১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বিকাল ৫:১৭

এআই কি আমাদের চিন্তাশক্তি কমিয়ে দিচ্ছে

সোনার সিলেট ডেস্ক
  • আপডেট বুধবার, মে ১৩, ২০২৬,

চ্যাটজিপিটি, ক্লদ বা জেমিনি’র (ChatGPT, Claude বা Gemini) মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুল এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে। কেউ লেখালেখির জন্য ব্যবহার করছেন, তো কেউ তথ্য খোঁজার জন্য আবার কেউ কাজ দ্রুত শেষ করতে এর সাহায্য নিচ্ছেন। তবে নতুন কিছু গবেষণা বলছে, অতিরিক্তভাবে এআইয়ের ওপর নির্ভর করলে মানুষের চিন্তাশক্তি, স্মৃতিশক্তি ও সৃজনশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি সবসময়ই মানুষের অভ্যাস বদলেছে। যেমন আগে মানুষ পথ চিনতে নিজের স্মৃতির ওপর নির্ভর করত, কিন্তু এখন অনেকেই গুগোল ম্যাপস (Google Maps) ছাড়া কোথাও যেতেও স্বস্তি পান না। একইভাবে সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারের ফলে মানুষ আগের মতো তথ্য মনে রাখে না। গবেষকরা বলছেন, এআই আরও বড় মাত্রায় সেই নির্ভরতা তৈরি করতে পারে।

অ্যাডাম গ্রিন নামের এক স্নায়ুবিজ্ঞানী বলেন, ‘যখন আমরা নিজেরা চিন্তা করার বদলে এআইকে কাজটা করতে দিই, তখন ধীরে ধীরে সেই মানসিক দক্ষতা কমে যেতে পারে।’

তার মতে, কঠিন চিন্তা, ভুল করা, আবার নতুনভাবে চেষ্টা করা – এসবই মস্তিষ্ককে শক্তিশালী করে। যদি সব কাজ এআই করে দেয়, তাহলে মস্তিষ্কের সেই ‘ব্যায়াম’ আর হয় না।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যারা বেশি এআই ব্যবহার করেন তারা অনেক সময় এআইয়ের উত্তরকে নিজের বিচারবুদ্ধির চেয়েও বেশি বিশ্বাস করেন, এমনকি সেটি ভুল হলেও। বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘কগনিটিভ সারেন্ডার’ বলে উল্লেখ করছেন।

তবে সব গবেষকই বলছেন না যে এআই পুরোপুরি খারাপ। জ্যারেড বেঞ্জ-এর মতে, বিষয়টি নির্ভর করে মানুষ কীভাবে এআই ব্যবহার করছে তার ওপর। যদি এটি সাধারণ বা সময়সাপেক্ষ কাজ সহজ করে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিন্তার জন্য সময় তৈরি করে, তাহলে সেটি উপকারীও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা কিছু সহজ উপায়ও জানিয়েছেন, যাতে এআই ব্যবহার করেও নিজের চিন্তাশক্তি সক্রিয় রাখা যায়।

কোনো বিষয়ে এআইয়ের উত্তর দেখার আগে নিজের মতো করে ভাবার চেষ্টা করতে হবে। এতে এআই আপনার চিন্তাকে যাচাই করতে সাহায্য করবে, পুরোপুরি বদলে দেবে না।

কিছু কাজ ইচ্ছা করেই ধীরে করা ভালো। যেমন দীর্ঘ লেখা নিজে পড়ে বোঝা, নোট নেওয়া বা কোনো সমস্যার সমাধান নিজে ভাবার চেষ্টা করা। কারণ এই মানসিক পরিশ্রমই স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

সৃজনশীলতার ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, এআই ব্যবহার করে তৈরি ধারণাগুলো অনেক সময় কম মৌলিক হয়। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে নিজের আইডিয়া লিখে রাখা ভালো, তারপর সেটি উন্নত করতে এআই ব্যবহার করা যেতে পারে।

মনোযোগ ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এখন মানুষ দ্রুত উত্তর পেতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে, ফলে ধৈর্য কমছে। তাই মাঝে মাঝে কঠিন কিছু নিজে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করা প্রয়োজন।

সবশেষে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, প্রযুক্তি বদলাবে, কিন্তু মানুষের সৃজনশীলতা, অনুভূতি ও নতুনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতাই সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই এআইকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা ভালো, তবে নিজের মস্তিষ্ককে পুরোপুরি তার হাতে ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়।

সূত্র: বিবিসি

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও সংবাদ

© All rights reserved © 2016 Paprhi it & Media Corporation
Developed By Paprhihost.com
ThemesBazar-Jowfhowo