বন্দর বাজার ফুলকলিকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা                 সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন                 কেমুসাস তরুণ সাহিত্য পুরস্কারের জন্য লেখা আহবান                 খালেদা জিয়ার ইফতারে বরাদ্দ ৩৯ টাকা ৫০ পয়সা                 ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম যেভাবে                 ছাত্রদল নেতা ভিপি মাহবুবকে কারাফটকে সংবর্ধনা                 বাংলাদেশে রোজা শুক্রবার থেকে                

গুচ্ছ ছড়া ।। আকরাম সাবিত

: সোনার সিলেট ডটকম
Published: 31 10 2017     Tuesday   ||   Updated: 31 10 2017     Tuesday
গুচ্ছ ছড়া ।। আকরাম সাবিত

আলিবাবার ছড়া

.
তালি গাঁর আলিবাবা
দেয় খালি গালি বাবা
দেখলে!
রোজ একা নাচে,হাসে
খু্ব বেশি কাছে আসে
ঠেকলে।
.
আযব এই আলিবাবা
দেয় নাকি তালি বাবা
কাতরে,
সারা দিন রেগে থাকে
দিন রেখে জেগে থাকে
রাত্রে!!
.
ভুল করে আলিবাবা
মুখে দেয় কালি বাবা
পাত্রের,
জুল খেয়ে ভুড়ি ভরে
বই-খাতা চুরি করে!
ছাত্রের!
.
তার পরে আলিবাবা
খেতে চায় ছালি বাবা
কামরে!
ছায়া জুড়ে কান দেখে
বেচে নিবে ডান রেখে
বাম রে!
.
রাত হলে আলিবাবা
দেয় ঢেলে বালি বাবা
শয্যায়!
তাড়িয়ে যে সুখ টাকে
একা একা মুখ ডাকে
লজ্জায়।
.
গান ধরে আলিবাবা
খায় বারো হালি বাবা
আন্ডা!
দিন হলে তারা ডাকে
ঘুমালে সে পাড়া থাকে
ঠাণ্ডা।
.

খবর খবর
.
আমার খবর তোমার খবর
বুলেট থেকে বোমার খবর
জামার খবর তামার খবর
পাশের গাঁয়ের মামার খবর
পড়ার খবর ঝরার খবর
অন্ধকারে মরার খবর
দাদার খবর কাঁদার খবর
বিদেশ যেতে বাঁধার খবর
গাঁয়ের খবর নায়ের খবর
আমার প্রিয় মায়ের খবর
ভাবার খবর বাবার খবর
গাঁয়ের বাড়ি যাবার খবর
আশার খবর হাসার খবর
ভীষণ ভালোবাসার খবর
হাসির খবর রাশির খবর
কেউ রাখে না চাষির খবর
ভাবির খবর চাবির খবর
পত্রিকাতে দাবির খবর!
গুনের খবর জুনের খবর
হঠাৎ আসে খুনের খবর
রাতের খবর জাতের খবর
গরিব জানে ভাতের খবর
কাকার খবর টাকার খবর
জ্যামের শহর ঢাকার খবর
কাকির খবর পাখির খবর
জল ঝরা সব আঁখির খবর
চাষের খবর ঘাসের খবর
কেউ দিয়ে যায় বাঁশের খবর
একার খবর ছ্যাকার খবর
এক পলকের দেখার খবর
ব্যথার খবর জেতার খবর
সবাই রাখে নেতার খবর
মাঠের খবর ঘাটের খবর
বল্টু থেকে নাটের খবর
চাপের খবর ঝাপের খবর
কেউ রাখে কি পাপের খবর?
হাঁসের খবর মাসের খবর
পরিক্ষাতে পাশের খবর
গাড়ির খবর দাড়ির খবর
পাইনা এখন বাড়ির খবর
ঝড়ের খবর পরের খবর
ঘরেই থাকে ঘরের খবর
ভাবছি বসে সকল খবর
আসল নাকি নকল খবর!

.
আক্কা

আক্কায় শাখ খায়
মার খায়! আর খায়
কাক নি?
পান খায় ধান খায়
ডুব খায় খুব খায়
আখনী।
.
কান খায় টান খায়
তার খায় আর খায়
মুরগী,
গান গায় শান গায়
কেশ খায় বেশ খায়
গুর ঘি!
.
গাছ খায় মাছ খায়
সার খায় আর খায়
মাকড়ী,
গ্যাস খায় ম্যাস খায়
ভাত খায় রাত খায়
লাকড়ী!
.
আক্কায় শাখ খায়
ধাক্কায় চাক্কায়
বাস টার!
ফুল খায় চুলকায়
হাড় খায় আর খায়
ডাস্টার!
.
কুদ্দুস আলীর পোলা
.
কুদ্দুস আলীর ছোট্ট পোলা
তেরিং বেড়িং রাখাইয়া,
ঘরের থেকে বাইরে গেলে
শরীর চলে ঝাকাইয়া।
.
রাস্তাঘাটে চলবে যখন
কিংবা রাগে জ্বলবে যখন
গায়ের বলে বলবে কথা
চক্ষু টারে বাঁকাইয়া।
.
যখন যাবে হাটের পথে
আর বিকেলে মাঠের পথে
ম্যাইয়া দেখে দেয় ইশারা
অমনি করে তাকাইয়া।
.
একটু খানি খাঁটলে একা
মেঘের দিনে হাঁটলে একা
কাউকে পেলে দেয় মুখেতে
পথের কাদা মাখাইয়া।
.
সকাল হলে জাগলে পরে
মায়ের সাথে রাগলে ঘরে
কঠিন মনে ঘন্টা দশেক
থাকতে পারে না খাইয়া!
.
কলেজেতে পড়তে গিয়ে
সুখের জীবন গড়তে গিয়ে
বাপের টাকা করবে খরচ
ইচ্ছে মতন পাকাইয়া,
কুদ্দুস আলীর ছোট্ট পোলা
তেরিং বেড়িং রাখাইয়া।
.
আক্কাই
.
আলা-ভোলা আক্কাই
বলে আমি কাক খাই!
রাঁধিয়ে,
খুব বেশি খেটে যাই
সারা পথ চেটে যাই
পা দিয়ে!
.
আরো বলে আক্কাই
বাদরেরও নাক খাই!
চিবিয়ে,
খু্ব বড়ো হাতি খাই!
তার পরে বাতি খাই
নিভিয়ে!
.
নেচে বলে আক্কাই
মাথা ন্যাড়া টাক খাই
কুকিয়ে!
কতো শতো ঢুস খাই
মাঝে মাঝে ঘুষ খাই
লুকিয়ে।
.
পরে বলে আক্কাই
কাঁচা কাঁচা শাঁক খাই
দাঁড়িয়ে,
ফড়িঙের রথে ভাই
আকাশের পথে যাই
হারিয়ে!
.
বলে দিলো আক্কাই
খাবো সবই পাঁক্কাই
চুমিয়ে!
পৃথিবীর ছবি খাই
স্বপ্নতে সবই খাই
ঘুমিয়ে।

.

এক দেশি লোক
.
এক দেশি লোক আছে
খুবই দাড়,
দেখে সবি চক্ষে
থাকে সদা পক্ষে
সুবিধার।
.
এক দেশি লোক থাকে
আড়ালে,
মনে হয় রাতকানা
চুমু খায় হাত খানা
বাড়ালে!
.
এক দেশি লোক থাকে
সামনে,
শোক দেখে হাসে তার
বলে যায় আসে তার
যা মনে!
.
এক দেশি লোক থাকে
ঘুমিয়ে,
স্বপ্নতে বই করে
বাঁকা লোক সঁই করে
চুমিয়ে!
.
এক দেশি লোক আছে
এপাড়ে,
ফাঁকা ডিম দিয়ে যায়
তালগাছও নিয়ে যায়
সে পাড়ে!
.
প্রশ্ন ও উত্তর
.
: নাম কি তোমার?
— জরিনা,
: কোথায় পড়ো?
— পড়ি না!
.
: মা টা কোথায়?
— আকাশে!
বাপটা থাকে ঢাকা সে।
.
: চরবে নাকি?
— রিকশাতে
পয়সা তো নেই ঠিক সাথে!
.
: কোথায় বাসা?
— বস্তিতে,
হয় না তো ঘুম স্বস্তিতে।
.
: কাজ কি করো?
— ভিক্ষা যে,
পাইনি তেমন শিক্ষা যে!
.
: ফিরবে কখন?
— রাত হলে,
টাকায় ভরা হাত হলে!
.
: খুচরা নিবে?
— নাটালে,
ফালতু সময় কাটালে!
.

পাখির মতন
.
এই যে দ্যাখো নদীর তীরে
ঠিক এখানে গাছ ছিল
গাছের ডালে এক বিকেলে
দুইটি পাখি নাচ্ছিল
নাচতে গিয়ে মনের সুখে
ভাটির গীতি গাচ্ছিল
ঠিক তখন-ই নদীর জলে
নৌকা ভেসে যাচ্ছিল
হালিম মাঝি বৌঠা রেখে
পাতার বিঁড়ি খাচ্ছিল
নায়ের পাশে জলের ওপর
অনেক গুলো মাছ ছিল
বোয়াল তাতে এক দুটি নয়
এক্কেবারে পাঁচ ছিল
বোয়াল গুলোর চলায় যেন
ছন্দ ছড়ার ধাচ ছিল
এসব দেখে সেই পাখিরা
ভীষণ মজা পাচ্ছিল
পাখির মতন ওড়তে তখন
এই হৃদয়ও চাচ্ছিল।
.

খবর খবর দুুই
.
হয় না কোন নরম খবর
খবর মানেই গরম খবর
কত্তো খবর
সত্য খবর!
হচ্ছে ছাপা পেপারে,
সবাই যাতে জানতে পারে
আসল খবর মূল ঘটনার
ব্যাপারে।
.
ফেব্রুয়ারি জুনের খবর
হঠাৎ করে খুনের খবর!
মিথ্যে খবর
‘তিত্তে’ খবর
সকল খবর সাচ্ছা!
খবর এলো ঘোম হয়েছে
অমুক পাড়ার তমুক মিয়ার
বাচ্ছা!
.
তথ্য নিয়ে  ছাপায় খবর
দেশটা হঠাৎ কাঁপায় খবর
ভাসছে খবর
আসছে খবর
পত্রিকাতে হরদম,
নতুন খবর ধাক্কা দিলে
পুরান খবর যাচ্ছে হয়ে
কর্দম।
.

মা বলেছেন
.
মা বলেছেন পড়তে হবে
দেশের সেবা করতে হবে
আর,
জ্ঞানীর মতন গড়তে হবে
জ্ঞানের সমাহার।
.
মা বলেছেন শিখতে হবে
দেশের কথা লিখতে হবে
আর,
বিমান-রকেট চরতে হবে
আকাশ ছাড়াবার।
.
মা বলেছেন খেলতে হবে
জ্ঞানের পাখা মেলতে হবে
আর,
বুঝতে হবে গরীব লোকের
সকল হাহাকার।
.
মা বলেছেন আঁকতে হবে
এই দেশেতে থাকতে হবে
আর,
সঠিক পথে চলতে হবে
সত্য কথা বলতে হবে
বাবার মতন গড়তে হবে
সুখের পরিবার।
.

বখাটের উস্তাদ
.
ইজি টাল মেয়ে থাকে ডিজিটাল এলাকায়,
রুমে উমে ঘুমে থেকে অর্ধেক বেলা খায়!
মাঝে মাঝে বাসে চড়ে হরদম ঠেলা খায়।
.
ছেলেদের ভালোবেসে কয় শাড়ি-গাড়ি কেন,
মুখ জুড়ে কালো কালো লম্বাটে দাড়ি ক্যান?
সব খেয়ে-ধেয়ে শেষে দেয় হাতে হারিকেন!
.
ইতি দেয় কোনে বসে ফোনে সব আলাপের!
দিনে দিনে বেড়ে যায় হৃদয়ের জ্বালা ফের।
বাঁশ খেয়ে সোজা হয়ে পায় শেষে  ‘মখা’ টের!
মেয়ে গুলো হতে পারে উস্তাদ বখাটের!
.

ভাবনা গুলো
.
ঘুম আসে না
ঘুম আসে না
রাতের বেলা উম আসে না
কিন্তু আসে ভাবনা মনে
শতো,
হঠাৎ গিয়ে মেঘের দেশে
হেসে হেসে ঘুরবো অবিরত।
.
গানের সুরে
উড়বো দূরে
পালক মেলে আকাশ জুড়ে
চড়বো গিয়ে মেঘের গাড়ি
কতো,
মাঠের পরে মাঠ পেরিয়ে
হারিয়ে যাবো ছোট্ট পাখির মতো।
.
গড়বো গানা
ধরবো গানা
ওই আকাশে করবো হানা
দেখবো আছে মেঘের ভেলা
যতো,
আমি হতাম সবার সেরা
ভাবনা গুলো পূরণ যদি হতো।
.

কাকু

জ্ঞানের গতি রকেট কাকুর
পায়ের গতি কচ্ছপের,
গরীর মেরে খাওয়ার গতি
সবার চেয়ে স্বচ্ছ ফের!
.
দেখতে কাকু সহজ-সরল
খুব নীরিহ খুশ্ মনের!
ঠাণ্ডা মাথায় ধীরে ধীরে
করেন ক্ষতি দুশমনের।
.
প্যাঁচ লাগানোর সময় কাকুর
থাকবে সদা ধীর আন্তর,
তিল টাকে বেশ তাল বানিয়ে
সাজেন খুবই নিরন্তর!
.
পিছন-পিছন গীবত করেন
তারিফ করেন সম্মুখে!
কথায় কথায় হাদিস থাকে
সর্বদা-হরদম মুখে!
.
সবার কথা শুনেন কাকু
থাকেন সকল সার্কেলে!
সবাই উনায় চিনবে ঠিকই
মাংস রেখে হাড় খেলে।

খান্দানি লোক
.
বাপ-দাদাদের নামটা বেঁচে
আর কতো কাল খামু?
নিজের গুণে কখনোও কি
আদর-সোহাগ পামু?
.
বাপ-দাদাদের কর্ম-গুণে
সুযোগ পেলাম যা যা!
পরের খেয়ে শরীর দেহ
খুব করেছি তাজা।
.
রাস্তাঘাটে মাতাল হয়ে
আর টেনেছি গাঁজা,
মাতব্বরের ছেলে আমি
তাই হবে না সাজা!
.
অন্ধকারে করতে নেশা
নিভাই পথের বাতি,
বলবে কে কি? আমি হলাম
তালুকদারের নাতি।
.
আব্বা আমার অমুক ছিলেন
ভুলতে কি আর পারি?
পেটের জ্বালায় করবো কেন
বাইরে আহাজারি!
.
নেই ঘরেতে মরিচ, হলুদ
পেঁয়াজ- রসুন আদা!
করবো না কাজ! কারণ ছিলেন
তমুক আমার দাদা।
.
আমার দাদা পরের ঘরে
কাজ করেছেন নাকি?
একশো বিগা জমিন ছিলো
ভুলতে পারি তা কি?
সব খেয়েছি বিক্রি করে
রয়নি কিছুই বাকি!
.
তাও তো আমি খান্দানি লোক
আসুক ব্যথা যতোই,
চলবো তবু এই সমাজে
সাহেব জাদার মতোই।




Share Button

আর্কাইভ

May 2018
M T W T F S S
« Apr    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

Prayer Time Table

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৩:৫২
  • দুপুর ১১:৫৮
  • বিকাল ৪:৩৩
  • সন্ধ্যা ৬:৪০
  • রাত ৮:০৩
  • ভোর ৫:১৩


Developed By Mediait