জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ১৪ প্রতিশ্রুতিতে যা আছে                 মহাজোট প্রার্থী ড. মোমেনকে আল ইসলাহ’র সমর্থন                 নলেজ হারবার স্কুলে বিজয়ের ছড়া উৎসব                 আটকে গেলো ইলিয়াস আলীর স্ত্রীর ভোট                 ২২০ আসনে জয় দেখছেন জয়                 গাজীপুরে বিএনপি প্রার্থী মিলন গ্রেপ্তার                 তিনে ফিরলেন সৌম্য সরকার                

গণতন্ত্র চর্চায় ভারত এবং বাঙালি প্রসঙ্গ ।। এম. আশরাফ আলী

: সোনার সিলেট
Published: 15 09 2018     Saturday   ||   Updated: 15 09 2018     Saturday
গণতন্ত্র চর্চায় ভারত এবং বাঙালি প্রসঙ্গ ।। এম. আশরাফ আলী

আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। প্রায় দেড়’শ কোটি মানুষের বসবাস সেখানে। হিন্দু প্রধান দেশ হলেও এখানে মুসলিম, খৃষ্টান, বৌদ্ধ সহ নানা ধর্মানুসারীর বসবাস। রয়েছে গোত্র, সম্প্রদায়, রয়েছে জাতি-গোষ্ঠী। সেই জাতি-গোষ্ঠীর একটি হচ্ছে বাঙালি। হাজার বছরের ইতিহাস তাদের। ভারত পাকিস্তান বিভক্ত হল মাত্র সেদিন। ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট পাকিস্তান এবং ঐ সালের ১৫ই আগস্ট ভারত স্বাধীনতা পায় বৃটিশ বেনিয়াদের কাছ থেকে। আর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হয় ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর কি বাংলাদেশ ছেড়ে বাঙালিরা ভারতে গেল, না এর আগেও ভারতীয় সীমানায় বাঙালিদের বসবাস ছিল?
বাংলার শেষ নবাব সিরাজ উদ দৌলার পতন হয় ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন। এর পূর্ববর্তী নবাব আলীবর্দীখান এর পূর্ববর্তী নবাব গণ বাংলা বিহার, উড়িষ্যা শাসন করেন। তখন তো আর বাংলাদেশের জন্ম হয়নি। ভারতের পশ্চিম বঙ্গ, আসাম, শিলচর, করিমগঞ্জ, কাছাড়, জিরিবাম, আইলাকান্দি সহ অনেক স্থানে যুগের পর যুগ, কালের পর কাল ধরে বাঙালিরা বংশ পরস্পরায় বসবাস করে আসছে। যাক একথায় পরে আসছি।
ভারতে রয়েছে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকার। গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ বলতে যা বুঝায় সেটা ভারতে রয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে চলছে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার হাত বদল। রয়েছে শক্তিশালী বিরোধী দল-জোট। নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতার হাত বদল গণতন্ত্রের হাতকে করেছে শক্তিশালী। নির্বাচনকালীন ক্ষমতার হাত বদল প্রক্রিয়াও প্রশ্নবিদ্ধ নয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় ভারতের উন্নয়নে গতি এসেছে। আজ ভারতের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা চোখে পড়ার মতো অবস্থানে এসেছে। তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে ভারতের অর্থনীতি। সামরিক কি বেসামরিক ক্ষেত্রে ভারতকে সমীহ করতেই হচ্ছে। তবে এখনও কিছু শেখার বাকী রয়েছে তাদের।
ইউরোপ-আমেরিকায় যারা উপমহাদেশ হতে গিয়ে সেটেল্ড হয়েছেন, তারা এখন পর্যন্ত নাগরিকত্ব নিয়ে হুমকীতে নয়। ইউরোপের দেশ বিশেষ করে ইংল্যান্ডের কথা বলবো। ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ হতে লক্ষ লক্ষ মানুষ সীমানা পাড়ি দিয়ে সেখানে বসবাস করছে। তাদের দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। ওরাও আমাদের মূল্যায়ন করেছে। একজন মানুষের মৌলিক চাহিদা বলতে যা বুঝায় তা নিশ্চিত করেছে। বিয়ে-শাদি থেকে শুরু করে ব্যবসা বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি, এমনকি মন্ত্রী, এমপি, মেয়র, কাউন্সিলর ইত্যাদিও হচ্ছে। এতে ওরা কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে না। ওরা একটা ভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী হয়েও উদারতার পরিচয় দিচ্ছে। কিন্তু ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত সরকার তার দেশের বাঙালিদের উপর ছড়াও হয়েছে। কিছুদিন আগে বৌদ্ধ-মগরা আরাকানী মুসলমানদের উপর চড়াও হয়ে ওদের ভিটে ছাড়া করে বাংলাদেশে ১০ লক্ষ রোহিঙ্গাকে ঠেলে দিয়েছে। ওদের মানবিক কারণে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছিল। আজ এক বছর হতে চলল-এদের ফেরত নেয়ার কোন নাম নেই। সমস্ত বিশ্ব একত্রিত হয়ে মায়ানমারকে ওদের দোষের কথা বললেও ওরা দোষ স্বীকার করছে না। পক্ষান্তরে ওরা বাংলাদেশকেই দোষী বানাতে চাইছে। কিন্তু একটি বিষয় সেখানে পরিষ্কার সেটা হল এই : আরাকানীদের সম্পদ, বসবাসের জায়গা এসব কিছু ওদের চাই-ই-চাই। যদি রোহিঙ্গাদের ভাল না লাগে তাহলে ওদের আরাকান রাজ্যসহ আলাদা করে দাও। না, তা নয়। ‘লোক চাই না-সম্পদ চাই’
এই নীতিতে আছে নেপিডু। আরাকানে ওরা হাজার বছর ধরে বসবাস করে আসছে। ইতিহাস স্বাক্ষী। এরাই মিয়ানমারের আদি বসবাসকারী। এদের উচ্ছেদ করে মগ ডাকাতরা ওদের পূর্ব পরিচয় বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরল। তবে বিশ্ববাসীর সামনে আজ একটা জিনিস পরিস্কার- কি কারণে রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। তাই বিশ্বের প্রতিটি গণতান্ত্রিক দেশ তথা জাতিসংঘের উচিৎ রোহিঙ্গাদের আবাস ফিরিয়ে দেয়া। প্রয়োজন হলে জাতিসংঘ বাহিনী নিযুক্ত করে স্বাধীন আরাকান প্রতিষ্ঠা করা। এভাবে জাতিগত উচ্ছেদ- নিধন সত্যিই বিশ্বের বিবেকবান মানুষের জন্য লজ্জাকর ব্যাপার। বিশ্বের ঘৃণ্যতম ইতিহাস সৃষ্টি করে আজ মিয়ানমার সমস্ত বিশ্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছে। এখানে জাতিসংঘকে অবশ্যই আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
বলছিলাম ভারতীয় বাঙালিদের কথা। এখানেও দেখা যাচ্ছে মিয়ানমারের প্রতিরূপ। ভারত গঠনে বাঙালিদের অবদান কম নয়। ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধসহ গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের প্রত্যেকটি আন্দোলনে ভারতীয় বাঙালিদের অবদান অনস্বীকার্য। চাকরি-বাকরি-ব্যবসা-বাণিজ্য, সামরিক বেসামরিক, সাহিত্য সংস্কৃতি সকল ক্ষেত্রে বাঙালিরা তাদের অবদান রেখে চলেছে। ভারত যখন গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে ঠিক তখনই বাঙালিদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হল এবং তাদের ‘উ-াড়ঃবৎ’ হিসাবে সনাক্ত হল। ওদের এনআরসি (ন্যাশনাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট) প্রদর্শন করতে হচ্ছে। ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকতে হচ্ছে।
গত ০৪/০৯/২০১৮ তারিখে আমার দুই ভারতীয় বন্ধু বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছেন। ওদের মুখ থেকে ভারত সরকারের এই ঘৃণ্য নীতির বর্ণনা শুনে সত্যিই অবাক হলাম। যাদের এনআরসি নেই ওদেরকে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হচ্ছে পুশ ব্যাকের জন্য। যারা ১৯৫১ থেকে বসবাস করছে ওদের নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। চলছে এনআরসি বাণিজ্যও। যাদের এনআরসি নেই ওরা সংগ্রহ করতে গিয়ে হাজার হাজার টাকাও খরচ করছে।
আমার বন্ধু এন.আর দেবনাথ ও এ.জে রুদ্র, ক্ষোভের সাথে বললেন ‘ভারত সরকার বাঙালিদের নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছে সত্যিই অপমানজনক। হাজার বছরের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় আজকে নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একজন ভারতীয় হিসেবে আমরা এটা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারি না। বরং একটা গণতান্ত্রিক সরকারের উচিৎ ছিল যাদের এনআরসি নেই তাদেরকে এনআরসি বুঝিয়ে দিয়ে প্রশ্নটির অবসান ঘটানো। এটা ভবিষ্যতের জন্য কল্যাণকর হত।
বলছিলাম ইউরোপ/আমেরিকার কথা। যারা সেখানে অভিবাসী তাদের যদি ওরা নাগরিকত্ব ফিরিয়ে নেয় তাহলে ওদের কি করার আছে? তবে বিশ্বাস আছে উদার গণতান্ত্রিক দেশে মানুষের মূল্যায়ন হয়, ওদের কর্মের মূল্যায়ন হয়। অবদানের মূল্যায়ন হয়। ভারত সরকার বাঙালিদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলার আগে ওদের গণতান্ত্রিক পন্থা ও সুশাসন নিয়ে পূণরায় ভাববেন কি? বিষয়টি আশু সমাধানের জন্য নীতি নির্ধারকদের আরও উচ্চতর ভাবনা চিন্তা করা প্রয়োজন বলে বিশ্বের গণতন্ত্রমনা নাগরিকদের প্রত্যাশা।
লেখক : কলামিস্ট।




Share Button

আর্কাইভ

December 2018
M T W T F S S
« Nov    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

Prayer Time Table

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৫:১০
  • দুপুর ১১:৫৭
  • বিকাল ৩:৩৮
  • সন্ধ্যা ৫:১৭
  • রাত ৬:৩৬
  • ভোর ৬:৩৩


Developed By Mediait