স্টুডেন্ট ফোরাম অব চাতলের কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও ম্যাগাজিন প্রকাশনা অনুষ্ঠান                 খেলার সময় শিশুকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ                 ওএসডি হলেন জামালপুরের সেই ডিসি                 রেলস্টেশনের ভিক্ষুক থেকে বলিউডের গাইকা হলেন সেই রানু (ভিডিও)                 ফেসবুক-গুগলকে ৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে গ্রামীণ-বাংলালিংক-রবি                 নিজের ছেলেকে জীবনের কঠিন শিক্ষাটি দিলেন রোনালদো                 শরণার্থীদের অনাগ্রহে এবারও হলো না রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন                

লাশ ফেলে দেয়ার বয়ান ও চিকিৎসকের কান্না

: সোনার সিলেট
Published: 10 05 2019     Friday   ||   Updated: 10 05 2019     Friday
লাশ ফেলে দেয়ার বয়ান ও চিকিৎসকের কান্না

মো. মাহমুদুর রহমান।। সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের দুঃখজনক ঘটনায় সবাই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। কেউ ডাক্তারের বিরুদ্ধে, কেউ ছাত্রলীগের ছেলেদের বিরুদ্ধে। পেটের ব্যথা নিয়ে ছাত্রলীগের এক নেতাকে আরও ১৫/১৬ জন হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ডাক্তার চিকিৎসা সুবিধার জন্য একজন পরে অন্য সবাইকে বাইরে যাওয়ার কথা বললে চিকিৎসক ডা. নিশাত ও ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ারের মধ্যে সমস্যা শুরু হয়। তারপর ভিডিওতে যা দেখা যায়, সারোয়ার ইচ্ছেমতো গালাগালি করছেন। বার বার চিকিৎসকের রুমের দিকে তেড়ে আসার চেষ্টা করছেন। তবে তার সঙ্গীরা তাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, … কান্দের বে কান্দের। চিকিৎসক মেয়েটি কান্না করছে তা দেখে সারোয়ারকে শান্ত হতে বলছে অন্যরা। তারা চিকিৎসকদেরও সুন্দরভাবে অনুরোধ করছে চিকিৎসা করার জন্য। সবশেষে চিকিৎসকদের রুমের কাছে গিয়ে লাশ ফেলে দেয়ার মতো হুমকিও দিচ্ছেন সারোয়ার।

এ ঘটনায় দুটো দিক মোটা দাগে সবার কাছে ধরা পড়ছে। এক. কর্তব্যরত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি। অন্য সবার মতো তাদেরও নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে কাজ করার অধিকার রয়েছে। কাজের পরিবেশ নিশ্চিত না করে তাদের কাছ থেকে ভালো ব্যবহার ও সুচিকিৎসা আশা করা কতটুকু যৌক্তিক তাও চিন্তা করতে হবে। দুই. ক্ষমতার দম্ভে ছাত্রলীগ নেতার উদ্ধত আচরণ অবশ্যই নিন্দনীয়। আমার মনে হয় ভিডিওটি যদি এখন সারোয়ারকে দেখানো হয়, সম্ভবত সেও লজ্জা পাবে। এরকম অনভিপ্রেত ঘটনার হাত থেকে সারোয়ারকে বাঁচানো এবং অন্যদেরকে এভাবে উদ্ধত আচরণে নিরুৎসাহিত করতে পারেন ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ। সারোয়ারদের যদি তারা নিরুৎসাহিত করেন আন্তরিকভাবে তাহলে অন্যরা ভবিষ্যতে যেখানে সেখানে ক্ষমতা জাহির করতে গিয়ে দলের নিবেদিত প্রাণ সমর্থক কর্মীদের লজ্জার কারণ হবেন না।

যারা ছাত্রলীগের সবাইকে এ ঘটনার জন্য নিন্দা জানাচ্ছেন তাদেরকে একটু ভালোভাবে ভিডিওটি দেখার অনুরোধ করবো। এক সারোয়ার ব্যতীত অন্য সবাই শান্ত। সারোয়ারকে শান্ত করার চেষ্টা করছে তারা। এমনকি চিকিৎসকদের সঙ্গেও ভালো ব্যবহার করছে। ক্ষমতা সারোয়ারকে উদ্ধত আচরণে তাড়িত করলেও অন্যদের পারেনি। এই সংখ্যাগরিষ্ট অন্যরাই জাতির ভবিষ্যত। মানুষ এখনও স্বপ্ন দেখে এদের জন্য। কিন্তু এদের নাম আমরা কেউ জানিনা। জানি শুধু সারোয়ারের নাম। ভদ্র ব্যবহার ও সুন্দর আচরণের মাধ্যমে যে ছেলেগুলো পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে মিডিয়া যদি এদেরকে জাতির সামনে পরিচয় করিয়ে দিতে পারত তাহলে তরুণরা এদেরকেই ফলো করত; সারোয়ারকে নয়। ছাত্রলীগের এই ছেলেদেরকে সবাই মিলে বলা উচিত ‘সাবাশ’। এদেরকে শক্তিশালী করা উচিত যাতে ভবিষ্যতে এরা সারোয়ারদের শান্ত হওয়ার জন্য অনুরোধ নয়, জোর গলায় বলতে পারে, ‘চুপ’; আর একটি কথাও নয়। তাহলেই সম্ভব এরকম পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ। একটা সময় দেশের সব দলের ও সমাজের সব স্তরের ভালো মানুষরা রুখে দাঁড়াবেই- এই প্রত্যাশা বুকে নিয়েই নীরবে বেঁচে আছেন দেশের ভালো মানুষরা আলোর আশায়।

মে ৯, ২০১৯
মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র।




Share Button

আর্কাইভ

September 2019
M T W T F S S
« Aug    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  

Prayer Time Table

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৪:২৬
  • দুপুর ১১:৫১
  • বিকাল ৪:১৩
  • সন্ধ্যা ৬:০০
  • রাত ৭:১৪
  • ভোর ৫:৩৮


Developed By Mediait