বাহুবলে বিষপানে গৃহবধূর আত্মহত্যা                 প্রাথমিকে পদোন্নতি পেলেন ৫৭৮ শিক্ষক, অপেক্ষায় ৮৩২                 মাসিক অভিযাত্রী’র মোড়ক উন্মোচন                 ছাত্রদল নেতা রাজু হত্যার ঘটনায় তিনজন আটক                 বাংলাদেশে ঈদ ২২ আগস্ট                 মদনমোহনসহ সিলেটের ২৮টি কলেজকে ‘সরকারি কলেজ’ ঘোষণা                 ইস্ট-ওয়েস্ট ভার্সিটিছাত্রের যে স্ট্যাটাসটি ভাইরাল হলো                

ধারাবাহিক গল্প: স্বপ্ন ভাসে চোখে (শেষ পর্ব)

: সোনার সিলেট
Published: 26 11 2016     Saturday   ||   Updated: 26 11 2016     Saturday
ধারাবাহিক গল্প: স্বপ্ন ভাসে চোখে (শেষ পর্ব)

কামরুল আলম।। পকেটের চিরকুট থেকে জানা গেল আহত অজ্ঞান এই যুবকটির নাম ‘সাগর’। কিন্তু এ ছোট্ট নামটি থেকে তার পরিবার বা বন্ধুবান্ধব পর্যায়ে যোগাযোগের কোন সূত্র পাওয়া অসম্ভব। ধরে সাগরের বিশালত্বের মতোই হয়তো বা এ যুবকের পরিচয়টাও বড়ো কিছু, কিন্তু এ মুহূর্তে সেটা অনুমান করা সম্ভব নয়। বড়ো কেউ না হলে যুবকটিকেই বা এভাবে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে কেন? সাগরের বিছানার পাশে বসে বসে বসে ভাবছিলেন সাহানা আক্তার। একটি চেয়ার টেনে পাশে বসেছিল শাম্মি আক্তারও। রাত তিনটার দিকে জ্ঞান ফিরে পেল সাগর। সাহানা আক্তার তখন একটু ভিতরের ঘরে গিয়েছিলেন। সাগর তাই চোখ খুলেই শাম্মিকে দেখতে পেল। চোখ ঘুরিয়ে নিল সে।

 

‘কেমন আছেন আপনি? এখন কেমন অনুভব করছেন?’ মোলায়েম ও মায়াবি কণ্ঠে জানতেই চাইল শাম্মি।
‘ভালো।’ খুব সংক্ষেপে উত্তর দিল সাগর। ততক্ষণে সাহানা আক্তারও চলে এসেছেন রুমে।
‘কিরে শাম্মি, ছেলেটির জ্ঞান ফিরলো?’ জানতে চাইলেন শাম্মির মা, সাহানা আক্তার।
সাগর আবার চোখ খুললো। এবার খুব কষ্টে জানতে চাইল, ‘আমি কোথায়? এখানে কেমন করে এলাম?’
‘সব জানতে পারবে বাবা। এখন তুমি বিশ্রাম নাও। মা শাম্মি, যাও তো এক গ্লাস দুধ গরম করে নিয়ে এসো। ¯েœহমাখা কণ্ঠে নির্দেশ দিলেন সাহানা আক্তার।

পরদিন সকাল। ডাক্তার একটু আগে সাগরকে দেখে গেছেন। বলেছেন, ‘আর কোন অসুবিধে নেই। দু-চারদিন বিশ্রাম নিলেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবে সাগর। ডাক্তার চলে গেলে সাগরকে সাহানা আক্তার বললেন, ‘এখানে তোমার কোন অসুবিধে হবে না। তুমি নিশ্চিন্তেই থাকতে পারবে।’ তাঁর খুব ইচ্ছে করছিল ছেলেটির পরিচয় জানতে। কিন্তু কিসব ভেবে সেটা আর জানতে চাইলেন না। একে তো বিপদগ্রস্ত ছেলেটি, তারউপর অসুস্থ।
সকাল ৮টা। শুয়ে শুয়ে একটি খবরের কাগজে চোখ বুলচ্ছিল সাগর। শাম্মি এসে তার রুমে ঢুকলো। শাম্মিকে দেখেই সাগর চোখ দুটো অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিল। শাম্মি বললো, আমি পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি। দোয়া করবেন।’
‘কি পরীক্ষা?’ শাম্মির দিকে না তাকিয়েই জানতে চাইল সাগর।
‘অনার্স থার্ড ইয়ার ফাইনাল। ওসব আলাপ পরে হবে। আপনি এখন কেমনবোধ করছেন?’
‘ভালো।’ সাগর খুব সংক্ষেপে জবাব দিল। সাগরকে অল্প কথাবার্তা বলতে দেখে শাম্মি চলে যাচ্ছিল। সাগর সেদিকে তাকালো। তারপর চোখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে বললো, ‘শুনুন।’ শাম্মি ঘুরে দাঁড়ালো।
‘আমার জন্য আপনি অনেক কষ্ট করেছেন। ঠিকমতো লেখাপড়া করতে পারেননি। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। আশা করি আপনার পরীক্ষা ভালোই হবে।’ একঙ্গে কথাগুলো বলে থামলো সাগর।
‘ধন্যবাদ। আপনার সঙ্গে পরে অনেক কথা হবে। এখন আসছি।’ শাম্মি বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। মুখে ফুটে উঠলো একচিলতে মুচকি হাসি।

 

আজ সাতদিন হলো শাম্মিদের বাড়িতে আছে সাদাত সালেহী সাগর। শাম্মির মা সাহানা আক্তার নিজ ছেলের মতোই ¯েœহ করছেন তাকে। শাম্মিও যথাসম্ভব সেবা যতœ করে সুস্থ করে তুলেছে তাকে। কিন্তু একটা বিষয়ে শাম্মি ও তার মায়ের কৌতুহল থেকেই গেছে। কে এই সাগর? তারা যতবার পরিচয় জানতে চেষ্টা করেছে সাগর ততবারই এড়িয়ে গেছে, কিন্তু কেন? সে কি তাদের বিশ্বাসই করতে পারছে না। নাকি আসলেই ছেলেটির খারাপ কোন পরিচয় আছে? ছেলেটির আচার-ব্যবহারে তেমনটা মনে হয় না। পাঁচওয়াক্ত নামাজ পড়ছে, সকালে কি সুন্দর করে কুরআন তেলাওয়াত করে। শাম্মি তো দূরে থাক সাহানা আক্তারও এমন তেলওয়াত কোনদিন শুনেন নি। মনে পড়েছে তাঁর দাদার কথা। ছোটবেলা তাঁর দাদাকে কুরআন পাঠ করতে দেখতেন। কালের বিবর্তনে কুরআন পাঠ মুসলমানদের ঘর থেকে প্রায় বিলুপ্তই হয়ে গেছে। শাম্মিরা অবাক হয়েছে সাগরের কুরআন তেলাওয়াতের প্রতি আকর্ষণ দেখে। সেদিন ভার্সিটি থেকে ফেরার পর শাম্মি সাগরের ঘরে প্রবেশ করে।
‘আসতে পারি?’ সাগর শুয়ে শুয়ে শাম্মির দেওয়া একটি গল্পের বই পড়ছিল। শাম্মিকে দেখে ঘাড় উঁচু করে আধশোয়া হয়ে বসে পড়ল। বললো, ‘এসেই তো গেছেন!’
‘আমাকে আপনি করে বলবেন না প্লিজ!’
‘কেন বলবো না। আপনি য়ুনিভার্সিটিতে পড়ছেন, আমিও। আমাদের বয়সের পার্থক্য তিন চার বছরের বেশি হবার কথা না।’
‘তাও তো, আপনি তো তিন চার বছরের বড়োই হবেন আমার। তাহলে আপনি করে বলবেন কেন?’
‘আপনি করেই বলতে হয়, কাউকে সম্মান দেখানোর জন্য।’ সাগর কিছুটা হলেও আঁৎকে উঠছে শাম্মির আচরণে। মেয়েটিকে ধার্মিক বলেই মনে হয়েছে। মাথায় স্কার্ফ ও সেলোয়ার কামিজ পরে বাইরে বের হয়। সাগরের সম্মুখে অবশ্য মাথায় ওড়নটা দিয়েই হাজির হচ্ছে। এই মেয়েটির সঙ্গে সাগরের কোন পূর্ব পরিচয় নেই। নিয়তির নির্মম পরিহাসই আজ তাকে এখানে টেনে এনেছে। কে জানে আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন তার কপালে আর কি কি বাকি রেখেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরোনোর আগেই জীবনের নানা ঘাত প্রতিঘাতে জর্জরিত হতে হচ্ছে তাকে। অথচ তার বয়সী ছেলেরা আড্ডাবাজি আর হাসি আনন্দেই জীবনটাকে পার করে দিচ্ছে। এ বাড়িতে শাম্মি ও তার মা ছাড়া উল্লেখযোগ্য কেউই নেই। কাজের বুয়া আর কাজের ছেলেটা কোথায় যে কোনদিকে থাকে বুঝে উঠতেই পারেনি সাগর এখনও। এরই মধ্যে শাম্মি বারবার এসে তার ঘরে প্রবেশ করছে, একটা তরতাজা যুবক কিভাবে নিজেকে সামলে রাখবে। সে জানে এবং মানে প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়েদের এভাবে মেলামেশা ঠিক না। কিন্তু ভদ্রতার খাতিরে শাম্মিকে বলতেও পারছে না কিছু। তাই তো সেদিন শাম্মির কাছ থেকে কুরআন চেয়ে নিয়েছিল সে।
‘আপনার কিছু লাগবে’? জানতে চেয়েছিল শাম্মি।
‘জ্বি লাগবে। আপনাদের ঘরে কুরআন শরিফ আছে নিশ্চয়।’ সাগরের এ কথায় একটু অবাকই হলো শাম্মি।
‘থাকবে না কেন। আছে তো। কেন বলুন তো।’
‘আমি একটু কুরআন তেলাওয়াত করতে চাই। প্লিজ একটু কুরআন শরিফটা যদি দিতেন।’ শাম্মি প্রথম দিন থেকে দেখেছে সাগর নিয়মিত নামাজ পড়ছে। এখন কুরআন পড়ার প্রতি আগ্রহটা দেখে সে অবাকই হলো।
‘একটু অপেক্ষা করুন, আমি নিয়ে আসছি।’ শাম্মি কুরআন শরিফের সন্ধানে ছুটে গেল ভেতরের ঘরে। কুরআন শরিফ আনতে ছুটে গেলেও ঘরের কোথাও কুরআন খুঁজে পেল না শাম্মি। এই জিনিসটা কোথাও না কোথাও তো আছেই। সেই ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছে শাম্মি। লাল একটা কাপড় দিয়ে মোড়ানো পবিত্র কুরআন। কারো ধরাছোঁয়া নিষেধ। এটাতে হাত দিতে হলে পবিত্র হতে হয়, অযু করতে হয়। এত ঝক্কি ঝামেলা কে করতে যাবে। সারা ঘর তন্ন তন্ন করে খুঁজেও কুরআন শরিফ পেল না শাম্মি। মায়ের কাছে সাহায্য প্রার্থী হলে সাহানা আক্তারও খুঁজলেন। আলমিরাতেই রেখেছিলেন কুরআন। সর্বশেষ শাম্মির বাবা ইংল্যান্ডে যাওয়ার সময় একটা খতমে কুরআনের অনুষ্ঠান করেছিলেন বাড়িতে। সে সময় হুজুরদের হাতে দিয়েছিলেন এই কুরআন। হুজুররা অবশ্যই কুরআন সঙ্গে করেই এনেছিলেন। তাহলে এটা গেল কোথায়? কোথাও খুঁজে না পেয়ে হতাশ হয়েই সাগরের ঘরে গেল শাম্মি।
‘কি হলো, কুরআন শরিফ পেলেন?’ সাগর তেমন অবাক হয়নি, তাই স্বাভাবিকভাবেই জানতে চাইল।
‘স্যরি। আমাদের ঘরে কুরআন ছিল। কিন্তু মা কোথায় রেখেছেন মনে করতে পারছেন না। বিশ্বাস করুন, সব জায়গা খুঁজে দেখা হয়েছে। আপনি চিন্তা করবেন না, আমি আপনার জন্য বইয়ের দোকান থেকে আনাতে পারবো। ড্রাইভার চাচাকে বললেই…।’
‘দরকার নেই।’ শাম্মিকে থামিয়ে দিল সাগর।
‘তাহলে আপনার কুরআন পড়া হবে না?’
‘হতে পারে। আমি মুখস্ত কিছু অংশ তো পারিই। তাছাড়া আপনাদের এখানে নেট চালাবারও ব্যবস্থা আছে নিশ্চয়ই।’
‘অবশ্যই। আমার তো খেয়ালই হয়নি। আপনি হয়তো বোরিং ফিল করছেন। ইন্টারনেট ছাড়া কি একমুহূর্তও থাকা যায়। আচ্ছা আপনার মোবাইল টোবাইল কিছু…।’
‘ওসব যারা আমাকে আক্রমণ করেছিল তারাই নিয়ে গেছে।’
‘ওকে নো প্রবলেম। আমি আপনার জন্য একটা ফোনসেটের ব্যবস্থা…।’
‘না না। ফোনসেটের দরকার হবে না। ঘরে ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কিছু একটা থাকলেই তো হয়। আছে নিশ্চয়ই আপনাদের।’
‘ওকে। আমি ল্যাপটপটা নিয়ে আসছি।’ শাম্মি যেন এবার প্রাণ ফিরে পেল। সাগর কুরআনের পরিবর্তে একটি ল্যাপটপ চেয়েছে ওর কাছে, যা দেওয়ার সাধ্য আছে ওর। শুধু তাই নয়, ওর এক্সট্রা দুইটা ল্যাপটপ রয়েছে ঘরে। ‘একটা ল্যাপটপ সাগরকে গিফট করা যাবে’ ভাবলো সে।

‘এই নিন আপনার ল্যাপটপ আর মডেম’ বলে আবার সাগরের ঘরে প্রবেশ করলো শাম্মি।
‘আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এখন একই সঙ্গে অনেকগুলো কাজ করতে পারবো।’
‘কি কাজ?’
‘এই যেমন ধরুন, প্রথমেই কুরআন তেলাওয়াত করবো। তারপর কুরআনের বিভিন্ন তাফসির থেকে তেলাওয়াতকৃত আয়াতের সঠিক অর্থ ও ব্যাখ্যা জানা যাবে।’
‘বাব্বা, আপনি তো দেখছি কুরআনের জন্য একেবারে মুখিয়ে আছেন। ল্যাপটপ দিয়ে কেউ কুরআন তেলাওয়া করে?’
‘করে তো। ডিজিটাল যুগে শুধু ল্যাপটপ কেন এন্ড্রয়েড সেটগুলো দিয়েও করা যায়। এখন তো প্রায় প্রতিটি বিখ্যাত তাফসিরগ্রন্থের এন্ড্রয়েড উপযোগী এ্যাপসও রয়েছে।’
‘বলেন কি? এত খোঁজ খবর রাখেন আপনি কুরআন সম্পর্কে। আচ্ছা আমি কি আপনার কুরআন তেলাওয়াত শুনতে পারি?’
‘অবশ্যই। আপনাকে কুরআন শুনতে বাধা দেবার আমি কে? বরং আপনি যদি কুরআন শুনে উপকৃত হন, আমি আল্লাহর কাছ থেকে বাড়তি পুরস্কার পেতে পারি।’
‘আল্লাহ আপনাকে পুরস্কারও দিয়ে থাকেন?’
‘কেন নয়, দুনিয়াতে এ পর্যন্ত বহু পুরস্কার আমি পেয়েছি আল্লাহর কাছ থেকে। আখেরাতেও পাওয়ার আশা রাখি।’
‘আখেরাতটা আবার কি?’ শাম্মি অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে সাগরের সঙ্গে কথা বলতে বলতে। তাই মনের কথা ঝটপট বেরিয়ে আসছে। আখেরাত সম্পর্কে শাম্মির বেসিক ধারণা নেই দেখে খুব একটা অবাক হলো না সাগর। কারণ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল দিয়ে যাদের শিক্ষাব্যবস্থার শুরু তারা এ সম্পর্কে ধারণা লাভ করার কথা না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রের সঙ্গে কথা বলেই সাগর দেখেছে, ইসলামকে জানার চেষ্টাই করে না অধিকাংশ ছেলে। মানা তো বহু পরের বিষয়!
‘আখেরাত মানে হলো পরকাল, মৃত্যু পরবর্তী জীবন।’ সংক্ষেপে জবাব দিল সাগর।
‘আপনি মৃত্যুপরবর্তী জীবন সম্পর্কেও জানেন?’ শাম্মির চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেছে।
‘আপনিও জানতে পারবেন, এই কুরআনই আপনাকে সবকিছু জানিয়ে দেবে।’ সাগর কথা বলতে বলতে ল্যাপটপ অন করে নেট কানেকশন দিয়ে একাধিক তাফসিরের পিডিএফ ফাইল লোড করে নিয়েছে ইতোমধ্যে।
‘আপনি কিন্তু আমাকে লজ্জা দিচ্ছেন বারবার আপনি আপনি করে। আচ্ছা আমাকে না হয় আপনার কুরআনের শিক্ষার্থী করে নিন। ছাত্রীকে তো নিশ্চয়ই আপনি সম্বোধন করবেন না?’
‘ঠিক আছে শাম্মি, এখন থেকে আর ছাত্রীর মতোই সম্বোধন করবো। মাঝেমধ্যে ধমকটমকও দিতে পারি!’ সাগরের কথা শুনে খিলখিল করে হেসে উঠলো শাম্মি। শারমিনের কথা মনে পড়ে গেল সাগরের। মেয়েটি বড্ড পাগলের মতো আচরণ করছে ইদানিং।

 

 

সেদিন কারওয়ান বাজার এলাকায় শারমিন আবারও পথ আগলে দাঁড়িয়েছিল সাগরের। সাগর সকাল সকাল দৈনিক সত্যের আলো পত্রিকা থেকে সম্মানিটা তুলতে ওদিকে গিয়েছিল। রাতে হোয়াটস এ্যাপে শারমিনের অডিও বার্তাটি শুনে এমনিতেই রেগে গিয়েছিল ওর উপর। মেয়েটাকে কিভাবে বুঝাবে সাগর, সে কতোটা বিপদের মধ্যে আছে। রাস্তার মোড়ে সাগরকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই শারমিন এসে সামনে দাঁড়ালো। সাগর চলে যেতে চাইল না দেখার ভান করে। সত্যের আলো পত্রিকার সিনিয়র সাব এডিটর সরকার ভাই তাকে একটু আগেই সাবধান করে দিয়েছেন। বলেছেন বেশিক্ষণ এই এলাকায় না থাকতে। একটি বিশেষ বাহিনীর লোকজন সাগরকে ফলো করছে, তিনি জানিয়েছেন। তাই সাগর চায়নি শারমিনের সঙ্গে কথা বলে সময় নষ্ট করতে। দ্রুত সরে যেতে গেলেও শারমিন ওর হাতটা খপ করে ধরে ফেলল। সাগর এর আগে দুই দুবার শারমিনকে থাপ্পড় মেরেছিল। সেদিন তা না করে কেবল বলল, দেখ শারমিন। আমার প্রচুর কাজ হাতে। আমি একটু অবসর হলেই তোমার সঙ্গে নিজ থেকে যোগাযোগ করবো, কথা দিলাম। এখন যেতে দাও প্লিজ।’ শারমিনও কি ভেবে ছেড়ে দিয়েছিল সাগরের হাত। এর কিছুক্ষণ পরেই গুন্ডারা সাগরকে তুলে নিয়ে যায় একটি মাইক্রোবাসে। অমানবিক নির্যাতন চালায় তারউপর। চোখ বেঁধে নিয়ে গিয়েছিল বলে কিছুই আন্দাজ করতে পারেনি সে। শেষ পর্যন্ত অজ্ঞান অবস্থায় শাম্মিদের বাসার সম্মুখে ফেলে গেল।
‘কি ভাবছেন এত গভীরভাবে?’ সাগরকে অন্যমনস্কভাবে ভাবতে দেখে প্রশ্ন করলো শাম্মি।
‘না না, ও কিছু না। চলো, আমাদের কুরআনের ক্লাস শুরু করা যাক।’ সাগর কুরআনের সূরা বাকারার ৩০ থেকে ৩৫ নং আয়াত তেলাওয়াত করলো প্রথমে। মুগ্ধ হয়ে শুনলো শাম্মি। কুরআনের সুর শুনে সাহানা আক্তারও চলে এলেন এ ঘরে। মা ও মেয়ে সাগরের তেলাওয়াতের ধরন দেখে অবাক হলেন। সার্টপ্যান্ট পরা ক্লিন সেভড এ ছেলেটি তো হুজুরদের মতোই কুরআন পড়তে পারে! সাগর তেলাওয়াতের পর সূরা বাকারার ৩০ থেকে ৩৫ নং আয়াতের অর্থও পাঠ করলো।
শাম্মি ও সাহানা আক্তার দুজনেই মুগ্ধ হয়ে শুনতে থাকে সাগরের কণ্ঠে কুরআনের বক্তব্য-
‘আবার সেই সময়ের কথা স্মরণ করো একটু , যখন তোমাদেরর রব ফেরেশতাদের বলেছিলেন, ‘আমি পৃথিবীতে খলিফা বা প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে চাই।’ তারা বললো, ‘আপনি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে নিযুক্ত করতে চান যারা সেখানকার ব্যবস্থাপনাকে বিপর্যস্ত করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? আপনার প্রশংসা ও স্তুতিসহকারে তাসবিহ পাঠ এবং আপনার পবিত্রতা বর্ণনা তো আমরাই করে যাচ্ছি। আল্লাহ বললেন, ‘আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না।’
অতঃপর আল্লাহ আদমকে সমস্ত জিনিসের নাম শেখালেন। তারপর সেগুলো পেশ করলেন ফেরেশতাদের সামনে এবং বললেন, ‘যদি তোমাদের ধারণা সঠিক হয় (অর্থাৎ প্রতিনিধি প্রেরণ করলে পৃথিবীর ব্যবস্থাপনা বিপর্যস্ত হবে) তাহলে একটু এই জিনিসগুলোর নাম বলো তো দেখি?’
তারা বললো, ‘ত্রুটিমুক্ত তো একমাত্র আপনারই সত্তা, আমরা তো মাত্র ততটুকু জ্ঞান রাখি যতটুকু আপনি আমাদেরকে দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে আপনি ছাড়া আর এমন কোন সত্তা নেই যিনি সবকিছু জানেন ও সবকিছু বুঝেন।’
তখন আল্লাহ আদমকে বললেন, ‘তুমি ওদেরকে এই জিনিসগুলোর নাম বলে দাও।’ তখন সে তাদেরকে সেসবের নাম জানিয়ে দিল। তখন আল্লাহ বললেন, ‘আমি না তোমাদের বলেছিলাম, আমি আকাশ ও পৃথিবীর এমন সমস্ত নিগুঢ় তত্ত্ব জানি যা তোমাদের অগোচরে রয়ে গেছে। যা কিছু তোমরা প্রকাশ করে থাকো তা আমি জানি এবং যা কিছু তোমরা গোপন করো তাও আমি জানি।’
তারপর যখন ফেরেশতাদের হুকুম দিলাম, ‘আদমের সামনে মাথা নত হও, তখন সবাই অবনত হলো, কিন্তু ইবলিস অস্বীকার করলো। সে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের অহংকারে মেতে উঠলো এবং নাফরমানদের অন্তর্ভূক্ত হলো। তখন আমরা আদমকে বললাম, ‘তুমি ও তোমার স্ত্রী উভয়েই জান্নাতে থাকো এবং এখানে স্বাচ্ছন্দের সাথ ইচ্ছেমতো খেতে থাকো, তবে এই গাছটির নিকট যেয়ো না। অন্যথায় তোমরা দুজন জালিমদের অন্তুর্ভূক্ত হয়ে যাবে।’

সাগরের কুরআন তেলাওয়াত এবং এর অর্থ পাঠ শুনে অবাক হয়ে গেল শাম্মি। অবাক হলেন শাম্মির মা সাহানা আক্তারও। ব্যাখ্যায় মানুষ সৃষ্টির ইতিহাস ও উদ্দেশ্য নিয়ে মোটামুটি নাতিদীর্ঘ একটি আলোচনা রাখলো সাগর। রাতে ডিনারের টেবিলে আলোচনা উঠলো সাগরের পরিচয় সংক্রান্ত। শাম্মি প্রথম জানতে চাইলো, ‘আপনার সম্পর্কে তো কিছুই জানা হলো না?’
‘কি জানতে চাও?’ মুচকি হাসি সাগরের মুখে। সাহানা আক্তারও আগ্রহী এ বিষয়ে।
‘এই যেমন ধরো তুমি কে? তোমার বাড়ি কোথায় ইত্যাদি বিষয়ে তো আমরা তেমন কিছুই জানি না।’ যোগ করলেন সাহানা আক্তার।
সাগর সংক্ষেপে তার পরিচয় দিল। জানালো যে সে একজন শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষবর্ষের ছাত্র। পাশাপাশি একটি পত্রিকায় কলাম লিখে। ছাত্ররাজনীতি করতো একসময়। সে কারণে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অনেকগুলো মামলা রয়েছে। পুলিশ তাকে খুঁজছে। কিন্তু তার থেকেও বড় ঘটনাটি হলো পত্রিকায় ছিনতাই ও টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে লেখার কারণে প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ তার বিরুদ্ধে লেগেছে। তারা সম্ভবত তাকে হত্যা করতেই চেয়েছিল। সেদিন সত্যের আলো পত্রিকার অফিস থেকে বের হবার পর শারমিনের সঙ্গে দেখা হবার ঘটনাটি ছাড়া বাকি পুরোটাই বললো সাগর। গ্রোগ্রাসে কথাগুলো গিলছিল শাম্মি। অবাক চোখে তাকিয়ে ছিলেন সাহানা আক্তারও। এইটুকু একটা ছেলে কী সাংঘাতিক রকমের বিপদ আপদ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেদিন তো প্রায় মরতেই বসেছিল।

‘আচ্ছা আপনি এতদিন আমাদের তেমন কিছুই বললেন না, অথচ আজ সবকিছুই খুলে বললেন। কারণটা কী?’ শাম্মি হঠাৎ করেই প্রশ্নটি করে বসলো।
‘তেমন কোন কারণ নেই। আজ আমি বিদায় নেব তো, তাই ভাবলাম সবকিছু আপনাদের জানা থাকা দরকার। আমি চাই না আমার কারণে আপনাদের কোন ক্ষতি হোক।’
শাম্মির প্রশ্নটা ছিল খামখেয়ালি। কিন্তু সাগরের উত্তরটা হয়ে গেল প্রচন্ড রকমের সিরিয়াস। সে চলে যাবে, এটা আগে কাউকে বলেনি।
‘তুমি কোথায় যেতে চাও এখন? হঠাৎ করে চলে যাবারই বা সিদ্ধান্ত কেন নিলে?’ সাহানা আক্তারের হৃদয়টা যে হু হু করে উঠছে। ছেলেকে পেয়েও হারাতে বসেছেন, কষ্ট আর যন্ত্রণা হৃদপিন্ডটাকে দুমড়ে মুচড়ে শেষ করে দিতে চাইছে তার।
‘খালা, আমি আসলে এ ক’দিন আপনাদের এখানে থেকেছি, এটা ঠিক হয়নি। কারণ আমাকে মেরে এখানেই ফেলে যায় সন্ত্রাসীরা। অতএব আমার বেঁচে থাকার কোন সম্ভাবনার কথা তাদের মনে জেগে উঠলে তারা সর্বপ্রথম আপনাদের বাসাতেই সার্চ করবে।’
‘তারা এখনও তোমাকে খুঁজবে?’
‘খুঁজতে পারে। তাছাড়া পুলিশও খুঁজছে। পুলিশ তাদের সহযোগিতা নিতে পারে।’
‘পুলিশ নেবে সন্ত্রাসীর সহযোগিতা? তুমি কী বলছো এসব?’
‘থাক খালা, আপনি এসব বুঝবেন না।’
‘তা না হয় না বুঝলাম। তোমাদের রাজনীতির ব্যাপার স্যাপার এসব। কিন্তু তুমি কেন আমাদের বাড়ি ছেড়ে আজই চলে যেতে চাও, বলো তো দেখি।’
‘খালা, আসলে আজকের কুরআন অধ্যয়নের পর ফেসবুকে লগইন করেছিলাম। অনেকদিন পর নেটে ঢুকলাম তো। আমার পত্রিকার যিনি সিনিয়র সাব এডিটর, তিনিই খবরটা দিলেন।’
‘খবরটা দিলেন মানে, কিসের খবর?’ শারমিন চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে। ভয়, আতংক আর হতাশার সমন্বয়ে এক অন্যরকম অনুভূতি তৈরি হয়েছে ওর মনে।
‘আমার সঙ্গে যোগাযোগের আর কোন মাধ্যম না থাকায় উনি ফেসবুকে ইনবক্স করেছেন, আমি যেখানে আছি সেখান থেকে যেন দ্রুত সরে পড়ি। গোয়েন্দাদের নজরে পড়ে গেছি অথবা পড়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।’
সাগরের কাছ থেকে এ কথা জানার পর আর কোন কথা বলতে পারলেন না সাহানা আক্তার। কথা বলতে পারছিল না শাম্মিও।

মাগরিবের নামাজের পর সাগর বেরোবার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু আসরের পরপরই সাদাপোশাকধারীদের একটি দল শাম্মিদের বাড়ি ঘেরাও করে ফেলল। সবাই অবাক হলেন। শাম্মি বলল, আপনি প্লিজ পালিয়ে যান, ধরা দিবেন না।’
‘কিন্তু পালাবার মতো কোন রাস্তা তো এ মুহূর্তে আমার সম্মুখে খোলান নেই।’
‘আপনি ছাদের উপর চলে যান।’
‘তুমি কি ভাবছো ছাদ তারা চেক না করেই ফিরে যাবে?’
‘না, তা না…।’ শাম্মি আনমনা হয়ে ভাবছিল। হঠাৎ মাথায় বুদ্ধিটি চলে এলো।
‘আপনি দ্রুত ছাদে চলে যান। পানির ট্যাংকিতে গিয়ে ঢুকে পড়–ন। আশা করি ওরা ছাদ সার্চ করলেও পানির ট্যাংকিতে…’। বাড়ির নিচে গেইট খোলার শব্দ হলো। শাম্মির বুদ্ধিটাই আপাতত কাজে লাগাতে চাইল সাগর। এছাড়া উপায় নেই। তার সহপাঠিদের দুজনকেও সাদাপোশাকধারী পুলিশ এ্যারেস্ট করেছিল। প্রথমে গুম হলেও পরে তাদেরকে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত দেখানো হয়েছে। সাগর তাই শেষ চেষ্টা হিসেবে শাম্মির পরামর্শকেই প্রাধান্য দিল। এই মেয়েটার ভালোবাসার ঋণ সে শোধ করতে পারবে না। মেয়েটি নিশ্চয়ই তাকে ভালোবেসে ফেলেছে। ওদিকে শারমিনও তার জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু সাগরের এই যাযাবর জীবনে কোন মেয়েকে ভালোবাসা বা বিয়ে করা প্রায় অসম্ভবই। এখান থেকে বের হবার রাস্তা খুবই কঠিন।

 

 

ছাদের উপর চলে গেল সাগর। পানির ট্যাংকিটা বেশ উঁচু। অবশ্যই উঠার মতো ব্যবস্থাও রয়েছে একপাশে। পায়ের স্যান্ডেলটি খুলে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে ট্যাংকির উপরে উঠলো সে। তারপর ঢাকনাটা খুলে পানিতে নেমে গেল। বিশাল আকারের ট্যাংকি, সাগরের গলা পুরো ভর্তি না হলেও সাগরের বুক সমান পানি। যাই হোক সাঁতার জান সাগরের জন্য এসব কোন ব্যাপার না।
সাহানা আক্তার কথা বলছিলেন পুলিশের স্পেশাল ফোর্সের সঙ্গে। লোকটি সাহানা আক্তারকে প্রথমেই বললো, ‘সাগর নামের একটি সন্ত্রাসী আপনার এখানে আশ্রয় নিয়েছে?’
‘দুঃখিত, ওরকম কাউকে আমি চিনি না। তবে একটি আহত ছেলে ক’দিন আগে এখানে গভীর রাতে এসেছিল। তাকে চিকিৎসা দিয়ে বিদায় করে দিয়েছি।’
‘না বিদায় করেননি, সে আপনাদের বাড়িতেই আছে।’
‘আপনি এতটা নিশ্চিত হয়ে বলছেন কিভাবে? আপনারা কারা?’
‘আপাতত ধরে নিন পুলিশের লোক। আমরা বাড়িটি সার্চ করতে চাই।’ সাহানা আক্তার বাধা দিলেন না। জানেন তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি। বাধা দিয়ে নিজে ঠেকাতে পারবেন না ওদের। উল্টো ওরা যা নয়, তাই করতে পারে।

 

সারাবাড়ি তন্ন তন্ন করে খুঁজলো সাদাপোষাকের পুলিশেরা। ছাদের উপরও দেখল ভালো করে। চলেই যাচ্ছিল প্রায়। হঠাৎ একজনের নজর চলে গেল সাগরের স্যান্ডেলের দিকে।
‘এখানে স্যান্ডেলজোড়া কার? এই ট্যাংকিতে লুকায় নি তো শালা?’ একজন আগ্রহ নিয়ে ট্যাংকির উপর উঠতে লাগলো। ফলাফল যা হবার তাই হলো। ধরা পড়ে গেল সাগর।

দুইদিন হয়ে গেল, সাগরের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সাগরের সংগঠনের দাবি, সাগরকে গুম করা হয়েছে। পত্রিকার পাতায় চোখ বুলাচ্ছেন সাহানা আক্তার। ‘আশ্চর্য! পুলিশেরা ওকে গুম করবে কেন? অপরাধ করলে বা মামলা থাকলে তো থানায় বা কোর্টে নেওয়ার কথা।’
‘কি জানি মা, আমার কিছুই ভালো লাগছে না।’ বললো শাম্মি।
‘আচ্ছা, ওর বাড়িতে খবর টবর গেছে কিছু?’
‘কি জানি মা, হয়তো গেছে। উনার সংগঠনের ভাইয়েরাই হয়তো দেবেন। কিংবা উনার কোন শুভাকাঙ্খী। উনি তো আবার পত্রিকাতেও লিখেন।’
শাম্মি কথা বলতে বলতে ওর মোবাইল ফোনে ফেসবুক ব্রাউজ করছিল। হঠাৎ চিৎকার করে উঠলো ও। বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেছেন সাহানা আক্তার। সত্যের আলো অনলাইন সংস্করণের একটি নিউজ তাদেরকে হতবাক করে দিল। ‘পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে ছাত্রনেতা নিহত। সাদাত সালেহী সাগর (২৬) নামের এই ছাত্রনেতা আজ ভোররাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হলে ক্রসফায়ারে মারা পড়েন।’ (সমাপ্ত)




Share Button

আর্কাইভ

August 2018
M T W T F S S
« Jul    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

Prayer Time Table

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৪:১৭
  • দুপুর ১২:০৬
  • বিকাল ৪:৩৮
  • সন্ধ্যা ৬:৩৫
  • রাত ৭:৫৩
  • ভোর ৫:৩৩


Developed By Mediait