সিলেটে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলার উদ্বোধন                 জিন্দাবাজারে পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্টে পাখির মাংস, র‌্যাবের অভিযান                 হবিগঞ্জে এসএসসি’র ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি-আদায়ের অভিযোগ                 মাশরাফির বিরুদ্ধে নড়াইলে আ.লীগের ১৫ নেতা                 সিলেটে দুটি প্রতিষ্টানকে ৭০ টাকা জরিমানা                 ভোটে যাচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট                 বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার হলো যেসব বিএনপি নেতার                

টি টি আই ছাত্রাবাস ও রাতুলের তিনটি মাস

: সোনার সিলেট
Published: 08 11 2018     Thursday   ||   Updated: 10 11 2018     Saturday
টি টি আই ছাত্রাবাস ও রাতুলের তিনটি মাস
আহমদ জুয়েল
২১ সেপ্টেম্বর দুপুর এগারোটা বাজে,রাতুলের মুবাইলফোনে রিং বেজে উঠলো।হাতে নিয়ে দেখলো বড় ভাই কল দিয়েছেন।কলটা রিসিভ করলো রাতুল
হ্যালো ভাইয়া,
হ্যা রাতুল, কি করিস?
না ভাইয়া এইতো পড়তেছি।
আচ্ছা শুন,আগামী সপ্তাহে তুই গাজীপুর চলে আসবি।একটা কাজ শিখতে,শুনেছি সেখান থেকে শিখে ভালো কোথায় জব পাওয়া যায়।আর হ্যা আমি ফারদ্বীনকে বলে রেখেছি, ও তর গাজীপুর আসার সব ব্যবস্থা করে রাখবে।আর গাজীপুর বাস স্ট্যান্ড এতো আমি আছিই।”
রাতুল একটি হতভম্বিত হলো বটে!আর না হওয়ারই বা কি আছে।ক্লাস নাইনে পড়ুয়া যে ছেলেটা কোনো নিজ শহরের বাহিরে যায় নি সেই ছেলেটা কেমন করে গাজীপুর গিয়ে থাকবে!রাতুলদের বাড়ি সিলেট।তিন ভাইয়ের মধ্য ছোট সে।বড় ভাই হাসনাত ঢাকায় একটা প্রাইভেট কোম্পানীতে জব করেন আর মেঝো ভাই একটা ইউনিভার্সিটিতে পড়েন।বাবা হারা রাতুল সবসময় মায়ের কাছে থেকেই বড় হয়েছে।কাজেই মাকে ছেড়ে অনেক দূরে চলে যেতে ওর একটু কস্ট হচ্ছে।তারপর ও রাতুল নিজেকে প্রস্তুত করছে।ওর ভাই বলেছেন,ট্রেনিংটা নাকি সেনাবাহিনীর অধীনেই হয়ে থাকে।এতে রাতুলের অনেকটা কস্ট চাপা পড়ে যায়।কারন সেনাবাহিনীতে কাজ করা ওর অনেক দিনের স্বপ্ন।২৬ শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬.০০ ঘটিকা।রাতুল কাপড়গুলো ঘুছিয়ে রেডি হচ্ছে।৭ টায় ওর বাস।সব কিছু শেষ করে রাতুল সবার কাছে বিদায় নিয়ে রওয়ানা হলো।বাস স্ট্যান্ড গিয়ে বাসে উঠা পর্যন্ত তার পাশে ছিলে মেঝো ভাই ফারদ্বীন।বাস ছাড়লো,রাতুল ফোন দিয়ে জানিয়ে দিলো তার বড় ভাই হাসনাতকে।তার বড় ভাই গাজীপুরে তার জন্য অবস্থান নেন।দীর্ঘ ৫ ঘন্টা শেষ রাতুল গিয়ে পৌছালো গাজীপুর বাস স্ট্যান্ড এ।সেখান থেকে একটি ওটোতে করে রাতুল ও হাসনাত তারা রওয়ানা হলো টি টি আই এর ছাত্রাবাসে।রাতুল যে প্রতিস্টানে ভর্তি হইছে সেই প্রতিস্টানের সংক্ষীপ্ত নাম হলো টি টি আই।রাতুল ছাত্রাবাসে প্রবেশ করলো।বড় ভাই হাসনাত থাকে রেখে চলে গেলেন।অনেকটা একা ভাবতে শুরু করলো রাতুল।এক রুমে ১৭ জন শিক্ষার্থী থাকে।সেই রুমেই ফ্লোরিং করে থাকার জায়গা হলো তার।প্রথমদিন তেমন খারাপ না লাগলেও দ্বিতীয় দিন থেকে রাতুলের যেনো কেমন জানি বিরক্ত বিরক্ত লাগতে লাগলো।তবুও নিজেকে বুঝানোর চেস্টা করলো সে।নতুন রুটিনে নিজেকে মানিয়ে নিতে একটু কস্ট হবে এটা ভেবে সে থাকলো আরো কয়েকদিন।সকাল ৬ টার পূর্বে ব্রেকফাস্ট, ১২ ভিতরে লাঞ্চ,সন্ধ্যা ৭ টার পূর্বে ডিনার রাত ১০ টায় এসেম্বলি এইসব এইসব এক গাদা নিয়ম মেনে ধীরে ধীরে দিন কাটতে লাগলো রাতুলের।অনেক কস্টের কাজের মাঝেও সেনাবাহিনীর স্যারদের অনুপ্রেরণা তাকে থাকতে আরো প্রানবদ্ধ করে।এভাবে দেখতে দেখতে তিনটি মাস কেঠে গেলো।আজ ছাত্রাবাস থেকে বিদায়ের পালা।কিন্তু মুহূর্তটা অনেক ভিন্ন। আসার সময় যেমন বাড়ি ছেড়ে আসার কস্ট ছিলো ঠিক যাওয়ার সময়ই ছাত্রাবাস ছেড়ে যাওয়ার কস্টে সবার চোখে কান্নার আভাস।অনেক বন্ধুদের মিস করবে এই ভেবে আরো আবেগপ্রবণ হয় যায় রাতুল।ওর পরিচিত অনেকেই চাকুরী নিয়া নিছে কিন্তু রাতুল তার পড়াশুনার জন্য চাকুরীটা নেয় নাই।তাই বিদায় লগ্নে কান্না ভরা চোখে রাতুল রওয়ানা হয় সিলেটের উদ্দেশ্য।ছাত্রাবাসের বন্ধুদের হারালেও মা,স্কুলের বন্ধুদের কাছে অনেকদিন পরে যাওয়ার আনন্দটাকে পুঁজি করে চলতে থাকে রাতুল।আর কল্পনায় গাঁথতে থাকে টি টি আই ছাত্রাবাসের তিনটি মাসকে।
                                                                                                   আহমদ জুয়েল
                                                                                                   শিক্ষার্থী
                                                                                                  একাদশ  শ্রেনী
                                                                                                  মদন মোহন সরকারী কলেজ



Share Button

আর্কাইভ

November 2018
M T W T F S S
« Oct    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  

Prayer Time Table

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৪:৫৬
  • দুপুর ১১:৪৬
  • বিকাল ৩:৩৯
  • সন্ধ্যা ৫:১৮
  • রাত ৬:৩৪
  • ভোর ৬:১০


Developed By Mediait