১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বিকাল ৪:৫৫

অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে কর আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকার

সোনার সিলেট ডেস্ক
  • আপডেট মঙ্গলবার, মে ১২, ২০২৬,

দেশে প্রথমবারের মতো মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে অগ্রিম আয়করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব রাখা হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার (১২ মে) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বাজেট-সংশ্লিষ্ট বৈঠকে এ প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

বর্তমানে দেশে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, জিপ, বাস, ট্রাক ও পিকআপের ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর আদায় করা হলেও মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এতদিন এই ব্যবস্থার বাইরে ছিল। তবে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে এবার নতুন এই দুই খাতকে করজালের আওতায় আনতে চায় সরকার।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল করমুক্ত রাখা হতে পারে। তবে ১১১ থেকে ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বছরে ২ হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসির ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি ইঞ্জিন ক্ষমতার বাইকের জন্য বছরে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণের চিন্তা করছে এনবিআর।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৯ লাখ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই ১১০ সিসির বেশি হওয়ায় নতুন কর কার্যকর হলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা দেখছে সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, গড়ে প্রতিটি মোটরসাইকেল থেকে ৪ হাজার টাকা কর আদায় করা গেলে বছরে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পাওয়া সম্ভব।

এদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও প্রথমবারের মতো করের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী অটোরিকশার জন্য বছরে ৫ হাজার টাকা, পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার টাকা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ১ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণ করা হতে পারে।

সরকার ইতোমধ্যে ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া তৈরি করেছে। সেখানে নিবন্ধন সনদ, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও ট্যাক্স টোকেন বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব যানবাহনের ওপর এনবিআর নির্ধারিত শুল্ক ও কর আরোপের বিধানও রাখা হয়েছে।

মোটরসাইকেল খাতসংশ্লিষ্টরা অবশ্য নতুন কর আরোপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দেশে গত এক দশকে মোটরসাইকেল শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ হয়েছে এবং এই খাত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। নতুন কর আরোপ করা হলে সাধারণ ব্যবহারকারী, রাইড শেয়ারিং কর্মী ও ডেলিভারি সেবার সঙ্গে জড়িতদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, অগ্রিম আয়কর পরিশোধ করলেও যানবাহনের মালিকরা পরে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় সেই কর সমন্বয়ের সুযোগ পাবেন। আগামী বাজেট ঘোষণার সময় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে।

সূত্র: কালবেলা

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও সংবাদ

© All rights reserved © 2016 Paprhi it & Media Corporation
Developed By Paprhihost.com
ThemesBazar-Jowfhowo