২০২০ বইমেলার জন্যে পাণ্ডুলিপি আহবান করেছে পাপড়ি                 দ্রুত টাইপ শেখার কৌশল                 দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৭৭ হাজার                 কেন সরকার খালেদাকে জেলে রাখল, সংসদে ব্যাখ্যা দিলেন রুমিন ফারহানা                 উন্নতি চাইলে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি মেনে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী                 এইচএসসির ফল ১৭ জুলাই                 মুসলিম হত্যায় প্রতিবাদকারীদের আটক করছে ভারতীয় পুলিশ                

চকবাজার ও এফআর টাওয়ারে আগুন : সহকর্মীদের মৃত্যুর ভয়াল স্মৃতি ।। ডা. আবু তাহের মো. বাহার

: সোনার সিলেট
Published: 03 05 2019     Friday   ||   Updated: 03 05 2019     Friday
চকবাজার ও এফআর টাওয়ারে আগুন : সহকর্মীদের মৃত্যুর ভয়াল স্মৃতি ।। ডা. আবু তাহের মো. বাহার
প্রত্যেক মানুষের কাছে তার জীবনটাই সবচেয়ে দামি। মানুষ এই জীবনের জন্য কতকিছুই না করে! নিজের জীবনের স্বাভাবিক পরিসমাপ্তির জন্য মানুষ অর্থ খরচ করে কত দূর-দূরান্তেই না যাচ্ছে। এই ক্ষুদ্র জীবনে যেমন স্বাভাবিকভাবে সে পৃথিবীতে এসেছে, তেমনি স্বাভাবিকভাবেই পৃথিবী থেকে চলে যেতে চায়। কিন্তু অনেক সময় অনেকের ভাগ্যে সেই স্বাভাবিক মৃত্যু জোটে না। আগুনে পুড়ে মরার মতো দুঃসহ মৃত্যুও অনেকের কপালে থাকে। জন্ম, মৃত্যু আমাদের হাতে নেই। কিন্তু মানুষ হিসেবে আমরা সাবধানতা অবলম্বন করতে পারি, আর ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনকে স্বাভাবিক গতিপথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। আমাদের সমস্যা হল, আমরা ভুল থেকে শিক্ষা নেই না। একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিই।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত অগ্নিকাণ্ড ঘটেই চলেছে। একের পর এক অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ করতে না পারায় জনমনে শংকা জেগেছে, এগুলো কি পরিকল্পিতভাবে কেউ লাগাচ্ছে?
চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আমার খুব ঘনিষ্ঠ দুই ছোটোভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনার দিন তার সেখানকার কোনো একটি ক্লিনিকে কাজ করছিল। তারা হলো ইমতিয়াজ ইমরোজ রাশু ও মোঃআশরাফুল হক। দুজনেই ডেন্টিস্ট। আমরা বাংলাদেশ ডেন্টাল কলেজে পড়তাম, তারা ছিল আমার জুনিয়র। মৃত্যুর মাত্র ক’দিন আগেও দুজনে বনানীর এফআর টাওয়ারে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। কে জানতো এভাবে অকালে চলে যেতে হবে তাদের?
চকবাজারের ঘটনার দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়ানো শেষ হতে না হতেই আগুন লাগলো আমাদের টাওয়ারেই! হ্যাঁ, বলছিলাম বনানীর এফআর টাওয়ারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কথা। ওইদিন টাওয়ারের ৬ষ্ঠ তলায় আমরা তখন চেম্বারেই কর্মরত ছিলাম। হঠাৎ আগুনের ঘটনায় দিক-বিদিক ছুটোছুটিতে আমরা বেরিয়ে আসতে পারলেও ২২ তলা এই ভবনের অনেকেই আগুনে পুড়ে নিহত হন। কেউ বা প্রাণ বাঁচাতে লাফিয়ে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন। অনেককেই বরণ করতে হয়েছে পঙ্গুত্ব। ২৮ মার্চ ২০১৯ এ সংঘটিত এই অগ্নিকাণ্ডে অল্পের জন্যে বেঁচে গেলাম আমি। স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন আসে, এভাবে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড কেন ঘটে চলেছে বাংলাদেশে?
দেশে গত ১০ বছরে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছে ১ হাজার ৫৯০ জন। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস ও ফায়ার ডিফেন্স অধিদফতরের ২০১০ থেকে ২০১৮ সালের পরিসংখ্যানে এ তথ্য পাওয়া যায়। এই সময়ে সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে ২০১০ সালে, পুরান ঢাকার নিমতলীতে। এতে ১২৪ জন প্রাণ হারায়। এরপর সাভারের আশুলিয়ায় তাজরিন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারায় ১১১ জন। এরপর আরও অনেক ছোট-বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
গত ২০ ফ্রেব্রুয়ারি চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ঘটে গেছে একটি বড় অগ্নিকাণ্ড। এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৭০ জন। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে রাস্তা থেকে আবাসিক ভবন পর্যন্ত। ঝরে যায় এতগুলো প্রাণ। সম্পদের ক্ষতির পরিমাণও কম নয়। নিমতলীর ঘটনার পর তদন্ত কমিটির সুপারিশ আলোর মুখ দেখেনি। চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলে যে কয়েকটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে তার অনেকগুলোতেই রাসায়নিক গুদাম ছিল। যারা লোভের কারণে বেশি টাকা ভাড়া পাওয়ার আশায় রাসায়নিক দ্রব্য মজুদের জন্য গুদাম ভাড়া দিয়েছে, দেখা গেছে তারাও এই আগুনে পুড়ে মারা গেছে। এটাই নির্মম সত্য। একটা সমাজে বসবাস করে আমরা স্বাভাবিক মৃত্যু অবশ্যই আশা করতে পারি। কর্মক্ষেত্র থেকে ফেরার সময় অবশ্যই আশা করতে পারি আমরা নিরাপদে বাসায় ফিরব। আবার রাতে বাসাবাড়িতে ঘুমানোর সময়ও আমরা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে যাওয়ার আশা করতে পারি। আর এজন্য প্রয়োজন সবকিছুর সুষ্ঠু নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। রাসায়নিক দ্রব্যের গুদামগুলোকে দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে। আবাসিক এলাকায় বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এগুলোর অনুমোদন দেয়া যাবে না। প্রতিনিয়ত এসব এলাকা তদারকি করতে হবে, যেন কেউ অবৈধভাবে রাসায়নিক দ্রব্যের গুদাম গড়তে না পারে। আর যে নির্দিষ্ট এলাকায় এই গুদামগুলো তৈরি করা হবে, সেখানকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সমাজের সাধারণ মানুষ যদি একটু সচেতন হই, তাহলে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। মানুষের জীবনের মূল্য কোনো কিছু দিয়ে পূরণ করা যায় না। তাই সবার পরিবারের কথা ভেবে, দেশের কথা ভেবে প্রত্যেকের জীবন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা থেকে রক্ষার চেষ্টা করতে হবে। চকবাজার থেকে রাসায়নিক দ্রব্যের গুদাম সরানোর এখনই উপযুক্ত সময়। আশা করি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেবে।
পরিশেষে, কর্তৃপক্ষের নিকট প্রত্যাশা করবো অচিরেই আমাদের ফায়ার সার্ভিস ব্যবস্থাকে উন্নত ও যুগপোযোগী করে তৈরি করবেন এবং ঢাকা শহরসহ দেশের প্রত্যেকটি জায়গায় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
ডা. আবু তাহের মো. বাহার
ডেন্টিস্ট, ডেন্টোটাল চেম্বার, বনানী, ঢাকা৷
উপসম্পাদক- সোনার সিলেট ডটকম।
এসএসডিসি/ কেএ

 




Share Button

আর্কাইভ

July 2019
M T W T F S S
« Jun    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

Prayer Time Table

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৩:৫১
  • দুপুর ১২:০২
  • বিকাল ৪:৩৭
  • সন্ধ্যা ৬:৪৭
  • রাত ৮:১১
  • ভোর ৫:১৩


Developed By Mediait