২৪শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ রাত ৩:৫২

বাইডেন প্রশাসনের জ্ঞানী-গুণীদের সঙ্গে আলোচনা করবে বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০২১,
  • 50 বার পঠিত

র‌্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি বলে মনে করেন তুরস্ক সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে মঙ্গলবার ভার্চ্যুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারে অনেক জ্ঞানী-গুণী লোক আছেন তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে, সেটি অব্যাহত থাকবে। মানবাধিকার সংস্থা এবং এনজিওর প্ররোচনায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কোনরকম আলোচনা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র সরকার আচমকা র‌্যাবের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার মতো বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে অভিযোগ করে মন্ত্রী বলেন, দেশটির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর।

তারপরও তারা এমনটি করেছেন। তাদের সব সিদ্ধান্ত সঠিক, তা নয়। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা সেই সরকারের জ্ঞানী-গুণী লোকজনের সঙ্গে কথা বলবো। এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে কোন প্রভাব ফেলবে না বলেও মনে করেন তিনি। ভারতের প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানাতে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সেখানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছিলেন তুরস্ক সফরে থাকা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশি ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের প্রথম এবং সেরিমনিয়াল ঢাকা সফরে দুই দেশের সকল দিক নিয়ে আলোচনা হবে জানিয়ে মন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভারত বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু দেশ।

দেশটির রাষ্ট্র প্রধান কাল আসছেন, বাংলাদেশ তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর অপেক্ষায় রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৬ই ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার জন্য ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ সফরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ইস্যুগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হবে। সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনসহ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, ভারতের প্রেসিডেন্টের সফরে কোনো চুক্তি বা সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। অন্য প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতে বাকি টিকা পেতে কোনো প্রকার সন্দেহ নেই। ভারতে মহামারী সৃষ্টি হওয়ার ফলে টিকা আসা বন্ধ হয়েছে। তাদের সুবিধামত টিকা পাঠাবে।

ভারতের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক ও সোনালী অধ্যায় চলছে। তিনি ভারত বাংলাদেশ ভিসা নিয়ে বলেন, দুই দেশের ভিসা ধীরে ধীরে চালু করা হচ্ছে। একই বছরে প্রতিবেশী দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের বাংলাদেশ সফরে আসা ইতিহাসে বিরল ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, মুজিববর্ষ ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে গত মার্চে ঢাকা সফরে এসেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবার একই উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী ও অকৃত্রিম বন্ধু। বাংলাদেশ-ভারত শুধু সীমান্ত সম্পর্কে আবদ্ধ নয়, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এ দেশের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্কের ভিত্তি রচনা করে। পরবর্তীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সৃদৃঢ় ও গতিশীল হয়েছে।

প্রতিবেশী দুই দেশের সুম্পর্কের অনন্য নিদর্শন হিসেবে ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের আমন্ত্রণে আগামী ১৫ থেকে ১৭ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ সফর করছেন। সফরে ভারতের ফার্স্টলেডি, রাষ্ট্রপতির কন্যা, ভারতের শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী, দুজন সংসদ সদস্য, ভারতের পররাষ্ট্রসচিবসহ বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গী হিসেবে যোগ দেবেন বলে জানতে পেরেছি। ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের পর এটি হবে বাংলাদেশে তার প্রথম সফর।
বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ২০২১ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে এ ধরনের সফর দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্কের খাতায় মাইলফলক অধ্যায় হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে উল্লেখ থাকবে বলেও উল্লেখ করেন আব্দুল মোমেন।

প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অ্যাওয়ার্ড প্রদানের দাবি:
এদিকে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে সফলতার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। মঙ্গলবারের ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশ কোভিডের একটি বড় ঝড় সামলেছে। আমরা খুবই ভাগ্যবান। একটিও মৃত্যু চাই না। তবে তুলনামূলকভাবে অনেক উন্নত দেশের চেয়ে কোভিডে বাংলাদেশে মৃত্যু অনেক অনেক কম হয়েছে ।

যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের মৃত্যুর সংখ্যার সঙ্গে তুলনা করেন তাহলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া উচিৎ। যুক্তরাষ্ট্রে এত উন্নত চিকিৎসা নিয়েও মৃত্যু ৭ লাখের বেশি। ইংল্যান্ডে মারা গেছে ২ লাখ। আর বাংলাদেশে মাত্র ২৭/২৮ হাজার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যখন কোভিড-১৯ আসল তখন বড় বড় পন্ডিত বলেছিল বাংলাদেশে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি লোক মারা যাবে। আল্লাহ মেহেরবান, এমনটা ঘটেনি। কোভিড এখন নিয়ন্ত্রণে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও সংবাদ

Rokomari Book

© All rights reserved © 2016 Paprhi it & Media Corporation
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo