সোনার সিলেট

শখের বশে হ্যাকিং শিখছে অনেক তরুণ

Published: 13 04 2019   1:37:10 AM   Saturday   ||   Updated: 13 04 2019   1:37:10 AM   Saturday
শখের বশে হ্যাকিং শিখছে অনেক তরুণ

সোনার সিলেটডেস্ক।। প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে গিয়ে শখের বশে হ্যাকিং শিখছে অনেক স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণেরা। এরপর ব্ল্যাকমেইলিং করে অর্থ আদায়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে অনেকেই। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের আইডি হ্যাক করে ‘অশ্লীল ছবি’ ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। পরে সমঝোতার মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে হ্যাক হওয়া ফেসবুক আইডি ফিরিয়ে আনছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক তরুণ প্রযুক্তি বিষয়ে ভালো জানাশোনা হওয়ায় শখের বশে হ্যাকিং করতে গিয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এই ধরনের অপরাধের অভিযোগ মাঝেমধ্যেই আসছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ আলিমুজ্জামান বলেন, ‘অনেকেই শখের বশে, আবার অনেকেই কাজের প্রয়োজনেই হ্যাকিং শিখছে। হ্যাকিং শেখাটা অপরাধের কিছু নয়, কিন্তু অনেকেই এর অপব্যবহার করছে। অপরাধকর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে। আমরা অপরাধে জড়িয়ে পড়াদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
সাইবার ক্রাইম ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে হ্যাকিং সংক্রান্ত মোট ৪৯৫টি অভিযোগ এসেছিল সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগে। এর মধ্যে ১২টি ঘটনায় মামলা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে মাত্র সাত জনকে। এর বাইরে বিভিন্ন অভিযোগে আটকের পর ৩৫ জনকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সাইবার ক্রাইমের একজন কর্মকর্তা জানান, সাধারণত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের আইডি, পেজ, জিমেইল ও ওয়েবসাইট হ্যাক করা হয় বেশি। প্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞানার্জন করতে গিয়ে কৌতুহলী অনেক তরুণ বিভিন্নভাবে হ্যাক করার কৌশল শিখে থাকে। কিন্তু, পরবর্তীতে শখের বসে হ্যাক করতে গিয়ে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। কর্মকর্তারা বলছেন, সাইবার স্পেসে একজনের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনও মাধ্যমে অন্য কেউ অবৈধভাবে প্রবেশ করে অর্থ আদায় করাটা আইনত অপরাধ। বেশিরভাগ তরুণেরাই এটাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করেই এসব কর্মকাণ্ড করে থাকে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে হ্যাকারকে শনাক্তের পর ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা জানতে পেরেছেন, বেশিরভাগ তরুণেরাই সহজ টার্গেট নির্বাচন করে প্রথমে মোবাইল নম্বর বা ‘কমন পাসওয়ার্ড’ ব্যবহার করে আইডি হ্যাক করে। এছাড়া ফিশিং সাইট ব্যবহার করেও আইডি বা জিমেইল একাউন্ট হ্যাক করা হয়। এক্ষেত্রে ভুল করে কোনও একটি লিংকে ক্লিক করলেই পাসওয়ার্ডটি হ্যাকারের কাছে চলে যায়। পরে হ্যাকাররা নানারকম অশ্লীল বা ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়।

এই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি বশির উল্লাহ সরদার ও আল আজহার নামে দুই তরুণকে গ্রেফতার করেছিল বগুড়ার জেলা পুলিশ। যারা শখের বশে হ্যাকিং শিখে নিজেদের দক্ষতা যাচাই করতে গিয়ে ‘ব্ল্যাক ওয়েব’ ও ‘ফাবিহেক্সার’ নামে দুটি গ্রুপের মাধ্যমে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হ্যাক করে অর্থ আদায় করতো। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ২১টি ওয়েবসাইট হ্যাক করার কথা জানিয়েছিল সেসময়। এছাড়া ২০ ফেব্রুয়ারি রাজধানী থেকে চার তরুণকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ, যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং হ্যাকিং করেও অর্থ আদায় করতো।

হ্যাকিং করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ২০১৬ সালের ৯ জুন রাজধানীর ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে শারমিন নামে এক তরুণীকে গ্রেফতার করেছিল সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ। এসময় তার সঙ্গে কিংসলে লিভিং স্টোন নামে এক নাইজেরিয়ার নাগরিককেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারা বিভিন্ন ব্যক্তির ইমেইল আইডি হ্যাক করে ব্যাংক থেকে অর্থ হাতিয়ে নিত।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শখের বশে হ্যাকিং করে অপরাধে জড়ানো ছাড়াও দেশে পেশাদার হ্যাকার গ্রুপও রয়েছে। সারা পৃথিবীতেই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে থাকায় এ সংক্রান্ত অপরাধের প্রবণতাও বেড়েই চলছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটছে। পেশাদার হ্যাকার গ্রুপের টার্গেট থাকে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সার্ভারে প্রবেশ করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। যদিও বিভিন্ন দেশে এরকম ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশে এই ধরনের অপরাধের উদাহরণ অনেক কম। বছর কয়েক আগে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আলোচিত রিজার্ভ চুরির ঘটনাটিও হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে করা হয়েছিল। তবে, এতে দেশের বাইরে থেকে আন্তর্জাতিক হ্যাকার চক্রের সদস্যরা জড়িত ছিল বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশে সাধারণত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের আইডি, পেজ, জিমেইল বা ওয়েবসাইট হ্যাকের ঘটনা ঘটে বেশি। কেউ কেউ বিভিন্ন ঘটনা নজরে আনা বা প্রতিবাদের জন্য কোনও কোনও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হ্যাক করে থাকে। তবে, বর্তমানে হ্যাকের পর হ্যাকাররা আইডি বা ওয়েবসাবইট ফিরিয়ে দিতে অর্থ দাবি করে বসছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, হ্যাকারার সাধারণত ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করে থাকে। অনেক সময় ভুক্তভোগীরা গোপনে হ্যাকারদের কাছে টাকা দিয়ে আইডি ফেরত নেয়। এছাড়া সাইবার ইউনিটে প্রাথমিক অভিযোগের পর আইডি ফেরত পেয়ে অনেকে আর মামলা করতে চান না। তখন হ্যাকারদের মা-বাবা বা অভিভাববকদের ডেকে সতর্ক করে মুচলেকা দিয়ে ছাড় দেওয়া হয়। এছাড়া হ্যাকারদের বেশিরভাগই স্কুল বা কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী। তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের কথা বিবেচনা করেও ছাড় দেওয়া হয়।

এসএসডিসি/কেএ

printars line
সর্বস্বত্ব www.begum24.com কর্তৃক সংরক্ষিত
সোনার সিলেট