গান                 তিস্তা নদীতে নৌকা নয়, চলে গরুর গাড়ি                 ছড়া                 জামায়াত থেকে মঞ্জুকে বহিস্কার                 কিপ্টা দর্শন                 শুক্রবারে মৃত্যু চেয়েছিলেন, শুক্রবারেই বিদায় নিলেন কবি আল মাহমুদ                 বোমা ভেবে রাতভর বেগুন পাহারা                

সাম্প্রতিক ধর্ষণ প্রসঙ্গে কিছু কথা

: সোনার সিলেট
Published: 21 07 2018     Saturday   ||   Updated: 21 07 2018     Saturday
সাম্প্রতিক ধর্ষণ প্রসঙ্গে কিছু কথা

কামরুল আলম।। আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে যাচ্ছে ধর্ষণ। একসময় গ্রামের পাটক্ষেত-ধানক্ষেত কিংবা ঝোপঝাড়ে ধর্ষণের ঘটনা বেশি ঘটতো। কিন্তু ইদানীং চলন্ত বাসে, রাস্তায়, বাসার ছাদে, হাসপাতালে এমনকি মসজিদে-মন্দিরেও ঘটছে ধর্ষণের ঘটনা! পূণ্যভূমি সিলেটেও মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে গেছে জঘন্য এই অপরাধটি।

১৫ জুলাই ২০১৮ রবিবার সিলেটের জকিগঞ্জে মসজিদের ইমাম কর্তৃক হুজরায় আটকে রেখে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। মেয়েটিকে হুজরায় আটক রেখেই উক্ত ইমাম নামের কুলাঙ্গার আসর ও মাগরিবের নামাজে ইমামতি করেছে! ছিঃ কী ঘৃণ্য, কী জঘন্য এই ঘটনাটি। একই দিন রাতে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর সঙ্গী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এক কিশোরীকে ফাইল দেখার অজুহাতে নিজের কক্ষে নিয়ে জোর করে ধর্ষণ করেছে ডাক্তার নামক আরেক নরপশু। এ আমরা কোন্ সমাজে বসবাস করছি? কোথায় যাচ্ছে আমাদের নৈতিকতা?

সংবাদপত্রের পাতা কিংবা অনলাইন গণমাধ্যমে প্রতিদিনই প্রকাশিত হচ্ছে ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা। নারী ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ, কিশোরী ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা এমনকি ছেলেশিশু ধর্ষণের খবরও প্রকাশিত হতে দেখা যায় প্রতিনিয়ত। সারাদেশে যতগুলো ধর্ষণের ঘটনা ঘটে তার সবগুলোই কিন্তু পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয় না। অধিকাংশ ঘটনাই সামাজিকভাবে সমাধান করে ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধর্ষিতার পরিবারই লোকলজ্জার ভয়ে ঘটনা গোপন রাখে। এরপরও যে খবরগুলো আমরা গণমাধ্যমে দেখতে পাই তা নিঃসন্দেহে আশঙ্কাজনক। প্রতিদিন ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও এর থেকে পরিত্রাণের কোনো বাস্তবমুখী তৎপরতা এ পর্যন্ত আমাদের চোখে পড়েনি। অনেক ক্ষেত্রেই আইনের ফাঁক-ফোঁকরে কিংবা প্রভাবশালীদের কারণে অপরাধীকে শাস্তি পর্যন্ত দেওয়া সম্ভব হয় না।

ধর্ষণ প্রতিরোধের দায়িত্ব অবশ্যই রাষ্ট্রের এবং তা আইনপ্রয়োগের মাধ্যমেই কার্যকর করতে হবে। কিন্তু এই অপরাধটি অনেকক্ষেত্রেই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। যেমন উপরে উল্লেখিত দুটি ধর্ষণের ঘটনা। সিলেটের জকিগঞ্জে রবিবার দুপুরে স্কুল থেকে ফেরার পথে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীটিকে প্রলোভন দেখিয়ে মসজিদের ইমাম হাসান আহমদ তার হুজরাতে নিয়ে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনাটিকে প্রতিরোধ করার জন্য পূর্ব থেকেই পুলিশের সহযোগিতা নেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। অনুরূপভাবে ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসুস্থ নানির সঙ্গে থাকা নবম শ্রেণির ছাত্রীটিও ডাক্তারের ডাকে ফাইল নিয়ে সরলমনে তার কক্ষে প্রবেশ করেছে। এখানে পুলিশি সহযোগিতা বা প্রটেকশনের কোনো সুযোগ ছিল না। প্রশ্ন উঠতে পারে তাহলে ধর্ষণ প্রতিরোধে নারী ও শিশুরা নিজেরাই ভূমিকা রাখবে? শুনতে খারাপ লাগলেও এর উত্তরটি কিন্তু ‘হ্যাঁ’। যে কোনো পরিস্থিতে নিরাপদে থাকা ও নিজেদের শরীরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মূলত ব্যক্তির নিজের। তবে এ জন্য ব্যক্তি তথা নারী বা শিশুটির শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা থাকতে হবে। এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে তাদেরকেই। আলোচ্য দুটি ঘটনা পর্যালোচনা করলে নারী বা শিশুদের ধর্ষণ থেকে বাঁচার জন্য সচেতন করতে গেলে পৃথিবীর সকল পুরুষ মানুষের ব্যাপারেই সচেতন করতে হবে! এ ক্ষেত্রে নারী ও শিশুরা যদি সকল পুরুষকে ঘৃণা করতে শুরু করে, করুক। সমাজের দৃষ্টিতে সবচেয়ে ভালো মানুষ হলো মসজিদের ইমাম। সেই ইমাম বা মুয়াজ্জিনেরা যদি এরকম ঘটনার সৃষ্টি করে তাহলে মানুষ যাবে কোথায়? শুধু ইমাম-মুয়াজ্জিন কেন, মাদরাসার শিক্ষক, স্কুল শিক্ষক, কলেজ শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সকল শ্রেণির মানুষের বিরুদ্ধেই রয়েছে ধর্ষণের অভিযোগ। এমনকি পিতা কর্তৃক কন্যাকে ধর্ষণের ঘটনাও বিভিন্ন পত্রিকায় দেখে আমাদেরকে হতবাক হয়ে যেতে হয়! আমাদেরকে মনে রাখতে হবে নারী ও শিশুকে ধর্ষণের হাত থেকে মুক্ত রাখতে হলে সর্বপ্রথম তাদেরকে ধর্ষণ সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। ধর্ষণের শিকার হবার সম্ভাবনা রয়েছে এমন পুরুষের নিকট একা একা যাওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে। এ কাজটি করতে হবে পারিবারিকভাবে, সামাজিকভাবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে। অন্যদিকে পুুুরুষদেরকেও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধটি সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। ধর্ষণ করার প্রবল ইচ্ছে জাগলেও পুরুষ যাতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সেই শিক্ষা দিতে হবে তাকে। ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি যৌন সহিংসতা প্রতিরোধের ব্যাপারেও তাদেরকে শিক্ষা দিতে হবে। আর ধর্ষণের ঘটনা সংঘটিত হলে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে যাতে করে অন্যরা তা দেখে জীবনে কোনোদিনও ধর্ষণের মতো অপরাধের দিকে ধাবিত না হয়। ১৯৯৭ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রনেতা ধর্ষণের সেঞ্চুরি উদযাপন করে মিষ্টি বিতরণ করলেও তার বিরুদ্ধে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এভাবে প্রতিদিনই ধর্ষণের খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও ধর্ষকের শাস্তির খবর খুব কমই আমরা দেখতে পাই। ধর্ষককে যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা না হয় তাহলে এ ব্যাধি থেকে সহজে মুক্তি পাওয়া তো সম্ভবই নয় উল্টো দিন দিন বাড়তেই থাকবে ধর্ষণ।

ধর্ষণে উৎসাহ যোগায় এমন চটি বা অশ্লীল গল্প, পর্ণোগ্রাফি ইত্যাদির উপর নিয়ন্ত্রণ করতে হবে যে কোনো উপায়ে। বর্তমানে ইন্টারনেটের অপব্যবহারের সুযোগে ইউটিউবে অবাধে চলছে পর্ণোগ্রাফি। এছাড়া ফেসবুকসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে রয়েছে সহজে পর্ণোগ্রাফি ভিডিও বা অশ্লীল চটি গল্প পড়ার সুযোগ। এসব অশ্লীলতাগুলো কিভাবে বন্ধ করা যায় তা নিয়ে ভাবতে হবে। সৃজনশীল সাহিত্যের গল্প-উপন্যাসেও অশ্লীলতা বা ধর্ষণে উৎসাহ যোগানোর মতো কাহিনী পাওয়া যায়। এগুলোর প্রকাশনা বন্ধ করে এমন গল্প-উপন্যাস তৈরি করতে হবে যা পড়ে মানুষ ধর্ষণকে ঘৃণা করতে শিখে। সিনেমা-নাটকেও একই ভূমিকা রাখতে হবে। সর্বোপরি পারিবারিক সচেতনতাই পারে ধর্ষণ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখতে।

লেখক : সম্পাদক-সোনার সিলেট ডটকম

এসএস/ কেএ

 

 

 

 




Share Button

আর্কাইভ

February 2019
M T W T F S S
« Jan    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728  

Prayer Time Table

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৫:১৬
  • দুপুর ১২:১৬
  • বিকাল ৪:১৯
  • সন্ধ্যা ৬:০০
  • রাত ৭:১৪
  • ভোর ৬:২৮


Developed By Mediait