Header Border

ঢাকা, রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২৮শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) ২৮°সে
শিরোনাম :

বড়লেখায় শিশু কেন্দ্রকে মসজিদ দেখিয়ে সরকারী অনুদান হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা

বড়লেখায় মসজিদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের প্রস্তুতকৃত তালিকা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অর্থ বরাদ্দের তালিকায় বাস্তবে মসজিদ নেই এমন মসজিদেরও নাম অন্তর্ভূক্ত করা ছাড়াও আলাদা আলাদা দায়িত্বশীলের নামে একই মসজিদ একাধিকবার অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের শিশুশিক্ষা কেন্দ্রকে মসজিদ দেখানো ও অনেক পুরাতন জামে মসজিদের নাম তালিকায় না থাকায় ভুক্তভোগী মহলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা সমালোচনা চলছে। শিশুশিক্ষা কেন্দ্রকে মসজিদ দেখিয়ে সরকারী অনুদান হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টায় স্থানীয় বাসিন্দারা ওই কেন্দ্রের শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা গেছে, গত শুক্রবার (২২ মে) প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে বড়লেখার ৫১২টি মসজিদের জন্য ৫০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা করে ২৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার চেক বরাদ্দ হয়। এরপর শনিবার (২৩ মে) বড়লেখা উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজ থেকে মসজিদের তালিকা ও বরাদ্দের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। প্রকাশের পরই তালিকায় দেখা যায়, বড়লেখা সদর ইউপির ৪নম্বর ওয়ার্ডের কোনো মসজিদের নাম নেই। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের তালিকায় মসজিদের নাম না থাকায় স্থানীয় লোকজনের মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়। এ নিয়ে স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এ ওয়ার্ডের সকল মসজিদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়লেও একই ইউনিয়নের ডিমাই ও মহদিকোনো এলাকায় বাস্তবে না থাকা মসজিদের নামও তালিকায় রয়েছে। কোথাও একটি মোবাইল নম্বরে আলাদা আলাদা মসজিদের নাম দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এখানে মসজিদ একটি। সদর ইউপির ডিমাই স্কুল টিল্লা মসজিদের নাম দু’বার তালিকায় উঠেছে। দুই জায়গায় সভাপতি ও ইমামের নাম আলাদা। সদর ইউপির তালিকা প্রস্তুতকারী ইসলামী ফাউনন্ডেশনের স্থানীয় শিক্ষক আব্দুল হামিদের নাম এসেছে ডিমাই স্কুল টিল্লা মসজিদের ইমাম হিসেবে। সভাপতি হিসেবে যার নাম এসেছে তিনি তার আপন ভাই। কিন্তু এখানে প্রকৃত পক্ষে ডিমাই স্কুল টিল্লা মসজিদের সভাপতি হচ্ছেন আব্দুল গণি ও ইমাম সেলিম উদ্দিন। তাদের নামও তালিকায় আছে।

অন্যদিকে উপজেলার ১০নং দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউপির পূর্ব দক্ষিণভাগ গ্রামে ইসলামী ফাউন্ডেশনের শিশুশিক্ষা কেন্দ্রকে মসজিদ দেখিয়ে তালিকায় নাম অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। বাস্তবে মসজিদ না হওয়া সত্বেও ইসলামী ফাউনন্ডেশনের এ কেন্দ্রের শিক্ষক আব্দুল মালিক নিজেকে ইমাম ও আব্দুল মতিন নামে এক ব্যক্তিকে সভাপতি দেখিয়ে তালিকাভুক্ত করিয়েছেন। অস্থিত্বহীন মসজিদের নাম তালিকায় দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বড়লেখা সদর ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হোসেন বলেন, ‘তালিকা প্রকাশের পর আমরা দেখি সদর ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোনো মসজিদের নাম তালিকায় নেই। এ ওয়ার্ডে অনেক পুরাতন মসজিদ রয়েছে। যেগুলো বাদ পড়েছে। বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি এ ওয়ার্ডে। ওয়ার্ডের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ আওয়ামী লীগার। দুর্যোগ-দু:সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত তারা। কিন্তু মসজিদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের তালিকা থেকে বঞ্চিত। একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্দনে এটা হয়েছে। বিষয়টি খুবই দু:খজনক। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা বিচার চাই।’

ইসলামী ফাউন্ডেশনের বড়লেখা উপজেলা সুপারভাইজার মো. আব্দুল বারী জানান, এক দিনের মধ্যে তালিকা প্রস্তুত করে পাঠাতে বলায় খুবই তাড়াহুড়া করতে হয়েছে। অফিসে লোকবল কম থাকায় তালিকা তৈরীতে অনেকের সহযোগিতা নিতে হয়েছে। কেউ কেউ সঠিক তথ্য না দেয়ায় কিছু মসজিদ বাদ পড়েছে এবং মসজিদ নয় অথচ মসজিদ হিসেবে তালিকাভুক্ত করিয়েছেন। এধরণের বেশ কিছু অভিযোগ ইউএনও স্যারের কাছে এসেছে। এগুলো সংশোধনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বিতর্কিত কোন মসজিদের চেক প্রদান করা হবে না। বাদপড়া মসজিদগুলোও অর্ন্তভুক্ত করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

রাজনগরে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
রুলি’র মৃত্যুতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
বড়লেখা হয়ে যাচ্ছে করোনার হটস্পট
সাতাশি বছরের ইতিহাসে‌ এবার মৌলভীবাজার টাউন ঈদগাহে সুনশান নিরবতা
মৌলভীবাজারে লন্ডন ফেরত নারীর মৃত্যু ।। ৫ বাসা লকডাউন
মৌলভীবাজার অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫ আহত ১

আরও খবর

Shares