নতুন ও হারানো সিমকার্ডে ট্যাক্স ২০০ টাকা                 তিন সুন্দরীর হলো মেলা বিশ্বকাপে                 মিস ইন্ডিয়াকে যৌন হেনস্তা করায় ৭ জন গ্রেফতার                 বাংলায় এসএমএস পাঠালে খরচ অর্ধেক!                 আপনারা সাড়ে ১০ বছর ক্ষমতায়, এখনো ছাত্রদল বালিশ কিনতে পারছে?                 সিলেট-জগন্নাথপুর সড়কে বন্ধ হয়ে যেতে পারে গাড়ি চলাচল                 সিলেটে সড়ক যাত্রায় নারীদের জন্য আলাদা বাস, ড্রাইভার-হেলপারও নারী                

সিলেটের ১১ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আটটিতেই এক্সরে মেশিন বিনষ্ট

: সোনার সিলেট
Published: 11 11 2016     Friday   ||   Updated: 11 11 2016     Friday
সিলেটের ১১ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আটটিতেই এক্সরে মেশিন বিনষ্ট

সোনার সিলেট ডেস্ক: সিলেটের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো অনেকটা খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে। হাসপাতালে চিকিৎসক থাকলে রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতি নষ্ট, নতুবা কর্মস্থলে নেই চিকিৎসক। এ অবস্থা বিরাজ করছে জেলার ১১ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এর মধ্যে আটটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগ নির্ণয়ের অন্যতম যন্ত্র এক্সরে মেশিন নষ্ট।

 

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার কয়লা শ্রমিক আব্দুল মজিদ গত সোমবার কাজ করতে হাত ভেঙ্গে ফেলেন। সহকর্মীরা তাঁকে নিয়ে যান স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জানানো হয় এক্সরে মেশিন নষ্ট। ফলে বাধ্য হয়ে তাকে নিয়ে আসতে হয় বিভাগীয়শহরের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কেবল আব্দুল মজিদ কিংবা গোয়াইনঘাটের রোগীরাই নয়, এক এক্সরের জন্য এমন ভোগান্তিতে পড়তে হয় ৮ উপজেলার বাসিন্দাদের। এতে রোগীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি চাপ বাড়ছে এ অঞ্চলের একমাত্র সরকারি এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

 

 

দীর্ঘদিন ধরে যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকার কারণেও কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সেবাগ্রহীতারা।
জানা যায়, সিলেটের ১৩ টি উপজেলার মধ্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে ১১ টিতে। সদর উপজেলায় সম্প্রতি ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও এখনো কর্মকর্তা-কর্মচারী পদ সৃষ্টি হয়নি। ফলে এ হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়নি এখনো। এছাড়া ওসমানীনগর উপজেলায় নেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বাকী ১৩ টি উপজেলায়ই রয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ১১ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিটিতেই এক্সরে মেশিন আছে। তবে ৮ উপজেলায়ই দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে আছে এক্সরে মেশিন। কাইনঘাট, গোয়াইনঘাট, বিয়ানীবাজার, গোলাগঞ্জ, বালাগঞ্জ, ফেঞ্চুৃগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্সরে মিশন নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে এই উপজেলার রোগীদের এক্সরে করার জন্য যেতে হয় বেসরকারি রোগ নির্নয়কারী প্রতিষ্ঠানে কিংবা নগরীর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ৪ টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনেসথেসিয়া মেশিন নষ্ট। এছাড়া এম্বুলেন্স থাকলেও একাধিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চালকের অভাবে তা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। জকিগঞ্জ উপজেলায় সম্প্রতি এম্বুলেন্স আসলেও চালক না থাকায় তা কোনো কাজে আসছে না বলে জানান সংশ্লিস্টরা। এছাড়া সিলেটের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নেই অস্ত্রপচারের সুবিধা। দুএকটিতে অস্ত্রপচারের সুযোগ সুবিধা থাকলেও লোকবলের অভাবে তা ব্যবহার করা হচ্ছে না। কেবল বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রপচার সম্ভব হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিস্টরা। বাকি উপজেলার রোগীদের অস্ত্রপচারের প্রয়োজন হলে আসতে হয় দূরবর্তী জেলা শহরে। কেবল যন্ত্রপাতি নয়, লোকবল সঙ্কটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে সিলেটের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর স্বাস্থ্যসেবা।

সিলেটের সবগুলো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই রয়েছে লোকবল সঙ্কট। ১১ টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও সিলেট জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে রয়েছে দুটি বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, একটি কুষ্ট হাসপাতাল ও একটি স্কুল হেলথ ক্লিনিক। এই ১৪ প্রতিষ্ঠানে মোট লোকবল সঙ্কট রয়েছে ৫৮৫ জন। এর মধ্যে ২৫৮ টি চিকিৎসক পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ২০০ জন। ৫৮ টি চিকিৎসক পদ খালি আছে। সেবিকার পদ খালি আছে ১২৩ টি। এছাড়া ৩য় শ্রেণির কর্মচারীর ৩০৬ টি ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীর ৯২ টি পদ খালি আছে।
এ ব্যাপারে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, লোকবল সঙ্কটের জন্য মন্ত্রনালয়ে চিঠি লেখা হয়েছে। এগুলো আস্তে আস্তে পুরণ হচ্ছে। তাছাড়া সবসময়ই কেউ কেউ অবসরে চলে যায়, কেউ কেউ পদন্নোতি পান। ফলে কিছুটা সংকটে সবসময়ই লেগে থাকে। এতে স্বাস্থ্যসেবা খুব একটা ব্যাহত হয় না।

যন্ত্রপাতি সংকট ও নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা সম্পর্কে তিনি বলেন, নষ্ট থাকা যন্ত্রপাতিগুলো আস্তে আস্তে সংস্কার করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় নতুন মেশিনও দেওয়া হচ্ছে। তবে লোকবল সঙ্কটের কারণে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় অনেক সময় মূল্যবান যন্ত্রপাতিও নষ্ট হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সিলেটের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সঙ্কট সবচেয়ে প্রকট।
অপারেশন থিয়েটার না থাকা প্রসঙ্গে বলেন, ছোটখাটো অস্ত্রোপচার সবগুলাতেই হয়। বড় অস্ত্রোপচার বিয়ানীবাজার ছাড়া কোথাও সম্ভব হয় না। আরো কয়েকটিতে অস্ত্রোপচারের সুবিধা থাকলেও এনেসথেসিয়ায় পারদর্শী চিকিৎসকের অভাবে তা সম্ভব হয় না।




Share Button

আর্কাইভ

June 2019
M T W T F S S
« May    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930

Prayer Time Table

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৩:৪০
  • দুপুর ১১:৫৬
  • বিকাল ৪:৩২
  • সন্ধ্যা ৬:৪৫
  • রাত ৮:১১
  • ভোর ৫:০৪


Developed By Mediait