Header Border

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২৩শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) ২৯°সে

দীর্ঘদিন থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

হাবীব হোসেন, সোনার সিলেট ডটকম ।। মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন থেকে সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের এই দীর্ঘবিরতি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত কষ্টকর এবং হতাশাব্যঞ্জক। এ নিয়ে সম্প্রতি সোনার সিলেট মুখোমুখি হয়েছিল কয়েকজন শিক্ষার্থীর। কেউ বলছেন, বাংলাদেশে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে জেনে বুঝে স্বেচ্ছায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে জাতীয় ভাবে আত্মহত্যা করা। আবার কারো ভাবনা,  বর্তমান বিশ্বে করোনার এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমাদের সকলের উচিত ঘরে বসে নিজে সেইফ থাকা। আসুন জানা যাক, কী ভাবছেন শিক্ষার্থীরা।
মিদহাদ আহমদ, দ্বাদশ শ্রেণি জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, জালালাবাদ সেনানিবাস সিলেট।
বেশ কিছুদিন হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। প্রথম প্রথম ভালো লেগেছে এই ভেবে যে, কলেজে যাওয়া লাগবে না। রোজ সকাল ৭ টায় ঘুম থেকে উঠে দৌড় দেওয়া লাগবে না কলেজের জন্য। কিন্তু এখন বাসায় থাকতে থাকতে কেমন যেনো হাঁপিয়ে গিয়েছি। এপ্রিলে আমাদের এইচএসসি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিলো । এর দিন-পনেরো আগেই স্কুল-কলেজ সব বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরীক্ষার আগে পড়াশোনায় একটা সিরিয়াসনেস ছিলো। এখন বিশাল এক গ্যাপ হয়ে যাওয়ায় সেই সিরিয়াসনেসটা আর নেই বললেই চলে। তবে হোম টিউটররা অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন। নিয়মিত খোঁজ-খবর নিচ্ছেন পড়াশোনার। তবুও যে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মে পড়াশোনার একটা গতিশীলতা ছিলো সেইটা এখন স্থবির। তবুও আমরা সব শিক্ষার্থীরা চেষ্টা করবো এই যে, যতটুকু সম্ভব নিজের প্রচেষ্টায় এই চাকাটাকে সচল রাখা। বর্তমান বিশ্বে করোনার এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমাদের সকলের উচিত ঘরে বসে নিজে সেইফ থাকা। এখন এই সঙ্কটকালে জীবনের অন্যতম একটা উদ্দেশ্যই হলো বেঁচে থাকা। এই বেঁচে থাকাটা শুদ্ধভাবে পালন করি, আর সাথে পড়াশোনাটাও।
হাবীব হোসেন, মেডিক্যাল ২য় বর্ষ -২য় সেমিস্টার এম বি পি কলেজ এন্ড হসপিটাল  এবং এমএজি উসমানী মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হসপিটাল , সিলেট 
আমি একজন্য শিক্ষার্থী হিসেবে বলার আছে সামান্য। শিক্ষা জীবনে যে আঘাত পড়েছে ভবিষ্যতে তা কতটুকু কেটে উঠবে তা নিয়ে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে অনেকের মতো আমিও উদ্বিগ্ন। আমাদের সরকার শুরুতেই ভূল করে ফেলেছেন। প্রথম যখন চিনের উহান শহর থেকে এই ভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছিল তখনই আমাদের আরো সতর্ক হওয়া উচিত ছিলো। সরকার এ ভাইরাসের কোনো পদক্ষেপ পদ্ধতি যদি প্রথম থেকে নিতো তবে আমি মনে করি আমাদের দেশে করোনা নামের মহামারী রোগ ঢুকতে পারতো না। বিদেশে কর্মরত প্রবাসীরা দেশে আসতে শুরু করলো এ ভাইরাস বিস্তার শুনে। বাংলাদেশর প্রতিটি জেলার বিমানবন্দর গুলোতে যদি তাদেরকে বিমানবন্দর থেকে বের হতেই কোয়ারেনটাইনে নিয়ে যাওয়া ব্যবস্থা যদি করতো, প্রথমে শক্তভাবে আইন প্রয়োগ করা হতো তাহলে আজকে আমাদের দেশের অবস্থা এমন হত না। এখন স্কুল -কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের জীবনে এক ঘোর অন্ধকার বিরাজ করছে। কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না যে এই অমানিশা কখন কাটবে ? এ যেন এক মহাসমুদ্রের মাঝে নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও সাঁতার কাটার মতো অবস্থা। এদিকে স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্যে যে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তা শহরের কিছু শিক্ষার্থীরা দেখতে পারলেও গ্রামের শিক্ষার্থীরা এটা দেখতে পারছেন না। গ্রামের অনেক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন নেই কিংবা ইন্টারনেটের ব্যবস্থা নেই। কাজেই তারা এটা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এইচএসসি এবং আলিম পরীক্ষার্থীরা খুবই টেনশনে আছে। একদিকে পরীক্ষা হচ্ছে না এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রস্তুতিও নিতে পারছে না। এছাড়া এখন স্কুল-কলেজ খুললে এটা ব্যাপকভাবে শিক্ষার্থীদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলবে। কারণ সংক্রমণের হার দিন দিন যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তা আমাদেরকে ভীত করে তুলছে। এখন সরকারের একমাত্র কাজ হচ্ছে দেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। এখন সময় কারফিউ জারি করা। নতুবা লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর জীবন হবে আরও বেশি হুমকির সম্মুখীন। ভবিষ্যৎ হবে আমাদের অন্ধকার। কাজেই এটি নিয়ে এখনই ভাবার সঠিক সময়। আমরা যারা মোটামোটি শিক্ষিত আমাদের উচিৎ, আমাদের আশেপাশে মাক্স ছাড়া যারা চলা ফেরা করতে আছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তাদেরকে এ বিষয় কঠোর সচেতন করা ও নিজ দায়িত্বে পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে সচেতন রাখা। সবাইকে বুঝাতে হবে, করোনাভাইরাস যতদিন ঘরে থাকুন ততদিন।
মোঃ মারুফ আহমেদ, দ্বাদশ শ্রেণি, মদন মোহন সরকারি কলেজ, সিলেট। করোনা মহামারির কারণে স্থির হয়ে পড়েছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা। গত ১৭ মার্চ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় এবং স্থগিত হয়ে পড়ে আমাদের এইচএসসি পরীক্ষাও। যখন প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আমরা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত ঠিক সেই মুহূর্তেই আমাদের পরীক্ষা স্থগিত হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘদিনের এই গ্যাপ আমাদের মতো পরীক্ষার্থীদের হীনমন্যতায় ভোগাচ্ছে এবং দিনে দিনে পড়ালেখার প্রতি আগ্রহটা কমে যাচ্ছে। তবে হুম টিউটররা অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন। কিন্তু সবার এন্ড্রয়েড মোবাইল বা নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা ভালো না থাকায় সবাই সেই সুযোগ পাচ্ছে না। এছাড়াও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মে পড়াশোনার যে গতিশীলতা ছিলো সেটা স্থবির। করোনা ভাইরাস বর্তমান সময়ে যে মহামারি আকার ধারণ করেছে এই মুহূর্তে আমাদের স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়াটাও একদম ঠিক হবে না। তাই আমি প্রত্যেক শিক্ষার্থী ভাই বোনদেরকে বলব সবাই যেন নিয়মিত পড়ালেখা চালিয়ে যান এবং আমরা যারা এইচএসসি পরীক্ষার্থী আছি সবাই যাতে নিয়মিত পড়ালেখা করি এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি সঠিকভাবে নেই। সাথে সাথে আমাদের পরীক্ষা পরবর্তী ভর্তি পরীক্ষার জন্যও যাতে এখন থেকে প্রস্তুতি নেই। সবাই যাতে ঘরে থাকি, সুস্থ থাকি এবং নিরাপদ থাকি।।

সালাউদ্দিন শাহরিয়া, কম্পিউটার ডিপার্টমেন্ট, ৩য় বর্ষ এসপিটিআই, সিলেট
লকডাউনের কারণে ৩য় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা হচ্ছে না। যার কারণে আমাদের দুই বছর থাকতে হচ্ছে ৩য় বর্ষে। তবে লকডাউনে যে আমার ক্ষতি হয়েছে তা কিন্তু নয়। আমার ক্ষতির চেয়েও লাভ হয়েছে বেশি। এই লকডাউনে আমি একটি উপন্যাস লিখতে পেরেছি। স্কিল ডেপেলপমেন্ট এর জন্য প্রোগ্রামিংয়ে সময় দিয়েছি বেশি। ক্যাম্পাস খোলা থাকলে দেখা যেত ক্লাস টেস্ট, এসাইনমেন্ট আর ফাইনাল সেমিষ্টার এক্সামের জন্য কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে তেমন সময় দেওয়া যেতো না। আমি ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট শিখার পাশাপাশি প্রোগ্রামিংয়ে সময় দিচ্ছি। যাতে পৃথিবী থেকে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর মহারমারী শেষ হলেই আগের মতো ক্যাম্পাসে যেতে পারি। এবং নিজের স্কীল ডেভেলপমেন্ট কাজে লাগিয়ে নতুন প্রজেক্ট প্রেজেন্ট করে ভবিষ্যতের জন্য কাজে লাগাতে পারি। সৃষ্টিকর্তা আমাদের সকলকে এই মহামারি থেকে রক্ষা করুন এবং পৃথিবী আবার আগের মতো নতুন করে নিজস্ব সাজে রূপান্তির হোক এই কামনা।

রাশেদ বিন শফিক, শিক্ষার্থী জামেয়া মুজাহিরুস সুন্নাহ্ দনারাম ফেঞ্চুগঞ্জ, সিলেট
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে করোনায় আত্মহত্যা করা। করোনার প্রাদুর্ভাবে মানবজীবন স্তব্ধ। দীর্ঘ লকডাউনে চরম মন্দা দেখা দিয়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। দেশে দেশে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে, আমাদের দেশেও তাই। দীর্ঘদিন থেকেই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, এতে শিক্ষার্থীদের খুব বেশিই ক্ষতি হচ্ছে এটা অনস্বীকার্য, কিন্তু কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেওয়া শুভকর নয়। সম্প্রতি মাদরাসার অফিস খুলে ভর্তির কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং জমজমাট ভর্তি চলছে, এটা কতোটা ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদজনক আমাদের দেশের বর্তমান করোনার প্রকোপের প্রতি নজর দিলে সহজেই অনুমিত হবে। আমাদের দেশের বর্তমান করোনাবস্থা- দৈনিক পঁচিশ/ছাব্বিশ’শো মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং ত্রিশোর্ধ মানুষ করোনায় মৃত্যু বরণ করতেছেন। দিন যতো যাচ্ছে করোনার ভয়াবহতা আমাদের দেশে ততোই বাড়ছে। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে এমন দূরাবস্থায়ও অনেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন এবং প্রস্তাবানা পেশ করছেন। তাই এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া যায় যে বাংলাদেশে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে জেনে বুঝে স্বেচ্ছায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে জাতীয়ভাবে আত্মহত্যা করা। সকলের শুভবোধ উদয় হোক।আল্লাহ্কে ডাকুন।আর ঘরেই থাকুন । ভালো থাকুন।

সুয়েবুল ইসলাম, দ্বাদশ শ্রেণী মদন মোহন কলেজ লামাবাজার সিলেট অনেক দিন হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। বন্ধ থাকার কারণে গ্রামের বাড়িতে চলে এসেছি কারণ পড়াশোনার চাপে অনেক দিন বাড়িতে আসতে পারিনি। কিন্ত বাড়িতে আসার অনেকদিন হয়ে গেল দেশের এই দূর্যোগ ব্যস্ততা আর যেন কাটছেইনা বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে এই অবস্থায় আগে যেভাবে পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ ছিলো এখন আর সেভাবে থাকছে না সরকার হয়তো এমতাবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিবে না। এতে করে অনেক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। অনলাইনে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় রাখতে ক্লাস নিচ্ছে কিন্ত তাতে তেমন লাভ হচ্ছে না। তাই আমাদের এই সময় উচিৎ নিজে নিরাপদ থাকা এবং বাড়িতে পড়াশোনাটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তাই আমি একজন শিক্ষার্থী হিসেবে চাই দ্রুত দেশের এই অবস্থা দুর হয়ে যাক। আবারো আগের মতো জনজীবনে ফিরে যাক মানুষ। জাতির মেরুদণ্ড শিক্ষা আবারো তার স্বরুপ ফিরে পাক।

গ্রন্থনায় : হাবীব হোসেন, দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধি, সোনার সিলেট ডটকম

এসএ/কেএ

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৪৮০
করোনাকালে শিক্ষার্থীদের ভাবনা
সাবেক মেয়র কামরানের রোগ মুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল
রুলি’র মৃত্যুতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
চার হাসপাতালে ঘুরে বিনা চিকিৎসায় বন্দরবাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর মৃত্যু
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সচেতনামূলক লিফলেট বিতরণ

আরও খবর

Shares