মরণকালের ‘ভয়াবহ’ নির্যাতন উপেক্ষা করে জামায়াত যদি ঠিকে থাকতে পারে তাহলে এ ফলাফল বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
.
লেখক : সম্পাদক- সোনার সিলেট ডটকম

এসএসডিসি/ কেএ




Share Button

আর্কাইভ

August 2018
M T W T F S S
« Jul    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

Prayer Time Table

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৪:২০
  • দুপুর ১২:০৫
  • বিকাল ৪:৩৬
  • সন্ধ্যা ৬:৩১
  • রাত ৭:৪৮
  • ভোর ৫:৩৫


Developed By Mediait