যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক ও তীব্র শীতকালীন ঝড়ে তুষার মুষ্টির কবলে পড়েছে প্রায় ২০ কোটি মানুষ, ইতোমধ্যেই অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের কারণে শুক্রবার ১৫ লাখেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে এবং কয়েক হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, টেক্সাস থেকে মেইন পর্যন্ত ছড়ানো বিশাল এই ঝড়টির বিস্তৃতি ৩২০০ কিলোমিটার। এনডব্লিউএস বলছে, শুক্রবার বায়ুমণ্ডলের চাপ দ্রুত কমে গিয়ে ঝড়টি ‘বোম্ব সাইক্লোনের’ রূপ নেয়, এতে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্তে তুষার ঝড়ের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানার এলক পার্কের তাপমাত্রা নেমে মাইনাস ৪৫ সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছিল। মন্টানা অঙ্গরাজ্যের অবস্থা এতটাই হিমশীতল যে, বাতাসে গরম পানি ছুড়লে মুহূর্তেই সেটা তুষারে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। একই সময় মিশিগানের হেল শহর পুরোপুরি বরফের চাদরে ঢাকা ছিল। শুক্রবার রাতে হেল শহরের তাপমাত্রা মাইনাস ১৭ সেলসিয়াসে নেমে যায়।
পেনসেলভেইনিয়া ও মিশিগানে ভারি তুষারপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বাফেলো, নিউ ইয়র্ক অন্তত ৩৫ ইঞ্চি তুষারপাত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিউ ইংল্যান্ড, নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে উপকূলীয় বন্যা দেখা গেছে। এছাড়াও লুইজিয়ানা, আলাব্যামা, ফ্লোরিডা ও জর্জিয়ায় তাপমাত্রা মাইনাস তিন সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, কেনটাকি, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওকলাহোমায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এদিকে উইসকনসিন ‘জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ জারি করেছে।
এদিকে, ঝড়-সম্পর্কিত ব্যাপক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে । শুক্রবার ওহাইওতে ৫০টি গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কতৃপক্ষ।
অন্যদিকে কানাডার অন্টারিও ও কুইবেক প্রদেশেও ঝড়ের তাণ্ডব দেখা গেছে। সেখানকার কয়েকলাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। দেশটির বাকি অধিকাংশ অংশে, ব্রিটিশ কলম্বিয়া থেকে নিউফান্ডল্যান্ড পর্যন্ত, চরম শৈত্য প্রবাহ ও শীতকালীন ঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।