Header Border

ঢাকা, বুধবার, ৩রা জুন, ২০২০ ইং | ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল) ২৮°সে

ভূতের পুত || কামরুল আলম

আম্মু আম্মু ভূত এসেছে!
কী বললে?
দেখো না আম্মু আমাদের বাসায় ভূত এসেছে।
ওহ তাহসান! দুষ্টুমি করো না তো। আম্মু তো কাজ করছি।
ওহ আম্মু! দেখোই না। ওদিকে দেখো…।
তাহসানের জোরাজুরিতে ঘাড় বাঁকালেন ফারজানা বেগম। অবাক হয়ে দেখলেন তাঁর ছোটোভাই জামান এসে দাঁড়িয়ে আছে। চেহারাটা বেশ কালো। অনেকটা ভূতের মতোই দেখতে! কিন্তু তাহসান কেন তার মামাকে ভূত বলে সম্বোধন করছে, বুঝতে পারলেন না তিনি।
কীরে জামান, কখন এলি?
আপু দেখো না, সেই কখন এসেছি; তাহসান আমাকে একবারও মামা বলে ডাকেনি। ভূত ভূত বলে চিৎকার করছে।
ছিঃ তাহসান! মামাকে ভূত বলছো কেন, স্যরি বলো।
স্যরি মামা, আর বলব না। তুমি কিছু মনে করো না।
জামান হাত বাড়িয়ে তাহসানকে কোলে তুলে নিল। চুমু দিতে দিতে বলল, ওরে সোনারে; আর স্যরি বলতে হবে না।
কিন্তু মামা, আমি তো ভেবেছিলাম ভূত বলায় তুমি খুশিই হবে!
কেনরে?
কারণ আব্বু তো বললেন, ভূতেরা নাকি অনেক বেশি শক্তিশালী হয়। ভূতের নাকি অনেক পাওয়ার। তাছাড়া তিনি আমাকে ‘ভূতের বাচ্চার লঙ্কাকা-’ নামে যে বইটি দিয়েছেন সেখানেও তো পড়লাম।
দেখেছিস আপু, দোলাভাই তাহসানকে কেমন আজেবাজে গল্প শেখাচ্ছে…।
ডিং ডং…। কলিংবেলের আওয়াজে সবাই কথা বলা বন্ধ করে দিল।
‘কে আসছি’ তাহসান ছুটে গেল দরজার দিকে।
এই সেরেছে, দোলাভাই তো এসে গেছেন। উনার মুঠোফোনটাই তো আনতে ভুলে গেছি। সার্ভিস সেন্টার থেকে গতকালকেই ফোন এসেছিল।
জামানকে কিছুটা লজ্জিত দেখাচ্ছে।
ফারজানা বেগম জামানের পিঠে হালকা কিল মেরে বললেন, দূর যা, ফোন আনতে ভুলে গেছিস তো কী হয়েছে? পরে একসময় নিয়ে আসবি।

দুপুরের খাবার টেবিলে সবাই একত্রে বসেছেন। তাহসান বলল, আব্বু ভূত দেখতে কি মানুষের মতো হয়?
হয়, আবার হয়ও না।
মানে কি আব্বু?
মানে হলো ভূতেরা যে কোনো সময় যে কোনো রূপ ধরতে পারে। আবার অদৃশ্য হয়েও চলতে পারে।
ফারজানা একটু বিরক্তি ঝেড়ে বললেন, আহারে আমার ভূত বিশেষজ্ঞ। ছেলেকে ভূতের কথা বলতে বলতে ভূত বানিয়ে ছাড়বেন!
আম্মু, ভূতের কথা শুনতে শুনতে আমিও কি ভূত হয়ে যাব?
যাবে না আবার। মাথায় ইয়া মোটা ভূত চেপে বসেছে। ওটাকে নামাতে হবে।

খাওয়াদাওয়া শেষ। সবাই যার যার ঘরে চলে গেল। তাহসানের মামা জামানও গেস্টরুমে শুয়ে শুয়ে মোবাইল টিপছে। এরকম সময়ে বাথরুমে যাওয়ার দরকার হলো তাহসানের। সে একা একা সাধারণত বাথরুমে যায় না। কিন্তু আজ চলে গেল। তাহসানের বয়স বেশি না। প্লে গ্রুপ শেষ করে নার্সারিতে পড়ছে। নার্সারি শ্রেণির অন্যান্যদের তুলনায় সে অনেক এগিয়ে আছে।
বাথরুমে বেসিনের ওপর যে আয়না বা গ্লাস থাকে সেদিকে সাধারণত তাকায় না তাহসান। সাধারণত মানে কী কখনোই তাকাতে পারে না। কারণ গ্লাসটির উচ্চতা তার থেকেও বেশি। আজ বাথরুমে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে গ্লাসটি ভেঙে পড়ল। তাহসান ভয় পেয়ে সেদিকে তাকাতেই অবাক হয়ে গেল। ফুটফুটে একটা ভূতের বাচ্চা বাথরুমের গ্লাসের পেছনে বসা ছিল। গ্লাস ভেঙে পড়ায় ভূতের বাচ্চাটিকে দেখা যাচ্ছে।
এটা একটি অদ্ভুত ঘটনা। তাহসানের ভয় পাওয়ার কথা। কিন্তু সে ভয় পাচ্ছে না। তার মনে পড়ছে জামান মামার কথা। মামা বলেছেন, ভূত বলতে কিচ্ছু নেই। সবই মনের ভুল। তাহসান তার মামার কথা বিশ্বাস করেছে। বাবা শুধু শুধু ভয় দেখায়। এই তো আজকেও বলল, ভূতেরা নাকি যে কোনো রূপ ধরতে পারে। দেখা যাক এই ভূতটার সঙ্গে কথা বলে।
তাহসান বলল, তুমি কে হে?
আমি ভূতের পুত। বাচ্চা ভূতটি জবাব দিলো।
এখানে কী করছো?
আমি মানে আমরা তো এখানেই থাকি।
মানে আমাদের বাসার বাথরুমে তোমাদের বাসা?
হ্যাঁ, অনেকটা সেরকমই।
আচ্ছা, আব্বু বলেছে, তোমরা নাকি নানা রূপ ধরতে পারো। কখনও মানুষ কখনও গরু!
হ্যাঁ পারি তো। এই যেমন এখন আমার তেলাপোকা হতে ইচ্ছে করছে, আমি তেলাপোকা হয়ে যাব।

তাহসান দেখল ভূতের বাচ্চাটি উধাও হয়ে গেল। এখন আর কিচ্ছু নেই বাথরুমে। ভাঙা গ্লাসে যাতে পা না কেটে যায় সেভাবে ধীরে ধীরে বাথরুম থেকে বের হতে লাগল সে। মামা ঠিকই বলেছে, সবই মনের ভুল। মনে মনে ভাবল তাহসান।

বাথরুমের দরজা খুলে বেরিয়ে যেতেই তাহসান লক্ষ করল একটি তেলাপোকা তার দিকে তাকিয়ে শূঁড় নাড়াচ্ছে। তাহসান ভয় পেল। সাধারণ ভয় না। ভীষণ রকম ভয়। তার গা শিরশির করে উঠল। দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেল। আব্বু-আম্মু ঘুমাচ্ছেন। সে ঘুম থেকে তাদেরকে টেনে তুলতে চাইল। ডাকতে শুরু করল, আব্বু, আম্মু। তাড়াতাড়ি ওঠো।

ফারজানার ঘুম ভাঙল তাহসানের ডাকাডাকিতে। তিনি তাকালেন তাহসানের দিকে। ও ভয়ে কাঁপছে, দেখতে পেলেন।
কী হয়েছে বাবা।
আম্মু তেলাপোকা। ভূতটা তেলাপোকা হয়ে গেছে।
ফারজানা বেগম তাকিয়ে দেখলেন তাহসানের পেছনে ইয়া মোটা একটি তেলাপোকা শূঁড় নাড়াচ্ছে। তিনি বুঝলেন তাহসান ভয় পেয়েছে। তাই তিনি ‘ভয় পেয়ো না’ বলে তেলাপোকাকে মারার জন্যে ঝাড়– হাতে নিলেন। ঝাড়– দিয়ে যেই তেলাপোকার গায়ে আঘাত করলেন অমনি তেলাপোকাটি ডানা মেলে উড়তে লাগল। উড়ন্ত অবস্থাতেই ফারজানা বেগম ঝাড়– দিয়ে আঘাত করলেন ওকে। তেলাপোকাটি ‘ভোঁ’ ‘ভোঁ’ শব্দ করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।
তাহসান বলল, ভূতের পুতটাকে এভাবে মেরে ফেলা ঠিক হয়নি।
ফারজানা বেগম বললেন, ভূতই নেই যেখানে ওর পুত আসবে কোত্থেকে?

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

শিশুসাহিত্য পুরস্কারের জন্য পাণ্ডুলিপি আহবান করেছে ‘পাপড়ি’
জলভূতের কালোছায়া : ছোটদের সুখপাঠ্য গল্পের বই
চাকরি ও পড়াশুনা দুটোই একসঙ্গে করতে চাইলে…
সবচেয়ে বেশি লাভজনক যে ১৫টি ক্ষুদ্র ব্যবসা
এক বছর বয়সেই পাক্কা রাঁধুনী!
সুনশান শাহী ঈদগাহ! সিলেটের মসজিদসমূহে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত

আরও খবর

Shares