মূল সংবাদে যান

সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

গুচ্ছ ছড়া

কী যে আনন্দ

কী যে আনন্দ আকাশ বাতাসে
চারিপাশে রয় প্রাণ,
শরৎ শোভায় সকল কিছুই
ছড়ায়ে রেখেছে ঘ্রাণ।
কী যে আনন্দ শিউলি ফুলের
বলছে ঘাসের কানে,
বলতে পারবে কী সখি গো তুমি
এই জীবনের মানে?
কী যে আনন্দ সাদা ওই মেঘে
দেখছি সবাই রোজ!
জল হয়ে যেই ঝরে যায় সখি
রাখে কে তাহার খোঁজ?
কী যে আনন্দ নদীর পাড়েতে
কাশ ফুলে খায় দোল!
একটা সময় মায়ের খোকায়
থাকে না রে তার কোল।
কী যে আনন্দ কষ্টে বাঁচার
ধরে হাসি ওই মুখে!
এই জীবনটা কাঁটায় সবাই
নানান সুখ ও দুখে।
.
ভণ্ডামি 
বাড়ছে দেখি   স্বভাব মেকি
     সমাজ মাঝে ভাই,
করে যেমন     নহে তেমন
     ভণ্ডামি যে  তাই!
ঈগল পাখি     বন্ধ আঁখি
       ধম্মে মতি আজ,
টিক্কি চুলে    শিকার ভুলে
       সাধুবাবার সাজ।
শুভ্র দাড়ি     নজর কাড়ি
         বয়স হলো খুব,
লেবাসধারী    মারছে ঝাড়ি
         ভণ্ডামিতে ডুব!
সবাই  চলে     নানান ছলে
       হাসিল করে কাজ,
ধম্মে মতি       হইলে গতি
        নইলে পাবে লাজ।
.
মানুষ ভুলে
ভবের বুকে নানান মানুষ
উড়ায় মনের সুখে ফানুস,
ক্ষণে ক্ষণে ওঠে দুলে
সখের কিছু পেয়ে ভুলে।
কেহ ভুলে মদের নেশায়
কাউকে দেখি বেশ ও ভূষায়!
একেক জনে একেক ক্লাসে
থাকে ব্যস্ত ভোগবিলাসে!
ক্ষমতার লোভ আবার কারো
মরো নয় তো কাউকে মারো,
লোভ লালসায় কেহ অন্ধ
লোকে বলে এরা মন্দ!
পুরুষ মানুষ যায় রে সহে
ভালোবাসার চলে মোহে!
রাখতে ভালো নেয় রে ঝুঁকি
হাসি মুখটা দেখে সুখী!
নারী ভুলে কেবল মায়ায়
থাকতে চায় সে প্রেমের ছায়ায়,
দুঃখ চেপে থাকে ভুলে
সংসার সাজায় ফুলে ফুলে।
.
মন না জেনে
মন না জেনে প্রেম করো না ওরে অবুঝ খোকা
নইলে পাবে এক জীবনে শতো রঙের ধোঁকা।
মনের সাথে মন যে জুড়ে
ভালোবাসা গড়ে সুরে
ভুল হয়ে যায় না জানিয়া প্রেমের পথে ঝোঁকা।
মন না জেনে প্রেম করো না ওরে অবুঝ খোকা
নইলে পাবে এক জীবনে শতো রঙের ধোঁকা।
মন বিনিময় পরে বাড়ে
মনে ব্যথা জ্বালা,
চোখের জলে কেঁদে বলে
ক্যান দিছিলাম মালা?
চেহারায় নয় সব আবেদন
মন না জেনে প্রেম নিবেদন
অবশেষে চোখের জলে ভাসে যারা বোকা।
মন না জেনে প্রেম করো না ওরে অবুঝ খোকা
নইলে পাবে এক জীবনে শতো রঙের ধোঁকা।
.
সংগ্রামের আগুন 
বারো ভূতের শাসন শোষণ
ছিলো মোদের দেশে,
সূর্য ওঠে প্রতিবাদের
আগুন তাতে মেশে।
শেষে আবার পাক হানাদার
ভাষার কথা টানে,
ফাগুন মাসে আগুন ঢালে
ভাইয়ে ভাষার গানে।
মানে সারা জগতের লোক
বাঙালিরা সেরা,
সোনার বাংলা সংগ্রামী আর
বীর বাঙালির ডেরা।
ঘেরা মোদের বুকের পাজর
অগ্নি সাহস বুকে,
জগতে কে আছে এমন
বলো মোদের রুখে?
দুখের কথা মনে করায়
কৃষ্ণ চূড়ার ডাল যে,
সংগ্রামের ওই আগুন পুড়ে
রক্ত বুঝি লাল যে।
.
যখন যেমন
যখন যেমন মনে হবে
তেমন হতো যদি,
তবে আমি দখল করতাম
ক্ষমতার ওই গতি।
যদি কেহ ক্ষুধার্ত রয়
দেব খাদ্য পানি,
সমাজ মাঝের সমস্যা খুব
ভালো করে জানি।
গ্লানি সবার দূর করিবো
যখন যেমন লাগে,
লোকের জন্য করতে কিছু
ইচ্ছে মনে জাগে।
আগে আমার মনের ইচ্ছে
হতো সদা ব্যর্থ,
এক জীবনে চাই নি কভু
আমি নিজের স্বার্থ।
অর্থবিত্ত চাওয়া নেই মোর
থাকি যখন যেমন,
সবার মনে চাওয়া যেমন
পাক রে সবাই  তেমন!
.
বি এম মিজানুর রহমান ১৯৮৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি কে ডি আর কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি নড়াইল জেলা ‘শিক্ষক অ্যাম্বাসেডর’, মাস্টার ট্রেইনার এবং উপজেলার ‘শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক’ হিসেবে বিশেষ সুনাম অর্জন করেছেন।
শিক্ষকতার সমান্তরালে লেখালেখির জগতেও তার বিচরণ বেশ প্রশংসনীয়। তার প্রকাশিত একক গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে-‘প্রিয় উপহার’, ‘এলিয়েন ভার্সেস মানুষ মহারণ’, ‘ছড়া গানের মালা’ এবং ‘বিপ্লবী’। বইগুলো রকমারিসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে।
এ ছাড়া তার লেখা স্থান পেয়েছে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য যৌথ কাব্যগ্রন্থে; যার মধ্যে —’কাব্যকলি’, ‘কাব্য দীঘি’, ‘শ্রাবণধারা’, ‘তারুণ্যের জয়গান’, ‘লিটভার্স কাব্য’, ‘চব্বিশের গণবিস্ফোরণ’, ‘টুকরো কথার গল্প’ এবং ‘ভূতের পেতাত্মারা’ অন্যতম।