সৃজনশীল প্রকাশনাসংস্থা পাপড়ির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো কবি ও শিক্ষাবিদ মরহুম করামত আলী স্মরণে ‘পাপড়ি-করামত আলী সাহিত্য উৎসব ২০২৬’ । সাহিত্য, শিক্ষা ও মননচর্চার সম্মিলনে আয়োজিত এ উৎসব সাহিত্যাঙ্গনে এক আবেগঘন ও অনন্য আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
১৭ জানুয়ারি শনিবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চারঘণ্টাব্যাপী এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি অধ্যক্ষ কালাম আজাদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস উন নূর। সংবর্ধিত অতিথিদের মধ্য থেকে বক্তব্য দেন পাপড়ি-করামত আলী আজীবন সম্মাননাপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাবেক সভাপতি কবি রাগিব হোসেন চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দৈনিক প্রভাতবেলার সম্পাদক কবীর আহমদ সোহেল। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা। গল্পকার ও নাট্যাভিনেতা মিনহাজ ফয়সলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন প্রকাশনাসংস্থা পাপড়ির কর্ণধার কামরুল আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুকতাবিস উন নূর বলেন, মরহুম করামত আলী ছিলেন একাধারে শিক্ষাবিদ ও সৃজনশীল মানুষ। তাঁর চিন্তা, লেখা ও জীবনদর্শন নতুন প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস। তাঁর নামে আয়োজিত এই সাহিত্য উৎসব সাহিত্যচর্চায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, করামত আলীর সাহিত্য ও শিক্ষাভাবনা আমাদের মননে আজও প্রাসঙ্গিক। তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে নিয়মিত সাহিত্য আয়োজন নতুন লেখকদের বিকাশে সহায়ক হবে।
সংবর্ধিত অতিথি কবি রাগিব হোসেন চৌধুরী বলেন, করামত আলী ছিলেন নির্লোভ, প্রজ্ঞাবান ও দায়বদ্ধ একজন শিক্ষক-সাহিত্যিক। শিক্ষা ও সাহিত্য—দুই ক্ষেত্রেই তিনি মানুষের ভেতরের মানুষটিকে জাগ্রত করতে চেয়েছেন। তাঁর সান্নিধ্যে আসা মানুষ আলোকিত না হয়ে ফিরতে পারেনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৈনিক প্রভাতবেলা সম্পাদক কবীর আহমদ সোহেল বলেন, করামত আলীর কবিতায় যেমন মানবিক বোধের গভীরতা ছিল, তেমনি তাঁর ব্যক্তিজীবনেও ছিল পরিমিতিবোধ ও সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আজকের সময়ে তাঁর আদর্শ আমাদের জন্য আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। তাঁর নামে আয়োজিত এই সাহিত্য উৎসব শুধু স্মরণ নয়, বরং নতুন প্রজন্মকে মানবিক ও সৃজনশীল চর্চায় উদ্বুদ্ধ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস।
সভাপতির বক্তব্যে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি অধ্যক্ষ কালাম আজাদ মরহুম করামত আলীর স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, করামত আলী ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক ও সংবেদনশীল কবি, যাঁর জীবন ছিল নীরব সাধনা ও সৃজনশীলতার অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি কখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে চাননি, কিন্তু তাঁর চিন্তা ও কর্মের প্রভাব ছিল গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী। অধ্যক্ষ কালাম আজাদ আরও বলেন, করামত আলীর নামাঙ্কিত এই সাহিত্য উৎসব তাঁর স্মৃতির প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা জানানো এবং একই সঙ্গে তরুণ লেখকদের সৃজনশীল চর্চায় উদ্বুদ্ধ করার একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে মরহুম করামত আলীর জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি কবিতা ও ছড়াপাঠ, স্মৃতিচারণ ও সাহিত্য আড্ডার মধ্য দিয়ে উৎসবটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কবি আমিনুল ইসলাম কাজল, পাপড়ি-করামত আলী সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি বাছিত ইবনে হাবীব, কথাসাহিত্যিক মোহাম্মদ আব্দুল হক, শেরপুর জেলা থেকে আগত কবি-গবেষক আশরাফ আলী চারু, দিশারী শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক পরিচালক কণ্ঠশিল্পী সানাউল ইসলাম সুয়েজ, শেকড়সন্ধানী কবি সরওয়ার ফারুকী, কবি কামাল আহমদ, প্রাবন্ধিক মাজহারুল ইসলাম জয়নাল, কবি আজমল আহমদ প্রমুখ। এছাড়া অর্ধশতাধিক কবি ও সাহিত্যিক কবিতা ও ছড়াপাঠের পাশাপাশি তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে পাপড়ি-করামত আলী সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদেরকে পদক প্রদান করা হয়। এছাড়া ২০২৫ সালের বেস্টসেলার লেখকদেরকে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। পাপড়ির স্বত্ত্বাধিকারী কথাসাহিত্যিক কামরুল আলম জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠান পাপড়ি ভবিষ্যতেও করামত আলীর নীতি-আদর্শকে ধারণ করে নিয়মিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত রাখবে।