মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান রেন্টুর লেখা বই “আমার ফাঁসি চাই ” বই ছাপানোর অভিযোগে দক্ষিন সুরমার দীর্ঘদিনের সুনামধন্য ছাপাখানা প্রতিষ্ঠানের মালিক ফয়সাল আহমেদ ও প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তার ছোট ভাই জুবেল আহমেদের এর বিরুদ্ধে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আতিক শাহরিয়ার বাদী হয়ে ৮ ই আগস্ট মামলা করায় ১২ই আগস্ট ফয়সাল আহমেদকে গ্রেফতার করে।
১৩ই আগস্ট আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে এবং তার ছোট ভাই জুবেল আহমেদ বর্তমানে পলাতক আছে পুলিশ গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রেখেছে. তথ্য সূত্রে জানা গেছে বইটি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির দক্ষিণ সুরমা ইউনিয়ন সভাপতি সাহাব উদ্দিন তাদের প্রকাশনা থেকে ছাপানোর পর বিতরণ শুরু করে এতে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বর্ণমালা প্রকাশনার কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা বইটি তাদের নৈতিক দায়িত্ব মনে করে বইটি প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
(উল্লেখ্য যে বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা গেছে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৪ সালে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সকল নিষিদ্ধ বইগুলো থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলে নেয়,যার আওতায় আমার ফাঁসি চাই বইটিও পড়ে ). মামলা সম্পর্কে জানতে চাইলে বর্ণমালা প্রকাশনার মালিকদের উকিল জনাব এডভোকেট আরিফুল ইসলাম বলেন ওনার মক্কেলরা সম্পূর্ণ নির্দোষ, পুলিশ ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আতিক শাহরিয়ার অতিউৎসাহী হয়ে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে একটা ভিত্তিহীন মিথ্যা মামলা করেছে এবং গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। প্রকাশনার স্বত্বাধিকারী জুবেল আহমেদএই মামলার বিরুদ্ধে আমরা আদালতে লড়ব।আশা করছি আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিবে।
১৪ আগস্ট দক্ষিন সুরমার ছাপাখানা মালিক সমিতি ও এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বর্ণমালা প্রকাশনার মালিকদের বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র মূলক মিথ্যা মামলা তোলে নেওয়ার জন্য বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করা হয়।এই সময় প্রকাশনা মালিক সমিতির জেলা প্রতিনিধি জনাব হুসেন আকবর হুশিয়ারি করে বলেন বাংলাদেশ গনতান্ত্রিক দেশ, মত প্রকাশনের স্বাধীনতা প্রত্যেকটা নাগরিকের আছে যেকোনো অজুহাতে যদি মত প্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করা হয় বিশেষ করে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে জাতীর বিবেক সেই বিবেকে কেউ যদি আঘাত করে প্রকাশনা মালিক সমিতি বসে থাকবে না। সর্বশেষ মানববন্ধন থেকে প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয় যেন বর্ণমালা প্রকাশনার মালিকদের বিরুদ্ধে সকল হয়রানি ও ষড়যন্ত্র এবং মিথ্যা মামলা বন্ধ করা হয়।