কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনে পুড়লো ৪০ ঘর                 ফোন চুরি যাওয়ায় সাংবাদিকদের আটকে রাখলেন শমী কায়সার!                 দুই ভাইয়ের আবিষ্কার, গ্যাস থেকে আর অগ্নিকাণ্ড ঘটবে না                 দুই বোনকে গণধর্ষণ, এক বোনের আত্মহত্যা                 বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীদের সংবাদ সম্মেলন                 হাতিকে চাঁদা না দেয়ায় শূন্যে তুলে আছাড়, ইজিবাইকচালক মরণাপন্ন!                 নওশীনের সঙ্গে অশ্লীল সম্পর্ক ছিল মিলার স্বামীর                

প্রসঙ্গ : সিলেটবাসীর চাওয়া পাওয়া

: সোনার সিলেট
Published: 15 01 2019     Tuesday   ||   Updated: 15 01 2019     Tuesday
প্রসঙ্গ : সিলেটবাসীর চাওয়া পাওয়া

এম আশরাফ আলী: দু’টি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ সিলেট। বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী বলে খ্যাত ‘সিলেট শরীফ’ সবার কাছে সম্মানের জায়গা। সিলেট মানে অনন্য সুখের জায়গা। শান্তি, সমৃদ্ধি, পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান সিলেটকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। সবার মাঝে একটা ধারণা সিলেট-১ আসনে যে দলের প্রার্থী জয়ী হন সেই দলই সরকার গঠন করে। এবারও হয়েছে তাই। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ তৃতীয়বারের মত ক্ষমতায় দাপটের সাথে অধিষ্ঠিত। স্বাগতম ২০১৯। স্বাগতম নতুন সরকার।
দেশে বিদেশে সিলেটের একটা সুনাম রয়েছে। প্রবাসী অধ্যুষিত এই এলাকার অধিকাংশ লোক ধনাঢ্য। দেশের মোট আয়ের প্রায় এক তৃতীয়াংশ যোগান দেয় সিলেটীরা। সবাই প্রশংসা করেন। কিন্তু যে বাতি আলো দূর করে সে বাতির নিচের অন্ধকার কারো চোখে পড়ে না। ধনী লোক সিলেটে আছেন এটা সত্য। কিন্তু গরীব লোকের সংখ্যা কেউ দেখেনা। আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে সিলেটের গরীবরা দারুণভাবে নিষ্পেষিত-এ খবর কেউ রাখেনা। যাদের ইনকাম দিনে চারশ আর যাদের ইনকাম দিনে চার হাজার তাদের জন্য বাজার দরে তো কোন তারতম্য নেই। চারশ টাকা ইনকামের লোকজনের জন্য মাছের কেজি দু’শ টাকা হলে চার হাজার টাকা ইনকামের লোকজনের জন্যও দু’শ টাকা। এ ছাড়া সামাজিক আচার অনুষ্ঠান ব্যয়বহুল থাকায় গরীবদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। বিয়ে-শাদি-পার্টি ইত্যাদি ধনীরা যেভাবে উদযাপন করছেন এগুলোর প্রভাব কিন্তু গরীবদের উপর মারাত্মকভাবে পড়ছে। প্রায় সবাই ধনীদের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে নিঃস্ব থেকে নিঃস্বতর হচ্ছে। কারণ অনুষ্ঠান আয়োজন জাঁকজমকপূর্ণ-করতে গিয়ে অন্যের কাছ থেকে ধার কর্জ করতে হচ্ছে। ফলে ওরা পরিণতিতে জমিজমা এমনকি ভিটেমাটি পর্যন্ত হারাতে হচ্ছে।
সিলেটের টাকায় দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হলেও সিলেটের সাধারণ জনগণের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন এখনও তেমনটা ঘটেনি। সেই বৃটিশ আমলে স্থাপিত ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরী আর ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানা বাদে আজও কোন বৃহৎ শিল্প গড়ে উঠেনি। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা সহ মহানগরগুলোতে শিল্পায়ন হলেও আমাদের সিলেট অঞ্চল এ ব্যাপারে মারাত্মকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। ফলে সরকারি চাকরির সুযোগ তো হচ্ছেই না এমন কি সরকারি আধা সরকারি, সামরিক, আধা-সামরিক, পুলিশ-আনসার এসব প্রতিষ্ঠানেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সিলেটী নেই বললেই চলে। সিলেট ব্যতীত অন্যান্য জেলার লোকজন চাকরি ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে। কিন্তু আমাদের সিলেটীদের একটি বদনাম রটে গেছে সেটা হচ্ছে সিলেটীরা চাকরি করে না। সবাই বিদেশমুখী। কথাটা পুরোপুরি সত্য নয়। সিলেটের শিক্ষিত যুবকরা চাকরি বাকরি না পেয়েই মূলত বিদেশমুখী হচ্ছে। সিলেটের মন্ত্রী-মিনিস্টারসহ যারা ক্ষমতায় থাকেন তারাতো আর সামান্য চাকরি বাকরির জন্য বা কোন ছোটখাটো বরাদ্দের জন্য মুখ ফেলতে পারেন না। কারণ সিলেটী বলে কথা। ইজ্জত সম্মান আছে না! কিন্তু আমরা দেখি বিভিন্ন জায়গায় পাওয়ারফুল মানুষেরা তাদের পাড়া পড়শি বা এলাকার লোকজনকে হরহামেশা চাকরি বাকরি পাইয়ে দিতে বেশ তৎপর।
আমাদের ছেলে মেয়েরা চাকরি-বাকরি না পেয়ে হতাশ হয়ে বিভিন্ন দেশের এম্বেসিতে ধর্না দিচ্ছে। আমাদের দেশে অবস্থিত বিদেশি এম্বেসি বা ইন্ডিয়ায় অবস্থিত বিভিন্ন দেশের এম্বেসিতে ভিসার জন্য ধর্না দিচ্ছে। ফলে ইন্ডিয়া গিয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করছে। বর্তমানে ইন্ডিয়ান ভিসা পেতেও বেশ খরচা পাতি লাগে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমাদের ছেলে মেয়ে ভিসা না পেয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরছে। আর এই সুযোগে আদম ব্যাপারিরা হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। বিভিন্ন মার্কেটে অনমোদিত অজ¯্র ট্র্যাভেলস খুলে দালাল চক্র গড়ে তুলেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ফলে সাধারণ মানুষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতারিত হচ্ছে।
ছেলে মেয়ের গার্জিয়ানরা আত্মীয়-স্বজন থেকে টাকা সংগ্রহ করেও চাচ্ছে ছেলেমেয়েদের প্রতিষ্ঠিত করতে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লক্ষ লক্ষ টাকা খুঁইয়ে অনেকেই পথে বসছে।
সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ঊ.চ.ত জোন, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী, ভারি শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠিত হলে হাজার হাজার বেকার যুবক-যুব মহিলা চাকরি বাকরি করে তাদের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটাতে পারত।
বর্তমান সরকারের মন্ত্রীসভায় সিলেটের পাঁচ পাঁচ জন এমপি স্থান করে নিয়েছেন। তা দেখে আমরা সিলেটবাসী গৌরবান্বিত বোধ করছি। পাশাপাশি এ অঞ্চলের আপামর জনসাধারণের আশা-আকাঙ্খাও বেড়ে গেছে। এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের ভাগ্য বিড়ম্বনা লাঘবের ক্ষেত্রে নেতৃবৃন্দ উদ্যোগী হবেন-এ প্রত্যাশায় দিন গুনছে সবাই। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার বিশ্বনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সেই এগিয়ে যাওয়ার ¯্রােতে সিলেটের সাধারণ মানুষকে শরীক করতে তাদের বেকারত্ব দূরীকরণে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিবেন এটাই জনগণের চাওয়া। মন্ত্রী-এমপি মহোদয়গণ বৃহত্তর সিলেটবাসীর আশা আকাংখার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাবেন। সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে, বেকারত্ব দূরীকরণে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন, হতাশাগ্রস্ত লক্ষ লক্ষ বেকার ছেলেমেয়ে যাতে কর্মক্ষেত্র পায়, দেশেই তাদের মেধা, যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে, এই দৃষ্টিকোণ থেকে স্ব-স্ব অবস্থানে থেকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সচেষ্ট হউন-এই চাওয়াটুকু সকলের। বঞ্চিত সিলেটবাসী নিতান্ত জীবিকা নির্বাহের তাগিদেই অতি কষ্টের প্রবাস জীবন বেছে নিতে হয়। যারা প্রবাস জীবন যাপন করছেন তারা অবশ্যই স্বীকার করবেন এটা কত কষ্টসাধ্য। কোটি কোটি টাকা অলস অবস্থা থেকে মানুষের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে কাজে লাগুক, দেশের সার্বিক উন্নয়নে এগুলো কাজে লাগুক, সিলেটবাসী নিজ দেশেই কর্মসংস্থান পাক এই প্রত্যাশা সকলের।
লেখক : কলামিস্ট




Share Button

আর্কাইভ

April 2019
M T W T F S S
« Mar    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

Prayer Time Table

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৪:১৭
  • দুপুর ১২:০১
  • বিকাল ৪:৩০
  • সন্ধ্যা ৬:২৬
  • রাত ৭:৪৩
  • ভোর ৫:৩৩


Developed By Mediait