ধর্ষণের পর খুন করে আযান, ফজরের ইমামতি                 করোনাভাইরাস: সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে কীভাবে ‘আইসোলেশনে’ থাকবেন                 বাচ্চাদের খেলার মাঠও নিরাপদ নয়                 স্বাধীনতা দিবসের সব কর্মসূচি বাতিল করল বিএনপি                 করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে যা করবে সেনাবাহিনী                 ১০ টাকায় চাল দেবে সরকার                 নবীন ও তরুণ লেখকদের নতুন বই প্রকাশনা প্রসঙ্গে-২                

সিটি নির্বাচন : কাকে ভোট দেব?

: সোনার সিলেট
Published: 14 07 2018     Saturday   ||   Updated: 14 07 2018     Saturday
সিটি নির্বাচন : কাকে ভোট দেব?

এম. আশরাফ আলী।। বিখ্যাত পল্লীগীতি শিল্পী আব্দুল আলীমের কণ্ঠের একটি জনপ্রিয় গান ‘নাইয়ারে, নায়ের বাদাম তুইলা/কোন দূরে যাও চইলা? অচেনা সায়রের মাঝি, এই কথা যাও বইলা।
গত ১০ জুলাই বিকাল হতে সিলেটে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র/ কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচার/ প্রপাগান্ডা, মাইকিং, লিফলেটিং শুরু হয়েছে। যেন ওরা নাও সাজিয়ে বাদাম তুলেছেন। ওরা জনেন না ওদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন কি পারবেন না। তবুও আশায় বুক বেঁধে যাত্রা শুরু করেছেন। সিটির নাগরিকরা উৎসুক দৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে ওদের নির্বাচনী যাত্রার সাক্ষী হয়ে যেন প্রশ্ন করছে ভাইয়েরা কোথায় যাত্রা করলেন, বলে যাবেন কী? যেথায় যাচ্ছেন ওখানটা চেনা না অচেনা? ঠিকমত পৌঁছতে পারবেন তো?
ভোট একটি নাগরিক অধিকার। একটি ভোটের মূল্য অনেক। ধনী, গরীব, আমির, ফরিক, প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট, শিক্ষিত, অশিক্ষিত সবারই একটি মাত্র ভোট। একজন শিক্ষিত, মার্জিত, গণ্যমান্য ব্যক্তির যে ভোট, একজন সাধারণ, ভিক্ষক, খেটে খাওয়া মানুষেরও সেই একই ভোট। কিন্তু তফাৎ আছে। সেই তফাৎটা কী?
একজন শিক্ষিত, মার্জিত লোক চিন্তাকরার ক্ষমতা রাখে। ভাল-মন্দ বিচার বিশ্লেষণ করতে পারে, এমনকি প্রভাবও বিস্তার করতে পারে। কিন্তু নিরক্ষর, অতি সাধারণ যারা ওদের নিজস্ব চিন্তাশক্তি কাজ করেনা। ওরা প্রভাবিত হয়। ওরা ¯্রােতের টানে এদিক-ওদিক চলে যায়। নিজস্ব চিন্তা শক্তির প্রতিফলন ঘটাতে পারে না। কচুরিপানা যেমন ¯্রােতের টানে ভেসে যায় ঠিক সেভাবে, অতি সাধারণরা প্রভাবিত হয়ে ওরা মূল্যবান ভোটটি খুইয়ে ফেলে। ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছায়- অপছন্দের লোককেই ভোট দেয়। উদ্দেশ্য একটাই-‘আমার ভোটটা কাজে লাগাবো।’ এর মানে, যে প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রপাগান্ডা বেশি, পাড়ার গণ্যমান্য কর্তারা যার পক্ষে বলছে, অতি সাধারণরা মনে করছে এই প্রার্থীই পাশ করবে। আর আমি যাকে ভোট দিব সে যদি পাশ করে, তাহলেই কেবল ভোটটা কাজে লাগলো। কিন্তু ভোটাধিকার যে এই অর্থে নয়, সেটা হয়ত আমাদের অনেকের জানা নেই। ভোট প্রতিটি নাগরিকের কাছে একটা মস্তবড় আমানত স্বরূপ। এটা পাবে যোগ্য ব্যক্তি। সেই যোগ্য ব্যক্তিকে বিচার বিশ্লেষণ করা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য। একটা লোক কতখানি যোগ্যতা রাখে তা নির্ভর করে তার কর্মের উপর, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের উপর। এখন বিজ্ঞ পাঠক আমাকে প্রশ্ন করবেন ‘আরে ভাই বাংলাদেশে আবার চরিত্রবান লোক আছে নাকি? বেশি সৎ হলেও আরো অসুবিধা। নিজে খাইতেও জানেনা, খাওয়াতেও জানেনা। এখন বিষয়টি আরো খোলাসা করে বলি –
আমাদের নাগরিকদের অনেকেই মনে করেন- ‘এখন চলছে ঘুষের দুনিয়া। যিনি সৎ চরিত্রবান তিনি তো আর সুদ-ঘুষে জড়িত হবেন না। কাজেই উনি কাজের কাজ কিছুই করতে পারবেন না। উনি ঘুষও দিতে পারবেন না আর চাহিদা মত বরাদ্দও আনতে পারবেন না? কাজেই উনাকে ভোট দেয়া যাবে না। তবে কাকে ভোট দেবেন? এই তো যিনি চারিদিকে চলতে ফিরতে পারেন তাকেই বিসমিল্লাহ করবো। আচ্ছা এই বিষয়টিতে পরে আসছি।
জনৈক সলিমুল্লাহর গায়ে খুব জ্বালা। ভোটের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতেই উনি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন। ‘এবার ভোটই দেব না। গতবার হাতে পায়ে ধরে ভোট নিল। আর বলল আমাদের ভাঙ্গা পুলটি মেরামত করে দেবে। উনি ঠিকই ভোটে জিতল। কিন্তু আমাদের ভাঙ্গা পুলটি মেরামত হল না। আমি বললাম ‘দেখুন একজন ভাল লোক নির্বাচন করা আপনার আমার দায়িত্ব। আমার ভোটে যদি একজন খারাপ লোক ইলেকশনে পাস করে আর পাশ করার পর যত খারাপ কাজ করবে ঐ সকল কাজেই আপনার অংশ গ্রহণ থাকবে এবং আপনি ঐ সকল কাজের বিনিময়ে যে গোনাহ হবে এগুলোতে শরীক থাকবেন। অন্যদিকে যদি ভাললোক নির্বাচন করেন, আর যে যদি সমাজের কিছু ভাল কাজ করে ওগুলোতে আপনিও শরীক থাকবেন এবং এর বিনিময়ে নেকী পাবেন। উনি বললেন তাই নাকি?
অনেকের ভোটের ব্যাপারে বিশদ অভিজ্ঞতা রয়েছে। সিটিতে বা জাতীয় নির্বাচনে বহুবার অংশ গ্রহণ করেছেন। একই প্রার্থীকে তিনবার, চারবার, পাঁচবার নির্বাচিত করেছেন। নির্বাচিত এমপি/ মেয়র/ কাউন্সিলর বিশ, পঁচিশ, ত্রিশ বছর দায়িত্ব পালন করার পরও আবারও ইলেকশনে আসেন। উনার কার্যক্রম কী এই পর্যন্ত পরীক্ষা হয় নাই? বিশ পঁচিশ বছরে যিনি কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে নাই উনাকে আবারও পরীক্ষা করার দরকার আছে?
গণতান্ত্র্রিক প্রক্রিয়ায় সবারই অধিকার আছে ভোটে দাঁড়ানোর। তবে আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া একটা ভিন্নমাত্রা পেয়েছে। আমরা হচ্ছি দলের ভক্ত। একবার দলে ঢুকে গেলে সেখান থেকে বের হওয়ার কোন পথই খুঁজে পাই না। অথচ গণতন্ত্রের সুতিকাগারের দিকে আমরা লক্ষ্য করি না। সাধারণ লোক দলকে বিশ্বাস করে ভোট দেয়। কিন্তু যখন কোন দল ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোন আইন পাশ করে তখনই জনগণ তাদের সমর্থন উঠিয়ে নেয় এবং সেই ক্ষমতাসীনকে ইমপিচমেন্ট এর সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু আমাদের চিন্তা ভাবনা ভিন্ন। দল ভাল করলেও ভাল, মন্দ করলেও ভাল। আমরা যেন দলের কাছে বিক্রিত সত্তা।
গণতন্ত্র ভোগকারি গোষ্ঠীর কিছু পূর্বাপর যোগ্যতা থাকা দরকার আছে। সেই যোগ্যতার মধ্যে একটি হচ্ছে নিজস্ব বোধশক্তি থাকা। আর এটা থাকতে হলে দরকার সুশিক্ষা। শুধু অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন নয়, দেশের রাজনীতি এবং রাজনৈতিক দলের চরম লক্ষ্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা। কোন পার্টির গঠনতন্ত্র কি রকম? কোন পার্টি ক্ষমতায় গেলে কি পরিবর্তন আনবে? সমাজে কারা কি পরিবর্তন আনতে চায় ইত্যাদি জানা প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। কিন্তু আমরা সেই নাগরিক এখনও তৈরি করতে পারিনি?
নিজের অধিকার বুঝে- এমন লোক আমাদের সমাজে শতকরা কয়জন? তারপরও আমরা এই সমাজ নিয়ে চলতে হবে। শতভাগ লোক শিক্ষিত হলে গণতান্ত্রিক সুবিধাটা সবাই ভোগ করত। প্রভাবশালীরা প্রভাব খাটাতে পারত না। এই সমাজে যারা রাজনীতি করেন না তারাও এই সমাজেরই অংশ। তারাও ভোট দেন। আর ঐ ভোট প্রভাবিত হয়েই পড়ে নিজের ভাগ্যের বিরুদ্ধে। সেটা ঘটছে এবং যারা নিজেরা নিজেদের অধিকারের বিরুদ্ধে ভোট দিচ্ছে তারা অসচেতন ভাবেই তা করছে।
কাজেই আজকে অধিকার সচেতন হওয়ার সময় এসেছে। প্রকৃত যোগ্য মানুষকেই নির্বাচিত করা নগরবাসীর কর্তব্য। বিচার বিশ্লেষণ করে বুঝতে হবে কে প্রকৃত বন্ধু। অমুক চাচা আর তমুক মামা বলেছেন বলে ভোট দিয়ে দিব তা নয়। আমার বিচার বুদ্ধিতে যাকে যোগ্য মনে হবে, যে আমার স্বার্থ রক্ষা করবে-কেবল তাকেই ভোট দিব, এটাই আসন্ন নির্বাচনে হোক নগরবাসীর অঙ্গীকার?
লেখক : কলামিস্ট।




Share Button

আর্কাইভ

March 2020
M T W T F S S
« Feb    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

Prayer Time Table

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৪:৪০
  • দুপুর ১২:০২
  • বিকাল ৪:২২
  • সন্ধ্যা ৬:০৯
  • রাত ৭:২২
  • ভোর ৫:৫১


Developed By Mediait