সিলেটে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলার উদ্বোধন                 জিন্দাবাজারে পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্টে পাখির মাংস, র‌্যাবের অভিযান                 হবিগঞ্জে এসএসসি’র ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি-আদায়ের অভিযোগ                 মাশরাফির বিরুদ্ধে নড়াইলে আ.লীগের ১৫ নেতা                 সিলেটে দুটি প্রতিষ্টানকে ৭০ টাকা জরিমানা                 ভোটে যাচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট                 বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার হলো যেসব বিএনপি নেতার                

ফরহাদ চৌধুরী শামীম : আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি || সাজন আহমদ সাজু

: সোনার সিলেট
Published: 23 09 2018     Sunday   ||   Updated: 23 09 2018     Sunday
ফরহাদ চৌধুরী শামীম : আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি || সাজন আহমদ সাজু

সমাজ জীবনে যখন অন্ধকার নেমে আসে, অপরাধীদের দৌরাত্ম বেড়ে যায়, সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ-অগ্রগতির পথে বিস্তর বাধা, নানা সঙ্কট, সমাজ বিকাশের পথ রুদ্ধ করে রাখে। বিপদ সঙ্কুল পথে সকল বাধা অতিক্রম করে অন্ধকারাচ্ছন্ন অভিশাপের হাত থেকে সমাজকে উন্নয়ন-অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রয়োজন হয় স্বাধীনচেতা, ন্যায়পরায়ন, সৎ, সাহসী, শক্তিমান জনপ্রতিনিধি। সঙ্কোচ ও জরাসঙ্কীর্ণতায় আচ্ছন্ন সমাজকে আলোকিত করে সঠিক দিকনিদের্শনা দিয়ে পারিপার্শ্বিক অবস্থার উন্নয়ন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, সুশাসন নিশ্চিত করে একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে নিয়ে যেতে একজন বিচক্ষণ দৃঢ়মনোবল সম্পন্ন কর্মঠ, দক্ষ ও পরিশ্রমী নেতৃত্ব বাছাই করা অত্যাবশ্যক। ২০০৩ সালে প্রথম সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৬ নং ওয়ার্ডবাসীর কাছে তেমনই একজন নেতা দেবদূত হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন অন্ধকার, জরাজীর্ণ ও অবহেলিত ওয়ার্ডকে আলোকিত করার জন্য। ৬ নং ওয়ার্ডবাসী সেই রতœ চিনতে ভুল করেনি। সেবক হিসেবে বেছে নেয় একজন কর্মঠ, সৎ, দক্ষ, বিচক্ষণ, নির্লোভ, ন্যায়বিচারক, পরিশ্রমী ফরহাদ চৌধুরী শামীমকে। পরপর চারবার নির্বাচিত করে জানান দেয় ফরহাদ চৌধুরী শামীমের তুলনা শুধু ফরহাদ চৌধুরী শামীমই।
একজন জনপ্রতিনিধির কাছে মানুষের প্রত্যাশা কী থাকে?
এলাকার পারিপার্শ্বিক অবস্থার উন্ময়ন,শান্তি-শৃঙ্খলা বজায়, ন্যায়বিচার, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত, সুশাসন প্রতিষ্ঠা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যদি এগুলা নিশ্চিত করতে পারেন তবে পরবর্তী নির্বাচনে তাকে আর বেগ পেতে হয় না জনগণ প্রয়োজনের তাগিদেই স্বতস্ফূর্তভাবে যোগ্য কর্মঠ মানুষকে নির্দ্বিধায় বেছে নেয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার নোবেলজয়ী বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার একটি উক্তি এখানে যথার্থ , ‘জনগণের জন্য কাজ করে যাও জনগণই তোমাকে নেতা বানাবে’।
ফরহাদ চৌধুরী শামীম তেমনই আর্তমানবতার কল্যাণে কাজ করে হাঁটি হাঁটি পা-পা করে আজ হয়ে উঠেছেন জনতার নেতা, মানব কল্যাণে কাজ করার দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তিনি বারবার জনগণের কাছে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। মহান আল্লাহতায়ালা ভোটকে আমাদের ওপর বিশেষ এক আমানত হিসেবে ন্যস্ত করেছেন। আমরা যদি আমাদের ওপর অর্পিত এ আমানতকে মর্যাদা না দিই এবং যথাস্থানে প্রয়োগ না করি তাহলে নিশ্চয় মহান আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ৫৮ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের আমানতগুলো যোগ্য ব্যক্তিদের ওপর ন্যস্ত করার আদেশ দিচ্ছেন। আর তোমরা যখন শাসন কাজ পরিচালনা কর তোমরা মানুষের মাঝে ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে শাসন করবে।
নিশ্চয় আল্লাহর উপদেশ কতই চমৎকার’।
রাষ্ট্রের প্রধান বা স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি হবেন নির্বাচিত ব্যক্তি আর সেই পদে নির্বাচনের জন্য সর্বাপেক্ষা উত্তম ব্যক্তিকে ভোটদানের নির্দেশ ইসলামে দেয়া হয়েছে।
উপরে বর্ণিত আয়াতে জনপ্রতিনিধি কিংবা শাসন কার্যে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ নির্দেশই দেয়া হয়েছে তারা যেন অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণতা, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে নিজেদের কর্তৃত্বের সদ্ব্যবহার করেন। দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য সর্বাধিক যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচন করা খুবই প্রয়োজন। এটি এমন একটি বিষয়, আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ের প্রতি মুমিনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং বিস্তারিত বর্ণনা করে বলেছেনÑ কী ধরনের নেতা নির্বাচন করা উচিত।
এ আয়াতে প্রথম দায়িত্বটি হল ভোটারদের অর্থাৎ ভোটারদের দৃষ্টিতে যে ব্যক্তি সর্বোত্তম তাঁর পক্ষে ভোট দেয়ার শিক্ষাই ইসলাম প্রদান করে। সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেয়া যেমন অধিক পূণ্যের কাজ, তেমনি অসৎ, অনুপযুক্ত, দুষ্কৃতকারী কোনো ব্যক্তিকে ভোট দেয়াও শক্ত গুনাহের কাজ।
পবিত্র কোরআনে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়াকে যেমন হারাম জ্ঞান করা হয়েছে, তেমনি সত্য সাক্ষ্য দেয়াকে ওয়াজিব করা হয়েছে।
ভোট একটা সত্য সাক্ষ্য।
ভোটের মাধ্যমে আপনি একজন ব্যক্তির পক্ষে সত্য সাক্ষ্য দিচ্ছেন। মুমিনদের মধ্যে যারা রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় নেতৃত্বের আমানতের বোঝা বহন করার অধিকতর যোগ্য, তাদের হাতেই এ আমানত অর্পণ করার শিক্ষা ইসলাম আমাদের দেয়। ইসলামে আমানতের খেয়ানতকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। ভোট আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে এমন একটি আমানত যার সম্পর্কে আল্লাহপাক বলেছেন, ‘তুমি তোমার আমানত যোগ্য ব্যক্তিকে প্রদান কর’। তাই আল্লাহ প্রদত্ত এ আমানতকে যদি আমরা যথাযথ স্থানে প্রয়োগ না করি তাহলে তা হবে খেয়ানতের তুল্য। আর এ জন্য আমাদের জিজ্ঞাসিত হতে হবে। আমাদের প্রিয় নবী রাসূলেপাক (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাবধান হও! তোমরা প্রত্যেকেই একজন দায়িত্বশীল। আর কিয়ামতের দিন তোমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে’।
আমাদের সমাজে অনেকেই টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যান, ব্যক্তিগত ফায়দা খুঁজেন ভোট এলে, তাঁরা ভুলে যান তাদের ভোটটি বিক্রি করে সাময়িক কিছু লাভ হয়তো হবে কিন্তু এই সমাজ এবং দেশের মানুষের অনেক ক্ষতি তাঁরা করে ফেলেন অযোগ্য, অসৎ, দুশ্চরিত্র, দুর্নীতিবাজ লোককে ক্ষমতা দিয়ে। এদের ব্যাপারে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে বলেছেন এবং অবশ্যই এদের শাস্তি হবে খুবই কঠিন। আমাদের আমানতে নির্বাচিত ব্যক্তি ক্ষমতার পাওয়ার পর যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে, ঘুষ খায়, দুর্নীতি করে, গরিবের হক খায়, মজলুমের উপর জুলুম-নির্যাতন করে, অবিচার করে তার পাপের শরীকও আমরা হয়ে যাবো। ঠিক তেমনি যাকে নির্বাচিত করবো সে যত ভালো কাজ করবে আমরাও তাঁর পূণ্য থেকে নেকি পাবো। আল্লাহতায়ালা শুধু শাসকদেরই জবাবদিহি করবেন না যে তুমি সঠিক কাজ করোনি কেন? বরং ভোটারদেরও এই বলে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাকে যে ভোটাধিকার দেয়া হয়েছিল তুমি তার সঠিক প্রয়োগ কেনো করোনি? টাকার কাছে বিবেক মনুষ্যত্ব বিক্রি করে ব্যক্তি স্বার্থ না খুঁজে, পারিপার্শ্বিক অবস্থার উন্নয়ন, শান্তি শৃঙ্খলা বজায়, ন্যায় বিচার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা সর্বোপরি নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে যোগ্য, কর্মঠ, পরিশ্রমী পরীক্ষিত মানুষকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করা নৈতিক দায়িত্ব এবং কর্তব্য বলে জনগণ মনে করে বিধায় ৬ নং ওয়ার্ডের মানুষ নেতা নির্বাচন করতে ভুল করেনি।
যতবারই সুযোগ পেয়েছে তাদের প্রিয়ভাজন ফরহাদ চৌধুরী শামীমকে অভিভাবক নির্বাচিত করেছে কাঙ্খিত উন্নয়ন আর নাগরিক সেবা পেতে।
নির্বাচন এলে সুযোগ সন্ধানী কুশীলব, বসন্তের কোকিলদের আনাগোনা বেড়ে যায়। টাকা দিয়ে বিবেক কেনার পায়তারা করে একটি পক্ষ। মুষ্টিমেয় কিছু দুষ্টলোক যারা এলাকার উন্নয়ন চায় না, শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে চায়, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘœ ঘটাতে চায়, শালিশ বিচারের নামে অর্থ আত্মসাৎ করতে চায়, অন্যের জায়গা দখল করতে চায়, সন্ত্রাস আর মাদকের পৃষ্ঠপোষক দুস্কৃতিকারী ছাড়া অধিকাংশ শান্তিপ্রিয় জনগণ তাদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করে শান্তির পক্ষে, উন্নয়নের পক্ষে তাদের রায় প্রদান করে ফরহাদ চৌধুরী শামীমকে বারবার নির্বাচিত করে।
ফরহাদ চৌধুরী শামীমের কর্মময় জীবনালেখ্য:
ফরহাদ চৌধুরী শামীমের পৈতৃক নিবাস সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দুভাগ ইউনিয়নে হলেও তাঁর জন্মস্থান নগরীর চৌকিদেখী ইলাশকান্দিতে। ১ জানুয়ারি ১৯৬৪ সালে মরহুম আলহাজ্ব আলাউদ্দিন চৌধুরী ও রেজিয়া খানম চৌধুরীর ঘরে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা মরহুম আলহাজ্ব আলাউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন পেশায় একজন সরকারি ঠিকাদার। মাতা রেজিয়া খানম চৌধুরী ছিলেন মানুষ গড়ার কারিগরÑশিক্ষিকা। তাঁর পিতা ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক। সিলেট নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পরিষদে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন সভাপতি, সহ-সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য মদনমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, রসময় মেমোরিয়াল হাইস্কুল, খাসদবীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাসদবীর দারুস সালাম মাদ্রাসা। মরহুম আলাউদ্দিন চৌধুরী সিলেটের প্রবীণ ব্যক্তিবর্গদের জন্য গঠিত ‘প্রবীণ হৈতষী সংঘ’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠা। ছিলেন সিলেট বিভাগ প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের অগ্রসনিক, সিলেট গণদাবী পরিষদের সহ-সভাপতি। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী মরহুম আলহাজ্ব আলাউদ্দিন চৌধুরী ১ জুলাই ২০০৩ সালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)।
রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হওয়ার সুবাদে সামাজিক কাজকর্মে ফরহাদ চৌধুরী শামীমের সম্পৃক্ততা ছিল ছোটবেলা থেকেই। আট ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। পরিবারের বড়োভাই আশরাফ চৌধুরী হীরা যুক্তরাজ্যের একজন স্বনামধন্য-প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ছোটভাই আহাদ চৌধুরী বাবুও যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা। তিনি সেখানে সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। আরেক ছোটভাই ফুয়াদ চৌধুরী শাপলা যুক্তরাজ্যের একজন প্রতিষ্ঠিত হাউজিং ব্যবসায়ী।মেজোভাই মরহুম সোয়েব আহমদ চৌধুরীও ছিলেন একজন বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী। ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সিলেট শহরে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। তৎকালীন ৬ নং ওয়ার্ড ছিল টুলটিকর ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত। তখন মরহুম সোয়েব আহমদ চৌধুরী ছিলেন টুলটিকর ইউনিয়ন পরিষদে অত্র ওয়ার্ডের মেম্বার। আরেক ভাই ফেরদৌস চৌধুরী রুহেল একজন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক। তিনি সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। ফরহাদ চৌধুরী শামীমের ছোটভাই মুরাদ চৌধুরী শিপার ছিলেন মদনমোহন কলেজ ছাত্রদলের একজন তুখোড় ছাত্রনেতা। ১৯৯৬ সালে কতিপয় দুর্বৃত্তদের হাতে তিনি নির্মমভাবে শাহাদত বরণ করেন। সর্বকনিষ্ঠ ভাই তোফায়েল চৌধুরী উজ্জ্বল একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। একমাত্র বোন স্বামী-সন্তান নিয়ে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তিনি একজন কমিউনিটি নেত্রী।
ফরহাদ চৌধুরী শামীমের শিক্ষা জীবন শুরু খাসদবীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। পরবর্তীতে রসময় মেমোরিয়াল হাইস্কুলে লেখাপড়া করেন। স্কুল জীবন থেকেই তাঁর সমাজসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ শুরু। বহুগুণে গুণান্বিত এই মানুষটি খেলাধুলা, হইহুল্লোড়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতেন ছাত্রাবস্থাতেই। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন রঙধনু ক্লাবের সদস্য হওয়ার মাধ্যমে সামাজিক সংগঠনে কার্যক্রম শুরু। তিনি বর্তমানে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংগঠন ইলেভেন ব্রাদার্সের প্রেসিডেন্ট। ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করে ১৯৯০ সালের রাজপথের উত্তাল দিনগুলোতে তিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করে একাধিক মামলায় আসামী হয়ে কারান্তরীণ ছিলেন।
১৯৯০ সালে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যবসার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। ব্যবসায়িক জীবনে তিনি একজন সফল ব্যক্তিত্ব। নিজেকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে আর্ত-মানবতার সেবায় নিয়োজিত রাখেন। দুঃস্থ-অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ফরহাদ চৌধুরী শামীমের দ্বার উন্মুক্ত ছিল সবসময়। ১৯৯৩ সালে আম্বরখানা ঘূর্ণি আবাসিক এলাকার আব্দুল হামিদের কন্যা নাদিরা ফরহাদ নীলার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একপুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। একমাত্র ছেলে গালিব চৌধুরী অমিত লিডিং ইউনিভার্সিটিতে এলএলবি অনার্সের ছাত্র। পাশাপাশি সম্পৃক্ততা রয়েছে ব্যবসাতেও। নগরীর চৌহাট্টায় ওয়ালটন স্মার্টফোন-নোকিয়া মোবাইল ফোনের ডিস্ট্রিবিউটর। একমাত্র কন্যা নওশীন তাবারাকা শামা মেট্টোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে এলএলবি অনার্সে অধ্যয়নরত।
ফরহাদ চৌধুরী শামীম ২০০৩ সালের ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক কাজের মাধ্যমে এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া নিয়ে আসেন। একজন পৌর কমিশনার যে কাজ করার কথা সেই কাজগুলো একজন সামাজিক ব্যক্তি হিসেবে ফরহাদ চৌধুরী শামীম নিজ উদ্যোগে করান। সন্ত্রাস আর মাদকের অভয়ারণ্য অন্ধকার জীর্ণ অবহেলিত একটি ওয়ার্ডকে আলোকিত করার প্রয়াস নিয়ে নব উদ্যোমে কাজ শুরু করেন এলাকার সচেতন যুবসমাজকে সাথে নিয়ে।
নিজ উদ্যোগে প্রতিটি অন্ধকার রাস্তায় আলোকবাতির ব্যবস্থা করেন। মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগী হন, আর্থিক অনুদানে মশক নিধন কর্মসূচি দিয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেন। প্রমাণ করেন ইচ্ছাশক্তি থাকলে সমাজ পরিবর্তন সম্ভব। অল্প দিনেই তাঁর এই উদ্যোগ মানুষের প্রশংসা অর্জন করে। তার প্রেক্ষিতেই ২০০৩ সালের ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৬ নং ওয়ার্ডবাসী ফরহাদ চৌধুরী শামীমের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে বিপুল ভোটে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করে।
২০০৩ থেকে ২০১৮ সাল : ফরহাদ চৌধুরী শামীম টানা চতুর্থবার জনপ্রতিনিধি
২০০৩ সালে প্রথম সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দাঁড়িয়ে ফরহাদ চৌধুরী শামীম জনগণের সামনে ৫টি প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসেন। জনগণ আস্থা রাখে, এই মানুষটিই পারবে। তার প্রমাণ তিনি অতীতে প্রার্থী হওয়ার আগেই অনেকবার দিয়েছেন। ফরহাদ চৌধুরী শামীমের ৫টি প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল সন্ত্রাস নয়, শান্তি চাই মাদকমুক্ত ওয়ার্ড চাই, এলাকার উন্নয়ন চাই, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। আলোকিত ওয়ার্ড চাই ।
মানুষ কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসীদেরকেই পছন্দ করে। ওয়ার্ডবাসীর বিশ্বাস ছিল তিনিই পারবেন। ফরহাদ চৌধুরী শামীমও মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিদান দিতে নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণের পর থেকেই একটি জীর্ণ-মৃতপ্রায় ধ্বংসস্তুপ থেকে ৬ নং ওয়ার্ডকে আলোকিত মডেল ওয়ার্ড করতে উদ্যোগী হন। প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে সকল শ্রেণিপেশার মানুষকে একতাবদ্ধ করে একটি বাসযোগ্য সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ৬ নং ওয়ার্ডবাসীকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তড়িৎ গতিতে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আসেন ওয়ার্ডবাসীর জন্য।
এ যেন রূপকথার যাদুর গল্প।
যারা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল, ন্যায়বিচার ভূলুন্ঠিত করেছিল, বিচারের নামে প্রহসন করতো, সন্ত্রাসীদের লালন-পালন করে ব্যক্তিস্বার্থে যুবসমাজকে ‘লাঠিয়াল’ হিসেবে ব্যবহার করতো সেই সব অপশক্তির মসনদে কাঁপন ধরে। পাল্টে যেতে থাকে ৬ নং ওয়ার্ডের চিরচেনা দৃশ্য। মাদক বিক্রেতা আর তাদের দোসররা কোনঠাসা হয়ে পড়ে। সন্ত্রাসকে বিতাড়িত করতে ফরহাদ চৌধুরী শামীম নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। অকুতোভয় এই কাউন্সিলর প্রতিশ্রুতির আলোকে ওয়ার্ডে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন খুব অল্প সময়ে। বাড়তে থাকে মানুষের প্রত্যাশা। অল্পদিনেই তিনি আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সাধারণ মানুষকে নিয়ে কাজ করার ফলে তিনি হয়ে উঠেন জনতার শামীম।
উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা যখন দুর্বার গতিতে চলমান তখনই সমাজে ঘাপটি মেরে বসে থাকা অপশক্তি যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, সন্ত্রাসীদের মদদদাতা, ভূমিখেকো চক্র, শালিস-বিচারের নামে টাকা আত্মসাতকারী দুষ্কৃতিকারীরা ফরহাদ চৌধুরী শামীমের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অপেচেষ্টায় লিপÍ হয়। তাদের ষড়যন্ত্রে ২০০৫ সালে গভীর রাত্রে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে সপরিবারে ফরহাদ চৌধুরী শামীম গ্রেফতার হন। মিথ্যা প্রহসনমূলক মামলা দিয়ে একটি কুচক্রী মহল ৬ নং ওয়ার্ডের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা ব্যাহত করে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে চাইলে ৬ নং ওয়ার্ডের শান্তিপ্রিয় সকল শ্রেণিপেশার মানুষ দলমত-ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে ক্ষোভে-বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। জনতার শামীমের পাশে এসে দাঁড়ায় হাজার হাজার সাধারণ জনগণ, প্রতিবাদ জানায় রাস্তায়। জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে ২১ দিন কারাভোগের পর মুক্ত হয়ে আসেন জনতার নেতা। জুলুম-নির্যাতন-নিপীড়নেও দমে যাননি এই অদম্য সাহসী ব্যক্তি। পুনরায় শুরু করেন উন্নয়নের ধারাবাহিকতা। ৬ নং ওয়ার্ডের প্রতিটি অলিগলি প্রশস্তকরণ, ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণ, ছড়া প্রশস্ত করণের মাধ্যমে এলাকাবাসীকে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার কবল থেকে মুক্ত করে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বাড়িয়ে দেন। ২০০৩ সাল থেকে ৬ নং ওয়ার্ডে ব্যাপক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে কেবলমাত্র ফরহাদ চৌধুরী শামীমের আন্তরিকতা, সমাজপ্রীতি, নিরলস পরিশ্রম ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়। একটা সময় যে ওয়ার্ড সন্ত্রাস আর মাদকের হাট ছিল, চরম নিরাপত্তাহীনতায় বাস করতো সাধারণ মানুষ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি-রাহাজানিতে অতিষ্ঠ মানুষ ফরহাদ চৌধুরী শামীমকে পেয়ে আজ নির্বিঘেœ শান্তিতে বসবাস করছে।
প্রথম কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার মাত্র কয়েক বছরেই ফরহদ চৌধুরী শামীম ৬ নং ওয়ার্ডকে মডেল ওয়ার্ডে রূপান্তরিত করার কাজ যখন প্রায় গুছিয়ে এনেছেন, তখনই ২০০৭ সালে দেশব্যাপী উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মঈন ইউ আহমদ ও ফখর উদ্দীনের নেতৃত্বে দেশে ওয়ান ইলেভেন নামক অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতা দখল করে দেশের প্রায় সকল রাজনীতিবিদ-জনপ্রতিনিধিদের সরকারি হেফাজতে নিয়ে যায়। সেই সময় এই জনপ্রিয় কাউন্সিলরও সরকারি রোষানলে পড়েন। আবারও বাধাগ্রস্ত হয় ৬ নং ওয়ার্ডের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা।
২০০৮ সালে দীর্ঘ প্রায় এক বছর কারাভোগের পর আবার তিনি জনতার কাতারে ফিরে আসেন। কারামুক্তির কিছুদিন পরই মঈন ইউ আহমদ-ফখর উদ্দিন সরকারের অধীনে দ্বিতীয়বারের মতো সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা করা হলে সদ্যকারামুক্ত জনতার নেতা তাঁর প্রিয় ওয়ার্ডবাসীকে নিয়ে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে জানতে চান, তিনি পুনরায় নির্বাচনে দাঁড়াবেন কি না?
জনগণ স্বতস্ফুর্তভাবে তাঁকে সমর্থন দিয়ে আশ্বস্ত করে ওয়ার্ডের উন্নয়নের স্বার্থে, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকলেই ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের প্রিয় নেতাকে পুনরায় কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত করতে চায়। সবাই এক ও অভিন্ন সুরে জানান দেয়, ৬ নং ওয়ার্ডে ফরহাদ চৌধুরী শামীমের বিকল্প নেই। এলাকার উন্নয়ন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায়, ন্যায়বিচারের ধারা অব্যাহত রাখা, সর্বোপরি সুশাসনের জন্য জনগণ তাদের প্রিয়নেতা, সৎ, দক্ষ, নির্লোভ, বিচক্ষণ, কর্মঠ, পরিশ্রমী এই মানুষকে পুনরায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবে।
২০০৮ সালের আগস্টে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণ তাদের কথা রাখে। ঐক্যবদ্ধভাবে গণজোয়ার সৃষ্টি করে সর্বাধিক রেকর্ডসংখ্যক ভোটে নির্বাচিত করে তাদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক ফরহাদ চৌধুরী শামীমকে। উল্লেখ্য যে, সেসময় ৬ নং ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ষড়যন্ত্রকারীরা যত ভোট পেয়েছিলেন, ফরহাদ চৌধুরী শামীম এককভাবে তারচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে ফরহাদ চৌধুরী শামীমের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়ে সমাজ উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী অপশক্তি একাট্টা হয়ে মিথ্যে কারচুপির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে ফরহাদ চৌধুরী শামীমের বিরুদ্ধে। জনগণের রায়ের প্রতি যারা শ্রদ্ধাশীল নয় সেই পক্ষটি আদালতকে ব্যবহার করে জনতার রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত অশুভ শক্তি ফরহাদ চৌধুরী শামীমকে আদালত পর্যন্ত নিয়ে দৌড়-ঝাঁপ করায় যাতে তিনি এলাকার উন্নয়ন করতে বাধাগ্রস্ত হন।
যারা সমাজের উন্নয়ন চায় না, মানুষের কল্যাণ চায় না তারাই অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে জনতার রায়কে কলুষিত করে একটি কালো অধ্যায় রচনা করে। দীর্ঘদিন মামলা বিচারাধীন থাকার পর ২০১২ সালের শেষের দিকে আদালত ফরহাদ চৌধুরী শামীমের কাউন্সিলর পদ বাতিল করে পুননির্বাচনের আদেশ দেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ফরহাদ চৌধুরী শামীম বিচারের ভার তুলে দেন জনতার আদালতে পুননির্বাচনে প্রার্থী হয়ে। পরাজিত কুশীলব মামলাবাজরা সংঘবদ্ধ হয়ে নতুন কৌশল অবলম্বন করে ফরহাদ চৌধুরী শামীমকে পরাজিত করার জন্য। সর্বসাধারণের হৃদয়ের মণিকোঠায় যার বসতি, সাধারণ জনগণই যাকে নেতা বানিয়েছে তাঁকে রুখে দেওয়ার সাধ্য কার?
কোনো অপচেষ্টাই সফল হয়নি, প্রার্থীতা ঘোষণার পর থেকে ফরহাদ চৌধুরী শামীমের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়। মানুষ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে মামলাবাজ কুচক্রী মহলকে। ২০০৮ সালে পরাজিত সকল প্রার্থী একাট্টা হয়ে একজনকে সমর্থন দিয়েও ফরহাদ চৌধুরী শামীমের গণজোয়ার রুখতে পারেনি। পরাজিত শক্তির সকল ষড়যন্ত্র নস্যাত করে দেয় সাধারণ জনগণ। ফরহাদ চৌধুরী শামীম যখন বিজয়ের ঠিক দ্বারপ্রান্তে নিশ্চিত পরাজয় জেনে এই পরাজিত শক্তি আবারও আদালতের শরনাপন্ন হয়ে ভোটগ্রহণের আগের দিন নির্বাচন স্থগিত করিয়ে আনে। মানুষ যখন অধীর আগ্রহে প্রহর গুণছিল ব্যালটের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রকারী কুচক্রী মহলের এমন হীনমানসকিতার জবাব দিতে তখন নির্বাচন স্থগিত করিয়ে এরা প্রমাণ করে জনগণের প্রতি তাদের আস্থা নেই।
মানুষ ধিক্কার জানায় তাদের এই ন্যাক্কারজনক ঘৃণিত কাজের জন্য। নির্বাচন নিয়ে প্রহসন করায় সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেও প্রতিবাদ জানায়। আইনি জটিলতা শেষে ২০১৩ সালে ৩য় বারের মতো অনুষ্ঠিত হয় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। সে নির্বাচনে জনগণ আবারও তাদের প্রিয় নেতাকে নির্বাচিত করে অশুভ শক্তির প্রেতাত্মা, মামলাবাজ, ভূমিখেকো চক্রের গালে চপেটাঘাত করে। তৃতীয় দফা নির্বাচিত হওয়ার পর ফরহাদ চৌধুরী শামীম উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করে বন্ধ থাকা সকল কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করেন।
মসজিদ-মন্দির-মাজার থেকে শুরু করে সর্বত্র ব্যাপক উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়। সিলেটের অন্যতম একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ ইলাশকান্দিতে নির্মাণ করেন বিদেশী অনুদান, সিটি কর্পোরেশনের অনুদান, প্রবাসীদের অনুদান এবং নিজের ব্যক্তিগত অনুদান দিয়ে। কালনীছড়া প্রশস্তকরণ করে একটি কালভার্ট নির্মাণ করে তিনটি এলাকা বাদামবাগিচা, সৈয়দ মুগনী ও পীরমহল্লা এলাকার মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে দেন। ছড়ার উপর নির্মাণ করেন একটি ব্যতিক্রমী রাস্তা যা পুরো সিলেট শহরের মধ্যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ফরহাদ চৌধুরী শামীম একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আসেন ৬ নং ওয়ার্ডকে আরও আধুনিক মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৬ নং ওয়ার্ডে উন্নয়নের নতুন মাত্রা যোগ হয়। সিসি টিভি স্থাপন করে এলাকায় সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করেন। কাউন্সিলর কার্যালয়ে ফ্রি ওয়াইফাই জোন স্থাপন করে প্রযুক্তির ব্যবহারে সকল মানুষকে সম্পৃক্ত করেন।
ফরহাদ চৌধুরী শামীম অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী বিধায় তিনি যেমন মসজিদ এর উন্নয়ন করেছেন তেমনি উন্নয়ন করেছেন সনাতন ধর্মালম্বীদের মন্দিরেও। বাদাম বাগিচা জামে মসজিদ সংস্কার করে আধুনিকায়ন, চৌকিদেখী জামে মসজিদ সংস্কার ও জানাযার জায়গা নির্মাণ, হযরত সৈয়দ নাসির উদ্দিন সিপাহশালার (রহ.) মাদরাসা সংলগ্ন গোরস্থান সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করেন।
চৌকিদেখী শ্রী শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য গৌরাঙ্গ মহা প্রভুর আখড়ায় ২য় তলা ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং আধুনিক গেইট স্থাপন করে দেন। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সর্বাত্মক সহযোগিতা চলমান। সন্ত্রাস ও মাদকের ভয়াল কালো থাবা থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে খেলাধুলার প্রতি সম্পৃক্ত রাখার জন্য নিজের অফিসের সামনের জায়গাটুকু উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। এমন কি রাত্রীকালীন খেলার জন্য বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা করেছেন।
যুবসমাজের নীতিজ্ঞান সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা জাগিয়ে তুলতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ তরুণদের সাথে মতবিনিময় করে দিকর্নিদেশনা দেন সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে বাদাম বাগিচা ও চৌকিদেখীতে দুইটি আনন্দ আরবান স্লাম স্কুল স্থাপন হয়েছে তার উদ্যোগে। এই স্কুলে বিনামূল্যে লেখাপড়ার পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীরা মাসিক উপবৃত্তি পাচ্ছে নিয়মিত। সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য ওয়ার্ডের চেয়ে সবচেয়ে বেশি বয়ষ্ক ভাতা তিনি নিয়মিত প্রদান করেন যা থেকে উপকৃত হচ্ছে হতদরিদ্র মানুষ, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, প্রদান করা হচ্ছে নিয়মিত।
একজন জনপ্রতিনিধির কাছে সে এলাকার জনগণ যতটুকু সেবা প্রত্যাশা করে ফরহাদ চৌধুরী শামীম তার চেয়েও বেশি দিচ্ছেন বলেই সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে। ফরহাদ চৌধুরী শামীমের দূরদৃষ্টি সম্পন্ন বিচক্ষণ নেতৃত্ব¡ আর অক্লান্ত পরিশ্রমে দুর্বার গতিতে বয়ে চলেছে ৬নং ওয়ার্ডের উন্নয়নের ¯্রােতধারা। সিটি কর্পোরেশনের চতুর্র্থ নির্বাচন যখন চলমান তখনও এই ওয়ার্ডে ২১ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছিল, এ থেকেই অনুধাবন করা যায় বিগত ১৫ বছরে তিনি কত কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে এসেছেন ৬ নং ওয়ার্ডের উন্নয়নে।
২০০৩ সালে ফরহাদ চৌধুরী শামীম নির্বাচিত হবার পর থেকে ৬ নং ওয়ার্ডে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য প্রাণান্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। নানান প্রতিকূলতা ও পর্যাপ্ত জায়গা সঙ্কুলান না হওয়ায় তা আলোর মুখ দেখেনি। কিন্তু ফরহাদ চৌধুরী শামীম প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। যার ফলশ্রুতিতে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম সংলগ্ন আউটার স্টেডিয়াম জামে মসজিদের পাশে মাননীয় অর্থমন্ত্রী এক বিঘা জায়গা বরাদ্ধ দিয়েছেন ৬ নং ওয়ার্ডে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য। জায়গাটি বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। অচিরেই ৬ নং ওয়ার্ডে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে আশা করা যায়।
গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এ নির্বাচনে জনগণের ভালোবাসায় আবারও ফরহাদ চৌধুরী শামীম চতুর্থবারের মতো বিজয়ের মালা পরিধান করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। একটু পিছনে তাকালে লক্ষ্য করা যায় টুলটিকর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিলেট পৌরসভা কখনোই অত্র ওয়ার্ডে একজন জনপ্রতিনিধি টানা দুইবার নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড নেই। ফরহাদ চৌধুরী শামীমই কেবল ব্যতিক্রম শুধু দ্বিতীয়বার নয় একাধারে চারবার তিনি জনগণের রায় নিয়ে ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।
এ সবই সম্ভব হয়েছে তাঁর আপন কর্মগুণে। একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি হতে হলে যে যে গুণ থাকা আবশ্যক তা সবই বিদ্যমান এই মানুষটির মাঝে, তাই তো জনগণ তাকে বুকে টেনে নিয়েছে আত্মার আত্মীয় হিসেবে পরম মমতায়। সমাজ বিরোধী কুচক্রি মহল মিথ্যা প্রপাগান্ডা চালিয়ে, নানা ষড়যন্ত্র করেও ফরহাদ চৌধুরী শামীমের জনপ্রিয়তায় এতটুকু কালিমা লেপন করতে পারেনি।
১৫ বছরের দীর্ঘ পথচলায় তাঁর ওপর অনেক ঘাত-প্রতিঘাত এসেছে। পরাজিত শক্তি মিথ্যা অভিযোগের তীর ছুড়ে উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছিল কিন্তু নিজের সততা-দক্ষতা মনোবল আর প্রবল আত্ববিশ্বাস নিয়ে তিনি তা মোকাবেলা করে গেছেন দৃঢ়তার সাথে। যতবারই এই অশুভ শক্তি সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বিভেদ বিভাজন তৈরি করতে চেয়েছে, মানুষের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নিয়ে পেশীশক্তি প্রয়োগ করতে চেয়েছিল ততোবার তিনি জনগনকে সাথে নিয়ে সমাজচুত্য-অপশক্তিকে প্রতিহত করেছেন। সাম্য-সম্প্রীতি, ঐক্য, ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রেখে তিনি ৬ নং ওয়ার্ডকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাঁর আত্মার আত্মীয় প্রিয় ওয়ার্ডবাসীকে চলার সাথী করে। ফরহাদ চৌধুরী শামীম কখনো শাসক ছিলেন না, তিনি জনতার একজন সেবক ছিলেন সবসময়।
কতটা জনপ্রিয়তা থাকলে একাধারে চারবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়া যায় তা পরিমাপ করা যাবে না। অন্তরে কৃপণতা নিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করা যায় না, মনটা বড় হওয়া চাই। ফরহাদ চৌধুরী শামীম একজন বিশাল মনের অধিকারী। তাঁর চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-জ্ঞান কর্ম-পরিকল্পনা সবকিছুতেই ৬ নং ওয়ার্ডের সামগ্রীক উন্নয়ন, অবহেলিত জনপদের দুঃস্থ অসহায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সার্বিক কল্যাণ এবং এই এলাকার সর্বস্তরের জনগণ। ফরহাদ চৌধুরী শামীম এই ওয়ার্ডের মাটি ও মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু।
মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে তিনি সর্বসাধারণকে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছেন। জনগণ ও তাঁকে পরপর চারবার নির্বাচিত করে কৃতজ্ঞতার বন্ধনে জড়িয়ে ফেলেছে।
আমরা দৃঢ় প্রত্যয়ে বলতে পারি, আগামী দিনগুলোতেও ফরহাদ চৌধুরী শামীমের হাতধরে ৬ নং ওয়ার্ড এগিয়ে যাবে তাঁর কাঙ্খিত লক্ষ্যে-শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া অঙ্গনে এ ওয়ার্ড অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এ আমার প্রত্যাশা নয় বিশ্বাস।

লেখক : সভাপতি-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘‘আলোর অন্বেষণ’’।

এসএসডিসি/ কেএ

 




Share Button

আর্কাইভ

November 2018
M T W T F S S
« Oct    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  

Prayer Time Table

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৪:৫৬
  • দুপুর ১১:৪৬
  • বিকাল ৩:৩৯
  • সন্ধ্যা ৫:১৮
  • রাত ৬:৩৪
  • ভোর ৬:১০


Developed By Mediait