ছাতকে মসজিদের রাস্তা নিয়ে বিরোধ: দু’পক্ষের সংঘর্ষ-গোলাগুলি                 সিলেটিদের দখলে থাকবে লন্ডনের ওভাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম                 স্মার্টফোন কিনে না দেওয়ায় প্রেমিককে ৫২টি চড় (ভিডিও)                 দেশে অনলাইন নিউজ পোর্টালের সংখ্যা ৩৫০০: তথ্যমন্ত্রী                 টসে হেরে ব্যাটিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা                 মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরি, রুবেলের আগুনে বোলিং, কোয়ার্টারে বাংলাদেশ                 বিশ্বকাপে এই প্রথম বাংলাদেশি নারী উপস্থাপক                

নিজেই তৈরি করুন ই-কমার্স ওয়েবসাইট

: সোনার সিলেট
Published: 02 05 2019     Thursday   ||   Updated: 02 05 2019     Thursday
নিজেই তৈরি করুন ই-কমার্স ওয়েবসাইট

কামরুল আলম।। বর্তমানে আমাদের দেশেও জনপ্রিয় হচ্ছে অনলাইনে ক্রয়-বিক্রয়। মাত্র কয়েকটি ক্লিকেই মানুষ কিনে নিতে পারছে নিজের পছন্দের পণ্য। হাতের মুঠোয় থাকা মুঠোফোন ব্রাউজ করেই চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছু ক্রয় করার মজাই আলাদা। বই, পোশাক, ইলেকট্রনিক্স পণ্য ইত্যাদি বর্তমানে অনলাইনেই বেশি ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। মূলত এটাই হচ্ছে ই-কমার্স। শাব্দিক অর্থে বলতে গেলে ইলেকট্রনিক বাণিজ্য। ই= ইলেকট্রনিক আর কমার্স = বাণিজ্য।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় কয়েকটি  ই-কমার্স বা অনলাইনশপ:
বাংলাদেশের জনপ্রিয় ই-কমার্স ওয়েবসাইট বা অনলাইন স্টোরগুলোর মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্য কয়েকটির ওয়েবলিংকসহ তালিকা এখানে প্রদান করা হলো।
দারাজ (www.daraz.com.bd),
রকমারি (https://www.rokomari.com)
চালডাল (https://chaldal.com/)
বাগডুম   (https://www.bagdoom.com/)
আজকের ডিল https://ajkerdeal.com
পিকাকো https://pickaboo.com
দাম https://dam.com.bd
অথবা https://www.othoba.com
ক্লিকবিডি http://www.clickbd.com

কারা হতে পারবেন ই-কমার্সের উদ্যোক্তা?
কম্পিউটার, ইন্টারনেট তথা অনলাইনে মোটামুটি বিচরণের‌ অভ্যাস রয়েছে এরকম যে কোনো ব্যক্তিই হতে পারেন ই-কমার্স  উদ্যোক্তা। এক্ষেত্রে দেখা যায় তরুণ উদ্যোক্তাদেরই ই-কমার্সে আগ্রহ বেশি।

কী  কী দরকার হয় ই-কমার্সে?
ব্যবসা করতে হলে একটি দোকান বা শপের যেমন প্রয়োজন হয় ই-কমার্সেও ঠিক তাই।  একটি ই-কমার্স সাইট বা অনলাইন শপ এখানে দোকান হিসেবে কাজ করে। তাই ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করতে হলে প্রথমেই দরকার হবে একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট। কীভাবে একটি ই-কমার্স সাইট বানাতে হয় এবং অনলাইনে চালু করতে হয়, তা আমাদের আজকের আলোচনা থেকে জানা যাবে। আপনি যদি একটু সচেতন হন তাহলে নিজেই বানাতে পারবেন একটি ই-কমার্স  ওয়েবসাইট! নিজে নিজে বানাতে পারলে তো ভালো, আর যদি না পারেন তাহলে আমাদের সহযোগিতা নিতে পারবেন। আমরা আপনাকে একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরির বিষয়ে সবধরনের সহযোগিতা করতে পারবো। প্রয়োজনে আমার সঙ্গে (https://www.facebook.com/kamrulalam24) ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ করতে পারবেন যে কোনো সময়।

ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরির ধাপসমূহ:
মাত্র কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করতে পারবেন আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরির কাজটি। এজন্যে খুব বেশি সময়ের যেমন দরকার হবে না তেমনি প্রয়োজন হবে না বড় অঙ্কের কোনো ইনভেস্টমেন্টের। আপনি যদি নিজে নিজে কাজটি সম্পন্ন করতে পারেন তাহলে হাজার দশেক টাকা দিয়েই শুরু করতে পারবেন আপনার ব্যবসা। আপনি হয়ে যেতে পারবেন একজন অনলাইন শপের গর্বিত মালিক বা উদ্যোক্তা। আর যদি আমাদের বা অন্য কোনো থার্ডপার্টির সহযোগিতায় কাজটি করতে হয় তাহলে আপনার প্রয়োজন হবে অন্তত ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। দেশের জনপ্রিয় অনলাইন স্টোরগুলোর ন্যায় উন্নতমানের ই-কমার্স ওয়েবসাইট করতে গেলে খরচ পড়বে লক্ষাধিক টাকা। তবে আপনি দশ হাজার টাকার সাইট দিয়েই ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

 ধাপ ১ : ডোমেইন ও হোস্টিং ক্রয়
অন্যান্য ওয়েবসাইটের ন্যায় ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করার ক্ষেত্রে প্রথম কাজ হচ্ছে সাইটের একটি নাম ঠিক করা। এই নামটি হবে একই সাথে আপনার অনলাইন দোকানের নাম এবং ঠিকানাও। আপনি অবশ্যই অফলাইনেও একটি ঠিকানা (অফিস বা গোডাউন অথবা দুটোই) ব্যবহার করতে পারবেন এবং সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন অফিস থেকে আপনাকে সেই ঠিকানায় ই-কমার্স ব্যবসা করবেন মর্মে একটি ট্রেডলাইসেন্সও সংগ্রহ করতে হবে। বর্তমানে ই-কমার্স ব্যবসাকেও আয়করের আওতায় আনা হয়েছে তাই এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়েই আপনার ব্যবসা আরম্ভ করা উচিত।

যাই হোক প্রথমেই আপনি যে নামে ব্যবসা করবেন সেই নামে ডোমেইন খালি আছে কি না তা অনুন্ধান করতে হবে। একটি সুন্দর ডোমেইন নাম নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার প্রতিষ্ঠান সহজেই পরিচিতি পাবে এরকম একটি নতুন ইউনিক নাম পছন্দ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।এ ক্ষেত্রে আপনার পণ্য বা ব্যবসার ধরনের সঙ্গে মিল রেখে একটি ডোমেইন পছন্দ করতে হবে। নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে যত ছোটোনাম নেওয়া যায় ততই ভালো। কারণ ভিজিটর বা ক্রেতাদের নামটি মনে রাখা সহজ হবে।

ডোমেইন কীভাবে কিনবেন?
ডোমেইন ক্রয় করার জন্য আপনাকে যে কোনো ডোমেইন-হোস্টিং সরবরাহকারী কোম্পানির ওয়েবসাইট ভিজিট করতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ইউকে বা আমেরিকান সাইট থেকে ডোমেইন ক্রয় করতে পারলে ভালো। এতে দামও কম পড়বে এবং নিরাপদ থাকবে আপনার ডোমেইন। বিশ্বস্ত একটি ইন্টারন্যাশনাল ডোমেইন-হোস্টিং সরবরাহকারী কোম্পানি- হলো https://sg.godaddy.com। আপনি অবশ্য পেমেন্ট জটিলতা এড়াতে এবং নিয়মিত মাতৃভাষায় যোগাযোগের সুবিধার্তে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান থেকেও ডোমেইন কিনতে পারেন। দেশের বিশ্বস্ত একটি ডোমেইন-হোস্টিং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হলো-https://eicra.com। ইকরা থেকে ডোমেইন নিবন্ধন করলে ১ হাজার থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামে ডোমেইন সংগ্রহ করতে পারবেন। মনে রাখবেন ডোমেইন এক বা দুই বছরের জন্য নিবন্ধন করা যায়। মেয়াদ শেষে আবার সমপরিমাণ টাকা দিয়ে রিনিউ বা নবায়ন করতে হয়। তাই ডোমেইন এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে কিনবেন যাদের অন্তত কয়েক বছরের মধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলার সম্ভাবনা নেই। ডোমেইনের নিয়ন্ত্রণ (কন্ট্রোল প্যানেল) আপনার নিজের হাতে রাখবেন। কন্ট্রোল প্যানেল দিতে পারবে না এমন সেবাদাতা বা প্রোভাইডারের কাছ থেকে ডোমেইন কেনা যাবে না। আপনি যে নাম বা ডোমেইন ঠিক করলেন, সেটা ইন্টারনেটে খালি আছে কি না, তা জানতে যেতে পারেন www.1and1.com/domain-check ওয়েবসাইটে। .com ডোমেইন নেবেন

কোন হোস্টিং ই-কমার্স সাইটের উপযোগী?
ই-কমার্স সাইটের জন্য ডোমেইনের পরেই যেটা বেশি প্রয়োজন, সেটা হলো হোস্টিং। হোস্টিং হলো আপনি যে সাইটটা তৈরি করবেন, সেটা যাবতীয় ডেটা, ফাইল ও দরকারি জিনিসপত্র রাখার জায়গা, মানে কম্পিউটার সার্ভার। হোস্টিং যেকোনো দেশি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া হয়। সাইট রাখার এই কাজটা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন: ডেডিকেটেড হোস্টিং, শেয়ার (ভার্চ্যুয়াল), ভার্চ্যুয়াল প্রাইভেট সার্ভার (ভিপিএস হোস্টিং), ক্লাউড হোস্টিং ইত্যাদি।

একটা কম্পিউটারের পুরোটাকেই যখন সার্ভার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন একে ডেডিকেটেড সার্ভার বলা হয়। ডেডিকেটেড সার্ভারের হোস্টিং হলো ডেডিকেটেড হোস্টিং। ই-কমার্সের জন্য ডেডিকেটেড হোস্টিংয়ের সুবিধা-অসুবিধা দুটোই আছে। তবে এই সার্ভারের আপটাইমের নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। ডেডিকেটেড সার্ভারের মাসিক ভাড়া কমবেশি ছয় হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে থাকে।

যখনএকই সার্ভার বিভিন্ন সাইট ভাগাভাগি করে, তখন সেটা শেয়ার হোস্টিং। এ ধরনের হোস্টিং ই-কমার্স সাইটের জন্য অনুপযোগী। বেশি মানুষ সাইটে এলেই সার্ভার বসে যায় (ডাউন)। ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা ভাড়া এগুলোর।

যখন একটা ডেডিকেটেড সার্ভারকে ভার্চ্যুয়াল কোনো সফটওয়্যারের মাধ্যমে একাধিক ভাগে ভাগ করে বেশ কটি সার্ভার তৈরি করা হয়, তখন সেটি ভিপিএস নামে পরিচিত হয়। এই একেকটা ভাগ একেকটা স্বাধীন সার্ভারের মতো কাজ করে। ই-কমার্সের জন্য এগুলো ব্যবহার করা যায়। তবে এটার ব্যবস্থাপনা কষ্টসাধ্য এবং হামেশাই ডাউন হয়। ভালো ভিপিএস সার্ভারের মাসিক ভাড়া চার হাজার টাকা থেকে শুরু।

যখন কোনো ওয়েবসাইট হোস্ট করা হয়, তখন তা একটি সার্ভারে সংর‌ক্ষিত থাকে। কিন্তু ক্লাউড হোস্টিংয়ে সাইটটি একটি সার্ভারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। অর্থাৎ প্রয়োজনে ভিন্ন ভিন্ন সার্ভারের সমন্বয়ে ক্লাউড প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছাতে পারে। তাই একই সময়ে বেশি মানুষ সাইটে গেলেও সার্ভার ডাউন হয় না। তাই ই-কমার্স সাইটের জন্য প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত ক্লাউড হোস্টিং।

ধাপ ৩ : ওয়েবসাইট তৈরি
আপনি চাইলেই যে কোনো ডেভেলপারকে দিয়ে একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করাতে পারেন। তবে অনলা্বইনে অনেক সফটওয়্যার আছে, যেগুলো দিয়ে নানা রকম ই-কমার্স সাইট তৈরি করা যেতে পারে। এরকম কয়েকটির বর্ণনা নিম্নে উল্লেখ করা হলো। এগুলো দিয়ে খুব সহজেই আপনি নিজের ইচ্ছেমতো ই-কমার্স সাইট তৈরি করতে পারবেন।

১. ওপেন কার্ট: কেনাকাটা করার মুক্ত সফটওয়্যারের মধ্যে ওপেন কার্ট একটি। সহজে ব্যবহারযোগ্য এবং আকর্ষণীয় নকশা করা যায় এটি দিয়ে। website Demo: demo.opencart.com-এ গিয়ে নুমনা দেখতে পারেন। ঠিকানা: www.opencart.com

২. উকমার্স: নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ভালো হচ্ছে এটি। সহজেই ব্যবহার করা যায়। প্রোগ্রামিং সংকেত বা ডেটাবেইস জ্ঞান ছাড়াই শুধু সফটওয়্যার চালু করেই ই-কমার্সের সব সুবিধা পাওয়া যাবে। ঠিকানা: www.woocommerce.com

৩. জেন-কার্ট: অনেকেরই পছন্দের শীর্ষে রয়েছে জেন-কার্ট নামের এই কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার (সিএমএস)। ঠিকানা: www.zen-cart.com

৪. ওএসকমার্স: ওপেন সোর্স কমার্স বা ওএসকমার্স শীর্ষ জনপ্রিয় অনলাইন স্টোর ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার। ঠিকানা: www.oscommerce.com

৫. টমেটো কার্ট: নতুন প্রজন্মের ই-কমার্স সিএমএসগুলোর মধ্যে টমেটো কার্ট জনপ্রিয়। স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট কম্পিউটারের জন্য টমেটো কার্টে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন নমুনা। ঠিকানা: www.tomatocart.com

৬. ভার্চ্যুমার্ট: জুমলাভিত্তিক জনপ্রিয় সিএমএস ভার্চুমার্ট। যারা জুমলা ব্যবহার করে অভ্যস্ত, তারা এই অনলাইন দোকান ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারটি দেখতে পারেন। ঠিকানা: www.virtuemart.net

৭. প্রেস্তা শপ: এটি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয় হয়েছে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য আকর্ষণীয় ডিজাইন। ঠিকানা: www.prestashop.com

৮. ম্যাজেন্টো: এটি হচ্ছে ই-কমার্স সাইটের জন্য ব্যবহৃত সিএমএসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়। এতে রয়েছে যুগোপযোগী নানা বৈশিষ্ট্য। তবে এর থিম ও প্লাগ-ইনসের দাম কিছুটা বেশি। ঠিকানা: www.magentocommerce.com

শেষ কথা :
 উপরোক্ত তথ্য অনুযায়ী আপনি নিজেই নিজের ই-কমার্স সাইটটি তৈরি করতে পারবেন খুব সহজে। যদি একান্তই কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হয় তাহলে নির্দ্বিধায় নক করতে পারবেন এই প্রতিবেদকের (০১৭১২ ৭৮৬ ৭৭৫) সঙ্গে।

লেখক : সম্পাদক- সোনার সিলেট ডটকম

এসএসডিসি/ কেএ




Share Button

আর্কাইভ

May 2019
M T W T F S S
« Apr    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

Prayer Time Table

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৩:৫০
  • দুপুর ১১:৫৯
  • বিকাল ৪:৩৪
  • সন্ধ্যা ৬:৪২
  • রাত ৮:০৬
  • ভোর ৫:১২


Developed By Mediait