নতুন ও হারানো সিমকার্ডে ট্যাক্স ২০০ টাকা                 তিন সুন্দরীর হলো মেলা বিশ্বকাপে                 মিস ইন্ডিয়াকে যৌন হেনস্তা করায় ৭ জন গ্রেফতার                 বাংলায় এসএমএস পাঠালে খরচ অর্ধেক!                 আপনারা সাড়ে ১০ বছর ক্ষমতায়, এখনো ছাত্রদল বালিশ কিনতে পারছে?                 সিলেট-জগন্নাথপুর সড়কে বন্ধ হয়ে যেতে পারে গাড়ি চলাচল                 সিলেটে সড়ক যাত্রায় নারীদের জন্য আলাদা বাস, ড্রাইভার-হেলপারও নারী                

ঝাল-ছড়ার ডাকে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা_ভ্রমণ [পর্ব-৪]

: সোনার সিলেট
Published: 12 04 2019     Friday   ||   Updated: 12 04 2019     Friday
ঝাল-ছড়ার ডাকে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা_ভ্রমণ [পর্ব-৪]

কামরুল আলম ।। খুলনাগামী ট্রেনে এই প্রথম উঠলাম। সিলেট থেকে সরাসরি ট্রেন যায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম। সিলেট-ঢাকা কিংবা সিলেট-চট্টগ্রামের আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর মতো নয় ঢাকা-খুলনার এই ট্রেন। ঢাকা থেকে খুলনা এবং খুলনা থেকে ঢাকায় যাতায়াতকারী দুটো ট্রেনের নাম যথাক্রমে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও চিত্রা এক্সপ্রেস। আমরা যাচ্ছি চিত্রা এক্সপ্রেসে। আমাদের সিলেটের ট্রেনগুলোতে শোভন চেয়ারে দুইপাশে ২টি করে প্রতিসারিতে ৪টি সিট থাকে। এখানে দেখতে পেলাম একপাশে ৩টি এবং একপাশে ২টি করে একসারিতে মোট ৫টি সিট। ট্রেনটাও বেশ উন্নত। আমরা ৪জনের মধ্যে কেবল মিনহাজেরই পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে খুলনা ভ্রমণের। সে জানালো এই ট্রেনগুলো একটু উন্নতমানেরই হয়।
.
টিকিট কেটেছিলাম একসঙ্গে ৪জনের। একসারিতেই ৪টি সিট পড়েছে। একপাশের ৩সিটে গিয়ে বসে পড়লো মিনহাজ, মুয়াজ ও তালহা। অপর পাশের ২সিটের মধ্যে ১টি সিটে বসতে হলো আমাকে। মাঝখানের যাতায়াতের রাস্তাটি বাদ দিলে অবশ্য সবাই কথাটথা বলার সুযোগ আছে। আমার পাশের জানালার ধারের সিটটি এক লুঙ্গি পরা বৃদ্ধলোকের। ভদ্রলোক আমার সঙ্গে সিট পরিবর্তন করতে চাইলেন। বললেন, আমি বুড়ো মানুষ। বারবার উঠতে হবে। তখন আপনি বিরক্ত হবেন। জানালার ধারে আপনিই বসুন।
আমি বললাম, কিন্তু আমার সঙ্গী ৪ জন ওপাশে তাই আমাকে আমার সিটেই বসতে হবে। আপনি আপনার সিটেই বসুন।
ভদ্রলোক এবার নতুন অজুহাত বের করলেন। বললেন, আসলে ঠা-া বাতাসে আমার ক্ষতি হয়ে যাবে। জানালার ধারে আপনিই বসুন।
বাধ্য হয়ে আমাকেই বসতে হলো জানালার ধারে। কমলাপুর থেকে ট্রেনভর্তি লোকজন নিয়ে জয়দেবপুর স্টেশন পর্যন্ত ট্রেনের ভেতরের পরিবেশ বর্ণনাযোগ্য নয়। গরুবাজার কিংবা মাছবাজারকে হার মানিয়ে এখানকার লোকসমাগমকে নতুন কোনো উপমায় চিহ্নিত করতে হবে। কামরায় এত বেশি লোকজন দাঁড়িয়ে আছে যে কেউই শেষ পর্যন্ত নড়াচড়া করতে পারছিল না। এরমধ্যে মহিলা বিশেষ করে যুবতী, তরুণী ও কিশোরীদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়! আমাদের সিটের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা এক সুন্দরী তরুণীকে লোকজনের ঠেলাঠেলিতে ভর্তা হতে দেখে আমি চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকলাম কতক্ষণ। চোখ খুললাম মিনিট দশেক পর। মেয়েটির অবস্থা দেখার অযাচিত ইচ্ছেতেই সেদিকে চলে গেল চোখ। দেখলাম সেলোয়ার-কামিজ পরিহিত ওই মেয়েটির জায়গায় এখন ভর্তা হতে এগিয়ে এসেছেন শাড়ি পরা মধ্যবয়স্ক দুজন মহিলা। এ দৃশ্যটি দেখে আবার চোখ বন্ধ করতে যাবো এ সময় ভিড়ের মধ্যেই চোখ পড়লো দাঁড়িয়ে থাকা মুয়াজ বিন এনামের দিকে।
মাথা সোজা করে কোনোমতে মুয়াজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানতে চাইলাম, তুমি দাঁড়িয়ে আছো কেন?
সে আমার কথা স্পষ্ট শুনতে না পেলেও কী জানতে চেয়েছি সেটা অনুমান করেই তার সিটের দিকে ইঙ্গিত করলো। দেখলাম সেই তরুণী এখন তার সিটে হেলান দিয়ে আরাম করে ঘুমোচ্ছে। দিনের সমস্ত ক্লান্তির ছাপ একত্রে জড়ো হয়েছে তরুণীটির চোখেমুখে। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকার কথা ছিল, মুয়াজের বদান্যতায় শুয়ে ঘুমাতে পারছে!
.
জয়দেবপুর স্টেশনের পর ট্রেন অনেকটাই শান্ত হয়ে গেল। দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের উপচে পড়া ভিড় নেই, অনেকেই সিটে হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছেন। কেউ কেউ গল্প করছেন। ফেরিওয়ালাগুলো বার বার এটা-ওটা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। জানালার ধারে বসতে বসতে আমার মাথা ধরে গেল। বৃদ্ধলোকটা যেহেতু জানালার পাশে বসতে রাজি নয় তাই তালহা কাদিরকে ডেকে নিলাম। আমি চলে গেলাম ওর সিটে। বৃদ্ধ খানিকটা বিরক্ত হয়ে আমার দিকে তাকালেন। আমি বললাম, চাচা, আমি নিজেও কম বৃদ্ধ না। জানালার পাশে বসতে বসতে অসুস্থ হয়ে গেছি!
দুপুরে হকভাইসহ আমরা ৫ জনে খাওয়া-দাওয়া করেছিলাম ঢাকার একটি রেস্টুরেন্টে। রাতের ডিনারের আমরা বেছে নিলাম কলা আর ব্রেড। ট্রেনে ওঠার আগেই একটি ব্রেড, ২ হালি কলা ও ২ লিটার পানির ১টি বোতল নিয়ে এসেছিলাম। ব্রেড-কলা দিয়ে এক ফাঁকে সেরে নিলাম ডিনার। ডিনারের পর টের পেলাম আমার মাথা-ব্যথা বেড়ে যাচ্ছে। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাও বাড়ছে। ব্যাগ থেকে বের করলাম নাপা এক্সটেন্টড ও নেক্সাম মাপস। খেয়ে নিলাম ঝটপট। মাথা-ব্যথা কমলো না। এবার কমলাপুর একটি ফার্মেসি থেকে কেনা ইন্ডিয়ান একটি মালিশ লাগালাম মাথায়। ধীরে ধীরে সবকিছু ঠিক হয়ে গেল। কিছুক্ষণ আগে মাথা-ব্যথা করছিল, ভুলেই গেলাম। রাতের ট্রেনে একটু আরাম করে ঘুমানোর মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। ফেরিওয়ালা ও ভিক্ষুকদের আনাগোনা, আলো না নেভানো প্রভৃতি কারণে ঘুম আসি আসি করেও আসছে না। এরমধ্যে ট্রেনের স্পিকারে বেজে উঠলো গান। অপরিচিত শিল্পীর অপরিচিত গান। কর্তৃপক্ষের রুচিবোধ বলে কিছু নেই নাকি। ঘুমের সময় গান যদি বাজাতেই হয়ে আমার মতে রবীন্দ্রসঙ্গীতই উত্তম। কিন্তু উনারা যা বাজালেন তাতে ঘুমের বারোটা বেজে যাওয়ার মতো অবস্থা।
.
রাতের ট্রেনেও মুয়াজের ছুটোছুটি থেমে নেই। এদিক ওদিক দৌড়াচ্ছে। ওকে ডেকে জানতে চাইলাম, কেন এমনটা করছো, তোমার কি ঘুমটুম কিছু নেই?
মুয়াজ বললো, ভাই ট্রেনটা যে যমুনা সেতুর উপর দিয়ে যাবে সেটা কি আপনি জানেন?
না তো, যমুনা সেতুর উপরে নাকি আমরা?
হ্যাঁ। কিন্তু তেু দেখতে পারছি না। আপনি তো তালহাকে জানালার পাশে বসিয়ে রেখেছেন। ওদিকে মিনহাজ ভাইও জানালা দিয়ে দেখেন কেমন যমুনা সেতু দেখে দেখে যাচ্ছেন…।
বিষয়টি এতক্ষণে আমার দৃষ্টিগোচর হলো। মুয়াজের অস্থিরতা দেখে তালহাকে ডেকে আনলাম। তালহা অবশ্য ঘুমেই ছিল। মুয়াজ গিয়ে বসলো জানালার ধারে। আমি কিছুই দেখলাম না। ফিরতিপথে যেহেতু দিনের বেলা ট্রেনে যাবো, তাই তখন দেখার পরিকল্পনা করে নিলাম।
.
খুলনার উদ্দেশ্যে সিলেট থেকে রওয়ানা দিয়েই একটি ছড়া পোস্ট করেছিলাম ফেসবুকে। ছড়াটি এরকম-
এই কথাটি ভুল না
আজকে আমি রাতের ট্রেনে
যাচ্ছি প্রথম খুলনা।
.
খুলনা গিয়ে চিড়িয়াখানা
দেখতে পারি চক্ষে
সুন্দরবন দেখার আশা
লুকিয়ে আছে বক্ষে।
.
বাগেরহাটে ‘বাঘ’ না থাকুক
আছে তো ‘ষাটগম্বুজ’
দেখতে যাদের ইচ্ছেটা নেই
তাদের খুবই কম-বুঝ!
..
খানজাহানের মাজারটাও
দেখতে পারি সত্য
আর কী আছে দেখার মতো
পাইনি খোঁজে তথ্য।

সারাটাদিন ঘুরার পরে
সাতক্ষীরাতে রাত্রে
পৌঁছে যাওয়ার ইচ্ছে আছে
সমুদ্রটা সাঁতরে।
.
আমার টাইমলাইনের এই ছড়া থেকেই অনেকে আমার খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা ভ্রমণের একটি শিডিউল অনুমান করতে পেরেছিলেন। তরুণ কবি আরাফাত মলঙ্গী কমেন্ট করলেন, ভাই বাগেরহাট কখন আসবেন?
আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বললাম মুয়াজকে। সেই সূত্র ধরেই বাগেরহাটে বিকাল ৩টার দিকে একটি সাহিত্যআসর করার সিদ্ধান্ত হলো। কিন্তু খুলনায় গিয়ে আমরা কী করবো, কোথায় উঠবো তা ঠিক করতে পারলাম না।
.
ট্রেনের দোলায় দুলতে দুলতে ঘটাং ঘটাং আর চটাং চটাং শব্দের অবসান ঘটলো একসময়। ট্রেন পৌঁছে গেল খুলনায়। ঘুম ভাঙলো আমার। ট্রেন থেকে নামলাম আমরা ৪জন। স্টেশনের প্লাটফর্ম থেকে বের হতেই মিনহাজ ‘এ্যাই মামা, বয়রা যাবে’ বলে একটি অটোতে উঠলো। আগেই জানিয়েছিল ওর পরিচিত একজনের সঙ্গে দেখা করতে যাবে। কিন্তু এভাবে এত দ্রুত যাবে বুঝতে পারিনি। অটোতে বসেই আমাকে ফোনসেট দিয়ে ইঙ্গিত করে বললো, ফোনে কথা হবে। আমি যাচ্ছি।
.
খুলনা শহরে মিনহাজ নতুন আসেনি। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারলো। কিন্তু আমরা বাকি ৩ জন অন্ধকারে ঘুরতে লাগলাম। যদিও তখন ভোর ৬টা হয়ে গেছে। কিন্তু অপরিচিত জায়গাটা আমাদের কাছে অন্ধকারই মনে হলো। কোনদিকে যাবো, কোথায় উঠবো কিছুই ঠিক করা নেই। সিদ্ধান্ত নিলাম কিছুক্ষণ হাঁটবো। হাঁটতে লাগলাম সবাই। অটো এবং রিক্সার ড্রাইভার আমাদের ব্যাগ-ট্যাগ নিয়ে হাঁটতে দেখে বারবার ‘কোথায় যাবেন’ ‘কোথায় যাবেন?’ বলছিল।
আমি বললাম, কোথাও যাবো না। এসময় আমরা বিভিন্ন দোকানের সাইনবোর্ডের দিকে তাকিয়ে জানতে পারলাম, এলাকাটির নাম কদমতলা। তিনজনে একটু হেসে নিলাম। আমাদের হাসির কারণ হলো, সিলেট রেলস্টেশন থেকে অল্প দূরে যেমন ‘কদমতলী’ এলাকা, এখানেও তেমনি ‘কদমতলা’। [চলবে]

এসএসডিসি/ কেএ




Share Button

আর্কাইভ

June 2019
M T W T F S S
« May    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930

Prayer Time Table

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৩:৪০
  • দুপুর ১১:৫৬
  • বিকাল ৪:৩২
  • সন্ধ্যা ৬:৪৫
  • রাত ৮:১১
  • ভোর ৫:০৪


Developed By Mediait