সোনার সিলেট

মায়ের বুকে ফিরলো তালাবদ্ধ ঘরে আটকা পড়া শিশু

Published: 05 03 2018   10:27:53 AM   Monday   ||   Updated: 05 03 2018   10:27:53 AM   Monday
মায়ের বুকে ফিরলো তালাবদ্ধ ঘরে আটকা পড়া শিশু

সোনার সিলেট ডেস্ক।। বাসায় তালা দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে গিয়েছিলেন ১৪ মাস বয়সী মেয়েকে। ফিরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আর খুলতে পারছিলেন না ঘরের তালা। ওদিকে, ভেতরে ঘুম ভেঙে যাওয়া শিশুটি একাকী বাসায় আতঙ্কে কান্নাকাটি আর ছোটাছুটি করছে। ঘণ্টাখানেক চেষ্টা করেও খোলা যায়নি তালা। চাবি বানানোর লোকও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তালা খোলার ব্যবস্থা না করতে পেরে আতঙ্ক তখন ভর করেছে মায়ের মধ্যেও। এমন এক পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দরজার তালা খোলা হয়। মেয়েকে বুকে ফিরে পান মা।

রবিবার (৪ মার্চ) সকাল সোয়া ৯টার দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে ১৮ নম্বর সড়কের ৪৭ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাটে এই ঘটনা ঘটে। উত্তরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. সফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

উত্তরার ছয় তলা ওই বাসার পঞ্চম তলায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইং ক্যাটারিং সেন্টারের অপারেশন অফিসার মো. দুরুল হুদা। তার স্ত্রী রেহেনা আক্তার। রবিবার সকালে কর্মস্থলের পথে বেরিয়ে যান নুরুল হুদা। ওই সময়ই বড় মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে যান রেহেনাও। ১৪ মাস বয়সী ছোট মেয়ে তখন ঘুমে। তাকে ঘরে একা রেখেই বাসায় তালা দিয়ে যান তিনি।
রেহেনা স্কুল থেকে ফিরে আসার আগেই ঘুম ভেঙে যায় ছোট মেয়ের। বাসায় কাউকে দেখতে না পেয়ে কান্নাকাটি শুরু করে সে। এ ঘর থেকে ও ঘরে ছুটে গিয়ে কাউকে না পেয়ে তার কান্না আরও বেড়ে যায়। রেহেনা স্কুল থেকে ফিরে এসেই বাসায় ঢোকার আগেই শুনতে পান মেয়ের কান্না। দ্রুত দরজা খোলার জন্য চাবি বের করেন তিনি। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তালা আর খোলে না। মেয়েকে নানা কথা বলে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন রেহানা। কিন্তু ছোট্ট ওই অবুঝ শিশুকে শান্ত করা সম্ভব হয় না।
এর মধ্যে আশাপাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারাও হাজিন হন রেহানাদের বাসার সামনে। তারাও চেষ্টা করতে থাকেন তালা খোলার। তালা-চাবিওয়ালার সন্ধানেও যান কেউ কেউ। কিন্তু পাওয়া যায় না কোনও তালা-চাবিওয়ালার খোঁজ। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর রেহেনার এক প্রতিবেশী বুদ্ধি করে খবর দেন ফায়ার সার্ভিসে। তারা এলে তবে তালা খোলা হয়।

উত্তরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পরও যখন রেহেনা আক্তার তালা খুলতে পারেননি, তখন তার পাশের ফ্ল্যাটের এক ব্যক্তি উত্তরা ফায়ার সার্ভিসে ফোন দেন। তিনি জানান, তালা খুলতে না পারায় ওই ফ্ল্যাটে আটকা পড়েছে একটি শিশু। এরপর আমরা ঘটনাস্থলে যাই।’
সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সকাল ৮টা ৫৭ মিনিটে খবর পাই। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। বাসায় গিয়ে ভেতরে ছোট্ট শিশুর কান্নার শব্দ পাই। ফ্ল্যাটের দরজা এমনভাবে লক হয়েছিল যে চাবি দিয়ে খোলা যাচ্ছিল না। পরে আমরা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তালাটি খোলার ব্যবস্থা করি। শিশুটিকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।’
মো. দুরুল হুদা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রতিদিনে মতো বড় মেয়েকে স্কুলে দিতে বের হয়েছিলেন আমার স্ত্রী। ছোট মেয়ে তখন ঘুমে। বড় মেয়েকে স্কুলে দিয়ে ফিরে আসার পরও ছোট মেয়ে সাধারণত ঘুমেই থাকে। কিন্তু আজকে ওর ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। এর মধ্যে তালাটা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে তালা খুলে দেয়।’

printars line
সর্বস্বত্ব www.begum24.com কর্তৃক সংরক্ষিত
সোনার সিলেট