সোনার সিলেট

কবিতাকেন্দ্র, সিলেট-এর উদ্যোগে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শানে কবিতাপাঠের আসর

Published: 30 11 2019   9:31:51 PM   Saturday   ||   Updated: 30 11 2019   9:31:51 PM   Saturday
কবিতাকেন্দ্র, সিলেট-এর উদ্যোগে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শানে কবিতাপাঠের আসর

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্ম হয়েছিল কবি ও কবিতার জন্য বিখ্যাত এক জনপদে। তাঁর মা আমিন ছিলেন যুগধর্মের দাবিতে একজন স্বভাব কবি। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কবি ও কবিতাকে ভালোবাসতেন। হযরত কাব ইবনে মালেক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার আমাদেরকে নির্দেশ দিলেন, ‘যাও, তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে কবিতার লড়াইয়ে লেগে যাও। কারণ মুমিন জিহাদ করে জান ও মাল দিয়ে। মুহাম্মদের আত্মা যাঁর হাতে তাঁর শপথ! তোমাদের কবিতা তীরের ফলা হয়ে তাদের কলিজা ঝাঁজরা করে দেবে।’ নবী করিম (সা.) শুধু কবিতা পাঠে উৎসাহ দিয়ে হযরত হাস্সান বিন সাবিত (রা.)-এর জন্য মসজিদে নববীর ভেতরে একটি মঞ্চ পর্যন্ত তৈরি করে দিয়েছিলেন। এতেই প্রতীয়মান হয়, তিনি কতটা কাব্যপ্রেমিক ছিলেন। তাই আমাদেরকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শে উজ্জিবীত হয়ে কাব্যচর্চা চালিয়ে যেতে হবে।
গত ২৯ নভেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় কবিতাকেন্দ্র, সিলেট-এর উদ্যোগে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শানে কবিতা পাঠের আসরে বক্তারা এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসর কক্ষে কবিতাকেন্দ্রের সভাপতি কবি মুকুল চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কবি কামরুল আলমের সঞ্চালনায় আসরে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কর্নেল (অব.) কবি সৈয়দ আলী আহমদ, কবি এমএ হান্নান সেলিম ও কবি বাছিত ইবনে হাবীব। আলোচনায় অংশ নেন কবিতাকেন্দ্র, সিলেটের সহ-সভাপতি কবি নাজমুল আনসারী, কবি ও কলামিস্ট মোহাম্মদ আব্দুল হক, ড. মো. রহিমুল্যাহ মিঞা, কবি সরওয়ার ফারুকী, প্রাবন্ধিক শামসির হারুনুর রশীদ ও মাজহারুল ইসলাম জয়নাল।
আসরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শানে নিবেদিত স্বরচিত কবিতা পাঠে অংশ নেন, কবি এম. আশরাফ আলী, কেএম কামরুজ্জামান, ড. মো. রহিমুল্যাহ মিঞা, সরওয়ার ফারুকী, ওমর শরীফ নোমান, শাহেদ শাহরিয়ার, নজমুল হক চৌধুরী, আজমল আহমদ, তাসনিম যায়েদ, লুৎফুর রহমান তোফায়েল, আব্দুল কদির জীবন, কুবাদ বখত চৌধুরী রুবেল, আবিদ সালমান, শাহজাহান শাহেদ, বদরুদ্দীন ফরহাদ, জেনারুল ইসলাম, আবুযর মাহতাবী, রায়হান কবির, মোশাররফ হোসেন সুজাত, মাজহারুল ইসলাম সাদী, সাজিদ মাহমুদ, মুয়াজ বিন এনাম, মুন্সি আব্দুল কাদির, আমিনা শহীদ চৌধুরী মান্না, হাতিম আল ফেরদৌসী, সাদিক হোসেন এপলু, আহমদ জুয়েল, মিদহাদ আহমদ, জাহেদ জয়, আরমান মুন্না প্রমুখ। নাতে রাসুল (সা.) পরিবেশন করেন গণসংগীত শিল্পী মিছবাহ উদ্দীন, কণ্ঠশিল্পী হিফজুর রহমান, শাহজাহান শাহেদ ও শাহানারা বেগম ইমা। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রাবন্ধিক মো. রফিকুল ইসলাম, আজাদ হুসেইন, আতাউর রহমান বঙ্গী, এডভোকেট জুনেদ আহমদ, ওমর ফারুক, মো. রেজাউল করিম, জিল্লুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম, মাহফুজ আহমদ, মো. নাসির উদ্দিন, এম আলী হোসাইন, আবু তালহা, ফোয়াজা ফারদিন, মো. ওলিউর রহমান, শহীদুল ইসলাম শরীফ, মো. আনোয়ার হোসেন, শমশের আলম, মো. লাহিন নাহিয়ান, আব্দুর রব, আতাউর রহমান, এ.কে. সুজন প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি

 

সোনার সিলেট

মানবতার টানে উদ্ধার কাজে সিলেট জেলার দুই সাহসী রোভার

Published: 27 11 2019   7:57:19 PM   Wednesday   ||   Updated: 27 11 2019   7:57:19 PM   Wednesday
মানবতার টানে উদ্ধার কাজে সিলেট জেলার দুই সাহসী রোভার

বাছিত মোহাম্মদ ।। সিলেট শহরে টুকেরবাজার ইউনিয়নের টুকেরবাজারস্হ দুইটি তুলার দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঘটে। উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও ফায়ার সার্ভিসের সাথে সহযোগিতা করছেন সিলেট মুক্ত রোভার স্কাউট গ্রুপের রোভার মেট মো.জাহেদ আহমদ ও মোঃ জিয়াউল হাসান।

মানবতার টানে এগিয়ে আসেন উদ্ধার কাজে। এসময় তারা সাধ্যমতো সহায়তা করেন ও আহবান জানান এলাকাবাসী কে ।

উল্লেখ্য,  টুকেরবাজার অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায় নি। আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকার মতো ক্ষতি হয় বলে ধারণা করা যাচ্ছে। ব্যবসায়ী দোকানে ভবনে ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ২ টি ইউনিট। ফায়ার সার্ভিসের কর্মী জানান সিগারেট আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে।

সোনার সিলেট

কামরুল আলমের জন্মদিন উপলক্ষে ছড়াসন্ধ্যা অনুষ্ঠিত

Published: 26 11 2019   6:40:26 PM   Tuesday   ||   Updated: 26 11 2019   6:40:26 PM   Tuesday
কামরুল আলমের জন্মদিন উপলক্ষে ছড়াসন্ধ্যা অনুষ্ঠিত

শিশুসাহিত্যিক-ছড়াকার কামরুল আলমের ৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ছড়ার ছোটোকাগজ-ছড়াকণ্ঠ ও পাপড়ি বন্ধুমেলার উদ্যোগে ২৫ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিলেটে এক মনোজ্ঞ ছড়াসন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।
কবি আজমল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জন্মদিনের ছড়াসন্ধ্যায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিলেটের সহ-সভাপতি গল্পকার সেলিম আউয়াল। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ মহা-ব্যবস্থাপক মো. আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক কবি বাছিত ইবনে হাবীব, কলামিস্ট সালেহ আহমদ খসরু, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম-পরিচালক মো. সাজ্জাদুর রহমান, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক অ্যাডভোকেট কবি আব্দুল মুকিত অপি ও কলামিস্ট মোহাম্মদ আব্দুল হক।
ছড়াসন্ধ্যায় ছড়াকার কামরুল আলমকে নিবেদিত ছড়াপাঠ ও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন ঔপন্যাসিক আলেয়া রহমান, ছড়াকার নজমুল হক চৌধুরী, গল্পকার তাসলিমা খানম বীথি, শিশুসাহিত্যিক ও নাট্যাভিনেতা মিনহাজ ফয়সল, কবি তাসনিম যায়েদ, মহালক্ষী সরকারি প্রাথিমক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সামসুন্নাহার, ছড়াকার শাহজাহান শাহেদ, কবি আহমদ সালেহ, ছড়াকার আব্দুল কাদির জীবন, কবি অজয় বৈদ্য অন্তর, ছড়াকার মিজান রহমান, কবি জেনারুল ইসলাম, ইফতেখার শামীম, আলমগীর হোসাইন, রবিউল ইসলাম, আবুযর মাহতাবী, মুয়াজ বিন এনাম, সাইদুল ইসলাম সাইদ, বাছিত চৌধুরী, নাঈমুল ইসলাম গুলজার, আহমদ কয়েছ, মিদহাদ আহমদ, জাহেদ জয়, সাইফুল্লাহ মনসুর ইসহাক, আব্দুল্লাহ বিন আমির প্রমুখ।
আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা ছড়াকার কামরুল আলমের ছড়া ও শিশুসাহিত্যের বিভিন্ন অনুষঙ্গ নিয়ে আলোকপাত করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে গল্পকার সেলিম আউয়াল বলেন, লেখকদেরকে বয়স দিয়ে নয়, মূল্যায়ন করতে হবে তাঁর সৃষ্টিকর্ম দিয়ে। ছড়াকার কামরুল আলমের অনেকগুলো বই প্রকাশিত হয়েছে; এই বইগুলো নিয়ে আলোচনা করা এখন সময়ের দাবি।
অধ্যাপক কবি বাছিত ইবনে হাবীব বলেন, গত দুই দশক থেকে ছড়াসাহিত্য চর্চা করে মানুষের হৃদয়তন্ত্রীতে ঝঙ্কার তুলতে পেরেছেন যে ক’জন তরুণ ছড়াকার, কামরুল আলম তাঁদেরই একজন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ছড়াকার কামরুল আলম সরবে-নীরবে ছড়ার ঝঙ্কারে জাগাতে চেয়েছেন সমাজকে। তাঁর ছড়ায় খেটে খাওয়া মানুষ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কথা ফুটে উঠতে দেখা যায়।
কলামিস্ট সালেহ আহমদ খসরু বলেন, কামরুল আলম শিশু-কিশোরদের কথা ভাবেন। তাই তাঁর ছড়া ও ছোটগল্পগুলোতে শিশু-কিশোরদের মনের কথাগুলো ফুটে ওঠে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম-পরিচালক কবি সাজ্জাদুর রহমান বলেন, কামরুল আলমের লেখায় গ্রাম ও প্রকৃতি ফুটে উঠেছে নানা ব্যঞ্জনায়।
কলামিস্ট মোহাম্মদ আব্দুল হক বলেন, ছড়াকার কামরুল আলম ছড়ার ব্যাকরণ অত্যন্ত ভালো করে বুঝেন এবং তরুণদেরকে বুঝিয়ে দেন। তাই তাঁর নিকট তরুণ ছড়াকারদের ভিড় লেগেই থাকে।
ছড়াসন্ধ্যার শুরুতে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ছড়াকার আহমদ কয়েছ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গল্পকার জুনায়েদুর রহমান। বিজ্ঞপ্তি

 

সোনার সিলেট

পাপড়ি বন্ধুমেলার অভিষেক

Published:   6:37:55 PM   Tuesday   ||   Updated: 26 11 2019   6:37:55 PM   Tuesday
পাপড়ি বন্ধুমেলার অভিষেক

সিলেটে পাপড়ি বন্ধুমেলার অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাহিত্যআসর কক্ষে এ অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।

বন্ধুমেলা সিলেট শাখার সভাপতি ছড়াকার মিজান রহমানের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক ছড়াকার নাঈমুল ইসলাম গুলজারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অভিষেকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম-পরিচালক কবি মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কলামিস্ট সালেহ আহমদ খসরু এবং মহালক্ষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সামসুন্নাহার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বন্ধুমেলার প্রধান উপদেষ্টা পাপড়িবন্ধু ছড়াকার কামরুল আলম। অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কবি আজমল আহমদ, গল্পকার জুনায়েদুর রহমান, ছড়াকার মুয়াজ বিন এনাম ও শিশু সংগঠক সাইদুল ইসলাম সাইদ।

অনুষ্ঠানে অভিষিক্ত বন্ধুমেলা সদস্যরা নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করে ভবিষ্যতে সামাজিক ও মানবিক কাজে বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে সমবেত সকলে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। পরে বন্ধুমেলার নীতিমালা পাঠ করেন সিলেট বন্ধুমেলার অর্থ সম্পাদক মিদহাদ আহমদ। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বন্ধুমেলা সিলেট শাখার সহ-সভাপতি ইফতেখার শামীম, প্রকাশনা সম্পাদক বাছিত মোহাম্মদ, প্রচার সম্পাদক জাহেদ জয়, পাঠাগার সম্পাদক সাইফুল্লাহ মনসুর ইসহাক, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক আব্দুল্লাহ বিন আমির, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মাসুদ তালুকদার প্রমুখ।

অভিষেক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কবি সাজ্জাদুর রহমান বলেন, একটি আলোকিত সমাজ গঠনের জন্য বন্ধুমেলার সদস্যদেরকে কাজ করে যেতে হবে। সিলেট বন্ধুমেলার কার্যকরী পরিষদের সকলেই অত্যন্ত মেধাবী ও চৌকষ। আমি আশা করব তারা সিলেটের শিশু-কিশোর ও তরুণ-যুবকদের মধ্যে আলোর দিশারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে।

বিশেষ অতিথি সালেহ আহমদ খসরু বলেন, বন্ধুমেলা হচ্ছে বন্ধুদের সংগঠন। এই প্ল্যাটফরমটি গড়ে তোলার জন্যে পাপড়ির কর্ণধার কামরুল আলমকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা ছোট-বড় সকল বন্ধুরা মিলে সিলেটের শিশু-কিশোরদের কল্যাণে কাজ করব ইনশাআল্লাহ। বিজ্ঞপ্তি

 

 

 

 

 

সোনার সিলেট

ছড়াকার কামরুল আলম-এর ৩৯তম জন্মবার্ষিকী আজ

Published: 25 11 2019   8:46:15 AM   Monday   ||   Updated: 25 11 2019   8:46:15 AM   Monday
ছড়াকার কামরুল আলম-এর ৩৯তম জন্মবার্ষিকী আজ

বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় ছড়াকার ও শিশুসাহিত্যিক কামরুল আলম-এর ৩৯তম জন্মবার্ষিকী আজ ২৫ নভেম্বর। ১৯৮০ সালের এই দিনে কামরুল আলম সিলেটের জকিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম করামত আলীও ছিলেন একজন স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ ও কবি।

প্রায় দুই দশকেরও অধিক সময় ধরে দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সাহিত্য সাময়িকী ও পত্রপত্রিকায় তাঁর শিশুতোষ, বিষয়ভিত্তিক, সমসাময়িক, রম্য এবং সিরিয়াস ছড়া প্রকাশিত হয়ে আসছে। ছড়ার পাশাপাশি গল্প, প্রবন্ধ এবং সমকালীন বিষয়ের ওপর কলামও লিখছেন তিনি। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত একক বইয়ের সংখ্যা ১৪টি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-কিচিরমিচির (শিশুতোষ ছড়া), পড়ার মতো ছড়া (সমকালীন ছড়া), নীল আকাশের বুকে (কিশোর কবিতা), ছোটোদের ছুটি (শিশুতোষ ছড়া), লাল সবুজের মাঠে (শিশুতোষ ছড়া), লক্ষ ফুলের পাপড়ি (শিশুতোষ ছড়া), তিড়িং বিড়িং ফড়িং ধরিং (শিশুতোষ ছড়া), সোনার পাখি ও ভিনগ্রহের বাসিন্দারা (কিশোর গল্প), খাঁচার পাখি (কিশোর গল্প), একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক শিশুতোষ গল্প), সবুজের অবুঝ মন (শিশুতোষ গল্প) ইত্যাদি। সম্পাদনা করেছেন ‘ছড়িয়ে দিলাম ছড়ার আলো’ নামে সিলেটের ১৮জন ছড়াকারের ১৮০টি ছড়ায় সমৃদ্ধ একটি যৌথ ছড়াগ্রন্থ।

ছড়াকার কামরুল আলমের ৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ২৫ নভেম্বর সিলেটের কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্যসংসদের সাহিত্যআসর কক্ষে সমসাময়িক ছড়ার কাগজ ছড়াকন্ঠের উদ্যোগে এক মনোজ্ঞ ছড়াসন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ছড়াকার, কবি, শিশুসাহিত্যিক ও তাঁর শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানাবেন; অংশ নিবেন জন্মদিনের আড্ডায়। এছাড়াও তাঁকে নিবেদিত ছড়াপাঠ করবেন সিলেটের নবীন-প্রবীণ ছড়াকারগণ। তিনি নিজেও পরিবেশন করবেন তাঁর প্রিয় কয়েকটি ছড়া।

কামরুল আলম শুধুমাত্র একজন শিশুসাহিত্যিক-ছড়াকারই নন, একজন সম্পাদকও। তিনি বর্তমানে সিলেটের অন্যতম জনপ্রিয় দৈনিক জালালাবাদ-এর শিশু-কিশোর পাতা সপ্তডিঙার বিভাগীয় সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। পূর্বে তিনি দৈনিক প্রভাতবেলার শিশু-কিশোর পাতা অঙ্কুর-এর বিভাগীয় সম্পাদক ছিলেন। তিনি কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের প্রাক্তন নির্বাহী কর্মকর্তা। এছাড়া তাঁর সম্পাদনায় বের হয়েছে শিশু-কিশোরদের মনন বিকাশধর্মী কাগজ-কচি, শিল্পসাহিত্যের ছোটকাগজ-ধ্রæবতারা, সমসাময়িক ছড়ার কাগজ-ছড়াকণ্ঠ। বর্তমানে তিনি সৃজনশীল প্রকাশনী সংস্থা পাপড়ির কর্ণধার এবং তাঁর সম্পাদনায় নিয়মিত বের হচ্ছে পাপড়ি শিশু-কিশোর পত্রিকা। তিনি সিলেট শিশুসাহিত্য সংসদ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী ছড়াসংগঠন ছড়াপরিষদ সিলেটের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। ছড়াসাহিত্য ও শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য এরই মধ্যে পেয়েছেন ঝাল সৃজনশীল ছড়াচর্চাকেন্দ্র সম্মাননা স্মারক, আমাদের ডাক শিশুসাহিত্য পদক। এছাড়া ছড়াপরিষদ সিলেট ও সিলেট সাহিত্য পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে শ্রেষ্ঠ ছড়াকারের সম্মান অর্জন করেছেন বহুবার।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এমসি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্সসহ মাস্টার্স এবং সিলেট ল কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রিধারী পেশায় ব্যবসায়ী ও নেশায় লেখক কামরুল আলম স্ত্রী এবং এক ছেলে ও মাকে নিয়ে বসবাস করছেন সিলেট শহরেই। তাঁর স্থায়ী আবাস সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে। ছড়াকার কামরুল আলমের বড়োভাই ড. জহরুল আলম কানাডার মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটিতে গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। পূর্বে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। অপর বড়োভাই বদরুল আলম ইউনাইটেড আরব আমিরাতের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে ক্রিয়েটিভ ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত। তাঁর একমাত্র বড়োবোন সুলতানা বেগম বিবাহিতা এবং চার সন্তানের জননী।

উল্লেখ্য ছড়াকার কামরুল আলমের ৩৯তম জন্মাবার্ষিকী উপলক্ষে তরুণ ছড়াকার মুয়াজ বিন এনামের সম্পাদনায় ছড়াকন্ঠের একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। কেমুসাস সাহিত্যআসর কক্ষে জন্মদিন উপলক্ষে আজকের ছড়াসন্ধ্যায় ছড়াকণ্ঠের জন্মদিন সংখ্যাটির মোড়ক উন্মোচন করা হবে। এতে উপস্থিত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

সোনার সিলেট

কেমুসাসের ১০৬০তম সাহিত্য আসর

Published: 21 11 2019   9:35:12 PM   Thursday   ||   Updated: 21 11 2019   9:35:12 PM   Thursday
কেমুসাসের ১০৬০তম সাহিত্য আসর

নিজস্ব প্রতিবেদক।। কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের ১০৬০তম সাহিত্য আসরে বক্তারা বলেছেন, লেখকরা একটা জাতিকে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখান। সব ধরনের জঞ্জাল-যন্ত্রণা পেছনে ফেলে স্বনির্ভর ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত করেন মন ও মনন। বক্তারা বলেন, কেমুসাসের সাহিত্য আসরে নিয়মিত অংশ নেওয়া তরুণ লেখকরা একদিন জাতির সেই কাঙ্খিত মুখপাত্র হয়ে ওঠবেন বলে আমরা মনে করি।
বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর ২০১৯) রাতে সংসদের সাহিত্য আসর কক্ষে অনুষ্ঠিত আসরে সভাপতিত্ব করেন কলামিস্ট বেলাল আহমদ চৌধুরী। আসরে আলোচনায় অংশ নেন- বিশিষ্ট কলামিস্ট ইনাম চৌধুরী, কেমুসাসের সহ-সভাপতি সেলিম আউয়াল, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক আব্দুল মুকিত অপি এডভোকেট, কার্যকরী পরিষদ সদস্য জাহেদুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো: আমিনুল ইসলাম, পঠিত লেখার ওপর আলোচনা করেন প্রাবন্ধিক মোহাম্মদ আব্দুল হক ও ছড়াকার কামরুল আলম।
আসরে লেখাপাঠে অংশ নেন- সিরাজুল হক, মো: সাব্বির আহমেদ তুষার, মো: কেপাতুল ইসলাম, এম আশরাফ আলী, আহমদ জুয়েল, সাইফুল্লাহ মনসুর ইসহাক, নাঈমুল ইসলাম গুলজার, মিদহাদ আহমদ, মোছা: মুয়িদা চৌধুরী, মো: একরাম হোসেন, মকসুদ আহমদ লাল, ইফতেখার হোসাঈন শামীম, বরাতুল ইসলাম, জোবায়দা বেগম আঁখি, ড: মো: রহিমুল্যাহ মিঞা, এহসানুল আমিন, আব্দুল কাদির জীবন, শমশের আলম, মো: মাহমুদুল হাসান, সৈয়দ কামরুল হাসান, জালাল জয়, মনজুর মোহাম্মদ, সাদিক হোসেন এপলু, লিলু মিয়া, রায়হান কবির। গান পরিবেশন করেন- কুবাদ বখত চৌধুরী রুবেল ও আহমদ কায়েছ। গল্পকার তাসলিমা খানম বীথির উপস্থাপনায় আসরের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কামাল আহমদ।

সোনার সিলেট

কাতিব মিডিয়ায় ক্লায়েন্টদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ : নেপথ্যে কী?

Published: 16 11 2019   10:34:29 AM   Saturday   ||   Updated: 16 11 2019   10:34:29 AM   Saturday
কাতিব মিডিয়ায় ক্লায়েন্টদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ : নেপথ্যে কী?

সিলেট শহরের খ্যাতনামা ডিজাইন হাউজ কাতিব মিডিয়া। বিশেষত সিলেট অঞ্চলের ধর্মীয় ঘরানায় এর জনপ্রিয়তা একসময় তুঙ্গে ছিল। মাহফিল, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—ধর্মীয় ঘরানার যেকোনো প্রোগ্রামের প্রচারণার কাজ একসময় সকলেই এখান থেকে করাতেন। এর কারণ মূলত দুইটা। এক. কাতিব মিডিয়ার কাজের মান। দুই. কাতিব মিডিয়ার সত্ত্বাধিকারীর পরিচয়।

কাতিব মিডিয়া যে সমস্ত ডিজাইনের কাজ করত, তা ধর্মীয় ঘরানার সকলেরই মনঃপুত হতো। এ ছাড়া এর কর্ণধার ইনাম বিন সিদ্দীক আঞ্জুমানে তালিমুল কুরআন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও দেশ বিখ্যাত কারী হজরত আলী আকবর সিদ্দীক ভানুগাছী রহ.-এর ছেলে হবার কারণে সকলেরই বাড়তি একটা আগ্রহ ছিল কাতিব মিডিয়ার প্রতি। ফলে সেই ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে ইনাম বিন সিদ্দিক যখন প্রিন্ট ও ডিজাইনের ব্যবসা শুরু করেন, তখন থেকেই তিনি পিতার পরিচয়ের সুবাদে ধর্মীয় অঙ্গনের মনযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হন।

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তিনি একচেটিয়াভাবে ধর্মীয় ঘরানার মাহফিল সেমিনারের পোস্টার, লিফলেট, ব্যানার, ফেস্টুন, বিভিন্ন স্মারকগ্রন্থ, ক্যালেন্ডার ইত্যাদির কাজ করে আসছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছে, তিনি তাঁর ক্লায়েন্ট বা গ্রাহকদের সঙ্গে ভালো আচরণ করছেন না। কাজও আগের মতো গোছিয়ে করেন না। কাজে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে যায়, এ ব্যাপারে ক্লায়েন্টরা অভিযোগ করলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন তিনি।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী ক্লায়েন্ট এ ব্যাপারে টাইম টিউনে মেইল করে অভিযোগ জানিয়েছেন। অনেকের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল, কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে এসে দেখা যায়, তিনি এখন বেশ রূঢ় আচরণ করছেন তাঁদের সঙ্গে।

নামপরিচয় গোপন রাখার শর্তে সিলেটের একটি মাদরাসার দায়িত্বশীল এক ক্লায়েন্ট বলেন, কাতিব মিডিয়ায় আমরা  নিয়মিত কাজ করাই। মাদরাসার মাহফিল প্রোগ্রাম ইত্যাদি অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রকাশিত পোস্টার লিফলেট ব্যানার ফেস্টুন, মাদরাসার ক্যালেন্ডার সবই কাতিব থেকে করাই। কিন্তু গত দেড় বছর ধরে কাতিবের কর্ণধার ইনাম বিন সিদ্দীকের আচরণ বেশ রূঢ় হয়ে গেছে। এর আগে তিনি বেশ নম্র ও ভালো আচরণ করতেন, ব্যবসায়ীরা কাষ্টমারের সাথে যেমনটা করে থাকেন, কিন্তু এখন যেন এসবের কোনো কেয়ার করেন না। কাজও আগের মতো সুন্দর করে করেন না।

তিনি বলেন, কাজের ক্ষেত্রে এখন তিনি অনেক ডিমান্ডও দেখান। পুরনো ও নিয়মিত কাষ্টমার হিসেবে যে মূল্যায়ন পাওয়ার কথা, সেটাও তিনি দেন না। বরং এমন মনোভাব দেখান, যেন তাঁর কাছে কাজ না করালেই কোনোকিছু যায় আসে না।

এ ব্যাপারে অবশ্য কাতিব মিডিয়ার বক্তব্য ভিন্ন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইনাম বিন সিদ্দীক নানা সময় অভিযোগ করে এসেছেন, প্রচুর কাষ্টমারের কাছে তাঁর বকেয়া পাওনা পড়ে আছে। এরা কাজ করায় ঠিকই, কিন্তু টাকা দেওয়ার সময় গড়িমসি করে। অনেক পরিচিত কাষ্টমারও পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে বাকিতে কাজ করিয়ে নেয়, পরে সময়মতো টাকা পরিশোধ করে না। অনেকে বছরের পর বছর ধরে টাকা আটকে রাখে। এসব দিক বিবেচনায় তিনি কাষ্টমারের সাথে টাকা-পয়সার ব্যাপারে ‘ক্লিয়ার-কাট’ কথা বলেন।

তবে অভিযোগকারী কাষ্টমাররা বলছেন, সবাই তো আর এমন করেন না। দু-একজনের অসততার দায়ে ঢালাওভাবে সব কাষ্টমারের সঙ্গে তাঁর এমন আচরণ উচিত নয়। তাঁর বাবা মাওলানা আলী আকবর সিদ্দীক রহ. সিলেটের সর্বজন শ্রদ্ধেয় বুজুর্গ ব্যক্তিত্ব ছিলেন, উনার প্রতি সম্মান ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার খাতিরে তাঁর কাছে কাজ করাতে আসেন অনেকেই। যাদের মধ্যে সাত-পাঁচ না বোঝা গ্রাম্য অনেক সাধাসিধে আলেমও থাকেন।

এ ছাড়া কাতিব মিডিয়ায় বিভিন্ন কাজ করান এমন আরও বেশ কয়েকজন অভিযোগ করেছেন, ইনাম বিন সিদ্দীক বড় একজন বুজুর্গের সন্তান এবং নিজেও একজন আলেম হওয়া সত্ত্বেও নামাজের পাবন্দি করেন না। প্রায় সময়ই তাঁরা কাজ করাতে গিয়ে দেখেছেন নামাজের সময়ে তাঁরা নামাজে গেলেও ইনাম বিন সিদ্দীক আপন কাজেই বসে থাকেন। এক ওয়াক্তের পর আরেক ওয়াক্ত আসে, সেদিকে তিনি ভ্রুক্ষেপই করেন না।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইনাম বিন সিদ্দীক একসময় ডিজাইন ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল থাকলেও বর্তমানে তিনি ইউটিউবিংয়ের দিকে ঝুঁকেছেন। কাতিব মিডিয়াসহ একাধিক ইউটিউব চ্যানেলের মালিক তিনি। ডিজাইন ব্যবসার চেয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার দিকেই বেশি মনযোগ দিয়েছেন। আর এর সুবাদে ইসলাম-বহির্ভূত বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে তিনি সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

সিলেট থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তরুণ একাধিক আলেম টাইম টিউনকে বলেন, ইউটিউবের দিকে বেশি মনযোগী হবার কারণেই মূলত ডিজাইন ব্যবসা নিয়ে তিনি এতো ভাবছেন না। ডিজাইন ব্যবসার চেয়ে ইউটিউব থেকে অনেক বেশি আয় করছেন। ফলে কাষ্টমারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখারও খুব গরজ দেখাচ্ছেন না।

ইউটিউব ভিত্তিক যে ভিডিওগুলো তিনি বানান, সেখানেও কোনো কোনো ভিডিও নিয়ে সমালোচনা হতে দেখা গেছে। আঞ্জুমান কমপ্লেক্স মসজিদের ভেতরে একটা অনুষ্ঠানের ভিডিও ধারণের ব্যাপারে প্রশ্ন তুলে তাঁরা বলছেন, মসজিদের ভেতর এভাবে ভিডিও করা নিতান্ত দৃষ্টিকটূ এবং মসজিদের আদবের খেলাপ কাজ মনে হয়েছে তাঁদের কাছে।

ইসলামি চেতনা ও আদর্শের সঙ্গে বেমানান অনেক ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা  সম্পর্কে তাঁরা বলেন, ওইসব ইউটিউব চ্যানেল থেকে বিভিন্ন ধরনের নাটক তৈরি হয়। তিনি ওসবে নিয়মিত উৎসাহ দেন এবং তাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে শরিক থাকেন। এমনকি তাঁর নিজের ইউটিউব চ্যানেল থেকেও সেসব চ্যানেল ও চ্যানেলে প্রচারিত নাটকের ব্যাপারে উৎসাহমূলক ভিডিও আপলোড দেন। যা খুবই দুঃখজনক। কারণ, তিনি সিলেটের সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন বুজুর্গের সন্তান। তাঁর পক্ষে ইসলামি চেতনা বহির্ভূত কাজের ব্যাপারে উৎসাহপ্রদান খুবই বেমানান ও হতাশাজনক। তাছাড়া তিনি যে ইউটিউবকে নিজের উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন, সেখানেও তো অনেক প্রশ্ন আছে। তিনি যেভাবে ঢালাওভাবে ইউটিউবিং করছেন, এখান থেকে আহরিত অর্থ কতটা হালাল?

ইউটিউব থেকে ইনকামের টাকা কতটা হালাল এবং শরিয়াহ সম্মত তা জানতে চেয়ে টাইমটিউন থেকে কথা হয়েছিল তরুণ মুফতী মাওলানা লুৎফুর রহমান ফরায়েজী, মুফতী উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী এবং মুফতী খালেদ আহমদের সঙ্গে। তাঁরা প্রত্যেকেই মোটামুটি একই বক্তব্য দিয়েছেন।

তাঁরা বলছেন, অনলাইনে আয়ের হাজার হাজার পদ্ধতির মধ্যে ইউটিউব থেকে আয় একটি জনপ্রিয় উপায়। বর্তমানে তরুণ সমাজের আয়ের অন্যতম মাধ্যম এটি। স্বাভাবিকতই প্রশ্ন ওঠে এই আয়ের টাকা কতটা হালাল?

জেনে রাখা জরুরি, গুগলের একটি বিশেষ সার্ভিস–গুগল এডসেন্স। এর মাধ্যমে গুগল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপন অর্থের বিনিময়ে ইউটিউবসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে সম্প্রচার করে। আর ওখান থেকে নির্ধারিত একটা অংশ তারা ইউটিউবারদের দিয়ে থাকে। সুতরাং বিজ্ঞাপনগুলো যদি অশ্লীল ও হারাম পণ্যের হয়, তাহলে তা থেকে প্রাপ্ত অর্থ হালাল হবে না। বরং, তা হারাম অর্থ হওয়ার পাশাপাশি হারামের প্রচার ও সহযোগিতা করার গোনাহ অর্থগ্রহণকারী ইউটিউবারকে বহন করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, নিশ্চয়ই তাদের জন্য ইহকালে ও পরকালে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি’।  (সুর নূর, আয়াত : ১৯) এ ছাড়াও অসংখ্য হাদীসে রয়েছে এ ব্যাপারে।

পক্ষান্তরে ‘এডসেন্স’-এ সেনসিটিভ অপশনের মাধ্যমে যদি কেউ অশ্লীল ও হারাম পণ্যের এড বন্ধ রেখে অনৈসলামিক-বিজ্ঞাপনগুলো উপেক্ষা করা যায়, তাহলে তা থেকে প্রাপ্ত অর্থ হালাল হবে।

কিন্তু ইউটিউব এডসেন্স প্রক্রিয়াগতভাবেই সম্পূর্ণ হারাম। কারণ ইউটিউবে যে অ্যাডগুলো আসে তার ৫০%-এরও বেশি অ্যাড খারাপ থাকে, চাইলেও সে অ্যাডগুলোকে ব্লক করা যায় না, কিছু অবশ্যি ব্লক করা যায়, কিন্তু সম্পূর্ণ পারা যায় না। তাই এই ইনকাম হালাল হবার কোনো সুরত নেই।

এ বিষয়ে টাইম টিউন থেকে ইনাম বিন সিদ্দীকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

timetune24

সোনার সিলেট

ইতিহাসের পাতা থেকে ‘দানবীর আলহাজ্ব মৌলভী কেরামত আলী’

Published: 03 11 2019   12:31:43 PM   Sunday   ||   Updated: 03 11 2019   12:31:43 PM   Sunday
ইতিহাসের পাতা থেকে ‘দানবীর আলহাজ্ব মৌলভী কেরামত আলী’
খালিদ সাইফুল্লাহ্ || আজ ৩ নভেম্বর ২০১৯ ইংরেজি , দানবীর আলহাজ্ব মৌলভী কেরামত আলী’র ৫০ তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ছিলেন একাধারে একজন দানশীল, রাজনীতিবিদ, শিল্পোদ্যোক্তা, সংগঠক,বিচারক, শিক্ষানুরাগীসহ বহুমূখী প্রতিভার অধিকারী ব্যক্তিত্ব। তিনি নিজের বুদ্ধিমত্তা ও কর্মনিষ্ঠাকে কাজে লাগিয়ে সুনাম-খ্যাতির শীর্ষে অবস্থান করছেন স্বমহিমায় আজও। আজও তাঁর মহৎ ব্যক্তিত্বের গল্প, বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে ভারত, পাকিস্তান, চীন, জাপান, সৌদি আরব ও ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের অগণিত রাষ্ট্রে বিরাজমান। দানবীর আলহাজ্ব মৌলভী কেরামত আলী মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার বাদে সোনাপুর নামক প্রত্যন্ত অঞ্চলে ১৯০১ সালে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মৌলভী মোঃ সফাত আলী (সফাত আলী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা,কমলগঞ্জ যার নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে); যিনি ছিলেন একজন মৌলভী এবং মাতা মোছাঃ মরিয়ম বিবি; যিনি ছিলেন একজন সুগৃহিণী। সাত ভাই-বোনদের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। দানবীর আলহাজ্ব মৌলভী কেরামত আলী বাল্যকালে গ্রামের পাঠশালা বিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করেন, অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাথমিক পর্যায় শেষ করে জুনিয়র হাইস্কুলে ভর্তি হন এবং মাইনার (ষষ্ঠ) পর্যন্ত পড়ালেখা করে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের ইতি টানেন । এছাড়াও তিনি স্থানীয় মক্তবে বেশকিছুদিন গুরুত্বসহকারে আরবী, ফারসী ও উর্দু শিক্ষাগ্রহন করেন। তিনি ধার্মিক মুসলিম পরিবারে জন্মলাভের সুবাদে উচ্চমানের পারিবারিক শিক্ষার আদলেই বড় হন। আর উচ্চমানের পারিবারিক শিক্ষা ও আরবী শিক্ষা রপ্ত করে নিজেকে অল্পবয়সেই বুদ্ধিমান, কর্মঠ, চরিত্রবান, নিষ্ঠাবান, অদম্য সাহসী ও অন্যায়ের বিরদ্ধে প্রতিবাদী কন্ঠস্বর হিসেবে সমাজে উপস্থাপন করতে সক্ষম হন। তিনি সাংসারিক জীবনে মরহুমা জুলেখা খাতুনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের ৩ ছেলে ও ৪ মেয়ে রয়েছে। তিনি ১৯৩০-১৯৩২ সালে অল্পকিছু পুঁজি নিয়ে বনজমহালের ব্যবসা শুরু করেন। বনজমহালের ব্যবসায় আত্মনিয়োগের মাধ্যমে ঈর্ষনীয় মুনাফা অর্জন করতে সফল হন এবং ব্যবসাপরিধি ধীরেধীরে প্রসারিত করেন, এরই ধারাবাহিকতায় তখন থেকে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান সরকারের বনবিভাগ থেকে জুড়ি রেঞ্জ,রাজকান্দি রেঞ্জ ও রঘুনন্দন রেঞ্জের অধিকাংশ বনজমহাল ক্রয় করতেন এবং বনজমহালের পাশাপাশি পাট, চা, ইট, জ্বালানী, মেশিনারী সামগ্রীসহ আরও অনেক ধরণের ব্যবসা শুরু করেন। তৎকালীন সময় তিনি বর্তমান সিলেট বিভাগের মধ্যে প্রসিদ্ধ কেরামতনগর ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (কে.আই.সি), কেরামতনগর, কমলগঞ্জ নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন এবং ঐ প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসার বিভিন্নসামগ্রী দেশ-বিদেশে সরবরাহ করতেন। তখন তাঁর ব্যবসার পরিধি তড়িৎগতিতে বেড়ে যায়। তাঁর ব্যবসায়িক পণ্য শুধু অবিভক্ত পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা পূর্ব পাকিস্তানের গন্ডি পেরিয়ে সমগ্র পাকিস্তানে ছড়িয়ে পড়ে এবং খুব শিঘ্রি তা বিশ্বের অগণিত রাষ্ট্রে সুনামের সাথে জায়গা করে নেয়। তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তিনি পাট ও বনজমহালের (বাশ ও গাছ) অফিস স্থাপন করেন। ঐ জায়গাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটির নাম হলঃ নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা (প্রধান অফিস), মনুমুখ, আশুগঞ্জ, তামাকপট্টি, ফান্দাউক। তৎকালীন সময় তিনি লন্ডনের ডান্ডি শহর ও আদমজি জুটমিলসহ অন্যান্য জুটমিলে পাট রপ্তানি করতেন। তিনি তৎকালীন সরকারের শিল্পখাত, কৃষিখাত ও পাটখাতসহ বিভিন্নধরণের বানিজ্য ও রপ্তানিখাতকে সমৃদ্ধকরণের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করেন, এসব কাজের অংশ হিসেবে সরকারিভাবে বিশ্বের সতেরটিরও অধিক দেশে সফর করেন। ফলে তৎকালীন সময় বর্হিবিশ্বে তিনি যথেষ্ট সুনাম অর্জন করতে সচেষ্ট হন; আর এভাবেই বর্হিবিশ্বে নিজেকে একজন সফল শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি একজন প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ১৯৪৫ সালে প্রাক্তনমন্ত্রী জসিম উদ্দিনকে সাথে নিয়ে কৃষাণলীগ গঠন করেন। তিনি ১৯৪৬ সালে অনুষ্ঠিত আইন পরিষদ র্নিবাচনে কৃষাণলীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে আইন পরিষদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করে প্রতিপক্ষের কাছে পরাজিত হন। তারপর থেকে বেশ কিছুদিন পর্যন্ত তিনি বিচক্ষণতার সাথে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি অবলোকন করেন। আর তখন ভাষা আন্দোলন প্রকট থেকে প্রকটতররূপ ধারণ করলে তিনি সে আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করেন ও ভাষা আন্দোলনকে সফল করার লক্ষ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করেন। ঠিক এরপরই তিনি শেরে বাংলা আবুল কাসেম ফজলুল হকের নজরে পড়েন। তাঁদের মধ্যে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠলে শেরে বাংলাকে পরম শ্রদ্ধাভরে ‘দাদাভাই’ বলে ডাকতেন তিনি; সেই সম্পর্কের ছোঁয়া তাঁদের পরিবারদ্বয়ের মধ্যেও ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি করে। প্রকৃতার্থে পাকিস্তানের প্রকৃত স্থপতি শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের সান্নিধ্য তাঁর জীবনে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। সেই সুবাদে শেরে বাংলার নেতৃত্বে প্রত্যেকটি আন্দোলনে স্বতঃর্স্ফুতভাবে অংশগ্রহন করেন এবং ১৯৫৩ সালে শেরে বাংলার নেতৃত্বে ‘কৃষক শ্রমিক পার্টি’র প্রতিষ্ঠাকালে মূখ্যভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ র্নিবাচনে যুক্তফ্রন্ট এর কৃষক শ্রমিক পার্টি থেকে মনোনয়ন নিয়ে পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এম.এল.এ র্নিবাচিত হন। কিন্তু ১৯৫৪ সালের ২৪ অক্টোবর যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠনের প্রায় দুই মাস পর তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার জরুরী অবস্থা জারীর মাধ্যমে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বাতিল করে এবং শেখ মুজিবুর রহমান ও আলহাজ্ব কেরামত আলীসহ মোট ৩৫ জন যুক্তফ্রন্ট নেতাকর্মীকে গ্রেফতারর্পূবক জেলহাজতে প্রেরণ করে। পরর্বতীতে ১৯৫৫ সালের ৬জুন সকল বন্দিদের সাথে কেরামত আলীও মুক্তি পান। ১৯৬০ সালের দিকে তিনি রাষ্ট্রপ্রধান আইয়ুব খানের নজর কাড়তে সক্ষম হন এবং খুব অল্প দিনের মধ্যেই আইয়ুব খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজনে পরিণত হন।

তখন তৎকালীন অবিভক্ত পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ-আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনবদ্য ভূমিকা রাখার সুযোগ লাভ করেন । বিশেষ করে অনগ্রসর ও অবহেলিত তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গভর্ণর মোনায়েম খানের সাথে যুগপৎভাবে কাজ করতে সক্ষম হন। যার ফলশ্রুতিতে তৎকালীন সময় পাকিস্তানের মধ্যে একজন জনপ্রিয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হিশেবে আবিভূত হন দানবীর আলহাজ্ব মৌলভী কেরামত আলী। ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান ক্ষমতা দখলের পর পঞ্চায়েত পদ্ধতি বাতিল করে ‘মৌলিক গণতন্ত্র’র মাধ্যমে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করেন এবং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভোটে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধি নির্বাচনের পদ্ধতি চালু করেন। আলহাজ্ব কেরামত আলী উক্ত নির্বাচনে নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে জ্যোষ্ঠপুত্র দানবীর মুহিবুর রহমান (চেরাগ আলী) কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ করে দেন। ফলে ১৯৬০ সালে দানবীর মুহিবুর রহমান (চেরাগ আলী) ৫নং কমলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ও ১৯৬২ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। আইউব খান গঠিত কনভেনশন মুসলিমলীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে আলহাজ্ব কেরামত আলী ১৯৬৫ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন। তিনি আজীবন ঐ পদে আসীন ছিলেন। এসব জাতীয় নির্বাচনে তাঁর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সিলেট অঞ্চলের স্বনামখ্যাত পরিবারের সন্তান প্রয়াত স্পীকার হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর মাতা জনাব সিরাজুন্নেসা ও মৌলভীবাজার জেলার পৃথিমপাশা এলাকার প্রথিতযশা জমিদার নবাব আলী আমজাদ খানের পৌত্র নবাব আলী সফদার খান রাজা। তিনি ছিলেন একজন দানশীল ব্যক্তিত্ব। তিনি অনগ্রসর ও পশ্চাতপদ সিলেট বিভাগের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে নিজের সর্বোচ্চ অর্থ, মেধা ও শ্রম নির্দ্বিধায় উৎসর্গ করেন, এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সিলেট বিভাগের বিভিন্নস্থানে মানুষের ভালবাসা ও মমত্ববোধের নির্দশনস্বরূপ অনেক অবদান রেখেছেন। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ ১) তিনি অবিভক্ত পূর্বপাকিস্তানের মধ্যে প্রসিদ্ধ সফাত আলী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা, কেরামতনগর, কমলগঞ্জ ও মাদ্রাসা সংলগ্ন ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেন । ২) তিনি ‘আলহাজ্ব কেরামত আলী জামে মসজিদ’, কেরামতনগর, কমলগঞ্জ নামক একটি আকর্ষনীয় গম্ভুজ আকৃতির মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন । যা কমলগঞ্জ উপজেলার মধ্যে বড় মসজিদ নামে পরিচিত। ৩) তিনি ‘কেরামতনগর-৩২২১’,কমলগঞ্জ নামক ডাকঘর প্রতিষ্ঠা করেন। ৪) তিনি মৌলভীবাজার সরকারী কলেজ, মৌলভীবাজার প্রতিষ্ঠার জন্য বড় অংকের আর্থিক সহযোগীতার পাশাপাশি অত্রপ্রতিষ্ঠানের একটি বিজ্ঞান ভবন প্রতিষ্ঠা করেন এবং অত্র কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ৫) তিনি ভানুগাছ বাজার, কেরামতনগর কমলগঞ্জ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। ৬) তিনি কমলগঞ্জ কালীমন্দির, কমলগঞ্জ প্রতিষ্ঠার জন্য জায়গা দান করেন। ৭) তিনি হীড বাংলাদেশ, কেরামতনগর, কমলগঞ্জ প্রতিষ্ঠার জন্য জায়গা দান করেন। ৮) ) তিনি ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন, কেরামতনগর, কমলগঞ্জ এর ওয়েটিং রুম প্রতিষ্ঠা করেন। ৯) তিনি শ্রীমঙ্গল সরকারী কলেজ,শ্রীমঙ্গল প্রতিষ্ঠার জন্য আর্থিক সহযোগীতা হিসেবে ক্যাশ পঞ্চাশ হাজার টাকা এবং পঞ্চাশ হাজার টাকার মালামাল সামগ্রী প্রদান করেন এবং অত্রপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূখ্যভূমিকা পালন করেন। ১০) তিনি পুরাতন মেডিকেল হাসপাতাল,সিলেট প্রতিষ্ঠার জন্য বড় অংকের আর্থিক সহযোগীতার পাশাপাশি অত্রপ্রতিষ্ঠানের বৃহৎ সীমানা প্রাচীর তৈরী করে দেন এবং পুরাতন মেডিকেল হাসপাতাল,সিলেট প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূখ্যভূমিকা পালন করেন। ১১) তিনি আঞ্জুমানে তরক্কীয়ে উর্দু, সিলেট প্রতিষ্ঠার জন্য বড় অংকের আর্থিক সহযোগীতার পাশাপাশি অত্রপ্রতিষ্ঠানের একমাত্র ভবন (পুরাতন) প্রতিষ্ঠা করেন । ১২) তিনি সিলেট শাহী ঈদগাহ প্রতিষ্ঠার জন্য আর্থিক সহযোগীতা প্রদান করেন । তাছাড়া তিনি ব্যক্তিগত ও সরকারি কাজে দেশের সীমানা পেরিয়ে পৃথিবীর বহু দেশ ভ্রমণ করেন। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হল যে, নিজ এলাকা ও দেশের সীমানা পেরিয়েও ভ্রমণকৃত অনেকস্থানেই মানুষের ভালবাসা ও মমত্ববোধের নির্দশনস্বরূপ অনেক অবদান রেখেছেন। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ ১৩) তিনি ১৯৪২ সালে সিলং চক্ষু হাসপাতাল,সিলং (ভারতের সিলং শহরে অবস্থিত একটি চক্ষু হাসপাতাল) প্রতিষ্ঠার জন্য একলক্ষ টাকা প্রদান করেন এবং অত্রপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৪) তিনি অবিভক্ত পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি শহরে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন । ১৫) তিনি অবিভক্ত পাকিস্তানের পাঠান প্রদেশে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৬) সৌদি আরবে হজ্ব যাত্রীদের থাকার জন্য অনেকগুলো পাকার দালান প্রতিষ্ঠা করেন । পৃথিবীর ইতিহাসে এমন দানশীলতা সত্যিই বিরল। এশিয়া মহাদেশ বিশেষ করে উপমহাদেশের বিভিন্নস্থানে সদা বহমান দানশীলতার অগণিত স্মৃতিচিহ্নগুলোর আলপনার বাঁকেবাঁকে তিনি বেঁচে থাকবেন যুগযুগ। আজও ইতিহাসের পাতায় তিনি একজন বিখ্যাত দানবীর হিসেবেই সমধিক পরিচিত। ১৯৬৮ সাল, রাষ্ট্রপ্রধান আইউব খান গঠিত কনভেনশন মুসলিমলীগ সরকার পতনের আন্দোলন একটু একটু করে বেড়েই চলেছে। গণঅভুত্থানের বিস্ফোরণে বিশ্ব ইতিহাসের আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তিত্ব রাষ্ট্রপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আইউব খানের করুণ বিদায় সময়ের ব্যাপার মাত্র। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থতিতে গনমানুষের বন্ধু আলহাজ্ব কেরামত আলী নীরব থাকতে পারেননি। তিনি কখনও ব্যক্তিগতভাবে আবার কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দফায় দফায় সাক্ষাৎ করে সংকট নিরসনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতিকে। দেশের মধ্যে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা দূর করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তাদের পরামর্শের প্রেক্ষিতেই রাষ্ট্রপতি করাচীর মধ্যে মিউনিসিপ্যাল নির্বাচন ঘোষণা করেন। করাচীতে অনুষ্ঠিত মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে আইয়ুব খান সমর্থিত দল কনভেনশন মুসলিমলীগ সুচনীয়ভাবে পরাজিত হলে আইয়ুব খান ভেঙে পড়েন। তখন দানবীর আলহাজ্ব মৌলভী কেরামত আলী রাষ্ট্রপতির সাথে ব্যক্তিগতভাবে ও আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষাৎ করে জাতীয় নির্বাচন দিতে জোর দাবি জানালে রাষ্ট্রপতি নাকচ করে দেন।
সোনার সিলেট

চার ধর্ষককে তাড়িয়ে নিজেই ধর্ষণ করলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা!

Published: 27 10 2019   5:57:29 PM   Sunday   ||   Updated: 27 10 2019   5:57:29 PM   Sunday
চার ধর্ষককে তাড়িয়ে নিজেই ধর্ষণ করলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা!

স্পিডবোটে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ করছিল চার যাত্রী। ঘটনা দেখে মালিককে খবর দেন স্পিডবোটের চালক। খবর পেয়ে মালিক এসে ওই চারজনকে মারধর করে ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে নিজেই ধর্ষণ করেন ওই নারীকে।

গতকাল শনিবার বেলা ১টার দিকে ভোলার মনপুরা উপজেলার চর পিয়ালে এক বাগানের মধ্যে গণধর্ষণের এ ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার ওই গৃহবধূকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও একজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের সহায়তা করার অভিযোগে গতকাল রাতে মনপুরা থানায় মামলা করেছেন ওই গৃহবধূ।

আসামিরা হলেন, মনপুরা উপজেলার সাকুচিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং স্পিডবোটের মালিক নজরুল ইসলাম (৩০), মো. বেলাল পাটোয়ারী (৩৫), মো. রাশেদ পালোয়ান (২৫), মো. শাহীন খান (২২) ও মো. কিরন (২৬)। এছাড়া ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে মামলার আসামি হলেন স্পিডবোটের চালক মো. রিয়াজ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ তার আড়াই বছরের শিশুকে নিয়ে মনপুরা যাওয়ার জন্য চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া লঞ্চঘাটে আসেন। তিনি ঘাটে এসে দেখেন, মনপুরাগামী লঞ্চটি ছেড়ে গেছে। নিরুপায় হয়ে স্পিডবোটে চড়েন। বোটে আরও দুজন পুরুষ যাত্রী ছিলেন। পথে জনতার খালপাড় এলাকা থেকে আরও দুজন পুরুষ যাত্রী ওঠেন।

বোটটি মনপুরার উদ্দেশে কিছুক্ষণ চলার একপর্যায়ে পুরুষ চার যাত্রী মিলে জোরপূর্বক স্পিডবোটটি চর পিয়াল এলাকায় থামান। এরপর গৃহবধূকে চরে নামিয়ে বাগানের মধ্যে নিয়ে ধর্ষণ করেন।

বিষয়টি স্পিডবোটের চালক মো. রিয়াজ মালিক নজরুল ইসলামকে জানান। খবর পেয়ে তিনি অন্য একটি স্পিডবোটে করে চর পিয়ালে নামেন। ওই সময় নজরুল ইসলাম ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা চার যাত্রীকে মারধর করে তাদের কাছে থাকা তিন হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। এরপর নজরুল নিজে ওই গৃহবধূকে আবার চরের ভেতরে ধর্ষণ করেন।

এ সময় নজরুল ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও করেন এবং বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য গৃহবধূকে হুমকি দেন। এ ছাড়া কাউকে কিছু বললে ওই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।

এদিকে ধর্ষণের এ ঘটনা বাগানের রাখাল ও মহিষ মালিকেরা দেখে ফেলেন। পরে তারা স্থানীয় চেয়ারম্যান অলিউল্যাহ কাজলকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। এরপর চেয়ারম্যান সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চর পিয়াল থেকে ওই গৃহবধূকে স্পিডবোটে করে উদ্ধার করে মনপুরা থানায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চেয়ারম্যান অলিউল্যাহ কাজল। তিনি জানান, নজরুল ইসলাম মনপুরা উপজেলার সাকুচিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি।

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, ওই গৃহবধূকে আজ দুপুরে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্পিডবোটটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সূত্র: আমাদের সময়

সোনার সিলেট

থিয়েটার সিলেট থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ১৫দিন পর হাস্যকর অব্যাহতি!

Published: 25 10 2019   10:27:07 PM   Friday   ||   Updated: 25 10 2019   10:27:07 PM   Friday
থিয়েটার সিলেট থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ১৫দিন পর হাস্যকর অব্যাহতি!

সোনার সিলেট ডেস্ক।। নাট্য সংগঠন থিয়েটার সিলেট থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার পরও প্রতিষ্ঠাতা পর্ষদের আহবায়ক পার্থ সারথী রায় ও কার্যকরী কমিটির সাধারণ সম্পাদক তফাজ্জল শাকিল নিজেদের ফেইসবুকের ব্যক্তিগত ওয়ালে বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করেছেন সংগঠনের নাট্যকার সুফি সুফিয়ানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অথচ সুফি সুফিয়ান গত ২৯ সেপ্টেম্বরই লিখিতভাবে পদত্যাগ করেছিলেন। এ নিয়ে নাট্যকার সুফি সুফিয়ান তার ফেইসবুক একাউন্ট থেকে পোস্টে সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগপত্রের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের কথা বলার পর তার পোস্টে আপত্তিকর কমেন্ট করেন তফাজ্জল শাকিল। এই অসৌজন্যমূলক আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিলেটের নাট্যাঙ্গণের কর্মীরা।
সুফি সুফিয়ান তার পোস্টে লিখেন, ‘আমি বারো বছরের অধিক সময় থিয়েটার সিলেটের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। এ সংগঠনে আমার লেখা মঞ্চনাটক মঞ্চস্থ হয়েছে চারটি। পথনাটক দুইটি। থিয়াটারটি জন্মের পর আমার লেখা নাটকই সবচেয়ে বেশি মঞ্চস্থ হয়। আমি দলকে ভালোবেসে একটা নাটকও উৎসর্গ করেছি যা গত বছর বই আকারে প্রকাশ হয়েছে। নানাবিধ কারণে গত মাসের উনত্রিশ তারিখ আমি দল ত্যাগের জন্য পদত্যাগপত্র পাঠাই। আমার মতোই কষ্ট পেয়ে আরও ৭ জন থিয়েটারকর্মী দল ত্যাগের স্মারকলিপি দেন দলপ্রধানের কাছে। এর একটা কপি সম্মিলিত নাট্যপরিষদ বরাবরও প্রেরণ করা হয়। এই পদত্যাগ পত্রের প্রায় ১৫ দিন পর গত ১৪ অক্টোবর পার্থ সারথী রায় ও তফাজ্জল শাকিল ফেইসবুকে হাস্যকর পোস্ট করে নাট্যকার সুফি সুফিয়ানকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে বলে প্রচার করেন। তাদের পোস্টে সুফিয়ানের নিজ থেকে পদত্যাগ করার আবেদনের কথাটি বেমালুম চেপে যান এই দুই নাট্যকর্মী। সুফিয়ান পোস্ট দাতাকে বিজ্ঞপ্তি সংশোধনের অনুরোধ করে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার বিষয়টি স্বীকার করতে স্মরণ করিয়ে দেন। থিয়েটার সিলেটে সুফিয়ান আর সম্পৃক্ত নন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার লিখিত অনুমতি ছাড়া যাতে তারা আমার কোন নাটক বা গান পরিবেশন না করে।
উল্লেখ্য নানা অনিয়মের কারণে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সুফি সুফিয়ানের সঙ্গে সংগঠনের আরো ৮ জন নাট্যকর্মী পদত্যাগ করেন।

printars line
সর্বস্বত্ব www.begum24.com কর্তৃক সংরক্ষিত
সোনার সিলেট