সিলেট সিটি কর্পেোরেশন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে অপরাধের আস্তানা উচ্ছেদ                 রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ৬ নারীসহ ৭ জেএমবি সদস্য আটক                 ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ                 সিলেট সংস্কৃতিকেন্দ্রের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন                 তিনজনকে কিছু তথ্যের জন্য আনা হয়েছিল, আটক করা হয়নি: ডিবি                 কোটা সংস্কার আন্দোলনের তিন নেতাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ                 সন্ত্রাসী হামলায় আহত মিন্নতকে দেখতে সিলেট মহানগর যুবলীগের নেতৃবৃন্দ                

মায়ানমারে রোহিঙ্গারা কেন এত নির্যাতিত?  ।। কামরুল আলম ।।

: সোনার সিলেট ডটকম
Published: 02 09 2017     Saturday   ||   Updated: 02 09 2017     Saturday
মায়ানমারে রোহিঙ্গারা কেন এত নির্যাতিত?  ।। কামরুল আলম ।।

একটা সময় ছিল যখন কোনো অমানবিক বা পৈশাচিক ঘটনার খবর পত্রপত্রিকায় না এলে তা জানার সুযোগ ছিল না বিশ্ববাসীর। তাছাড়া দুএকটি খবর প্রকাশিত হলেও তার সত্যতা যাচাই করার সুযোগ ছিল খুবই কম। কিন্তু এখন সময়ের পরিবর্তনে বিশ্ব পুরোটাই চলে এসেছ হাতের মুঠোয়। ইউটিউবে ভিডিও ক্লিপস আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুক-টুইটারে মুহূর্তেই ছড়িয়ে যায় সব খবর। সাম্প্রতিক সময়ে মায়ানমারে সরকারি প্রশাসনের উদ্যোগে রোহিঙ্গা মুসলমানদের যেভাবে অকথ্য নির্যাতন চালানোর চাঞ্চল্যকর তথ্য বিশ্ববাসীর সম্মুখে এসেছে তা ভাষায় বর্ণনা করা প্রায় অসম্ভব। মানুষকে হত্যা করাটা নিঃসন্দেহে কঠিনতম অপরাধ। তারচেয়েও কঠিন অপরাধ হচ্ছে নিরীহ নারী পুরুষকে জীবন্ত অবস্থায় কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলা। কিংবা আগুনে পুড়িয়ে মারা। ঘরবাড়ি ছেড়ে নদীতে নৌকায় ভাসতে ভাসতে যে কজন বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টায় লিপ্ত তাদেরকে আশ্রয় দেওয়ার মতো কেউ নেই! এ কী করে সম্ভব? কোথায় আজ বিশ্ব বিবেক? কোথায় হারিয়ে গেল বিশ্ব মানবতার দোহাইদাতারা। আর মায়ানমারের বৌদ্ধরাই বা কেমন? ‘জীবে দয়া করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’ কিংবা ‘জগতের সকল প্রাণী সুখি হোক’ বলে যারা কথার ফুলঝুরি ছড়ায় সেই তারাই কি না মানুষকে তাড়িয়ে দিচ্ছে। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে, হত্যা করছে জঘন্যতম পদ্ধতিতে নির্বিচারে। আরও আশ্চর্যের বিষয় ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা’ হিসেবে পরিচিত শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সাং শুচিও নীরবতা পালনের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন দিচ্ছেন। জাতিসংঘ কেবল বাংলাদেশকে সীমান্ত খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েই নাক ডেকে ঘুমিয়ে পড়লেন, জাতিসংঘের কি কোন করণীয় নেই এ ব্যাপারে?
.
মায়ানমারের বক্তব্য, রোহিঙ্গারা তাদের নাগরিক নয়। এরা নাকি বাংলাদেশ থেকে গিয়ে সেখানে বসবাস করছে। তাই উদ্বাস্তুদের তাড়িয়ে দিতেই তারা বদ্ধপরিকর। এতে যে প্রকারেই হোক তারা মায়ানমারকে রোহিঙ্গা মুক্ত করবে। বাংলাদেশের বক্তব্য খুবই স্পষ্ট। নানা সমস্যায় জর্জরিত এ দেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়। অতীতে যাদেরকে আশ্রয় দান করা হয়েছিল তাদেরকে নিয়েই এখনও সমস্যা হচ্ছে। জাতিসংঘ বাংলাদেশকে সীমান্ত খুলে দেওয়ার আহবান করে, অথচ খুনি রাষ্ট্র মায়ানমারকে হত্যা-নির্যাতন থামানোর কোনো নির্দেশ কেন দিচ্ছে না?

মায়ানমারের পশ্চিম তীরের রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দাদেরকেই রোহিঙ্গা বলা হয়। রোহিঙ্গারা ইসলাম ধর্মের অনুসারি অর্থাৎ মুসলমান। এককালে রাখাইন রাজ্যের নাম ছিল ‘আরকান’। ইতিহাসের আলোকে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দের অর্থ নৌকায় ভাসমান মানুষ। যারা নৌকাযোগে মৎস শিকারের মাধ্যমে জীবিকা অর্জন করে। রোহিঙ্গা শব্দটি আরবি ‘রহম’ শব্দ থেকে আগত। রহম অর্থ দয়া । ইসলামের ৫ম খলিফা হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের শাসনামলে মহানবি হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর সাহাবি আবু ওয়াক্কাস (রা.) ব্যবসার কাজে আরাকান অঞ্চলে এসেছিলেন বলে ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়। এ ঘটনা ৮০০ ঈসায়ি তথা আজ থেকে ১২১৬ বছর আগের কথা। আরবের বাণিজ্যিক জাহাজটি রাম্বি দ্বীপের সঙ্গে সংঘর্ষে ভেঙে চুরমার হয়ে গেলে তখন জাহাজের আরোহী আরব মুসলিমরা রহম করো রহম করো বলে আল্লাহর দয়া বা করুণা ও সাহায্য প্রার্থনা করতে থাকেন। তখন আল্লাহ তাদেরকে দয়া করে হেফাজত করেন। এই রহম শব্দের সূত্র থেকেই রোহিঙ্গা শব্দটির উৎপত্তি। ইতিহাস তেকে আরও জানা যায় এশিয়া মহাদেশের মধ্যে মুসলিম শাসিত এলাকার মধ্যে আরাকান অন্যতম। আরাকান একটি বাণিজ্যিক নগরীও বটে। ১৪৩০ ঈসায়িতে আরাকানে মুসলমানদের স্বাধীন শাসন চালু হয়ে প্রায় ২০০ বছর স্থায়ী ছিল। আজকের বিতাড়িত ও নির্যাতিত রোহিঙ্গারা সেই স্বাধীন মুসলিম শাসিত আরাকানের বাসিন্দা। ১৬৩১ থেকে ১৬৩৫ সালে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের পর স্বাধীন আরকানে মুসলিম শাসনের অবসান ঘটেছিল। এরপর থান্দথোমা নামে একজন রাজা আরাকানের শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। ১৬৬০ ঈসায়িতে মোঘল সম্রাট শাহজাদা সুজা আরাকানে এসে আশ্রয় গ্রহণ করলে তৎকালীন আরকানের রাজা থান্দথোম্মা সপরিবারে শাহজাদাকে হত্যা করেন। সেই থেকেই শুরু হয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। তখন টানা সাড়ে তিনশত বছর চলে মুসলমানদের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন ও নিপীড়ন। ঐতিহাসিক সূত্রে আরও জানা যায়, ১৭০০ ঈসায়ি পর্যন্ত মুসলমানরা ঘুরেফিরে আরাকানের শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
.
১৭৯০ সালে মুসলিম বিদ্বেষী বর্মী রাজা বোধাপোয়া আরাকান দখল করে মুসলমানদের ঢালাওভাবে হত্যা ও নির্যাতন চালাতে থাকে। তার শাসনামল থেকেই মূলত: মুসলমানেরা দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে থাকে। পরবর্তীতে ১৮২৮ ঈসায়িতে বার্মা ইংরেজদের দখলে চলে যায়। ১৯৩৭ ঈসায়িতে বর্মীরা ফের বার্মার শাসন ক্ষমতা লাভ করলে শুরু হয়ে যায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। তখনকার দাঙ্গায় প্রায় ৩০ লক্ষ মুসলমান নিহত হয়। ১৯৪৮ সালে ভারত পাকিস্তানের মতো মায়ানমারও স্বাধীনতা অর্জন করে। কিন্তু স্বাধীন মায়ানমারেও মুসলিম নিধন অব্যাহতভাবে চলতে থাকে। আরাকানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানরাই ভাগ্যাহত হয়ে পড়েন। নাসাকা- সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধদের নির্মম নির্যাতনের মুখে অসংখ্য মুসলমান বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় গ্রহণ করেন। একপর্যায়ে ১৯৮২ ঈসায়িতে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের ভোটাধিকার পর্যন্ত কেড়ে নেয়। মুসলমানদেরকে বঞ্চিত করা হয় সামাজিক ও সাংবাবিধানিক অধিকার থেকে। মুসলিম নির্মূলের মাধ্যমে মুসলিম অধ্যূষিত এলাকাগুলোতে বিভিন্ন জায়গা থেকে বৌদ্ধদের এনে বসতি স্থাপন করে দেওয়া হয়। ফলে ক্রমেই মুসলমানরা হয়ে পড়ে সংখ্যালঘু জাতি। এখন তো মুসলমানদের তারা তাদের দেশের নাগরিক বলেই স্বীকার করে না। রোহিঙ্গাদের ওপর বর্তমানে চরম নিষ্ঠুর অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। তাদেরকে নিয়ে কেউ ভাবছে বলে মনে হয় না।
.
জাতিসংঘ বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দেওয়ার আহবান জানিয়েই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করতে পারে না। বাংলাদেশে ইতোপূর্বে তিন লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরনার্থী আশ্রয় গ্রহণ করেছে তা নিশ্চয়ই জাতিসংঘের অজানা নয়। নৌকায় ভাসমান রোহিঙ্গারা বারবার বাংলাদেশের সীমান্তে এসে ফিরে যাচ্ছে আশ্রয় না পেয়ে। ফিরে যাচ্ছে মানে নদীতে ডুবে মরতে যাচ্ছে। কারণ তাদের বাড়িঘরে ফিরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। ইউটিউবের লিংকে দেখা গেছে রোহিঙ্গা যুবক-বৃদ্ধ, নারী-শিশুদের কেটে টুকরো টুকরো করে শুকর ও বিভিন্ন প্রাণীদের খাবার হিসেবে পরিবেশন করছে বৌদ্ধরা। জগতের সকল প্রাণীকে সুখি করতে এ কেমন বর্বরতা তাদের? আজ চীন, জাপান, কোরিয়াসহ এশিয়া মহাদেশের বহু রাষ্ট্র নীরবতা পালন করছে এত অমানবিক দৃশ্য দেখেও। মুসলিম দেশগুলোও কেউ কিছু বলছে না।
.
সৌদিআরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরবরাষ্ট্রগুলোর কিছু একটা করা উচিত এই মুহূর্তে। মৃত্যুর মুখ থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসা উচিত আমাদেরও। পাকিস্তান, মালোয়েশিয়া, ইরান, তুরস্কসহ মুসলিম দেশগুলো চাইলেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে। সকল মুসলিম রাষ্ট্র এগিয়ে এলে বাংলাদেশ নিশ্চয়ই বসে থাকবে না। ইউরোপ-আমেরিকাকেও ভাবতে হবে, মুসলিম বা রোহিঙ্গা বড়ো কথা নয়। সবচেয়ে বড়ো পরিচয় হলো এরা মানুষ। মধ্যযুগের বাঙালি কবি চন্ডিদাশ বলেছিলেন, ‘শোন হে মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।’। আজকের মিয়ানমারের দৃশ্য দেখে আমাদের অবাক হতে হচ্ছে। তবে কি বিশ্ব থেকে লোপ পেয়েছে মানবতা?




Share Button

আর্কাইভ

April 2018
M T W T F S S
« Mar    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  

Prayer Time Table

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৪:১৭
  • দুপুর ১২:০১
  • বিকাল ৪:৩০
  • সন্ধ্যা ৬:২৬
  • রাত ৭:৪৩
  • ভোর ৫:৩৩


Developed By Mediait