১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ সকাল ১১:৫৮

বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে দ্বিতীয় দিনের বয়ান চলছে

ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট শনিবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২৩,
  • 15 বার পঠিত

গাজীপুরের টঙ্গীর কহর দরিয়া খ্যাত তুরাগ নদের তীরে শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে আলমি শূরার তত্ত্বাবধানে (জুবায়েরপন্থি) মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। শুক্রবার বাদ ফজর মাওলানা জিয়াউল হকের আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। রবিবার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত।

মুসল্লিদের উদ্দেশে বয়ান

ইজতেমার বয়ানে বিশ্বের ইসলামি চিন্তাবিদ ও বুজুর্গরা বলেন, “আল্লাহ পাকের বড়ত্বের দাওয়াত পৃথিবীর সব মানুষের দিলের মধ্যে ঈমানের মেহনত করার গায়েবের কথা শুনতে যে সমস্ত হুকুমত আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে আসবে তা দিলের মধ্যে ফিট করতে হবে। মহান রাব্বুল আল-আমিন ইজ্জত আল্লাহ তাআলা মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্ব সফলতা নিশ্চিত করতে ইসলামী বিধি-বিধান অনুযায়ী জীবন যাপনে আল্লাহপাকের হুকুম পালনে হুজুরে পাক হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর স্বল্প সময়ের প্রচেষ্টায় সাহাবায়ে কেরাম (রা.) গণের জীবনে ঈমান ও ইসলামের এমন গুণাবলী দান করেছেন যা দুনিয়ায় আদর্শ হয়ে রয়েছে।

সেই দ্বীন ও ইসলামের দাওয়াত আল্লাহ পাকের অসীম রহমতে অনুগ্রহে তাবলীগ জামাতের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় দ্বীন ইসলামে পুনরুজ্জীবিত করে নরনারীর মধ্যে দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার কাজে হযরত মোহাম্মদ (সা:) উম্মতের জিম্মাদার হিসাবে ঈমানিয়াত, ইবাদত, মোয়ামেলাত ও আখলাক অনুশীলনে জানমাল আল্লাহর রাস্তায় ছেড়ে দিয়ে জিন্দেগীতে কিছু সময় দাওয়াত, তালিম, জিকির, নামাজে মশগুল হওয়া প্রয়োজন। সারা পৃথিবীতে আল্লাহপাকের হুকুমত অনুযায়ী হুজুরে পাক (সা:) নির্দেশিত পথে জীবন যাপন করলে শান্তি, সম্মান, নিরাপত্তা, বরকত ও পবিত্রতা অর্জিত হয় এবং চিরস্থায়ী জীবনের জান্নাতবাসী হওয়ার অধিকারী হয়। তাই শেষ নবী হযরত মোহাম্ম (সা:) এর উম্মতের জিম্মাদার হিসাবে তাবলীগের দাওয়াত মানুষের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করার ও পৌঁছে দেয়ার জন্য মেহনত করা একান্ত কর্তব্য। কারণ জিন্দেগীতে কামাই করা পাহাড়সম অর্থ সম্পদ কোন নর-নারীর মৃত্যুর পর ফায়দায় আসবে না।

প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিন কে কখন বয়ান করবেন

শনিবার বাদ ফজর বয়ান করছেন মাওলানা খুরশিদুল হক রায়বেন্ড। বাদ যোহর ভাই ওমর ফারুক, বাদ আসর মাওলানা জুহাইরুল হাসান, বাদ মাগরিব মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা (বাংলা অনুবাদ, মাওলানা জুবায়ের আহমদ) উলামাদের বিশেষ বয়ান উদ্দেশ্যে বয়ান মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা এবং ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বয়ান মাওলানা খুরশিদুল হক রায়বেন্ড।বয়ান করার কথা রয়েছে বলে জানান ইজতেমার মিডিয়া সমন্বয়কারী মুফ‌তি জ‌হির ইব‌নে মুস‌লিম।

বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে দেশের জোবায়ের পন্থি অনুসারীরা ৬৪ জেলার মুসল্লিরা এবং বিদেশি মুসল্লিরা মাঠের উত্তর-পশ্চিম পাশে নির্মিত বিদেশি নিবাসে অবস্থান নিয়ে বয়ান শুনছেন। ইজতেমার মূল বয়ান মঞ্চ থেকে তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বিরা আগত মুসল্লিদের উদ্দেশে বয়ান করেন। মূল বয়ান ঊর্দুতে হলেও সঙ্গে সঙ্গে ওই বয়ান বিভিন্ন ভাষাভাষী মুসল্লিদের জন্য অনুবাদ করা হয়।

রবিবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। বিদেশি নিবাসের পূর্ব পাশে বিশেষ মোনাজাত মঞ্চ থেকে রোববার বেলা ১১টা থেকে জোহরের নামাজের আগে যেকোনো সময় আখেরি মোনাজাত শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর চার দিন বিরতি দিয়ে আগামী ২০ জানুয়ারি শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব এবং একইভাবে শেষ হবে ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমা।

ইজতেমার নিরাপত্তা ব্যবস্থা : গত বৃহস্পতিবার থেকেই দু’পর্বের ইজতেমায় পুলিশ, র‌্যাব, কিউআরটি, আনসারসহ সাদা পোশাকধারী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যসহ ১০ হাজার আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ইজতেমা মাঠের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৩ শতাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা স্থাপনের করা হয়েছে। ১৩টি প্রবেশপথসহ চারপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হচ্ছে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরাগুলো।

এছাড়াও থাকছে মেটাল ডিটেক্টর, বাইনোকুলার, নাইটভিশন গগল্স, পুলিশ ও র‌্যাবের ষ্ট্রাইকিং ফোর্স, বোম ডিসপোজাল ইউনিট, নৌ টহল, হেলিকপ্টার টহল, মুসলিল্লদের খিত্তাওয়ারী মোটরসাইকেল টহল। নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটরিং এর জন্য একটি প্রধান কন্ট্রোল রুম ও সাব কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। ময়দান জুড়ে প্রায় ৫শ মাইক: আগত মুসল্লিরা যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে শীর্ষ মুরব্বিদের বয়ান শুনতে পারেন সেজন্য শব্দ প্রতিধ্বনিরোধক ৩২০টি ছাতা মাইক এবং বিদেশি মেহমানদের বয়ান শোনার জন্য বিদেশি কামরা ও তার আশপাশে ২০০টি ইউনিসেফ (প্রতিধ্বনি প্রতিরোধক) মাইন স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইজতেমা ময়দানের মাইকের জামাতের শীর্ষ জিম্মাদার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।

ইজতেমা ময়দানে ফ্রি চিকিৎসা সেবা : এদিকে ময়দানে ৪০টির অধিক সরকারি-বেসরকারি ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে মুসল্লীদের লাইনে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিতে দেখা গেছে। , , হামমর্দ ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প,, ইবনেসিনা ফার্মাসিউটিক্যাল, , টঙ্গী ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, বিভিন্ন ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে মুসল্লিদের ফ্রি চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

এসব মেডিকেল ক্যাম্পে বয়স্ক মুসল্লীদের লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাপত্র নিয়ে ফ্রি ঔষধ নিতে দেখা গেছে। ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের মাঝে বেশিরভাগই গেষ্টিক, আলসার, পেটের পীড়া, ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা বেশি।

ইজতেমায় ট্রেন ও বাস সার্ভিস

ইজতেমা উপলক্ষে বিশেষ ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঢাকা-টঙ্গী, ময়মনসিংহ-টঙ্গী ও টাঙ্গাইল-টঙ্গী রুটে ১৩টি অতিরিক্ত ট্রেন পরিচালিত হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রাকিবুর রহমান। তিনি আরও বলেন শুক্রবার জুমার দিন স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে। এই রুটে চলাচলরত প্রতিটি ট্রেন ইজতেমা চলাকালীন সময়ে টঙ্গী রেলওয়ে জংশনে যাত্রা বিরতি করবে।

এছাড়াও ইজতেমা উপলক্ষে ১২ জানুয়ারি থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ৫দিন বিআরটিসি’র পক্ষ থেকে ৩শ’টি বিশেষ বাস চালু থাকবে। প্রগতিসরনি, আশুলিয়া বাইপাস এবং গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সাটল বাস চালু থাকবে। আখেরী মোনাজাতের পর মুসল্লিদের বিভিন্ন জেলায় পৌছে দেয়ার জন্য একতলা বিশেষ বাস পরিষেবা চালু থাকবে। বিদেশি মেহমানদের জন্য একটি স্টীকারযুক্ত এসি বাস বিমানবন্দর থেকে ইজতেমা ময়দান পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) শুরু হয়ে রবিবার (১৫ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে প্রথমপর্বের (আলমি শূরার) বিশ্ব ইজতেমার সমাপ্তি ঘটবে। মাঝে ৪দিন বিরতি দিয়ে ২০ জানুয়ারি দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাযের অনুসারী (ওয়াসিফুল ইসলামপন্থী) মুসল্লিরা বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয়পর্বে অংশ নেবেন। ২২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে এবারের বিশ্ব ইজতেমার সমাপ্তি ঘটবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও সংবাদ

Rokomari Book

© All rights reserved © 2016 Paprhi it & Media Corporation
Developed By Paprhihost.com
ThemesBazar-Jowfhowo