Header Border

সিলেট, বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২০ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) ২৮°সে

হিজরি সন থেকেই বাংলা সনের উৎপত্তি

কামরুল আলম।। মুঘল সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে ফসল উৎপাদন ও খাজনা আদায় করা হত হিজরি সন অনুসারে। ফলে দিন তারিখ নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হতো। দেখা যেত ফসল পাকেনি, কিন্তু পঞ্জিকার হিসেবে ফসল কাটার সময় হয়ে গেছে। এই দিন তারিখের সমস্যা সমাধানের জন্য দরবারের পারস্য দেশীয় পন্ডিত আমির ফতেহউল্লাহ সিরাজীকে দায়িত্ব দেয়া হয় ফসলী সন বের করার জন্য। সিরাজী হিজরি সনকে রূপান্তরিত করে নতুন ফসলী সন উদ্ভাবন করেন। হিজরি সনকে রূপান্তরিত করে তিনি বেশ কয়েকটি ফসলী সন উদ্ভাবন করেছিলেন। তার এইসব ফসলী সনের বিবর্তিত একটি রূপই হচ্ছে আজকের বাংলা সন বা বঙ্গাব্দ। অন্যান্য ফসলী সন বিবর্তিত হয়ে আমলী, বিলায়তী (উড়িষ্যা), সুরসান (মহারাষ্ট্র) প্রভৃতিতে কার্যকর হয়েছে।

আমাদের বর্তমান যে ১৪২৬ বঙ্গাব্দ এসেছে তা কিন্তু আদৌ ১৪২৬ বছর পার করে আসেনি! কী, ব্যাপারটা একটু গোলমেলে মনে হচ্ছে? তা হতেই পারে। শিশু যখন জন্ম গ্রহণ করে তখন তার বয়স থাকে ০, কিন্তু আমাদের এই বঙ্গাব্দের জন্মের সময়ই তার বয়স ছিল ৯৬৩ বছর! বিষয়টা খুব মজার। সিরাজী সাহেব ৯৬৩ হিজরিকে (১৫৫৬ ঈসায়ি) রূপান্তরিত করে ফসলী সন উদ্ভাবন করেছিলেন। তিনি এই সন ‘শূন্য’ থেকে গণনা না করে তা শুরু করেছিলেন ওই ৯৬৩ থেকেই। এ বিশেষ সংখ্যাটি ধরার পেছনে অবশ্য আরেকটি কারণ ছিল। সেটা হলো পানি পথের দ্বিতীয় যুদ্ধের ঐতিহাসিক ঘটনা। সে ঘটনায় বালক আকবর তাঁর মরহুম পিতা হুমায়ূনের বন্ধু বৈরাম খাঁর সহায়তায় পাঠান সেনাপতি হিমুর বাহিনীকে পরাজিত করে মুঘল সাম্রাজ্যকে নিরাপদ করেন। তখন ছিল ৯৬৩ হিজরি মোতাবেক ১৫৫৬ ঈসায়ি। এ ঘটনার বেশ কয়েক বছর পর পূর্ণবয়স্ক সম্রাট আকবর ফতেহ উল্লাহ সিরাজীকে নির্দেশ দেন ফসলী সন উদ্ভাবনের। লক্ষ্য করার বিষয় যে, ১৫৫৬ ঈসায়ি ও ৯৬৩ হিজরির মধ্যে সময়ের পার্থক্য হচ্ছে ৫৯৩ বছর। আমরা যদি সংখ্যাটিকে ঈসায়ি বা খৃষ্টাব্দ থেকে বিয়োগ দিই (২০১৯-৫৯৩) তাহলে পাওয়া যায় বঙ্গাব্দ ১৪২৬! বিষয়টি সত্যিই আজব, তবে গুজব নয় বটে। এভাবেই হিজরি সনের সঙ্গে বাংলা সনের অনিবার্য সম্পর্কের বাস্তব সম্পর্ক প্রমাণিত হয়।

বর্তমানে হিজরি ১৪৪০ সন চলছে আর বঙ্গাব্দ চলছে ১৪২৬। অর্থাৎ এ দুয়ের মধ্যে প্রায় ১৪ বছরের ব্যবধান ঘটেছে বঙ্গাব্দের জন্মের পর থেকে। এর মূল কারণটি হচ্ছে হিজরি চন্দ্র ভিত্তিক সন আর বাংলা সৌর ভিত্তিক সন। চাঁদের ৩৫৪/ ৩৫৫ দিনে পূর্ণ হয় হিজরি সনের এক একটি বছর। আর সূর্যের ৩৬৫ দিনে বঙ্গাব্দ বা বাংলা সনের এক বছর পূর্ণ হয়। এতে করে প্রতি বছর হিজরি ও বাংলা সনের মধ্যে ১০/১১ দিনের তারতম্য ঘটে। তাই প্রতি ৩৩ চন্দ্র বছরে বঙ্গাব্দের সঙ্গে হিজরি সনের তারতম্য ঘটে ১ বছরের। মজার ব্যাপার হলো এ হিসাব অনুযায়ী আমাদের বয়সেও তারতম্য ঘটছে প্রতিনিয়ত! ধরা যাক খৃষ্টাবব্দ বা বাংলা সন অনুযায়ী আপনার বয়স ৩২ বছর। এ ক্ষেত্রে হিজরি সন অনুযায়ী আপনার বয়স হয়ে যাবে ৩৩ বছর!

হিজরি সন থেকে রূপান্তরিত হলেও প্রাচীন ভারতীয় শকাব্দের সঙ্গে বঙ্গাব্দের একটি সম্পর্ক রয়েছে সৌর হিসাব রক্ষণের জন্য। ৯৬৩ হিজরিতে ১৪৭৮ শকাব্দ চলছিল। তাই দেখা যাচ্ছে বঙ্গাব্দের সঙ্গে শকাব্দের পার্থক্য (১৪৭৮-৯৬৩)= ৫১৫ বছর।

অবশ্য বাংলা সনের মাসগুলো শকাব্দ থেকেই নেওয়া। প্রাথমিক অবস্থায় মাসের নামগুলো ফার্সিতে রাখা হয়েছিল। যেমন – বৈশাখ= বাহমান, জ্যৈষ্ঠ= খুর্দদ ইত্যাদি।

এসএসডিসি/ কেএ

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

আজিজ আহমদ সেলিমের মৃত্যুতে অনলাইন প্রেসক্লাবের শোক
ইছামতি হাইস্কুল প্রতিষ্ঠার ইতিবৃত্ত স্মারক- ইছামতির আলো’র মোড়ক উন্মোচন সম্পন্ন
পাপড়ি-করামত আলী তরুণ শিশুসাহিত্য পুরস্কার পেলেন যারা
লেখক-ব্যবসায়ী আবদুল হান্নান আর নেই
ইতালিতে নামতে না পারা ১৫১ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন
কামরান স্থানীয় রাজনীতি করেও একজন জাতীয় নেতা

আরও খবর

Shares