রাশেদ রউফ। জন্ম চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ছনহরা গ্রামে। বেড়ে ওঠাও এখানে। পড়ালেখার শুরু পটিয়ার ছনহরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর ধাপেধাপে এগোতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত বিষয়ে স্নাতক এবং ১৯৮৭ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
রাশেদ রউফ তখন ষষ্ঠ শ্রেণির দুরন্ত ছেলে। যে বয়সে সবাই ঘুরে বেড়ায় টইটই করে, রাশেদ রউফ সেখানে একটু আলাদা। মাথায় তাঁর কাব্যের ঝড়। সহপাঠীর কাব্যচর্চায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনিও লিখছেন। পরবর্তীতে পেয়েছেন শিক্ষক আশা কিরণ চৌধুরীর উৎসাহ, অনুপ্রেরণা।
শিখতে শিখতে লিখতে লিখতে একদিন তাঁর লেখা প্রকাশিত হলো। তখন তিনি পটিয়া সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। সাল ১৯৮০। তাঁকে আমরা ছড়াকার হিসেবে চিনলেও তিনি বিচরণ করেছেন সাহিত্যের অনেক শাখায়। আমরা তাঁর প্রকাশিত বই নিয়ে একটু আলাপ করলে বুঝতে পারব। তাঁর প্রকাশিত বই প্রায় অর্ধশত।
তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য ছড়ার বই-
অন্ত্যমিলসমগ্র: ১ এটাও চাই ওটাও চাই
শিশুদের জন্য গল্প ও উপন্যাসগ্রন্থ আছে অনেক। কয়েকটি দেখি-
বন্ধু চিরকাল
আইমান ও মাছের গল্প
ছুটির দিনে
পাখির সাথে আনন্দমেলায়
বাবারা কি মায়ের মতো
শিশুদের জন্য গল্প ও উপন্যাসের পাশাপাশি লিখেছেন কাব্যগ্রন্থও। একটা নয়, দুটো নয়, অনেক অনেক…
তোমার জন্যে সোনার বাংলা
ছুটিমাখা সকালে
শ্রেষ্ঠ কিশোরকবিতা
ছুটির মজা কেমন মজা
আয়রে খোকন ঘরে আয়
বরেণ্য এই শিশুসাহিত্যিককে অনেকেই উৎসর্গ করেছেন তাদের বই। কয়েকজনের নাম যদি বলি—কবি আসাদ চৌধুরী, সুব্রত বড়ুয়া, বিপ্রদাশ বড়ুয়া, সুকুমার বড়ুয়া, রফিকুল হক দাদাভাই, আলী ইমাম, লুৎফর রহমান রিটন প্রমুখ। লেখালিখির পাশাপাশি সাংগঠনিক কাজেও আছে তাঁর উপস্থিতি। সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম একাডেমি ও বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তিনি।
ছড়াকার রাশেদ রউফের পুরস্কার ও সম্মানের ঝুলিও সমৃদ্ধ। বাংলা একাডেমি পুরস্কার ছাড়াও পেয়েছেন অনেক পুরস্কার। তন্মধ্যে—
ছোটদের কাগজ শিশুসাহিত্য পুরস্কার
কিডস শিশুসাহিত্য পুরস্কার
ঝুমঝুমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার
বাংলা সাহিত্য পদক
শিল্পকলা একাডেমি পদক
শিশুসাহিত্যিক রাশেদ রউফ-এর রঙিন জীবনের জন্য শুভকামনা।