গণমিছিলকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও জামায়াতের গণমিছিলে পুলিশি বাধাঁর ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পঞ্চগড়ে পুলিশের গুলীতে ১ বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াতের ২ শতাধিক নেতাকর্মী আহত ও গ্রেফতার হয়েছেন।
জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে শনিবার দুপুরে পঞ্চগড়ে বিএনপি গণমিছিল বের করতে চাইলে পুলিশের সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। নিহতের নাম আব্দুর রশিদ আরেফিন। তিনি ময়দানদিঘি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বিএনপির গণমিছিলের সময় পুলিশের সাথে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং শায়রুল কবির খান।
এদিকে ময়দানদীঘি ইউনিয়ন বিএনপি কর্মী মোঃ মতিউর রহমান বলেন, নিহত আব্দুর রশিদ আরেফিন আমার বাল্যবন্ধু, আমরা একসাথে বিএনপি করি। আমরা একসাথে গণমিছিল করতে এসেছিলাম। কিন্তু পুলিশ রাবার বুলেটে ছুঁড়লে গুলিবিদ্ধ হয় আরেফিন। তার মুখে টিয়ারশেল যায়। অফিসের প্রাচীর টপকাতে না পারায় পুলিশ তাকে বেধড়ক মারপিট করে। ওখান থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দেশব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নোয়াখালীর জেলা জামায়াতের গণমিছিলে পুলিশের হামলা ও গুলিতে ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসময় মিছিল থেকে ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সাতক্ষীরায় জামায়াতের গণমিছিল থেকে ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াত আয়োজিত গণমিছিল শেষে অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বহদ্দারহাট পুলিশ বক্স থেকে শুরু হয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন নগর জামায়াতের আমির মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান।
চুয়াডাঙ্গা শহরে গণমিছিলের প্রস্তুতিকালে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফুজ্জামানসহ ৫ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর ৩টার দিকে শহরের কোর্টমোড় এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। পরে শহরের শহীদ রবিউল ইসলাম সড়ক নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ। পণ্ড হয়ে যায় বিএনপির কর্মসূচি।
কুমিল্লায় জামায়াত ইসলামীর মিছিল থেকে দুই জনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার বিকালে নগরীর টমছম ব্রিজ এলাকা থেকে তাদের আটক করে পুলিশ।
মুন্সীগঞ্জে বিএনপির গণমিছিলে পুলিশের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা বিএনপির আয়োজনে মিছিল বের হয়। সদর উপজেলার পঞ্চাসার ইউনিয়নের মুক্তারপুর এলাকায় গণমিছিল বের করতে চাইলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন নেতাকর্মীরা। পরে সেখানেই সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচী সমাপ্ত করেন তারা।
জয়পুরহাট সদর উপজেলায় জামায়াত-শিবিরের ১২ নেতাকর্মীকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার সকালে সদরের বামনপুর সগুনা চারমাথা মোড় থেকে তাদের আটক করা হয়। মিছিলের প্রস্তুতি চলাকালে তাদের আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নাটোর জেলা শহরের চকরামপুর এলাকায় শনিবার সকালে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে ফেরার পথে ফুলবাগান এলাকা থেকে জামায়াতের ৮ জন নেতাকর্মীকে আটক করে নাটোর সদর থানা পুলিশ।
গাজীপুরে বিএনপির মিছিলে পুলিশের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় ৩০ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। শনিবার বিকেলে গাজীপুর জজকোর্টের সামনে রাজবাড়ী রোডের মোড়ে গণমিছিলে অংশ নিতে আসা একটি খণ্ড মিছিলের ওপর পুলিশ হামলা চালায়। এসময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও ব্যাপক লাঠিচার্জ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। পুলিশ এ শান্তিপূর্ণ মিছিল থেকে পথচারীসহ ৩০ জনকে আটক করে।
বাগেরহাটে জেলা বিএনপির অফিস ও জেলা আহ্বায়কের বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির দিন এ ঘটনা ঘটে।
বিএনপির জেলা আহ্বায়ক এ টি এম আকরাম হোসেন তালিম জানান, ‘আমাদের বাড়িতে চাচাত ভাই আলী রেজা আহম্মেদ কামালের স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাড়ির শোকসন্তপ্ত মানুষজনকে মারধর করে। ঘরের দরজা, জানালা ও চেয়ার ভাঙচুর করে।’
অপরদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালামের কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি করেন এম এ সালাম।
উল্লেখ্য, মরহুমা ফাতেমা বেগম কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মরহুম ডা: এস এ মালেকের ভাগ্নি।
পিরোজপুর বিএনপির গণমিছিলে ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুইপক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার বেলা ১১ টার দিকে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা তাদের কার্যালয়ে জড়ো হতে থাকে। এর কিছুক্ষণ পর জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরবর্তীতে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা পুরাতন জেলখানার সামনে কালেক্টরেট স্কুলের সামনে জড়ো হয়। সেখানেই ছাত্রলীগের সভাপতি অনিক এবং সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ সজলের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে বিএনপি কার্যালয় হামলা চালাতে গেলে বিএনপি’র নেতাকর্মীরাও তাদের প্রতিহতের চেষ্টা করে। এ সময় দুইপক্ষ ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করে। এতে বিএনপি’র কমপক্ষে ৩০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোঃ আলমগীর হোসেন।
তিনি বলেছেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি করতে গেলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা করে।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অনিকের দাবি, বিএনপি-জামায়াতের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ছাত্রলীগ মাঠে অবস্থান নিয়েছিল। এ সময় তাদের ওপর বিএনপি’র লোকজন হামলা করে তাদের কয়েকজনকে আহত করে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে তারা হামলাকারীদের প্রতিহত করতে গেলে, বিএনপি’র লোকজন তাদের কার্যালয়ে পালিয়ে যায়।
সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ সজল জানান, বিএনপির লোকজনের হামলায় তাদের ৮ জন আহত হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান জানান, বিএনপি ও ছাত্রলীগে কর্মসূচি ছিল। ছাত্রলীগের মিছিলে বিএনপির নেতাকর্মীরা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংর্ঘষ শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর পুলিশ বিএনপি কার্যালয় ও আশপাশে অভিযান চালিয়ে ৫ টি ককটেল উদ্ধার এবং ১১ জনকে আটক করেছে। এ বিষয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।