১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকাল ৮:২৮

নাজমুল হাসান ও মাজহারুল নামের দুই যুবকের বিরুদ্ধে সমকামিতায় লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ হামলা এবং মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট বৃহস্পতিবার, জুলাই ৮, ২০২১,

নাজমুল হাসান ও মাজহারুল নামের দুই যুবকের বিরুদ্ধে সমকামিতায় লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি তারা সমকামিতায় লিপ্ত হওয়ায় তাদের উপর হামলাও করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নাজমুল হাসান ও মাজহারুল নামের দুই যুবকের সমকামিতায় লিপ্ত থাকার খবার পাওয়া গেছে। তারা সমকামিতায় লিপ্ত হন বলে জানা যায়। ইসলাম বিরোধী অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। ইসলাম ধর্মে সমকামিতা পুরোপুরি নিষেধ এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা ও ধর্ম অবমাননা করার কারণে ঐ এলাকার ইমাম রাশেদুল ইসলাম বাদি হয়ে তার নেতৃত্বে ৩৭৭ ধারায় বরুড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
সুলতানপুর বাজারের বিভিন্ন দোকান মালিক এবং দোকান কর্মীদের থেকে খবর নিয়ে জানা গেছে নাজমুল হাসান সুলতানপুর বাজারে হাজী ক্লথ এন্ড সু স্টোর নামে একটি দোকানে কাজ করত। মাজহারুল নামের একটি ছেলে বিভিন্ন সময়ে ওই দোকানে আসা-যাওয়া করত। তাদের দুজনে যে সমকামী তা প্রথমদিকে কেউ টের পায়নি। এক পর্যায়ে তাদের চলাফেরা এবং কথাবার্তায় মানুষ কিছুটা বুঝতে পারে এবং তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করে। ৫ই জুলাই মাজহারুল দুপুরবেলায় ওই দোকানে আসে এবং সেটা কয়েকজন ব্যবসায়ী লক্ষ করেন। দোকানে আসার কিছুক্ষণ পরে কয়েকজন দোকান মালিক এবং দোকান কর্মী এবং বাজার কমিটির কয়েকজন সদস্য মিলে ওই দোকানে যান। তাদেরকে দোকানে দেখতে না পেয়ে দোকানের পিছনে গিয়ে দেখতে পান তারা বিব্রস্ত অবস্থায় শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে রয়েছে। তখনই কিছু দোকান মালিক এবং কিছু দোকান কর্মী তাদেরকে মারধর করা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে মাঝহারুল নামের ছেলেটা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। নাজমুল হাসান বিব্রস্ত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি সাথে সাথে ওই এলাকার মসজিদের ইমাম রাশেদুল ইসলাম সাহেবকে জানানো হয়। সাথে সাথে ওই এলাকাতে এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং ওই এলাকার সাধারণ মানুষ ওই ঘটনার স্থানে ভিড় জমায়। তখন ইমাম রাশেদুল ইসলাম পুলিশকে কল দিয়ে ঘটনার স্থান থেকে মাজহারুল নামের ওই ছেলেটাকে পুলিশের হাতে তুলে দেযন এবং থানাতে গিয়ে নাজমুল হাসান ও মাজহারুল এর বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা এবং ধর্ম অবমাননা মামলা দায়ের করেন।
সুলতানপুর বাজারের হাজী ক্লথ এন্ড স্টোর এর মালিক হাজী মোমিন সাহেবের সাথে বিষয়টি নিয়ে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি জানান, নাজমুল হাসান প্রায় এক বছর যাবত উনার দোকানে কর্মরত ছিল। প্রায় সময় মাজহারুল নামের এই ছেলেটা তার দোকানে আসা-যাওয়া করত। প্রায় সময় তিনি ওই নাজমুল হাসানকে ফোনে কথা বলতে দেখতেন। কিন্তু তিনি কোনভাবে বুঝতে পারেন নাই তাদের মধ্যে এরকম কোন একটা সম্পর্ক আছে। ৫ জুলাই দুপুর বেলা তিনি বাড়িতে যান। আর তখন নাকি মাজহারুল নামের ওই ছেলেটা তার দোকানে আসে এবং তারা দোকানের পেছনে নাকি বিবস্ত্র অবস্থায় শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। তখন পার্শ্ববর্তী দোকানের বেশ কয়েকজন মালিক এবং বাজার কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য মিলে তার দোকানে আসে এবং দোকানে ওদেরকে না পেয়ে দোকানের পেছনে যায়। সেখানে তাদেরকে শারীরিক সম্পর্ক করা অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। তখন বেশ কয়েকজন লোক তাদের উপরে অতর্কিতভাবে হামলা করে। হামলায় মাজহারুল নামে ছেলেটা ওই জায়গাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং নাজমুল হাসান ঘটনাস্থান থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় পালিয়ে যায়। আর মাজহারুল নামের ছেলেটাকে পুলিশের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে এ ব্যাপারে কথা বলতে চান। পরিবার থেকে তাকে জানানো হয়, ওদের এই সম্পর্কের ব্যাপারে তারা কোন কিছুই জানেন না এবং এই ব্যাপারে তারা আর কোন কথা বলতে চান না।
আমরা তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারি তারা এই সম্পক্ষের ব্যাপারে কোন কিছু জানতো না। মাজহারুল এর বাবা এবং নাজমুল হাসানের বাবা জানান যেহেতু তারা এই জঘন্য কাজে লিপ্ত হয়েছে যে কাজ ইসলাম বিরোধী এবং ওরা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা এবং ধর্ম অবমাননা করেন। তার জন্য তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক। এমনকি উনারা ওনাদের সন্তানকে ত্যাজ্য করে দিয়েছেন। তারা আরো বলেন তাদের সন্তানদেরকে দেশের আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হোক এবং ইসলামী আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হোক। যাতে আর কারো সন্তান এই ধর্ম বিরোধী কাজে লিপ্ত না হয়। নাজমুল হাসানের বাবা আরো বলেন তার ছেলে যেখানেই থাকুক তাকে যেন আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হয়। যাতে আর কারো সন্তান এই ধর্ম বিরোধী কাজ করতে সাহস না পায়।
আমরা এই মামলার বাদী ইমাম রাশেদুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারি, তিনি আমাদেরকে বলেন নাজমুল হাসান ও মাজহারুল তারা যেই সম্পর্কে জড়িয়েছে তা ইসলাম ধর্মে পুরোপুরি নিষেধ। ইসলাম এ কাজটাকে কোনভাবে সমর্থন করে না এবং কি ওরা ধর্ম অবমাননা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনেন। তাই আমি এবং এলাকার সচেতন নাগরিক এবং ধর্ম গুরুদের নিয়ে বরুড়া থানাতে ওদের নামে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা এবং ধর্ম অবমাননা মামলা দায়ের করি। মাজহারুল নামের ওই ছেলেটা এখন বর্তমানে জেলে আছে এবং নাজমুল হাসান নামের ছেলেটা পলাতক আছে। আশা করি পুলিশ খুব শীঘ্রই তাকে গ্রেফতার করবে। আমাদের ধর্মীয় বেশ কয়েকজন কর্মী তাকে খুঁজছে। তাকে পেলে ইসলামী আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে। নয়তোবা দেশের আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে যাতে আর কোন যুবক এই সমকামিতা নামক সম্পর্কে না জড়ায়। তাই আমরা কঠোরভাবে তাদেরকে শাস্তি প্রদান করব ইনশাআল্লাহ।
উক্ত মামলা সম্পর্কে বরুড়া থানার ওসি জনাব মোজাম্মেল হক সাহেব জানান, ইমাম রাশিদুল ইসলাম সাহেবের অভিযোগের কারণে আমরা সত্যতা পেয়ে নাজমুল হাসান ও মাজহারুল ওনাদের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা আইনে মামলা নিয়েছি। মাজহারুলকে আমরা ঘটনাস্থান থেকে গ্রেফতার করি। নাজমুল হাসান আমরা যাওয়ার আগেই সাধারণ মানুষের হাতে হামলার শিকার হয়ে ঘটনাস্থান থেকে পালিয়ে যায়। এখনো নাজমুল হাসান পলাতক আছেন। আমাদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও সংবাদ

© All rights reserved © 2016 Paprhi it & Media Corporation
Developed By Paprhihost.com
ThemesBazar-Jowfhowo