সমস্বর নাচ ও গানের স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্লগার সাদিয়া জাফরিনের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের নেতা শরীফ মিয়াজী গত ২ সেপ্টেম্বর এ মামলার বাদী হন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সাদিয়া জাফরিন তার লেখনিতে ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে লেখা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া তিনি সমকামীদের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বাদীর দাবি, এসব কর্মকাণ্ড সমাজে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরি করছে।
তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সাদিয়া জাফরিনের পরিবার। তার বাবা আমিনুল হক বলেন, তার মেয়েকে অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। তিনি জানান, তার মেয়ে মৌলবাদীদের অন্যায় কর্মকান্ডের সব সময় সমালোচক ছিলেন।
সমকামী শিক্ষার্থীদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করাই মূলত তার মেয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণ।
আমিনুল হক আরও অভিযোগ করেন, গত ২ আগস্ট হেফাজতে ইসলামের কিছু কর্মী তাদের পরিচালিত ‘সমস্বর’ নাচ ও গানের স্কুলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ৬ আগস্ট সাদিয়া জাফরিনের ওপর হামলা চালানো হলে তিনি গুরুতর আহত হন। ১৩ দিন তিনি হাসপাতালের ICU তে ছিলেন বলে জানান তার পিতা।
হেফাজতে ইসলাম কর্মীদের হামলায় তার মাথায় এবং হাতে গুরুতর আহত হন।
তিনি বলেন, এসব ঘটনার পরও দায়ীদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো তাদের পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সাদিয়া জাফরিনের পিতা আরো অভিযোগ করেন গত ২৬ আগষ্ট হেফাযত ইসলাম লোকজন তার মেয়ের বিরুদ্ধে উসকানী মূলক প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সেই সমাবেশ থেকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।