২১শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ৩:২৭

কৃত্রিম ভূ-কম্পনে ১০ গ্রামে বিপর্যয়: বাড়ি-ঘরে ফাটল, আতঙ্কে এলাকাবাসী

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সোমবার, জুন ৭, ২০২১,
  • 60 বার পঠিত

হবিগঞ্জের বাহুবলে সিলেট গ্যাসফিল্ডের আওতাধীন অকটেন উৎপাদনকারী কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্টের বিকট শব্দ ও কৃত্রিম ভূ-কম্পনে আতঙ্কিত আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ। ভূ-কম্পনের কারণে গ্রামগুলোর বাড়িঘরে দেখা দিয়েছে ফাটল। রাতে শব্দ ও ভূ-কম্পনের মাত্রা বেড়ে গেলে আতঙ্ক দেখা দেয় গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে। স্থানীয়দের দাবি, দিনরাত বিকট শব্দ এবং ভূ-কম্পনের কারণে শিশুদের মধ্যে নানা মানসিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এ ব্যাপারে বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রামগুলোর বাসিন্দারা।

গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বাহুবল উপজেলার রশীদপুরের বড়গাঁও এলাকায় অকটেন উৎপাদনকারী কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্টের ‘ক্যাটালাইটিক রিফরমিং ইউনিট’ চালু করা হয় গেল বছরের শেষের দিকে। চালুর করার পর থেকে শব্দ স্বাভাবিক মাত্রায় ছিল। কিন্তু গত ৮ এপ্রিল সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে ‘ক্যাটালাইটিক রিফরমিং ইউনিট’-এ শব্দের মাত্রা প্রকট আকার ধারণ করে। পাশাপাশি ইউনিটের আশপাশে কৃত্রিম ভূ-কম্পনের সৃষ্টি হয়। ২৪ ঘন্টা সেখানে ‘ক্যাটালাইটিক রিফরমিং ইউনিট’ চালু থাকার কারণে শব্দ ও ভূ-কম্পনও ২৪ ঘন্টাই স্থায়ী থাকে। রাতে নীরব প্রকৃতি ও ‘ক্যাটালাইটিক রিফরমিং ইউনিটে’ উচ্চমাত্রায় প্রেসার দেয়ার কারণে শব্দ ও ভূ-কম্পনের মাত্রাও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়।

অব্যাহত ভূ-কম্পনের কারণে কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্টের আশপাশের গ্রামগুলোর অন্তত ১৫ হাজার মানুষের মধ্যে বিপর্যয় নেমে এসেছে। ফাটল দেখা দিয়েছে গ্রামগুলোর কাচা-পাকা বাড়িঘরে। বিকট শব্দ ও ভূকম্পনের প্রভাব আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মধ্যে অনুভূত হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বড়গাঁও, শাহানগর, রশীদপুর, অলিপুর, চক্রামপুর, শফিয়াবাদ ও সাহাপুরের মানুষ।

এ ব্যাপারে শাহানগর গ্রামের টিপু দেব বলেন, প্রথম অবস্থায় কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্টে শব্দের মাত্রা কিছুটা স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু গত ৮ এপ্রিল সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। যেদিন আগুন লাগে সেদিন এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। মানুষজন বাড়িঘর ছেড়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যেতে শুরু করে। যদিও সেদিনের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের কোন ক্ষতি হয়নি। অগ্নিকান্ডের ঘটনার পর কনডেনসেটের মেশিনে প্রচন্ড শব্দ শুরু হয়। সেই সাথে কৃত্রিম ভূ-কম্পনের সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে আমরা কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা কনডেনসেটের কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললেও কোন সমাধান হয়নি। শফিয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা মো. তৈয়ব আলী বলেন, দিনের বেলা শব্দ আর ভূমিকম্প কিছুটা কম থাকলেও রাতে বেশি হয়। মাঝে মাঝে মাটি এমনভাবে কাঁপে, সারারাত ঘুমানো যায় না।

স্থানীয় ভাদেশ্বর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান বলেন, আমরা গ্রামের মুরব্বিদের নিয়ে কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্টের এই শব্দ ও ভূ-কম্পনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। তারা আমাদেরকে আশ্বাস করেছিলেন এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। কিন্তু বেশ কিছুদিন হয়ে গেল এখনও তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

এদিকে, বিষয়টি সমাধানের জন্য গত ২৭ মে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা পরিষদের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রামগুলোর বাসিন্দারা। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান, বাহুবল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্নিগ্ধা তালুকদার ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেবেন বলে বাসিন্দাদের আশ্বাস দিয়েছে।

বাহুবল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, গ্রামবাসীর অভিযোগ পাওয়ার পর আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি ভয়াবহ চিত্র। কৃত্রিম ভূমিকম্পের কারণে গ্রামের বাড়ি-ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য আমি কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্টের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলি। তারা দ্রুত বিষয়টি সমাধানের জন্য আমাদের আশ্বস্ত করেছে।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছি। এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট গ্যাসফিল্ডের আওতাধিন কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্টের কোন কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও সংবাদ

Rokomari Book

© All rights reserved © 2016 Paprhi it & Media Corporation
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo