সম্পত্তির লোভে লন্ডন প্রবাসী ভাতিজার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন চাচা মো. বাচ্চু মিয়া। তবে প্রবাসীর দাবি, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক মামলা। ঘটনাটি ঘটেছে সিলেট নগরীর শাহপরান থানার অন্তর্গত মেজরটিলার নূরপুর এলাকায়।
মো. বাচ্চু মিয়া থানায় দাখিল করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ইং, ১১.১৫ ঘটিকায় লন্ডন প্রবাসী নাজমুল হোসাইন সোহাগ (২৩) -এর নির্দেশে এবং আহমেদ কবির শিপলু (৩০)-এর নেতৃত্বে আসামিগণ ঘটনাস্থল আমার বসতবাড়ি ১১/বি, নুরপুর রোড, মেজরটিলা, থানা-শাহপরান (রহঃ), এসএমপি সিলেট-ঠিকানায় একটি মাইক্রোবাসে করে এসে দেশীয় অস্ত্র সহযোগে আক্রমণ চালায়। এসময় আসামিগণ পরস্পরের যোগ-সাজেশে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহকারে, বিনা উস্কানিতে, লুটপাটের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থল আক্রমণ করে। আসামিগণ ঘটনাস্থলে পৌঁছে, বাসার মেইন গেইট অতিক্রম করে, ঘরের দরজার সম্মুখে এসে হইহল্লা শুরু করলে ভিকটিম ও ২নং সাক্ষী বাচ্চু মিয়ার শ্যালক লাহিন আহমদ (৩০) এগিয়ে এসে তাদের চিল্লাচিল্লির কারণ জানতে চাইলে, তারা লাহিন আহমদের সাথে দুর্ব্যবহার করে ও তাকে চড়-থাপ্পড় মারে। একসময় তাকে দেশীয় অস্ত্র দ্বারা আঘাত করে তার ডান হাত ও বাম পায়ে গুরুতর লিলা-ফুলা জখম করে। একপর্যয়ে, লাহিন আহমদ আহত হয়ে নিচে পড়ে গেলে আসামিগণ তাকে ডিঙ্গিয়ে জোরপূর্বক বাসার ভেতরে প্রবেশ করে। তখন বাচ্চু মিয়া এগিয়ে আসলে আসামিগণ লাঠি দিয়ে আঘাত করে তাকেও গুরুতর আহত করে। আসামিগণ ঘটনাস্থল ১১/বি, নুরপুর রোড, মেজরটিলা ঠিকানাস্থ বাসায় ঢুকে আসবাবপত্র ভাংচুর করে। সেইসাথে আলমারিতে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নেয়। সেসময় নাজমুল হোসাইন সোহাগ (২৩) অজ্ঞাত স্থান থেকে হোয়াটসঅ্যাপের ভিডিও কলের মাধ্যমে আসামিগণকে আদেশ নির্দেশ ও হুকুম দিতে থাকে। একইসাথে হোয়াটসঅ্যাপের ভিডিও কলের মাধ্যমে আদেশ নির্দেশ দানের পাশাপাশি কোন ঘরের কোথায় কী মূল্যবান জিনিস রাখা আছে তা বলে দিতে থাকে এবং আসামিগণ সেগুলো লুটপাট করতে
থাকে। আসামিগণ সর্বমোট ০৫ (পাঁচ) ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ২ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়াও আসামিগণের তাণ্ডবে ঘরে রক্ষিত আসবাবপত্র ও অন্যান্য দ্রব্যাদির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। উক্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। একপর্যায়ে, ঘরের ভেতরে থাকা লোকজনের চিৎকার-চেঁচামেচিতে স্থানীয় জনগণ আসামিগণকে বাধা দিতে এগিয়ে আসলে তারা দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে লোকজনকে হুমকি ও জীবনের ভয় দেখায়। একপর্যায়ে আসামীগণ মাইক্রোবাসে করে স্থান ত্যাগ করে। এ সময় উপস্থিত সাক্ষীগণ জখমী ভিকটিমকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অন্যদিকে গণমাধ্যমকে প্রবাসী নাজমুল জানিয়েছেন, মামলাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক। তার দাবি, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে তার চাচা মো. বাচ্চু মিয়া সম্পত্তি দখলের জন্য বাংলাদেশে থাকা তার বাবা সাজু মিয়া এবং মা হালিমা আক্তারকে হত্যা করে। বর্তমানে বাড়িতে কেউ না থাকায় সম্পত্তি দখলের জন্য নাজমুলের নামে পরিকল্পিতভাবে এ মিথ্যা মামলা করেছেন তিনি। স্থানীয় এলাকাবাসীর অনেকেই জানিয়েছেন, প্রবাসী নাজমুলের পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই শান্তিপূর্ণভাবে এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের কোনো নজির কখনোই ছিলো না।
এ বিষয়ে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, প্রবাসীদের জমিজমা জোরপূর্বক দখল নিয়ে এ ধরনের বিরোধ ও জটিলতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সচেতন মহল এ বিষয়ে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছেন।