ঢাকায় আর্জেন্টিনা সমর্থকের আত্মহত্যা                 ঐতিহাসিক পলাশী দিবস : ইতিহাসের ভয়ঙ্কর এক কালো অধ্যায়                 সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামরান                 আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে শেষ ষোল’র পথ সহজ করলো নাইজেরিয়া                 শেষ মুহূর্তে কোস্টারিকার জালে ব্রাজিলের ২ গোল                 ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে আর্জেন্টিনার হার                 জীবন-মরণ যুদ্ধে আর্জেন্টিনা !                

পবিত্র আশুরার ইতিহাস ও শিক্ষা_অধ্যাপক মুহাম্মদ কাওসার হুসাইন

: সোনার সিলেট ডটকম
Published: 12 10 2016     Wednesday   ||   Updated: 12 10 2016     Wednesday
পবিত্র আশুরার ইতিহাস ও শিক্ষা_অধ্যাপক মুহাম্মদ কাওসার হুসাইন

হাদিসে ‘আশুরা’ দিবসে রোজা পালনের বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের রোজার পরে আল্লাহর নিকট মহররম মাসের রোজা ফজিলতের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠতম।’ –সহিহ মুসলিম: ১/৩৮৮

 

বিশ্বের বিভিন্ন জাতির ইতিহাস কিভাবে এ দিনের সঙ্গে জড়িত তার প্রতি দৃষ্টি দিলে সহজেই আমরা আশুরার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারি। মানবজাতির আদি পিতা হজরত আদমকে (আ.) প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টি, জান্নাতে অবস্থান, পৃথিবীতে প্রেরণ ও তওবা কবুল সবই আশুরার তারিখে সংঘটিত হয়।

 

হজরত নূহ (আ.) সাড়ে ৯শ’ বছর তাওহিদের দাওয়াত দেওয়ার পরও যখন পথভ্রষ্ট জাতি আল্লাহর বিধান মানতে অস্বীকৃতি জানায়; তখন তাদের প্রতি নেমে আসে আল্লাহর গজব মহাপ্লাবন। এই মহাপ্লাবনের ধ্বংসলীলা থেকে রক্ষা পায় তারা যারা আল্লাহ ও নবীর প্রতি বিশ্বাসী হয়ে হজরত নূহের (আ.) নৌকায় আরোহণ করে। ওই নৌকা ৪০ দিন পর জুদি পাহাড়ের পাদদেশে মাটি স্পর্শ করে ঐতিহাসিক আশুরার দিন।

 

এ দিনেই হজরত ইবরাহিমের (আ.) জন্ম, ‘খলিলুল্লাহ’ উপাধিতে ভূষিত ও নমরুদের অগ্নি থেকে রক্ষা পান। হজরত ইদরিসকে (আ.) বিশেষ মর্যাদায় চতুর্থ আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয় আশুরার দিনে। সুদীর্ঘ ৪০ বছর পর হজরত ইউসুফের (আ.) সঙ্গে তার পিতা হজরত ইয়াকুবের (আ.) সাক্ষাৎ যেদিন হয়- সে দিনটি ছিল আশুরার দিন।

 

নবী আইয়ুব (আ.) দীর্ঘ ১৮ বছর কুষ্ঠরোগ ভোগ করার পর আরোগ্য লাভ করেছিলেন আশুরার দিন। হজরত ইউনূস (আ.) ৪০ দিন মাছের পেটে থাকার পর মুক্তিলাভ করেন আশুরার দিন। ঘটনাক্রমে হজরত সোলায়মান (আ.) সাময়িক রাজত্বহারা হন। আল্লাহতায়ালা তাকে আবারও রাজত্ব ফিরিয়ে দেন আশুরার দিনে।

 

আল্লাহতায়ালা হজরত মুসা (আ.) ও তার অনুসারী বনি ইসরাইলদের ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্ত করে পানির মধ্যে রাস্তা তৈরি করে দিয়ে পার করে দেন এবং ফেরাউনকে তার দলবলসহ সাগরে ডুবিয়ে মারেন আশুরার দিন। হজরত মুসা (আ.) তুর পাহাড়ে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলেছিলেন আশুরার দিনে। এ দিনে হজরত ঈসার (আ.) জন্ম হয় এবং ইহুদিরা তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করলে আল্লাহতায়ালা তাকে ফেরেশতা কর্তৃক সশরীরে আসমানে উঠিয়ে নেন এ দিনেই। দাবী করা হয়, কাবা শরিফ সর্বপ্রথম গিলাফ দ্বারা আবৃত করা হয়েছিল আশুরার দিন।

 

এ পৃথিবীর অস্তিত্বের সঙ্গেও আশুরার দিনের গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। আশুরার দিনেই আল্লাহতায়ালা সৃষ্টি করেছেন আকাশমালা, মর্তজগৎ, পর্বতরাজি, লওহ-কলম ও ফেরেশতাদের। আশুরার দিনে আল্লাহ নিজ আরশে আজিমে অধিষ্ঠিত হন। এভাবে পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ দিনের সম্পর্ক।

 

আশুরার দিনটি যে কারণে বিশ্ব মুসলিমের কাছে অত্যন্ত স্মরণীয়, শিক্ষণীয় ও হৃদয়বিদারক তা হলো- কারবালার ঘটনা। হজরত রাসূলুল্লাহর (সা.) দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রা.) অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে সত্যের জন্য সংগ্রাম করে কারবালার প্রান্তরে সপরিবারে শাহাদত বরণ করে সর্বোচ্চ ত্যাগের অতুলনীয় আদর্শ রেখে গেছেন। আশুরার এসব ঘটনাবলীতের রয়েছে মানবজাতির জন্য শিক্ষণীয় অনেক কিছু। আশুরার মহান শিক্ষাগুলো হলো-

১. আশুরার দিনটি মূলত বাতিলের পরাজয় এবং সত্যপন্থী, হকপন্থীদের বিজয় ও মুক্তির দিবস।

২. নবী ও তাদের অনুসারীগণের ইতিহাস স্মরণপূর্বক আল্লাহর বিধান পালন ও বাস্তবায়নে অবিচলতা, দৃঢ়তা ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা যথার্থমানের হতে হবে। তাহলেই কেবল আল্লাহতায়ালা পৃথিবীর সব বাতিল শক্তির মোকাবেলায় মুসলমানদের বিজয়ী করবেন।

৩. ঈমান-আকিদাবিরোধী সব কার্যকলাপ বন্ধ করতে সচেষ্ট হতে হবে।

৪. ইসলাম সম্পর্কে যারা ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করে তাদেরকে সঠিক ধারণা প্রদান করতে হবে এবং ইসলামের সুমহান আদর্শের দিকে সবাইকে আহ্বান জানাতে হবে।

৫. সত্য ও ন্যায়কে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে বাতিলের মোকাবেলায় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।

৬. আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব কাজে ত্যাগ এবং কোরবানির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

৭. সুযোগ থাকার পরও যেমন হজরত হোসাইনের (রা.) সাথীরা তাকে ছেড়ে না গিয়ে তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে সঙ্গে থেকেছেন; তেমনি আমাদেরও উচিত সর্বদা সত্যপন্থীদের সমর্থন, সহযোগিতা ও সঙ্গে থাকা।

৮. ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে সার্বিক সফলতা অর্জনের জন্য নিজেরা ভালো আমল করা, সর্বপর্যায়ে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ন এবং খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালানো।

আল্লাহতায়ালা আমাদের তওফিক দান করুন। আমিন।




Share Button

আর্কাইভ

June 2018
M T W T F S S
« May    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

Prayer Time Table

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৩:৪৬
  • দুপুর ১২:০৩
  • বিকাল ৪:৪০
  • সন্ধ্যা ৬:৫২
  • রাত ৮:১৮
  • ভোর ৫:১১


Developed By Mediait