শ্রীলংকা সফরে বাংলাদেশ দল ঘোষণা, বাদ পড়লেন-ফিরলেন যারা                 তাহিরপুরে বন্যার্তদের সহায়তা প্রদানে হাত বাড়ালেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক গোলাম রাব্বানী                 ২০২০ বইমেলার জন্যে পাণ্ডুলিপি আহবান করেছে পাপড়ি                 দ্রুত টাইপ শেখার কৌশল                 দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৭৭ হাজার                 কেন সরকার খালেদাকে জেলে রাখল, সংসদে ব্যাখ্যা দিলেন রুমিন ফারহানা                 উন্নতি চাইলে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি মেনে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী                

ছোটোদের গল্প : স্বপ্নের বই কেনা__এম আশরাফ আলী

: সোনার সিলেট
Published: 03 03 2019     Sunday   ||   Updated: 03 03 2019     Sunday
ছোটোদের গল্প : স্বপ্নের বই কেনা__এম আশরাফ আলী

তারানা মায়ের হাত ধরে স্কুল থেকে ফিরেছে। হাতে ক’টা রঙিন বই। স্বপ্নকে সামনে পেয়েই নাচ শুরু করে দিল। এ্যই দ্যাখ আমার গল্পের বই…. ডান হাত উঁচু করে দেখাল তারানা স্বপ্নকে। এ্যাই দ্যাখ ছড়ার বই, এ্যাই দ্যাখ কবিতার বই…. এ্যাই দ্যা….. কথাটি পূর্ণ করার আগেই স্বপ্ন তারানার বাম হাতে রাখা বই ছো মেরে নিয়ে দিল ভো দৌড়। তারানা বাকী বই বিছানার উপর ফেলে স্বপ্নের পিছে ছুটল। স্বপ্ন …… আমার বই দাও….. স্বপ্ন…..। স্বপ্ন বই নিয়ে কোথায় যে উধাও হলো-তারানা ওকে খুঁজে পেলো না। বাসার এই রুম, সেই রুম, রান্না ঘর, খাটের নিচে সবখানে খুঁজে ওকে না পেয়ে কান্না জুড়ে দিল… আমার বই ….. অ্যা……. আমার বই…..।
তারানার কান্না শুনে ওর বড় বোন মিলি এগিয়ে এল।
-কী হয়েছেরে তারানা। অমন করে কাঁদছিস কেন? …..অ্যা…… আপ্পি স্বপ্ন আমার গল্পের বই নিয়ে কোথায় পালিয়েছে। একদম নতুন বই। কি জানি এতক্ষণে আমার বই কী করেছে? ছিড়ে ফেলবে না তো?
-না না তুই কাঁদিস না। ও বই ছিড়বে না। হয়ত কোথাও বসে বইয়ের ছবি দেখছে। ওতো এখনও ভাল করে অক্ষরও শিখেনি। তাই পড়তে পারবে না। তবে সে কয়েকটা অক্ষর চিনতে পারে। যেমন- অ, আ, ক, খ, ই, এ ঐ এগুলো। অ তে অলি, আ তে আম এগুলো সে বলতে পারে। ছবি দেখে দেখে বলে ফেলে। জানিস তারানা স্বপ্ন খুব মেধাবী হবে দেখিস। একবার দেখিয়ে দিলে ও কিন্তু পেরে যায়। দেখে দেখে অনেক সময় ছবিও এঁকে ফেলে।
-আচ্ছা। আর সাফাই গাইতে হবে না। আমার বই এনে দাও বলছি। আর না হয় সবগুলো ছিড়ে ফেলব। মিলি আর তারানার মধ্যে যখন-এ রকম কথা হচ্ছিল ঠিক সে সময় স্বপ্নের হাত ধরে হাজির সুলতানা জাহান।
-অ্যাই নে তোর বই। আর পাগলামো করিস নে। যা হাত মুখ ধুয়ে আয়। খেতে বোস্। সব কিছু ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। তারানা ছোঁ মেরে বইটি বুকে নিল। নতুন কেনা বইক’টি দু’হাতে ধরে বিছানায় দুটো গুতা মেরে গুছিয়ে পড়ার ঘরে গেল তারানা। অন্যান্য বইয়ের নিচে সুন্দর করে লুকিয়ে রাখল বইগুলো- যাতে স্বপ্ন এগুলো সহজে না পায়।
এদিকে সুলতানা জাহান টান দিয়ে বই নেয়াতে স্বপ্ন কান্না জুড়ে দিল। অ্যা…. আমাকে বই দাও। নতুন বই। ওগুলো আমি পড়ব। ছবি দেখব। আম্মু দাও না আমাকে ঐ বইটা। অ্যা…। সুলতানা জাহান টান দিয়ে ওকে কোলে নিলেন। চোখ মুছিয়ে দিয়ে ওকে বললেন- আচ্ছা বাবা আচ্ছা। কাল বইমেলায় গিয়ে তোমার জন্য বই কিনে আনব। অনেক সুন্দর সুন্দর রঙিন বই। ওগুলো শুধু তোমারই থাকবে। চল এখন খাবে। স্বপ্ন উল্টো হাতে চোখের পানি মুছতে মুছতে খাবার টেবিলের দিকে গেল। আকাশের কালো মেঘ সরে গেলে যেমন সূর্যটা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে তেমনি স্বপ্নের চেহারায়ও খুশি খুশি ভাব ফোটে উঠল। নতুন বইয়ের কথা শুনে সে মনে মনে ভাবল-মজা হবে, খু-ব মজা হবে। আমার বই আমি আলাদা করে রাখবো। কাউকে ধরতে দেব না। ঐ ছোট আপ্পিটা খুব দুষ্টু। আমাকে বই ধরতে দেয় না।
বিকাল গড়িয়ে রাত হলো। স্বপ্ন শুধু মনে মনে ভাবে কবে রাত গিয়ে সকাল হবে? তারপর দুপুর-তারপর- বিকাল। হ্যাঁ আম্মু বলেছে বিকেল হলেই বইমেলায় যাবে। আমিও যাব। বইমেলা দেখব। খুব মজা হবে।
রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ল ওরা। ওদের আব্বুটা কখন বেরোয় আর কখন ঘরে আসে ওরা দেখতে পায় না। তবে শুক্রবারে ওদের সাথে আব্বু থাকে। সেদিন ছুটি থাকে। সবাই মিলে একসাথে গল্প করে। আব্বু স্বপ্নকে কোলে নেন, আদর করেন। মজার মজার গল্প বলেন। স্বপ্ন আব্বুর সাথে খুনসুটিতে মাতে। ও চেয়ে চেয়ে ওর ঘাড়ে উঠে। ঘোড়ার মত চড়ে বসে। আব্বু নিচে নামান-উপরে তুলেন। সকলে মিলে কত মজা হয়। স্বপ্নের আব্বু আনোয়ার হোসেনের ইন্স্যুরেন্সে চাকরি। ভোরে সেই যে বের হন- আর ফিরতে ফিরতে রাত হয় দশটা। এরই ফাঁকে বাচ্চারা স্কুলে যায়। বাড়ি ফেরে। খেলাধুলা করে। লেখাপড়া করে এবং ঘুমায়। সবকিছুই সামাল দেন সুলতানা জাহান।
সেদিন ছিল শুক্রবার। আব্বুর হাত ধরে স্বপ্ন বইমেলায় চলল। স্থানীয় শহীদ মিনারে বইমেলা চলছে। স্বপ্নের চোখে অনেক স্বপ্ন। কি কি বই কিনবে সে? মনে মনে তার একটা তালিকা প্রস্তুত করে। তারানা আপ্পি যেরকম বই কিনেছে সে ঐ রকম বই কিনবে। তবে আরও সুন্দর। যে বইতে, বাঘ, মহিষ, বানর, ময়ূর ইত্যাদির ছবি আছে ঐগুলো কিনবে সে। তবে আব্বুকে সে এ বিষয়ে কিছুই বলে না। অনেকক্ষণ হাঁটার পর স্বপ্ন বলল-আব্বু আর কত দূর যেতে হবে? না বেশি দূর না। সামনে নাইওরপুল পয়েন্ট। তারপরে জেল রোড। ওখান থেকে যাব জিন্দাবাজার পয়েন্টে। ডানে মোড় নিয়ে হাঁটা দেবো। তুমি আল-হামরা শপিং সেন্টারের নাম শুনেছো-স্বপ্ন?
-হ্যাঁ শুনেছিতো।
-ওই আল-হামরা পেরিয়ে একটু সামনে গেলেই সরকারি মহিলা কলেজ। এর ঠিক বিপরীতেই শহীদ মিনার। এর প্রাঙ্গণেই মেলা চলছে। নাচ, গান, আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গান, শহীদদের গান, রবীন্দ্র সংগীত কত কিছু চলছে সেখানে।
স্বপ্ন আব্বুর আঙ্গুল ধরে হেঁটে যাচ্ছে আর শহরের উঁচু উঁচু দালান কোটা দেখছে। সুন্দর সুন্দর গাড়ি যাচ্ছে পাশ দিয়ে। স্বপ্ন ভাবে ওরকম একটা কার থাকলে তো আর হেঁটে যেতে হতো না। আব্বুটা যেন কী- একটা কারও কিনতে পারে না। হাঁটতে হাঁটতে পায়ে ব্যথা করছে। একটা উঁচু বিল্ডিংয়ের তলাগুলো গুনতে লেগে গেল স্বপ্ন। ষোল তলা পর্যন্ত গুনে আর পারল না। আপ্পু-এই পর্যন্ত তাকে গুনা শিখিয়েছে। হঠাৎ স্বপ্ন দেখে আব্বু নেই। এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখল। না কোথাও দেখতে পেল না। অ্যা… কাঁদতে শুরু করল সে। কিন্তু কাঁদতেও পারছে না। মুখ দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না। এমন সময় এল এক ফুলপরী। মিষ্টি সুরে ডাকল- স্বপ্ন। স্বপ্ন তাকালো ওর দিকে। বইমেলায় যেতে চাও?
-হ্যাঁ। তুমি নিয়ে যাবে আমাকে?
-হ্যাঁ। অবশ্যই। অ্যাই আমার হাত ধরো।
স্বপ্ন ওর হাত ধরতেই উড়ে চলল ওরা। অল্পক্ষণ পরেই ফুল পরী বইমেলায় নামল। স্বপ্ন দেখল- অনেক অনেক বইয়ের দোকান। বই দিয়ে সাজানো সেগুলো। তার মত অনেক ছোট ছোট বাবুরাও বই কিনতে এসেছে। সাউন্ড বক্সে গান বাজছে-আমাদের দেশটা স্বপ্নপুরী/ সাথী মোদের ফুলপরী। ফুলপরী-লালপরী, লালপরী, নীলপরী/সবার সাথে ভাব করি। আনন্দে স্বপ্নের মন নেচে উঠল। ফুলপরী জিজ্ঞেস করল-
-কি কি বই কিনবে তুমি?
-স্বপ্ন বলল-শিয়াল মামার গল্প, হালুমের গল্প, হরিণ ও বানরের গল্প, অক্ষরের ছড়া ইত্যাদি হলেই চলবে। তবে হ্যাঁ সুন্দর সুন্দর ছবি থাকতে হবে কিন্তু।
ফুলপরী বলল- াচ্ছা।
কিছুক্ষণ পর ফুলপরী নিয়ে এল একগাঁদা বই। আর বলল-এই নাও স্বপ্ন। ও দু’হাত বাড়িয়ে সবগুলো বই বুকের সাথে ধরল। আঃ কী ঘ্রাণ! প্রাণটি জুড়িয়ে গেল ওর। বইয়ের মলাটে মনের মত ছবি। ফুলপরী বলল
-খুশি হয়েছ স্বপ্ন?
-হ্যাঁ। খুশি হয়েছি।
বুকের মধ্যে বই ধরে সে অনেকক্ষণ হাঁটাহাঁটি করল বই মেলায়। ফুলপরী হাত ধরে তাকে অনেক স্টলে নিয়ে গেল। ফুলপরী বলল এবার চল স্বপ্ন। তোমাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসি। স্বপ্ন বলল-আচ্ছা।
ফুলপরী ও স্বপ্ন একটা রথে চড়ে উড়ে চলল। অল্পক্ষণের মধ্যে ওদের বাসায় পৌঁছে গেল। ও বলল-এবার আসি স্বপ্ন?
-স্বপ্ন মাথা নেড়ে বলল- আচ্ছা এসো।
বই নিয়ে ঘরে ঢুকতেই তারানা দৌড়ে এল। বলল-অ্যাই স্বপ্ন-আমাকে ক’টা বই দে।
-না না। তোমাকে একটি বইও দেবো না।
-দিতেই হবে। বলে তারানা ওর বই জোর করে নিতে চাইল। স্বপ্ন গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে ঝাপটে ধরে চিৎকার জুড়ে বলল-ছাড়, ছাড়, ছাড় বলছি।
সুলতানা জাহান জেগে ছিলেন। স্বপ্নের এই অবস্থা দেখে বললেন-কী হয়েছেরে স্বপ্ন। মায়ের গলা শুনে জেগে উঠল স্বপ্ন। ততক্ষণে বাইরে সূর্যোদয় হয়েছে।

এসএসডিসি/ কেএ




Share Button

আর্কাইভ

July 2019
M T W T F S S
« Jun    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

Prayer Time Table

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৩:৫১
  • দুপুর ১২:০২
  • বিকাল ৪:৩৭
  • সন্ধ্যা ৬:৪৭
  • রাত ৮:১১
  • ভোর ৫:১৩


Developed By Mediait