নতুন ও হারানো সিমকার্ডে ট্যাক্স ২০০ টাকা                 তিন সুন্দরীর হলো মেলা বিশ্বকাপে                 মিস ইন্ডিয়াকে যৌন হেনস্তা করায় ৭ জন গ্রেফতার                 বাংলায় এসএমএস পাঠালে খরচ অর্ধেক!                 আপনারা সাড়ে ১০ বছর ক্ষমতায়, এখনো ছাত্রদল বালিশ কিনতে পারছে?                 সিলেট-জগন্নাথপুর সড়কে বন্ধ হয়ে যেতে পারে গাড়ি চলাচল                 সিলেটে সড়ক যাত্রায় নারীদের জন্য আলাদা বাস, ড্রাইভার-হেলপারও নারী                

তোরাব আল হাবীবের ‘শতচ্ছড়া ক্ষতচ্ছড়া’ যোগাবে তারুণ্যের অনুপ্রেরণা ।। শফিকুল ইসলাম সোহাগ

: সোনার সিলেট
Published: 13 04 2019     Saturday   ||   Updated: 13 04 2019     Saturday
তোরাব আল হাবীবের ‘শতচ্ছড়া ক্ষতচ্ছড়া’ যোগাবে তারুণ্যের অনুপ্রেরণা ।। শফিকুল ইসলাম সোহাগ

কবি তোরাব আল হাবীব ১৯৮২ সালের পহেলা জানুয়ারী সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারা বাজার উপজেলার দোহালীয়া ইউনিয়নের গোরেশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মরহুম সুরুজ আলী ও মাতা মরহুমা মমতাজ বেগম। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম। পেশায় ব্যবসায়ী হলেও সাহিত্য সৃষ্টিতেও সমান তালে কাজ করছেন। বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠনের সাথে জড়িত। সম্পাদনার হাত বেশ পাকা। সম্পাদনা করছেন “ছড়ার ছোট কাগজ” “ছড়াপাখি”। অনেক প্রতিযোগিতায় পেয়েছেন বেশ সম্মাননা। ঝাল সৃজনশীল ছড়া চর্চাকেন্দ্র এর পক্ষ থেকে প্রদান করা হয় শ্রেষ্ট ছড়াকারের বিশেষ সম্মাননা। যা ঢাকা প্রেসক্লাবে তার হাতে তুলে দেন রফিকুল হক দাদু ভাই ও সুকুমার বড়ুয়া। এছাড়া ছড়ায়, অবদানের জন্য জাকফো পদক ২০১৮ অর্জন করেন।

কবি তোরাব আল হাবীবের প্রথম গ্রন্থ ‘ফুল পাখিদের ছড়া’ দাড়িকমা প্রকাশনী-২০১৮, দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘মেললো ডানা ছড়ার পাখি’ পাপড়ী প্রকাশ-২০১৮, তৃতীয় ছড়া গ্রন্থ ‘শতচ্ছড়া ক্ষতচ্ছড়া’ পায়রা প্রকাশ-২০১৯। এছাড়া অধিক ছড়া কবিতার যৌথ গ্রন্থ রয়েছে। যৌথ গ্রন্থের মধ্যে: ১। ছড়াময়। ২। ছড়িয়ে দিলাম ছড়ার আলো। ৩। ছড়ার হাটে সবাই হাঁটে। ৪। বৃষ্টি ও প্রেমের কবিতা। ৫। ভালোবাসার ভিন্ন ভিন্ন রঙ। ৬। ভালোবাসা ছিনতাই।
এছাড়াও কবি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায়, মেগাজিন, অন-লাইন ও অফ-লাইনে নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন। তার কাব্য ভাবনা বহুবর্ণিল স্রোত প্রবাহ। যা আপ্লুত করে পাঠকের অন্তর। তিনি সত্যিকার অর্থেই সাহিত্য চর্চায় একজন অনন্য সেবক। আবেগের মিছিলে তার শব্দ চয়নে রয়েছে একটি নিজস্ব গতিধারা। ভাষাগত নির্মাণ যথেষ্ট শক্তিমান ও গঠনশৈলী। গতানুগতিক লেখার সীমানাকে ছাড়িয়ে নতুন মোড়কে নির্মাণ করেছেন এক ওজ্জ্বল্য পরিশুদ্ধ বিশ্বাসের ইমারত। তার সৌন্দর্য চিরায়ত ভাবনাগুলো একজন নতুন পাঠককে ব্যাকুল ও ভাবুক করে অনায়াসে। যতটুকুই ঠাহর করেছি তার সম্পর্কে, দেখেছি নতুন লেখক সৃষ্টিতে তার অবদান অন্যতম। যেটা অন্যান্য লেখকের কাছে নেহায়েত কম। কবি তোরাব আল হাবীব পড়া মানেই অসীমের সন্ধানে রৌদ্রস্নান শিকড় ভাবনার প্রতিচ্ছবি। নতুনত্বের চৈতন্যময় শব্দ পাঠ। তিনি একজন লেখক হিসাবে যথেষ্ট বই পড়ুয়া এবং অভিধান ঘাঁটা-ঘাঁটি এক কর্মনিষ্ট কবিতার কারিগর।

সভ্যতার আবরনে অসভ্যতার বহুরুপী ইন্ধন যা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্রকে গ্রাস করছে। ভেঙ্গে দিচ্ছে সৌন্দর্যের সৌখিন মেলবন্ধন। সে দিক থেকে কবির কলমে নির্মাণ করেন বিভিন্ন লেখা। কবি তার মত করে আবার বাসযোগ্য একটি শক্ত, মজবুত এবং দীর্ঘস্থায়ী মুক্ত ধারা নির্মাণে বদ্ধপরিকর। কবি তোরাব আল হাবীব মূলত শিকড় সন্ধানী একজন শিল্পবোধের কবি। তার ভাষা বৈচিত্রে ছন্দকলায় দীপ্যমান এবং যথেষ্ট ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য। ছন্দের ভেতরে যে শুদ্ধ অভিযান তা উপলব্ধি এবং চেতনায় সূক্ষ্ণ অনুভূতি পাঠককে নিয়ে যায় ঝংকৃত উপমার সাগর সৈকতে। সেখানে হাবুডুবু খায় হাজারো ছন্দময় বহুরুপী আকাঙ্খার আবেদনগুলো।
কবি তোরাব আল হাবীব ছন্দের জাদুকর। চিত্র বৈচিত্রের রূপ রেখায় জায়গা করেছেন শিল্প সৌন্দর্যের ধারক এবং বাহক হয়ে। কালের আবর্তে তা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেবে রঙিন ফুলেল আবরণে।
এখানে আলোচনা করব তার ছড়াগ্রন্থ ‘শতচ্ছড়া ক্ষতচ্ছড়া’ সম্পর্কে। তৃতীয় ছড়াগ্রন্থ। সুন্দর প্রচ্ছদ, পরিপাটি মান, প্রকাশনা প্রতিষ্টান, পায়রা প্রকাশ। গ্রন্থস্বত্ব: লেখক নিজে। প্রচ্ছদ করেছেন শ-ই মামুন। অনলাইন পরিবেশক রকমারি ডট কম।

কবি ‘শতচ্ছড়া ক্ষতচ্ছড়া’ গ্রন্থে ভূমিকায় দিয়েছেন তার প্রত্যাশা কবিতার কিছু পঙক্তিমালা। কবি লিখেছেন -আমাদের পথ হোক আলোভরা পথ
আমাদের কথা হোক সেরা অভিমত
আমাদের মন হোক সুরভীত ফুল
কখনও বা ঢেউ হানা নদীর দুকূল
আমদের গান হোক সুললিত সুর
বেদনার বাঁশি যাক দূর বহুদূর
আমাদের পাখি হোক ঘুম ভাঙ্গা ভোর
খুলে দিক নিজ হাতে খিল আঁটা দোর
আমাদের মাঠ হোক ফসলের মাঠ
যার থেকে নেয়া যায় জীবনের পাঠ
আমাদের রবি হোক ঝলমলে রোদ
নাড়া দিক শিকড়ের বিবেকের বোধ
আমাদের আলো হোক পূর্ণিমা চাঁদ
কেটে যাক বৈরিতা গ্লানি অবসাদ।
চমকপ্রদ কথা। অনন্য আলোকের প্রবাহ। জাগরণের বারতা। তরুণ প্রজন্মের আশা জাগানিয়া স্বপ্ন আলো। মুখরিত আলোর উদ্ভাসন। এখানে নির্মাণ করেছেন একটি পরিচ্ছন্ন পথ। যে পথে আলোর সংকেত দিচ্ছে আজকে তরুণদের। যুগ জনমে প্রতিটি জাতিই চায় সেই আখাক্সিক্ষত পথ। আমার বিশ্বাস এই কবিতায় কবি ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের সীমা রেখায় একটি দাগ রাখবেন। বেঁচে থাকবেন তার সৌন্দর্যের পথ নির্মাণের স্বপ্নদ্রষ্টা হয়ে। এখানেই কবি সার্থক। তার পুঞ্জীভূত ভাবনার প্রতিফলনে।
‘শতচ্ছাড়া ক্ষতচ্ছাড়া’ বইটিতে কবি উৎসর্গ করেছেন তার আপন ব্যক্তিবরদের। এখানে কবি সাহিত্যের অপূর্ব সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। তার হিসেব পাঠকের হাতেই ছেড়ে দেওয়া যায়-
এই শরীরে রক্ত যাদের বহমান
রেখো তাদের সুখে ওগো রহমান
তাঁদের তরেই আমার সকল উৎসর্গ
কারণ তাঁরা আমার হলেন দূত স্বর্গ।
সার্থক কবির প্রার্থনা অনুযায়ী আমরাও প্রার্থনা করি কবির সেই আপন মানুষদের মহান প্রভু যেনো ভালো রাখেন। অফুরন্ত জান্নাত দান করেন।

কবি তার গ্রন্থের প্রথম কবিতা “আমরা স্বাধীন” কবিতায় একটি অন্যরকম ঢংয়ে নির্মাণ করেছেন কবিতাটি। পাকিস্তানিদের শোষণের যে বৈরী মনোভাব তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে কবিতায়-
স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছি
মুক্তাকাশের চাঁদ পেয়েছি
আমরা
পাকিস্তানি বজ্জাতেরা দামড়া।
কবি আরো বলেছেন-
স্বাধীনতার ঘ্রাণ পেয়েছি
নতুন করে প্রাণ পেয়েছি
কারণ
বুকের ভেতর কষ্ট ছিল ধারণ।
কবি পঞ্চপদি কবিতায় সমৃদ্ধ হাত রয়েছে। এখানে তিনি বেশ মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। “আরাকানের পঞ্চপদী” কবিতায় ছয়টি পর্বের পঞ্চম পর্বে কবি যথার্থই বলেছেন
চতুর্দিকে জ্বলছে আগুন দিচ্ছে সবই জ্বালিয়ে
পাষ-রা মারছে মানুষ বুলেট বোমা চালিয়ে
লাল বাহিনীর কুত্তারা
আজরাইলের দূত তারা
জান বাঁচে না রোহিঙ্গাদের দিক বিদিকেও পালিয়ে।
“আলজিভ ছিঁড়ে নেবো” কবিতায় কবির দূর্দান্ত দাপটের আওয়াজ লক্ষণীয়। সাহিত্যে আগাছা সম্পর্কে শুদ্ধতার পক্ষে কলম তুলেছেন-
যাও তবে গুটিয়ে
জ্ঞানীদের ভাব ধরে গেছো বেশ মুটিয়ে
আকামের দলেরা
আলজিভ ছিঁড়ে নেবো একদল হলে রা।
‘কান্না’ শিরোনামের যে ছড়াটি সেখানে একটি অন্যরকম শাব্দিক সুবিস্তৃত বিন্যাস লক্ষ্য করা যায়। তিনি অভাবজনিত এক বিচিত্র দিকের প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন। কবি প্রথম পর্বে এভাবেই ঝংকৃত উপমা নির্মাণ করেন-
কান্না শুনি গাছ গাছালির কান্না শুনি পাতার
কান্না শুনি ভাদাইম্যা আর
নকল করা খাতার
কান্না শুনি ফুল ফসলের কান্না শুনি বিচির
পক্ষীকূলের কান্না শুনি
করুণ কিচির মিচির।
কবি চোখ রাখেন সামনে পিছনে এবং ডাইনে বামে তথা সকল জোড়ায়। একজন সচেতন কবির অন্যরকম গুণ। কবি সরাসরি বলেছেন ‘ষড়যন্ত্র ফাঁস’ কবিতায়-
বদের হাড্ডি সবাই জেনে
ফেলেছে
সব কিছুতেই ষড়যন্ত্র
মেলেছে।
‘প্রত্যাবর্তন’ কবিতায় কবি শহুরে ভূতুড়ে জীবনের চেয়ে গ্রামে ফিরে যেতে চান?। গ্রামকেই সুখের স্থান হিসাবে চিহ্নিত করেন। জন্মভূমিকে কবি ভুলতে চান না। এটাই মূল। যা জীবন্ত শেকড়। কবি বলেন-
ইচ্ছে তো হয় এই শহরে
করবো না আর বাস
গাঁও গেরামের সুখের জীবন
করবো আবার চাষ।
‘হাসি’ কবিতায় কবির চঞ্চল মনের অনন্য সৃষ্টিশীল প্রকাশ। হাসি মাখা সুখ কামনার যে বিচিত্র দেয়াল তা কবির শিল্পিত মনের অন্যরকম বোধের নির্যাস। পাঠকের কাছে তা হয় ভালো লাগার ব্যাকরণ। হাসিটাকে খুঁজেছেন নানান চিত্রপটে। চিত্রবিচিত্রের নানান উপমায় নির্মাণ করেছেন তার কবিতাটি। যা ঈমানের পরিশুদ্ধ চেতনা।
হাসি থাকে আলেমের মাহফিল বয়ানে
জাগ্রত শয়ানে
কবিদের কবিতায় হাসি থাকে ছড়ানো
মায়াজালে জড়ানো।

‘চোখ ধাঁধানো রূপ’ কবিতায় কবি অনুপম রূপ প্রকৃতির পরিস্ফুট দিক নির্ণয় করেছেন। সৌন্দর্যের সাতকাহন ফুটিয়ে তুলেছেন। কবি লিখেছেন-
চিল পাখিরা স্বাধীন যেন
গোত্তা খাওয়া ঘুড়ি
মুক্তাদানা হয়েই ভাসে সাগরচরে নুঁড়ি
কেয়াবনে রয় ফুটে রয় দারুন সবুজকুঁড়ি।
কবি মূলত: শিকড় সন্ধানী। শত ব্যথিত যাতনার আগুন পথেও কবি ভুলেন নি মূল বুনিয়াদ। ধর্মীয় সত্ত্বার দারুণ উপলব্ধিতার প্রকাশ। পরিশুদ্ধতার ভেতর দিয়ে সাহিত্যের সোপানে নানান ভাবে মৌল ভাবনার প্রতিফলন করেছেন কবি। কবিতা-
হরেক পাখি মেলে আঁখি ওড়ে ঝাঁকে ঝাঁক
পাতার ফাঁকে ময়ূর ডাকে হই যে হতবাক
নিখুঁত এমন কারুকাজে
কার দয়াতে ভুবন সাজে
তিনি সবার মালিক খালিক মহান আল্লাহপাক।
তিনি মুক্তমন নামধারী কবিতায় ঠিক মতই আঙ্গুল তুলেছেন-
চুলকানি কেন ধর্মতে?
মলম লাগা চর্মতে।
কবি ‘প্রতিদান’ কবিতায় ঈমানিত্বের অনন্য বাতায়ন লক্ষণীয়। নানান রহস্যে আবডালে ও কবির বুঝের আত্মতৃপ্তির এক অন্যরকম ব্যক্তিত্বের বুনিয়াদ-
অথৈ জলে সুখ ভেসে যায়
পড়লো সুখে টান
বুঝতে হবে বান্দার এটা
পাপের প্রতিদান।
‘স্মৃতির ডানা’ কবিতায় তিনি এক আশ্চর্য্য রকম ভঙ্গিমায় কলম চালিয়েছেন। কাছের মানুষের অভাব বোধ করেছেন। আর সেই খেয়ালী বোধটুকুই কবি গড়ে তুলেছেন আনন্দের জৌলুসে। সাতটি পর্বের প্রথম পর্বে কবি লিখেছেন-
জুঁই চামেলী হাস্নাহেনা আর আসেনা
তাইতো আমার বাণিজ্যালয় আর হাসে না
হাস্নাহেনা থাকে একন দূর বিদেশে
জুঁই চামেলী নিবাস গড়ে আর কি দেশে?
লাইন ছড়াটি আমার কাছে মনে হয়েছে এক আধ্যাত্বিক সাধনার। বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলপ্রসূ। দারুণ চিন্তনের উপলব্ধির অসীম পাহাড়। একটু রং ছড়িয়ে দেওয়া নানান ঢংয়ে, সব কিছুতেই লাইন চমৎকার বটে-
লাইনে অজু লাইনে নামায
লাইনে হবে দোয়া
লাইন ছাড়াতো যায়না পাওয়া
রহমতেরই ছোঁয়া
তুলতে টাকা ব্যাংকে গেলে
বিরাট লাইনে পড়বেন
ক্ষীণদেহে কেমন করে
এই জগতে লড়বেন।
আমাদের বিজয় আলো ছড়ায়। ছড়ায় আশার আলো। যা আকাশ সম স্বপ্নকে জাগিয়ে দেয় আমাদের জাতিসত্তার ভাবনা। দারুণ পঙক্তিদয়-
নদীর জলে এত্তো কেন ছলাৎছল
আজ বিজয়ের দিন এসেছে জোরসে বল
পাখির দলে শূন্যে উড়ে খাচ্ছে দোল
মৌমাছিরা পুষ্পে কেন করছে গোল?
আজ মুসলিম জাতি নানান ভাবে বিভক্ত। ভালো যাচ্ছেনা সময়কাল। বিভিন্ন রকমের সমস্যার বেড়াজালে আবদ্ধ। কবি তার উদারবদী চৈতন্যে এসবই সুবিস্তৃত ভাবে আলোচনা করেছেন। তার ‘বিতর্ক’ কবিতায়
কারো বিশ্বাস মিলাদ হলো
নবী প্রেমের ধারা
দরুদ পড়ে তাই দাঁড়িয়ে
কি যে পাগলপারা
কেউবা বলেন মাটির নবী
কেউ বা বলেন নূরে
এমন কথায় যাচ্ছি নাতো
ইমান থেকে দূরে?
কবি ‘ষড়যন্ত্র ভাঁজ করে’ নামক শিরোনামে সাহসের বার্তা দেখিয়েছেন
মীর জাফরের বাচ্চা আজো
এই সমাজে বাস করে
পরের ঘরে আগুন দিয়ে
মানবতার নাশ করে।
কবির প্রেম জাগানিয়া স্বপ্ন আলোকে প্রতি প্রহরে খুজেন ভালোবাসার পরশ। মানের নিবিড় পরত থেকে কবি তার আখাঙ্কার ছবি নির্মাণ করেছেন ভালোবাসার জাংশনে। একজন প্রেমের কবির স্বপ্নীল চাষাবাদ তা মিষ্টি মধুর ও অফুরান নির্যাস। অন্তর জমিনে যে অনন্তর ঢেউ তার উদ্ভাসনই এই প্রিতিময় ‘মনাকাশে চাঁদ’ কবিতায়-
কথায় কথায় বাড়বে কথা
অনেক হবে গল্প
কথার ঝুড়ি অনেক তবে
রাত্রি মোটে অল্প।

‘শিশুশ্রম বন্ধ হোক’ কবিতায় কবি শিশুদের নিয়ে সুন্দর চিন্তার প্রতিফলন করেছেন। আমাদের দেশে শিশুদের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরা, ইট-ভাট, মুদির দোকান, ফ্যাক্টরী, মিল-কারখানায় দেদারচে চলছে শিশুশ্রম। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অল্প বেতনে তাদেরকে খাটানো হয়। এভাবেই নিষ্পেসিত নির্যাতনে ভেতর দিয়ে তাদেরকে দিয়ে কাজ করানো হয়। সঠিক সময় আবার মায়না দেওয়াও হয় না। এমনকি পান থেকে চুন খসলে বিভিন্নভাবে প্রহার করা হয় শিশুদের। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। কবি কামনা করেছেন-
যেই বয়সে হাসবে শিশু থাকবে কলম বই হাতে
উঠবে তারা উপর তলায় ধরবে জ্ঞানের মই হাতে
শিশুর জন্যে আদর সোহাগ জাগুক সবার অন্তরে
আসুন কাঁটা সাফ করে দিই তাদের চলার পন্থ রে।

একজন লেখক মানেই পাঠক। আর পাঠক সংগ্রহ করেন নানান বই। তেমনি সকল শ্রেণীর পাঠক এবং লেখকদের কাছে সংগ্রহ রাখার মত একটি বই “শতচ্ছাড়া ক্ষতচ্ছাড়া” প্রতিটি লেখাই উদ্দীপনা দান করে। শিশু কিশোরদের প্রেরণাদায়ক। সাত ফর্মার বই, দাম মাত্র একশত আশি টাকা। কমিশন বাদে তার দাম একশত ত্রিশ টাকা হিসেবে বিক্রি হচ্ছে যা পাঠকের জন্য সহজতর। স্বল্প মূল্যে পাঠক ক্রয় করতে বদ্ধ পরিকর।
কবি তোরাব আল হাবীব এর লেখাগুলো সামনে চলার পথে শক্তি জোগায়। যা প্রত্যাশার উপত্যকা।
কবি তোরাব আল হাবীব তার ছন্দোবদ্ধ কবিতার মোহনিয় ইন্দ্রজাল নির্মাণে পরম শিল্পী সত্তার পরিচয় দিয়েছেন। সহজাত লালিত কৌশলে শব্দের বৈচিত্রময় খেলায়। ছন্দের উপমা চমৎকারিত্ব দেখিয়েছেন।
সহজ সরল ভঙ্গিমায় বিস্তৃত জানালা খুলে দিয়েছেন দূর দিগন্তে। আবেগের সুগভীরে অনুরাগ বার বার ফিরে আসে তার আপন শব্দমালায়। দীপ্তিমান হয়ে উঠে কবি চিরভাস্বর হিসাবে।
সমালোচনা করার মতো তেমন কিছু চোখে পড়েনি। তবে যাই হোক, সব কিছুই ইতিবাচক ভাবেই নিয়েছি। কবিকে এটাই বলবো এই পথ বিশাল পথ, দেখে, বুঝে, শুনে পথ চলতে হবে আমাদের। তবেই মুক্তি।
বিকৃত সংস্কৃতির প্রতি বেশ সজাগ তিনি। আমাদের ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্রে যে বহি:রাগত বা আকাশ সংস্কৃতির তোড়জোড় তার প্রতি সদাশয় আঙ্গুল উঠিয়েছেন। কবির সহজাত লালিত বাঁকপ্রতিভা বা কৌশল শিল্পরাজ্যে নিয়ে এসেছে দারুণ প্রতিচিত্র। দারাজ কণ্ঠে আবৃত্তিও করতে পারেন। তার কাব্য প্রতিভার ঝলকানো আভা রং ছড়াবে সময়কাল এবং যুগ পেরিয়ে।

কিছু সৃষ্টি কর্মের মাঝেই অমরত্বের নির্যাস পেয়ে যান কবিরা। কাব্যশক্তির বৈচিত্রই কবিকে এনে দেয় তার প্রাণের সঞ্জীবনী প্রয়াস। গভীর ইন্দ্রজাল। নৈতিক চরিত্রের উন্মোচিত আলো। একজন লেখককে করে পরিশুদ্ধ। যিনি চলেন যুগ সময়ে তার আপন সত্তার ভেতর দিয়েই।
একজন কবির প্রাণের স্পৃহাই পথকে করে মসৃণ। আশায় বুক বাঁধে জাতি। ক্রমাগত ভাবে প্রত্যাশার ভিত বলীয়ান হয়ে উঠে। কবি তোরাব আল হাবীবের চেতনা সমৃদ্ধির বর্ণিল উদ্যান। ধীরে ধীরে কবি গড়েছেন তার নিজস্ব অঙ্গন। আমরা আশাবাদী তার সৃষ্টির মিনার ছুঁয়ে যাক নীলাচে আকাশ পেরিয়ে। প্রতিটি মানুষের হৃদয় থেকে হৃদয়ে। বাংলার কাব্যাঙ্গনে যোগ হোক নতুন মাত্রার। কবির জন্য শুভ কামনা।

এসএসডিসি/কেএ




Share Button

আর্কাইভ

June 2019
M T W T F S S
« May    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930

Prayer Time Table

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৩:৪০
  • দুপুর ১১:৫৬
  • বিকাল ৪:৩২
  • সন্ধ্যা ৬:৪৫
  • রাত ৮:১১
  • ভোর ৫:০৪


Developed By Mediait