Header Border

সিলেট, বৃহস্পতিবার, ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ ইং | ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) ২৩°সে

স্বপ্ন ভাসে চোখে-২ ___কামরুল আলম

‘‘ব্যাপারটা কী? সে কি সত্যি সত্যি লেখক হযে গেল? তার তো লেখক হবার কথা না। সে হবে একজন রাজনীতিবিদ। প্রতিদিন পত্রিকায় তার ছবি ছাপা হবে। প্রতিদিন জনসভায় ভাষণ দেবে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ফিতা কেটে উদ্ধোধন করবে। তার অনেকগুলো স্বপ্নের মধ্যে রাজনীতিবিদ হবার স্বপ্নটাই ছিল প্রধান। লেখক টেখক হবার বিষয়ে তার মধ্যে তেমন কোন আগ্রহ কাজ করতো না। অথচ এখন সে একজন লেখকই হয়ে গেল। তাও যেই সেই লেখক না। একদম নামিদামি লেখক। দেশের শীর্ষ কলামিস্ট।

রাত দশটার সময় লেখার টেবিলে বসে এসব নিয়ে চিন্তা করছিল বিশিষ্ট কলামিস্ট ‘কাওকাব’। এটা তার ছদ্মনাম। আসল নাম সাদাত সালেহী । পত্রপত্রিকায় সে ‘কাওকাব’ নাম দিেেয়ই কলাম লিখে। এ মুহূর্তেও লিখছে। আগামী কালকের দৈনিক ‘সত্যের আলো’ পত্রিকার জন্য লিখছে ‘সত্যমিথ্যার চিরন্তন লড়াই’ শিরোনামে একটি কলাম।

[গল্পটি এ পযন্তই লেখা হয়েছিল। ৯৭ সালের ৩০ অক্টোবর]

[তিন]
[১৯৯৭ সালের কয়েক টুকরো গল্পের সমন্বয় করতে গিয়ে কিছু নতুন লেখা…]
‘সত্যমিথ্যার চিরন্তন লড়াই’ শিরোনামে কলামটি লেখা শেষ করেই সেলফোনের স্ক্রীণের দিকে তাকালো কাওকাব ওরফে সাদাত সালেহী সাগর। রাত তিনটা বাজতে এখনও দশ মিনিট বাকি। মুখে হাই তুলতে তুলতে বাথরুমের দিকে পা বাড়ালো সে। বাথরুমের হাইকমোডে বসে বসে স্মার্টফোনটিতে নেট কানেকশন লাগালো মনের অজান্তেই। ইন্টারনেট থেকে দূরে থাকা যায় না, গত তিনদিন যাবৎ তবুও নেটের বাইরে থাকতে হয়েছে।
সেদিন রাত্রে শারমিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর থেকে জীবনটা অন্যরকম হয়ে গেছে তার। শারমিন তার খুব পরিচিত, খুবই কাছের কেউ? গভীর রাতে শারমিনের ফোন কলে সেদিন ঘুম ভাঙলেও এখন সারাটি রাতই সে নির্ঘুম কাটিয়ে দিচ্ছে। রাতের সময়টাকে লেখালেখির কাজে লাগাচ্ছে। আগে লিখতো ফজরের সালাত আদায়ের পর। রাত বারোটা সাড়ে বারোটায় ঘুমাতে গেলে ফজরের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘুম ভেঙে যেত তার। কিন্তু গত তিনটি রাত শত ইচ্ছা করেও সে ঘুমাতে পারছে না। যদিও ফোনে শারমিনকে ‘পার্কে গিয়ে নষ্টামি করতে পারবো না’ বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিল। মনকে মানাতে পারছে না সাগর। ফেসবুকের ফ্রেন্ডলিস্টে শারমিন নামে কেউ ছিল না। সেদিন ফোনে কথা বলার পর সার্চ করেছে, পায়নি। কিন্তু হঠাৎ ভাইবারের ম্যাসেজ অপশনে একটি ম্যাসেজ তাকে অবাক করে দিয়েছে। ‘মিস্টার সাগর, নিজেকে যতোই আড়ালে রাখার চেষ্টা করো না কেন, আমি তোমাকে ঠিক খুঁজে পাবো। – নদী’ ছোট্ট এ ম্যাসেজটিই তাকে ইন্টারনেটের বাইরে নিয়ে গেছে।

বাথরুমের হাইকমোডে বসে বসে ভাইবারের ম্যাসেজ অপশনে চলে গেল সাগর। নদী আর কিছু লিখেছে কি না সেটাই দেখতে চায় সে। এই মেয়েটি তাকে জ্বালিয়ে শেষ করে দেবে। গত বছর অনার্সের ফাইনাল পরীক্ষার শেষ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে দাঁড়িয়েছিল শারমিন। ডাগর ডাগর চোখে তাকিয়েছিল তার দিকে। সে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে যথারীতি। কিন্তু পথ আগলে দাঁড়িয়েছিল শারমিন।

-সাগর সাহেব, আপনার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে।
-কিন্তু আপনার সঙ্গে আমার কোন কথা নেই, থাকতে পারে না।
-সাগর সাহেব শুনেন, প্লিজ একটু দাঁড়ান। শারমিন সাগরের বাম হাতটা ধরে টান দিয়েছিল লোকজনের সম্মুখেই। ডান হাত দিয়ে ঠাস করে একটা থাপ্পড় মেরে হ্যাঁচকা টানে বাম হাতটি ছাড়িয়ে নিয়ে হন্ হন্ করে চলে গিয়েছিল সাগর। এখনও ঘটনাটি চোখে ভাসে তার। মেয়েটির প্রতি বড়ো বেশি অবিচার করে ফেলেছে সে। শারমিন তখন ইন্টারমিডিয়েট ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছিল। এখন তো মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় পা রেখেছে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

ভূতের পুত || কামরুল আলম
ইউসুফ নবীর গল্প ।। কামরুল আলম
আবিদ সালমান-এর ময়না আবারও রাজকন্যা হতে চায়__রুমেল আহমদ
ছোটোদের গল্প : স্বপ্নের বই কেনা__এম আশরাফ আলী
নিঝুম দ্বীপের বাঁশি
টি টি আই ছাত্রাবাস ও রাতুলের তিনটি মাস

আরও খবর

Shares