সোনার সিলেট ডটকম

যেখানে সবজি বাজারে হাজারো মানুষের জীবিকা

Published: 14 08 2016   12:11:27 PM   Sunday   ||   Updated: 14 08 2016   12:12:22 PM   Sunday
যেখানে সবজি বাজারে হাজারো মানুষের জীবিকা

সোনার সিলেট ডটকম: পূর্বদিগন্তে সূর্যের উঁকিঝুকি। রাতের আঁধার ভেদ করে মাত্র আলোকিত হচ্ছে পৃথিবী। পুরো সিলেট নগরী যখন নিস্তব্ধ, তখনই বিপরীত চিত্র লক্ষ্য করা যায় সিলেটের কাঁচা বাজারে। পাইকারি এই বাজার শুরু হয় সুবেহ সাদেকের পর। আর সব কোলাহল শেষ হয় ১০টা কিংবা ১১টায়।

 

নগরীর সুবহানীঘাটে ট্রেড সেন্টার ও হাজি নবাব আলী মার্কেট সিলেটের সবচেয়ে বড় কাঁচাবাজার। এখানে চলে আড়ৎদারী ব্যবসা। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হয় এই বাজারে। এখানে কর্ম করে চলে হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা।

 

তবে, সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে অসুবিধাও। স্থানীয় কতিপয় লোক ও পুলিশের শেলটারে সকাল বেলা রাস্তার ওপর বাজার বসানো হয়। এতে পথচারীদের চলাচলে অসুবিধায় পড়তে হয়। আর সড়কের পাশে স্ট্যান্ড বসায় লেগে থাকে যানজট।

 

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারী বড় দোকান রয়েছে ২২টি এবং ছোট আড়ৎ ৬৩টি। আর ক্ষণস্থায়ী দোকান ৩৫টি। এখানে আড়ৎদারী কমিশন এজেন্ট, পাইকারী ও খুচরা বিক্রিও চলে। টমেটো, লতা, কচু, মুখি, আলু, নাগামরিচ, কাঁচা মরিচ, লেবু, সাতকরা, ভেটের ডুঙ্গিসহ বিভিন্ন রকমারী শাক সবজি উঠেছে বাজারে।

পাইকাররা তাদের চাহিদামতো মালামাল কিনছেন। আর কাঁচা বাজার কেন্দ্রিক মিনি ট্রাক ও ইমা-লেগুনার স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে রাস্তার পাশে। যে কারণে যানবাহনের অপ্রতুলতা নেই। 

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেলো, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শাক সবজির চালান ওঠে এই বাজারে। পাইকাররা এখান থেকেই কাঁচা মাল কিনে নিয়ে যান উপজেলা সদরের বিভিন্ন হাট-বাজারে।

 

আৎড়দার আলী হোসেন বলেন, বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে সবজি আসে। বিক্রেতারা সবজি এনে আমাদের কাছে দেন। আমরা যৎ সামান্য কমিশনে তা বিক্রি করে দেই।

 

তিনি বলেন, অনেক কৃষক আছেন যারা নিজেরাই বসে সবজি বিক্রি করে যান। সিলেটের মধ্যে এই কাঁচা বাজারের ব্যাপক সুনাম রয়েছে।
কাঁচা বাজারকে ঘিরে জীবিকা নির্বাহ করছেন স্বল্প পুজির ব্যবসায়ীরাও। ঠেলাগাড়ি দিয়ে সবজি বিক্রেতারা পাইকারদের কাছ থেকে নিজের চাহিদার বিপরীতে মালামাল কিনে নিচ্ছেন। স্বল্প পুঁজিতে অল্প অল্প করে সবজি কিনে বাসা বাড়ি গিয়ে বিক্রি করেন তারা।
স্বল্প পুঁজির ব্যবসায়ী নগরীর কানিশাইল এলাকার সবজি বিক্রেতা নেওয়ার আলী বলেন, প্রতিদিন হাজার দু’এক টাকা পুঁজি নিয়ে ব্যবসায় নামি। কাঁচা বাজার থেকে মালামাল কিনে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে নিয়ে বিক্রি করি। তাতে যে লাভ হয়, এ দিয়ে স্বাচ্ছন্দে সংসার চালাই।

 

সিলেট পাইকারি কাঁচা বাজারের সভাপতি হাজী তুরণ মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, এখানে ছোট পাইকারী দোকান রয়েছে প্রায় দেড় শত। এছাড়াও রাস্তার পাশে দোকান পাট বসে। তবে সেগুলো বৈধ পন্থায় নয়। ব্যবসায়ী ছাড়াও কাঁচাবাজারকে ঘিরে চলে সহস্রাধিক শ্রমিকের জীবন-জীবিকা। শত শত পিকআপ ভ্যান চালক এই কাঁচা বাজারকে ঘিরে আয়-রোজগার করে থাকেন।

 

তবে কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পুলিশের শেলটারে কতিপয় ব্যবসায়ী রাস্তার ওপর মালামাল নিয়ে বসে কেনা বেচা করে। যে কারণে পথচারী ও বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের চলাচলে অসুবিধা হয়।

 

সোনার সিলেট/ কেএ

printars line
সর্বস্বত্ব www.begum24.com কর্তৃক সংরক্ষিত
সোনার সিলেট ডটকম