Header Border

সিলেট, সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ ইং | ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) ৩০°সে

রক্তের অভাব দূর করতে অক্লান্ত কাজ করে যাচ্ছে “খিদমাহ ব্লাড ব্যাংক”

সোনার সিলেট ডেস্ক: মানুষের জীবনে রক্তের চাহিদা অপরিসীম।আমাদের এক ব্যাগ রক্ত একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। আর সেই  লক্ষ্যে দিন-রাত অক্লান্ত কাজ করে যাচ্ছে “খিদমাহ ব্লাড ব্যাংক”

সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পরিচিত ‘খিদমাহ ব্লাড ব্যাংক-এর প্রতিষ্ঠা কবে কীভাবে শুরু হয় জানতে চাওয়া হলে খিদমাহ ব্লাড ব্যাংকের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রহমান কফিল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ২০১৬ সালের জুন মাসে ফেসবুকে জানতে পারলাম, চট্টগ্রামের বিশিষ্ট আলেম মাওলানা লিসানুল হক শাহরুমীর স্ত্রী ইন্তেকাল করেছেন। ৫ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন ছিলো তাঁর। কিন্তু ১ ব্যাগ রক্তও ম্যানেজ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। সময়মত রক্ত সরবরাহ করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত তিনি চলে গেছেন না-ফেরার দেশে। এ ঘটনা শুনে আমি শিউরে উঠি। প্রচণ্ড ধাক্কা লাগে হৃদয়ে। তখন থেকেই মূলত রক্ত ডোনেশন চিন্তা মাথায় আসে। অবশেষে ১৩ আগস্ট ২০১৬ আনুষ্ঠানিকভাবে খিদমাহ ব্লাড ব্যাংকএর যাত্রা শুরু হয়।

‘খিদমাহ ব্লাড ব্যাংক’এর কর্মপদ্ধতি জানতে চাইলে মাওলানা আব্দুর রহমান কফিল জানান, আমিসহ আমাদের প্রায় প্রত্যেক সদস্যই কর্মজীবী। তার মধ্যে অধিকাংশ সদস্য মাদরাসা বা স্কুল-কলেজের ছাত্র। এ ক্ষেত্রে আমাদের কর্মপদ্ধতি হলো, রক্তের গ্রুপ হিসাবে সদস্যদের তালিকা আমাদের হাতে থাকে। কে কবে রক্ত দিয়েছেন তারও লিস্ট আছে। তো, আমাদের সকল শাখায় দায়িত্বশীল নির্দিষ্ট করা আছে। দায়িত্বশীলদের কাছে রক্তের জন্যে ফোন এলে। তালিকা দেখে যাদের রক্তদানের সময় হয়েছে তাদেরকে ফোন করা হয়। সময়-সুযোগমতো তাদেরকে দায়িত্বশীলগণ হাসপাতালে নিয়ে যান এবং খিদমাহটুকু করে আসেন৷

কাজের বিবরণ ও পরিধি কতটুকু জানতে চাইলে ‘খিদমাহ ব্লাড ব্যাংক’-এর একজন দায়িত্বশীল জানায়, আমাদের পরিধি খুব বেশি বড় না হলেও একদম ছোট নয়। সিলেটের প্রধান শাখা ছাড়াও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আরও ১১ টি শাখা রয়েছে। আরও বেশ কয়েকটি শাখা প্রক্রিয়াধীন আছে। এখনও আমরা চাহিদামত সেবা দিতে পারছি না। আমাদের সদস্যদের তুলনায় চাহিদা সবসময় অনেক বেশি থাকে।সকল শাখা মিলে প্রতি মাসে গড়ে ৪০/৪৫ জনকে সেবা দেওয়া হয়। মূলত আমরা এখন রক্তদানের পাশাপাশি সচেতনতা তৈরির বিষয়টাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। সকলে যদি আমরা সচেতন হই, তাহলে দেখা যাবে নিজেদের প্রয়োজন পরিমাণ রক্ত আমরা নিজেদের থেকেই সংগ্রহ করতে পারছি। এজন্য আমরা বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে ক্যাম্পিং’র আয়োজন করে থাকি। সেখানে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করি। এর দ্বারা আমাদের সদস্য সংগ্রহের কাজটিও সহজ হয়ে যায়। এর ভালো ফলাফলও আমরা লক্ষ করছি।

জানা যায়, ‘খিদমাহ ব্লাড ব্যাংক’-এর ভবিষ্যত পরিকল্পনা হল দেশের প্রত্যেক জেলায় জেলায় মানুষের কাছে সেবা পৌঁছানো। দেশের কোনো মানুষই যেন রক্তের অভাবে মারা না যাায় তা নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রতি বছর আনুমানিক মাত্র ১০ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। দেশে মানুষ আছেন ১৮ কোটি। ছোট্ট, বয়স্ক এবং অসুস্থ যদি ১০ কোটি মানুষও হয়, তাহলে সুস্থ মানুষ আছেন ৮ কোটি। একজন মানুষ প্রতি বছর ৩ বার রক্ত দিতে পারেন। সে হিসাবে মাত্র ৪ থেকে ৫ লাখ মানুষও যদি স্বেচ্ছায় রক্তদানের জন্য তৈরি হয় তাহলে রক্তের অভাব থাকার কথা নয়।

এসএসডিসি/ এমবিএ

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

আজিজ আহমদ সেলিমের মৃত্যুতে অনলাইন প্রেসক্লাবের শোক
ইছামতি হাইস্কুল প্রতিষ্ঠার ইতিবৃত্ত স্মারক- ইছামতির আলো’র মোড়ক উন্মোচন সম্পন্ন
পাপড়ি-করামত আলী তরুণ শিশুসাহিত্য পুরস্কার পেলেন যারা
৫০০ টাকা কেজি নয়, মাত্র ৫ উপকরণে ঘরেই স্পঞ্জ রসগোল্লা
লেখক-ব্যবসায়ী আবদুল হান্নান আর নেই
‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথ ধরেই অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে হবে’

আরও খবর

Shares