করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালে সিলেটে সরকারি নির্দেশনা মেনে সব পার্ক বন্ধ থাকলেও খোলা রয়েছে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানধীন ‘রিজেন্ট পার্ক রিসোর্ট’। সিলেট-সুলতানপুর সড়ক সংলগ্ন দক্ষিণ সুরমার সিলামের ঠাকুরবাড়ি টিল্লাপাড়ার এ পার্কটি সরকারের নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঈদের দিন থেকেই খোলা রেখেছেন কর্তৃপক্ষ।
এতে টিকেট কেটে দর্শনার্থীদের দেদারসে ঢুকানো হচ্ছে প্রতিদিন। দর্শনকালে আগতরা লঙ্ঘন করছেন স্বাস্থ্যবিধি। এর ফলে পার্শ্ববর্তী এলাকায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেকাতে গত ১ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সিলেটসহ সারা দেশের পার্ক, বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থী আগমন নিষিদ্ধ করে সরকার। কিন্তু দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানধীন ‘রিজেন্ট পার্ক রিসোর্ট’ সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, ঈদুল ফিতরের দিন থেকে পার্কটি উন্মুক্ত রয়েছে। এ পার্কে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টিকেট কেটে দর্শনাথীরা ঢুকছেন এবং স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে ভিড় করে ঘুরোঘুরি করছেন, মেতে উঠছেন সেলফিবাজিতে। সিলেটের বাকি পার্কগুলো বন্ধ থাকায় ‘রিজেন্ট পার্ক রিসোর্ট’-এ প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় থাকে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পার্ক খোলা কেন এমন প্রশ্নের জবাবে ‘রিজেন্ট পার্ক রিসোর্ট’র ব্যবস্থাপক মুজিবুর রহমান মুজিব সিলেটভিউ-কে বলেন, আসলে সরকার দোকান-শপিংমলের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে তো, সে সুযোগে আমরাও পার্ক খোলা রেখেছি। তারপরও আমরা আজ মিটিং করবো, মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হলে পার্ক বন্ধ রাখবো।
এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুদ্দোহা পিপিএম সিলেটভিউ-কে বলেন, বিষয়টি আসলে আমরা জানি না। এ বিষয়ে এখনই ইউএনও স্যারের সঙ্গে আলোচনা করছি।
সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) বি এম আশরাফ উল্যাহ তাহের বুধবার (১৯ মে) বিকেলে সিলেটভিউ-কে বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সিলেটে সকল পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ রাখতে হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত ‘রিজেন্ট পার্ক রিসোর্ট’ও সেই আইনের অন্তর্ভুক্ত। আমরা খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
সূত্র : সিলেট ভিউ