Header Border

সিলেট, বৃহস্পতিবার, ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ ইং | ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) ২৩°সে

সাংবাদিকতা ও ইসলাম__মুফতি এনায়েতুল্লাহ

সাধারণভাবে যিনি সংবাদপত্রের জন্য সংবাদ সংগ্রহ করেন ও লিখেন তাকেই সাংবাদিক বলে অভিহিত করা হয়। তবে বর্তমান সময়ের আধুনিক সাংবাদিকতার বিশাল পরিসরে সাংবাদিককে নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞায় বেঁধে দেওয়া কষ্টসাধ্য বিষয়। এখন সংবাদপত্রের ধরনে যেমন পরিবর্তন এসেছে, তেমনি সাংবাদিকদের কাজের পরিধিতেও পরিবর্তন এসেছে। সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। তবুও সাংবাদিকদের শত্রুর অভাব নেই। প্রতিনিয়তই সাংবাদিকরা এখন হামলা-মামলা ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। সাংবাদিক নির্যাতনকারী ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দলের কর্মী এবং সন্ত্রাসীরা। এক কথায়, একটি অনিশ্চিত পরিবেশের মধ্যে কাজ করতে হয় সাংবাদিকদের। অথচ দেশের সামগ্রিক কল্যাণময় কাজে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখে সংবাদমাধ্যম। তারপরও একশ্রেণির লোক সর্বদা তাদের যাবতীয় আক্রোশ উগরে থাকে গণমাধ্যম এবং গণমাধ্যমের কর্মীদের প্রতি। এ ক্ষেত্রে অবশ্য এককভাবে তাদেরও দায়ী করা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এ জন্য সাংবাদিক নিজেও দায়ী। অর্থাৎ সাংবাদিক তার কলম, মেধা ও মননশীলতার অপব্যবহার করেছেন।
সাংবাদিকদের হাতে কলম আছে বলেই তারা সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বলতে পারেন না। এমনটি সুস্থ সাংবাদিকতার বিপরীত কাজ। এটা অন্যায়ও বটে। ক্ষেত্রবিশেষ দেখা যায়, অনেক সাংবাদিক মিথ্যা ও বানোয়াট খবর প্রচার করে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। লোভের বশবর্তী হয়ে অন্যায়কে সমর্থন করছে। ইসলামি শরিয়ত এ ধরনের ন্যক্কারজনক কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষ নির্দেশ প্রদান করেছে। নিষেধ করা হয়েছে কুপ্রবৃত্তির অনুসারী হওয়ার।

 

ইসলাম বলেছে মানবকল্যাণের জন্য সত্য সংবাদ পৌঁছে দিতে। তাই সংবাদ সংগ্রহের সময় চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। যেনোতেনো লোক থেকে সংবাদ গ্রহণ করা যাবে না। এ প্রসঙ্গে সুরা হুজরাতের ৬ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে, আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারি ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে লিপ্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও।’ হাদিসে বলা হয়েছে, হজরত রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট, যা শুনবে তা যাচাই ছাড়া বর্ণনা করা।’
-আবু দাউদ
সততা একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় গুণ। অনেক যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকলেও সততার অভাবে অর্জিত সম্মান ধুলোয় মিশে যেতে পারে। যেহেতু গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ বলা হয়, তাই গণমাধ্যমকর্মীদেরও দর্পণের মতো স্বচ্ছ হতে হবে। এটা তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশবিশেষ ও বিশেষ ভূষণও বটে। সাংবাদিকদের শুধু রাজনৈতিক সংবাদ ছাপলে চলবে না। দেশের মানুষ কোথায় আছেন, কেমন আছেন, কী করছেন সেসব বিষয়ের সংবাদও প্রকাশ করতে হবে। সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট না করা ও কারও ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত করে এমন বিষয়গুলো মাথায় রেখে সংবাদ লিখতে হবে। হজরত রাসুলুল্লাহ সা. এক হাদিসে বলেন, ‘আমি কি তোমাদের কবিরা গুনাহ সম্পর্কে সংবাদ দেবো না? (কথাটি রাসুল সা. তিনবার বলেছেন) সাহাবায়ে কেরামরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! বলুন, তিনি বললেন, আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া, কথাগুলো বলার সময় রাসুল সা. হেলান দিয়ে বসেছিলেন, অতঃপর সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া। কথাগুলো বারবার বলছিলেন। আমরা (সাহাবারা) মনে মনে বলছিলাম, ‘হায়! যদি তিনি চুপ হতেন।’ -বুখারি ও মুসলিম

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

কামরান স্থানীয় রাজনীতি করেও একজন জাতীয় নেতা
কোভিড পজিটিভ ও সামাজিক বিড়ম্বনার লোমহর্ষক অভিজ্ঞতা
বেসরকারি হাসপাতাল! কতটুকু সেবা,কতটুকু ব্যবসা?
এক বছর বয়সেই পাক্কা রাঁধুনী!
কাউকেই কষ্ট দিতে রাজি নন, একসঙ্গে ২ বান্ধবীকে বিয়ে করলেন যুবক
ক্ষতিটা শুধুই নিরীহ জনতার, কারো নেই দায়!

আরও খবর

Shares