Header Border

ঢাকা, রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) ২৮°সে

ইউসুফ নবীর গল্প ।। কামরুল আলম

[১ম পর্ব ]
ইরফান তার বাবার গলা জড়িয়ে ধরে বলতে লাগল, ‘আব্বু বলো না তারপর কী হলো?’
‘ওগো বলো না, আমিও শুনব’ যোগ করলেন ইরফানের মা তামান্না বেগম।
‘কিন্তু আমি কোন গল্পটা বলছিলাম সেটাই তো মনে করতে পারছি না’ বললেন আফজাল সিদ্দিকী।
‘আব্বু কেন ভুলে যাও। তুমি তো বলছিলে ইউসুফকে কুয়ার মধ্যে নিক্ষেপ করা হয়েছিল…।’

ইরফানের হাত গলা থেকে ছাড়িয়ে নিলেন আফজাল সিদ্দিকী। বললেন তাহলে শোন। তোমাদেরকে শুরু থেকেই শোনাই। নবীদের জীবনীগুলোতে সত্যি দারুণ সব ঘটনা রয়েছে। তিনি বলতে লাগলেন।

হযরত ইউসুফ (আ.) এর পিতাও নবী ছিলেন। তাঁর নাম ছিল ইয়াকুব (আ.)। তাঁর আরেক নাম ঈসরাইল। এ কারণে ইয়াকুব নবীর বংশধরদের বনী ঈসরাঈল নামে ডাকা হয়।
‘তার মানে কুরআনে যে বনী ঈসরাইলের কথা আলোচিত হয়েছে তা এই ইয়াকুব নবীর বংশধরদের কথা?’ তামান্না বেগম জানতে চাইলেন।
‘হ্যাঁ, এরাই হলো হযরত ইয়াকুব (আ.) এর বংশধর।’ বললেন আফজাল সিদ্দিকী। তিনি আবার বলতে লাগলেন।
ইয়াকুব নবীর পিতা ছিলেন হযরত ইসহাক (আ.) যিনি হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর ছেলে।
‘আব্বু আমি তো শুনলাম হযরত ইবরাহীম নবীর ছেলের নাম ঈসমাইল?’ ইরফান জানতে চাইল।
‘তুমি ঠিকই শুনেছো। হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর স্ত্রী সারা’র ঘরে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন ইসহাক (আ.) আর হাজেরা’র ঘরে জন্মেছিলেন ঈসমাইল (আ.)। প্রথম স্ত্রী সারা’র ঘরে দীর্ঘদিন সন্তান না থাকায় সারা নিজেই তাঁর দাসী হাজেরাকে ইবরাহিম (আ.)-এর সঙ্গে বিবাহ দেন। এরপর হাজেরার ঘরে ঈসমাইল (আ.) জন্ম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সারার ঘরেও একজন পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করেন। ইনিই হযরত ইসহাক (আ.)।’ আবার বলতে লাগলেন আফজাল সিদ্দিকী।

হযরত ইসহাক (আ.) বয়সে ঈসমাঈল (আ.)-এর ১৪ বছরে ছোটো ছিলেন। ইসহাক (আ.)-এর জন্মের সময় পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর বয়স ছিল ৯০ বছর। হযরত ইসহাক (আ.) ৪০ বছর বয়সকালে রুফাকা বিনতে বাৎওয়াইলকে বিবাহ করেন। কিন্তু রুফাকা ছিলেন বন্ধ্যা নারী। তাঁদের ঘরে কোনো সন্তান না আসায় হযরত ইসহাক (আ.) সন্তানের জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন এবং স্ত্রী রুফাকা যমজ সন্তানের মা হন। যমজ দুই সন্তানের মধ্যে প্রথমজনের নাম রাখা হয় ঈসূ বা ঈস এবং দ্বিতীয়জনের নাম রাখা হয় ইয়াকুব। জানা যায় হযরত ইসহাক (আ.) ইয়াকুবের চেয়ে ঈসূকে বেশি ভালোবাসতেন কারণ তিনি ছিলেন বড়োসন্তান। কিন্তু মা রুফাকা ইয়াকুবকে বেশি ভালোবাসতেন কারণ তিনি ছিলেন কনিষ্ঠ সন্তান! ইসহাক (আ.) যখন বয়োবৃদ্ধ, চোখে কম দেখেন তখন পুত্র ঈসূর নিকট উত্তম আহার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি একটি পশু শিকার করে এনে রান্না করে তাঁকে আহার করানোর নির্দেশ দেন। ইসহাক (আ.)-এর উদ্দেশ্য ছিল এই উত্তম আহার করে তিনি পুত্র ঈসূর জীবনে বরকত ও কল্যাণের জন্যে দোয়া করবেন। ঈসূ শিকার কাজে বেশ পারদর্শী ছিলেন। তিনি পিতার নির্দেশ পাওয়ামাত্র শিকারে বেরিয়ে পড়েন।

এদিকে মা রুফাকা তাঁর প্রিয় পুত্র ইয়াকবুকে পিতার দোয়া লাভের উদ্দেশ্যে দ্রুত দুটি উৎকৃষ্ট ছাগলছানা জবেহ করে ভাই ঈসূ শিকার থেকে ফিরে আসার পূর্বেই খাবার পরিবেশনের নির্দেশ প্রদান করেন। ইয়াকুব দ্রুত ছাগলছানা জবেহ করে সুস্বাদু খাবার তৈরি করে পিতার নিকট পরিবেশন করতে যান। মা রুফাকা তাকে ঈসূর পোশাক পরিয়ে দেন! তিনি ইয়াকুবের কাঁধে ও হাতে ছাগলের চামড়া জড়িয়ে দেন কারণ ঈসূর শরীরে বেশি পরিমাণ লোম ছিল। ইয়াকুবের শরীরে এমনটা ছিল না!

হযরত ইসহাক (আ.) অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাঁর পুত্র ঈসূ খাবার নিয়ে হাজির হবে। তিনি খাওয়া-দাওয়ার পর ঈসূর কল্যাণময় ও বরকতময় জীবনের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রী রুফাকার কৌশলের কারণে তাঁর সামনে গিয়ে সুস্বাদু খাবার নিয়ে হাজির হলেন ইয়াকুব!
হযরত ইসহাক (আ.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কে?’
ইয়াকুব উত্তর দিলেন, ‘আব্বাজান আমি আপনার পুত্র!’
হযরত ইসহাক পুত্রকে কাছে টেনে নিতে নিতে বললেন, কণ্ঠস্বর শুনে তো ইয়াকুবের মতো মনে হচ্ছে!’ তারপর তিনি পুত্রকে কাছে টেনে আলিঙ্গন করলেন। বললেন, ‘পোশাক-আশাকে তো ঈসূর মতোই লাগছে!’
ইয়াকুবের সদ্য জবেহ করা ছাগলছানার গোশত দিয়ে হযরত ইসহাক (আ.) তৃপ্তিসহকারে আহার করলেন। আহার শেষে তিনি আল্লাহর নিকট তাঁর জন্য দোয়া করলেন। বললেন, ‘ভাইদের মধ্যে তুমি ভাগ্যবান হও, ভাইদের উপরে ও পরবর্তী বংশধরদের উপরে তোমার নির্দেশ ও প্রভাব কার্যকরী হোক এবং তুমি অধিক পরিমাণ জীবিকা ও সন্তানের অধিকারী হও।’

এদিকে ইয়াকুব দোয়া নিয়ে পিতা ইসহাক (আ.)-এর ঘর থেকে বের হওয়ার পরে ঈসূ এসে প্রবেশ করেন। তিনি পিতাকে সালাম জানিয়ে বলেন, ‘আব্বাজান, আমি আপনার জন্যে খাবার নিয়ে এসেছি।’
ইসহাক (আ.) বললেন, ‘বৎস, এ আবার তুমি কী নিয়ে এসেছো?’
ঈসূ বললেন, ‘আব্বাজান, এটা সেই খাদ্য, যা আপনি খেতে চেয়েছিলেন।’
‘কিন্তু কিছুক্ষণ আগেই তো তুমি খাবার নিয়ে এসেছিলে এবং আমি তোমার জন্যে দোয়াও করেছিলাম। তুমি কি কিছুক্ষণ আগে আসোনি?’ বিস্মিত হয়ে জানতে চাইলেন ইসহাক (আ.)।
‘না আব্বাজান। আল্লাহর কসম, আমি তো এইমাত্র এলাম।’

ঈসূ পিতার নিকট থেকে ঘটনার বিবরণ শুনে সব বুঝতে পারলেন। তিনি ইয়াকুবের উপর ভীষণ ক্ষুব্ধ হলেন। কারো কারো মতে পিতার মৃত্যুর পর তিনি ইয়াকুবকে হত্যা করারও অঙ্গিকার করেছিলেন!

যাইহোক ঘটনা যখন ঘটেই গেল, কী আর করা! ঈসূ তাঁর পিতার নিকট দোয়া প্রার্থনা করলেন। বললেন, ‘আব্বাজান, আপনি আমার জন্য দোয়া করতে চেয়েছিলেন। দোয়া করুন।’
কিন্তু হযরত ইসহাক (আ.) ঈসূর জন্য ভিন্ন দোয়া করলেন। তিনি বললেন, ‘তোমার সন্তানেরা শক্ত জমিনের অধিকারী হোক। তোমাদের জীবিকা ও ফলফলাদি বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হোক।’

এদিকে ইয়াকুবের উপর ভাই ঈসূর ক্ষুব্ধ হওয়ার ঘটনা মা রুফাকা জানতে পেরে ভীষণ ভয় পেয়ে গেলেন। তিনি ইয়াকুবকে নিজের ভাই অর্থাৎ ইয়াকুবের মামা লাবানের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। লাবান তখন হারানে বসবাস করতেন।
রুফাকা ইয়াকুবকে বললেন, ‘তোমার ভাই ঈসূর ক্রোধ যতদিন পর্যন্ত প্রশমিত না হয় ততদিন পর্যন্ত তুমি তোমার মামার কাছেই থাকবে। মামা লাবানের কন্যাকে তুমি বিবাহ করবে।’
রুফাকা বিষয়টি স্বামী ইসহাক (আ.)-এর সঙ্গেও আলাপ করলেন। তিনি ইয়াকুবকে মামা লাবানের কাছে পাঠানোর অনুমিত চাইলেন। ইসহাক (আ.) অনুমিত দিলেন ও দোয়া করলেন। অতঃপর ইয়াকুব সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মামার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন।

হযরত ইয়াকুব (আ.) মামার বাড়িতে যাওয়ার পথে এক জায়গায় সন্ধ্যা ঘনীভূত হলে তিনি একটি পাথরকে বালিশ বানিয়ে শুয়ে পড়লেন। গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলেন তিনি। একসময় ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখলেন, মাটি থেকে আসমান পর্যন্ত একটি সিঁড়ি স্থাপিত রয়েছে! ফেরেশতাগণ সেই সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করছেন। আর আল্লাহ তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, ‘ইয়াকুব, আমি তোমাকে বরকতে পরিপূর্ণ করব। তোমার সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করব। তোমাকে ও তোমার বংশধরদেরকে এই যমিনের অধিকারী বানাব।’

ঘুম ভেঙে গেল। ঘুম থেকে জাগলেও অনেক্ষণ তিনি স্বপ্নের কথা ভাবতে লাগলেন। তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও পুলকিত হলেন। তিনি মনে মনে ওয়াদা করলেন, ‘আল্লাহ যদি আমাকে নিরাপদে পরিবার-পরিজনের নিকট ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেন তাহলে আমি এখানে একটি ইবাদতখানা নির্মাণ করব। যা কিছু রিযিক পাব তা থেকে এক দশমাংশ আল্লাহর রাহে দান করব।’

এরপর হযরত ইয়াকুব (আ.) এই স্থানটিকে পরবর্তীতে চেনার জন্যে যে পাথরে তিনি ঘুমিয়েছিলেন সেই পাথরে কিছু তেল ঢেলে দেন। তিনি এই স্থানটির নাম রাখেন ‘বায়তুল্লাহ’। পরবর্তীতে এই জায়গাতেই তিনি ‘বায়তুল মুকাদ্দাস’ নির্মাণ করেছিলেন যা আজও বিদ্যমান রয়েছে।

হযরত ইয়াকুব (আ.) এরপর মামা লাবানের কাছে গিয়ে উপস্থিত হন। তিনি মামার বাড়িতে দীর্ঘদিন ছিলেন। মামা লাবানের ছিল দুই কন্যা। বড়োজনের নাম লায়্যা এবং ছোটোজনের নাম রাহীল। লায়্যা ছিল কুৎসিত ও ক্ষিণদৃষ্টিশক্তি সম্পন্না এবং রাহীল ছিল অত্যন্ত সুন্দরী। রূপ-লাবণ্যে রাহীল যে কারো দৃষ্টি আকৃষ্ট করতে সক্ষম।

ইয়াকুব (আ.) মায়ের আদেশ মোতাবেক মামা লাবানের কাছে তাঁর মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব করেন। তিনি মামাকে বলেন, ‘রাহীলকে আমার পছন্দ হয়েছে। আমি রাহীলকেই বিয়ে করতে চাই।’
মামা লাবান এই শর্তে ইয়াকুবের নিকট তাঁর মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি হন যে, পরবর্তী সাত বছর তাঁর মেষপালের দেখাশোনা ইয়াকুবকেই করতে হবে। সাত বছর অতীত হলেই তিনি বিয়ের আয়োজন করবেন। কথামতো ইয়াকুব মামার মেষপালের দেখাশোনা করতে থাকেন। দেখতে দেখতে সাত বছর অতিবাহিত হলে মহা ধুমধামের সাথে বিয়ের আয়োজন করা হয়। লাবানের কন্যার সাথেই ইয়াকুব (আ.)-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়।

রাতের বেলা মামা লাবান ইয়াকুবের বাসরঘরে বড়োমেয়ে লায়্যাকে প্রেরণ করেন যিনি দেখতে কুৎসিত ও ক্ষিণদৃষ্টিশক্তি সম্পন্না ছিলেন। সকালের আলোতে হযরত ইয়াকুব (আ.) বিষয়টি বুঝতে পেরে মামার উপর মনোক্ষুণ্ন হন।
তিনি বলেন, ‘আপনি কেন আমার সাথে এই প্রতারণা করলেন? আমি তো আপনার মেয়ে রাহীলকে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম।’
‘কিন্তু আমাদের সমাজে এমন কোনো রীতি নেই যে, বড়োমেয়েকে রেখে ছোটোমেয়েকে বিয়ে দেওয়া যায়। তাই আমি বাধ্য হয়ে এমনটা করেছি।’ বললেন লাবান।
ইয়াকুব মন খারাপ করে বসে থাকলেন। ভাগ্নেকে মন খারাপ করে বসে থাকতে দেখে তিনি বললেন, ‘তুমি যদি রাহীলকে বিয়ে করতে চাও তাহলে আরও সাত বছর আমার মেষপালের দেখাশোনা করো। সাত বছর অতিবাহিত হলে আমার ছোটোমেয়েকেও তোমার সাথে বিয়ে দিয়ে দেবো।’

উল্লেখ্য যে, তখনকার শরীয়তে দুইবোনকে বিয়ে করা জায়েজ ছিল। পরবর্তীকালে তাওরাতের মাধ্যমে এ বিধান রহিত হয়ে যায়।
যাইহোক হযরত ইয়াকবু (আ.) মামার কথামতো আরও সাতবছর মেষপালের দেখাশোনা করলেন এবং এরপর রাহীলকেও স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করে নিলেন।

লাবান তাঁর দুই কন্যার সঙ্গে দুইজন দাসী দিয়েছিলেন। লায়্যার সঙ্গে দিয়েছিলেন দাসী যুলহাকে আর রাহীলের সঙ্গে দিয়েছিলেন দাসী বালহাকে। লায়্যার গর্ভে হযরত ইয়াকুব (আ.) কয়েকটি পুত্র সন্তান লাভ করেন। প্রথম সন্তানের নাম ছিল রুবীল, দ্বিতীয় সন্তান শামঊন, তৃতীয় সন্তান লাবী এবং চতুর্থ সন্তান ইয়াহুদা। লায়্যা দেখতে রূপসী না হলেও তাঁর সন্তানগুলোই তাঁর অভাব পূরণ করতে সক্ষম হয়েছিল।

কিন্তু রূপসী রাহীলের ঘরে কোনো সন্তান হচ্ছিল না। এতে রাহীল কিছুটা ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েন এবং নিজের দাসী বালহাকে ইয়াকুব (আ.)-এর নিকট সমর্পণ করেন। দাসী বালহার ঘরে ইয়াকুব (আ.) আরও দুজন পুত্রসন্তান লাভ করেন। এরা হলো, ‘দান’ ও নায়ফতালি’।

রাহীলের দেখাদেখি লায়্যাও তাঁর দাসী যুলহাকে স্বামীর নিকট সমর্পণ করেন। দাসী যুলহার ঘরে ইয়াকুব (আ.) আরও দুই পুত্রসন্তান লাভ করেন। এদের নাম রাখা হয় ‘হাদ’ ও ‘আশীর’। এরপর লায়্যার কোলজুড়ে তাঁর পঞ্চমপুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে। এর নাম রাখা হয় ‘আয়সাখার’। কিছুদিনপর লায়্যার ঘরে ষষ্ঠ পুত্রসন্তান জন্মলাভ করে। এর নাম রাখা হয় যাবিলূন। এরপর লায়্যা এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন যার নাম রাখা হয় ‘দিনা’।

এভাবে হযরত ইয়াকুব (আ.) মোট ১০ পুত্র ও ১ কন্যার জনক হন। প্রথম স্ত্রী লায়্যার ঘরে ৬ পুত্র রুবীল, শামঊন, লাবী, ইয়াহুদা, আয়সাখার ও যাবিলুন এবং ১ মাত্র কন্যা দিনা।
প্রথম স্ত্রী লায়্যার দাসী যুলহার ঘরে দুই পুত্র হাদ ও আশীর এবং দ্বিতীয় স্ত্রী রাহীলের দাসী বালহার ঘরে দুইপুত্র দান ও নায়ফতালি।

এদিকে রাহীলের ঘরে তখনও কোনো সন্তান না থাকায় তিনি চিন্তিত ও হতাশ ছিলেন। রাহীল আল্লাহর নিকট একটি পুত্রসন্তানের জন্য দোয়া করলে আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন। কিছুদিন পর তাঁর ঘরে অত্যন্ত সুন্দর এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তার নাম রাখা হয় ‘ইউসুফ’।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

পাপড়ি-করামত আলী তরুণ শিশুসাহিত্য পুরস্কার পেলেন যারা
লেখক-ব্যবসায়ী আবদুল হান্নান আর নেই
চার শুটিং হাউসে একটি ধারাবাহিকের নির্মাণ
সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী’র ৬০ তম জন্মদিন আজ
আল মাহমুদ : শিশু-কিশোরদের মনের মতো কবি || কামরুল আলম
ইতালিতে নামতে না পারা ১৫১ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন

আরও খবর

Shares