বৃহস্পতিবার রাতভর ওসমানীনগর থানা পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে ওসমানীনগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিপুল পরিমাণ মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রভাবশালী নেতা ময়নুল হক চৌধুরী ও তার ৫জন সহযোগীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার ভোর রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশের অভিযান অব্যাহত ছিল। এ সময় ওসমানীনগর থানার ওসি জনাব শ্যামল বণিক গণমাধ্যমকে জানান, আমরা সংবাদপত্র ও গোপন সংবাদের উপর ভিত্তি করে ওসমানীনগর মডেল থানা ও সিলেট জেলা পুলিশের সহায়তায় যৌথ উদ্যোগে একাধিক খাদ্য হিমাগারে অভিযান পরিচালনা করেছে। সেখান থেকে প্রায় ১৫ কেজি গাঁজা, ৮০ বোতল দেশি- বিদেশি অবৈধ মদ, ১০৫ বোতল ফেনসিডিল, ৩০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ খাদ্য হিমাগারের পাঁচজন নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হিমায়িত খাদ্য সামগ্রী পরিবহনের সঙ্গে মাদক পাচারের কথা স্বীকার করে। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক উপজেলা চেয়ারম্যান ময়নুল হক চৌধুরীর বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং দয়ামীর ইউপি সদস্য সেবুল মিয়ার বাসায় অভিযান চালালে তাকে পাওয়া যায়নি। সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান প্রবাসে অবস্থানরত বলে জানা যায়। ময়নুল হকের বাসা তল্লাশি করে ৫০০ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট, ২০ বোতল অবৈধ মদ, ২৯ রাউন্ড গুলি, ১টি বিদেশি পিস্তল ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী নেতা ময়নুল হক চৌধুরী ও তার একজন সহযোগীসহ মোট ৬ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো শোয়ারগাঁও এর রফিক মিয়ার ছেলে এমাদ (৪০), শফিক মোল্লার ছেলে আমির (৩৫)। চিন্তামনী গ্রামের আমাতুল্লাহর ছেলে কোভিদ (৪২), তাজপুরের আকবরের ছেলে হামিদ (২২), খালপার গ্রামের আহমেদ আলির ছেলে একবার (২৬), গোয়ালাবাজারের রহমানের ছেলে তারেক (৪৫)।
ওসি শ্যামল বণিক জানান, পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মামলা কার্যক্রম পরে তাদেরকে কোর্টে চালান করা হবে। তিনি জানান তাদেরকে রিমান্ডে পাঠালে মাদক সংশ্লিষ্টতার গডফাদারসহ আরও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।