১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ সন্ধ্যা ৭:৫০

বয়স কোনো বাধা নয়

বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট বুধবার, আগস্ট ১৬, ২০২৩,

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তিন দশক ধরে নিয়মিত কাজ করছেন টলিউড-ঢালিউডে। এবার তিনি ঢাকায় এলেন অনন্য মামুন পরিচালিত ‘স্পর্শ’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিতে। গতকাল রোববার থেকে শুরু হয়েছে দৃশ্যধারণ, এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। পাঠকদের জন্য থাকল অভিনেত্রীর সঙ্গে আলাপচারিতার চুম্বকাংশ—

এবার নিয়ে বাংলাদেশে কতবার এলেন?

ঋতুপর্ণা : অগণিতবার। কবার এসেছি তা গুনে রাখতে চাই না। বারবার বাংলাদেশে আসতে চাই। এ দেশ আমার কাছে একেবারেই আপন—এ কথা সবসময়ই বলে এসেছি। যা বলি তা মন থেকেই বলি। কারণ মনটাই হচ্ছে সবচেয়ে বেশি সবকিছুতে।

ঢাকায় আপনার প্রথম কাজ ১৯৯৭ সালে ‘স্বামী কেন আসামি’ ছবিতে। ২৬ বছরের এই জার্নি কেমন বাংলাদেশের সঙ্গে?

ঋতুপর্ণা : খুবই সুন্দর। মাঝখানে কয়েক বছর হয়তো সেভাবে কাজ করা হয়নি। তবে ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এখন অবধি আমার ফিল্মোগ্রাফি জুড়ে বাংলাদেশ জড়িয়ে আছে। কিছুক্ষণ আগে একজন পরিবেশকের সঙ্গে কথা হচ্ছিল; তিনি বলছিলেন, ‘স্বামী কেন আসামি’ দিয়ে উনার দুটো নতুন হলের যাত্রা শুরু হয়েছিল। তখন মনে হলো নিশ্চয়ই আমি তাদের জন্য সৌভাগ্যের এবং বাংলাদেশের দর্শকের কাছে প্রিয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশে কমার্শিয়াল সিনেমার একটা উত্থান ভাব বিরাজ করছে। এ ক্ষেত্রে কলকাতায় আবার ভিন্ন চিত্র, সেখানে প্যারালাল বা শৈল্পিক ধরনের সিনেমা ভালো চলছে। কমার্শিয়াল সিনেমা মন্থর গতিতে যাচ্ছে, এর পেছনে কারণ কী বলে মনে করছেন?

ঋতুপর্ণা : প্রত্যেকটা সময়েরই নিজস্ব একটা অগ্রগতি পর্যায় থাকে। ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রেও সে রকমই। কিছুদিন আগে আমাদের এখানেও কমার্শিয়াল সিনেমা ব্লকবাস্টার হয়েছে। এখন দর্শকরা শৈল্পিক ধরনের সিনেমা দেখতে ভালোবাসছে। হয়তো সে কারণেই ইন্ডাস্ট্রির চিত্রটা এমন। আবার দেখবেন দুদিন পরই হয়তো কমার্শিয়াল সিনেমা হিট হচ্ছে। আমি যখন ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম তখন দর্শকরা কমার্শিয়াল কনটেন্টেরই খোঁজ করত। কিন্তু এখন প্যারালাল কিংবা ভিন্ন ধরনের সিনেমা জনপ্রিয় একটা জায়গায় পৌঁছাচ্ছে। সেটা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য খুবই ইতিবাচক একটা লক্ষণ।

সর্বশেষ আরিফিন শুভর সঙ্গে ‘আহা রে’ ছবিতে কাজ করেছেন। এবার ‘স্পর্শ’তে নিরবের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন। এ দুই নায়কের মধ্যে একটু তুলনা করেন না?

ঋতুপর্ণা : হা হা হা। দুজন দুরকম ব্যক্তিত্ববোধসম্পন্ন। প্রত্যেকের নিজস্ব একটা পার্সোনালিটি থাকে। শুভর একরকম, নিরবের আরেকরকম। শুভ অনেকটা অ্যাংরি ইয়ংম্যান আর নিরব রোমান্টিক হিরো। দুজনই কাজের জায়গায় খুবই সফল। নিরবের সামনে অনেক সময়। সামনে আরও ভালো কাজ করবে। তার ভবিষ্যৎ অনেক ভালো দেখছি।

এরই মধ্যে নিরবের সঙ্গে এ ছবিতে আপনার রোমান্টিক দৃশ্য সামনে এসেছে। ওই দৃশ্যগুলো করাটা কতটা সহজ ছিল?

ঋতুপর্ণা : নিরবের সঙ্গে ওই দৃশ্যটা আলোচনা করে নিয়েছিলাম। কারণ দৃশ্যটা তো খুব সহজাতভাবে আসতে হবে। একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমি মনে করি, এ ক্ষেত্রে অনুভূতির খুব চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো উচিত; না হলে আমরা দর্শকের মনের মধ্যে পৌঁছাতে পারব না। তখন নিজেদের নিরব বা ঋতুপর্ণা ভাবা উচিত নয়, ওই দুটি চরিত্রের ভালোবাসা কিংবা স্পর্শটাই অনুভব করাতে চাই দর্শকদের।

ইদানীং ভার্চুয়াল মাধ্যমে একটা ট্রল চলছে—ছেলেরা কীসে আটকে, মেয়েরা কীসে আটকে! আপনার কি মনে হয় অভিনয়শিল্পীরা কোনো না কোনোভাবে বয়সে আটকে থাকে?

ঋতুপর্ণা : মেয়েদের ক্ষেত্রেই বোধহয় এ প্রশ্ন বেশি হয়। পুরুষদের কখনো জিজ্ঞেস করা হয় এই ব্যাপারে? কখনোই হয় না। সম্প্রতি রজনীকান্তের ‘জেলার’ মুক্তি পেয়েছে। উনার বয়স নিয়ে কেউ কি জিজ্ঞেস করেন? উনি সবসময় সুপার হিরো ছিলেন, আজও আছেন; সবসময় থাকবেনও। তিনি বয়সে অনেক ছোট নায়িকার সঙ্গে অভিনয় করেন, তাকে নিয়ে তো কখনো কথা হয় না! শাহরুখ খানকে নিয়ে কথা হয় না। রাভিনা ট্যান্ডন সেদিন এক সাক্ষাৎকারে বলছিলেন যে, তাহলে আমাদের কেন তকমা দেওয়া হয় ‘নব্বইয়ের চিত্রনায়িকা’ বলে? আমরা তো এখনো হিরোইন, এখনো দাপিয়ে কাজ করছি। হিরো বয়সে ছোট বা বড়ও হতে পারে—এসব কোনো কিছু নির্ধারণ করে না। বরং পারফরম্যান্সকে একজন অভিনয়শিল্পী কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে, সেটাই বড় কথা। বয়স কোনো বাধা নয়, সেটা এবারের অস্কারে বুঝিয়ে দিয়েছেন মিশেল ইয়ো।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2016 Paprhi it & Media Corporation
Developed By Paprhihost.com
ThemesBazar-Jowfhowo